person
!
প্রোফাইল আপডেট

আধুনিক পরিবার বা গৃহ শিক্ষার বিকাশে কতখানি ভূমিকা পালন করে?

21 এপ্রিল 2023 "মাধ্যমিক পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (নবীন) (38 পয়েন্ট) 370 বার প্রদর্শিত

লিংক কপি হয়েছে!

1 উত্তর

1 টি পছন্দ 0 অপছন্দ

বর্তমানে শিশু শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে গৃহ বা পরিবার গুরুত্বপূর্ণ কাজটুকু উপযুক্তভাবে সম্পাদন করতে পারছে না। আধুনিক গৃহ বা পরিবারের চিত্র যে কতখানি করুণ তা না বললেও অনুমেয়। বর্তমানে জনসংখ্যা বেড়ে গেছে। পরিবারের খাদ্য সমস্যা, উপযুক্তভাবে বসবাসের সমস্যা, আলো-জল-বাতাসের সমস্যা, পারস্পরিক সুসম্পর্ক গড়ে তোলার সমস্যা এবং অর্থনৈতিক সমস্যা প্রতিটি পরিবারকেই কমবেশি অস্থির করে তুলেছে। জীবনসংগ্রামে পর্যুদস্ত পরিবার আজ শিশুশিক্ষায় বিশেষ তালিকামাফিক কর্তব্য পালন করতে পারছে না।


আধুনিক পরিবারের ভূমিকার সীমাবদ্ধতা: শিক্ষাবিদ রাসেল বলতেন যে, শিশুশিক্ষায় সুষ্ঠু বিকাশের জন্য গৃহ বা পরিবারের মধ্যে প্রচুর আলো-জল-বাতাসের প্রয়োজনীয়তা খুবই বেশি। শিশুদের সুস্বাস্থ্যের চাহিদা বা জৈবিকা চাহিদা মেটানোর জন্য গৃহ-পরিবেশে এই আলো- জল-বাতাসের উপযোগিতা সত্যই অস্বীকার করা যায় না।


কিন্তু আমাদের মত দেশের বেশির ভাগ গৃহের মধ্যে বাতাস ঢোকার পথ নেই, আলো আসার অবস্থা নেই এবং প্রয়োজনীয় জল পাওয়ার পরিকল্পনা নেই। পরিবারের এই প্রাকৃতিক পরিবেশগত বাধা পরিবার বা গৃহকে শিশুশিক্ষায় উপযুক্ত দায়িত্ব পালন করতে দিচ্ছে না।


কিন্তু আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটি পরিবার বা গৃহের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ শিশুদের উপযুক্ত শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণে অনুপযোগী। উন্নত দেশেও এই করুণ চিত্র অন্যরূপে লক্ষ্য করা যায়।


দ্বিতীয়ত, আমাদের মত বহু দেশে ছোট পরিবার যে সুখী পরিবার তা জনমনে বুঝিয়ো দেওয়ার জন্য আজও বিভিন্ন প্রচারধর্মী ব্যবস্থা রাখতে হচ্ছে। কিন্তু এই বিষয়টি আপামর জনগণের কাছে তেমনভাবে পৌঁছচ্ছে না। আর এই অনুভূতিটুকুর অভাবেই অনেক পরিবারের ছেলেমেয়ের সংখ্যা উপযুক্ত শিক্ষা পাওয়ার অনুকূলে থাকছে না। ফলে বর্তমানে প্রতিটি গৃহ কোনপ্রকারে দিন চালানোর কাজে ব্যস্ত থাকছে এবং কলহ-বিবাদ ও হানাহানিতে লিপ্ত হয়ে উঠছে। তাই শিশুশিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার মত মানসিকতা কোন গৃহেই আর অনুভব করা যাচ্ছে না।


তৃতীয়ত, পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশের পরিবার পিছু গড় আয় খুবই সামান্য। এই সামান্য আয়ে পরিবারের পক্ষে প্রত্যেক শিশুর জন্য সুষম খাদ্যের ব্যবস্থা করা আদৌ সম্ভব হয় না। ফলে শিশুশিক্ষায় সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলা পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে ওঠে।


চতুর্থত, যে সকল দেশের বেশির ভাগ লোক আজও গ্রামে বাস করে সেই সকল দেশের গ্রামজীবনের সঙ্গে শিক্ষার যোগ খুবই কম লক্ষ্য করা যায়। ফলে গ্রামের পরিবার শিশুশিক্ষার ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে ওঠে না। এই পরিবেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মন মেয়েদের জন্য তো দূরের কথা—ছেলেদের শিক্ষার ব্যাপারেও কোন নজর রাখে না।


স্বভাবত এ ধরনের পরিবারের ভেতরের পরিবেশ শিশুশিক্ষার পক্ষে অনুপযুক্ত ও অনাগ্রহী থাকে। শহরের ও আধা শহরের পরিবার বা গৃহগুলোও শিশুশিক্ষার পক্ষে বাঞ্ছিত ও কামা পরিবেশ তৈরি করতে পারে না। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে পরিবারের বা গৃহের পিতা ও মাতা উভয়েরই জীবিকার স্বার্থে উপার্জনের জন্য গৃহের বাইরে থাকতে হয়।


পঞ্চমত, বেশির ভাগ গৃহের অভিভাবকেরা শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশের পক্ষে প্রয়োজনীয় লেখার সামগ্রী জোগান দিতে পারেন না এবং নির্দিষ্ট সময় দিয়ে শিশুদের লেখাপড়ার কথা ভাববার ও তাদের জন্য বসবার অবকাশ পান না। শিশুদের খেলার সামগ্রী ও পড়ার সামগ্রী প্রয়োজনানুসারে জোগান দেওয়া হয়ে ওঠে না বলে বর্তমানে গৃহগুলো শিশুশিক্ষায় কোন বিশেষ অবদান রাখতে পারছে না।


ষষ্ঠত, আজ সকল দেশেই একান্নবর্তী পরিবার ক্ষয়ের মুখে। শিশুদের নিজস্ব আগ্রহ অনুযায়ী মেলামেশা করার সঙ্গীর ও উন্মুক্ত স্থানের অভাব বিশেষভাবে চোখে পড়ে। এই অভাবও শিশুদের স্বাভাবিক ও আগ্রহভিত্তিক বিকাশবৃদ্ধির পথে অন্তরায়স্বরূপ। এছাড়া শিশুদের জন্য উপযুক্ত আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা গ্রহণ আজকাল বেশিরভাগ গৃহের পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে পরিবার বা গৃহ আজ শিশুশিক্ষার পক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না।


শিক্ষাবিদ রাসেল বলতেন যে, শিশুদের এসকল চাহিদার পূরণ সম্পূর্ণ না হলে শিশুরা শীর্ণ, অনুদ্যোগী এবং স্নায়বিক দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমানে শিশুশিক্ষার উপযুক্ত আবহাওয়া ও সুস্থ পরিবেশ না থাকার জন্য গৃহ বা পরিবারের বিকল্প হিসেবে প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির বিভিন্ন নার্সারী ও কে. জি (Kinder Garten) বিদ্যালয়ের কথা চিন্তা করা হয়ে থাকে।


বস্তুত আমাদের মত দেশে মাতাপিতারা অনেকেই নিরক্ষর বা অল্প শিক্ষিত বলে তারা শিশু প্রতিপালনে শিশুর ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশসাধন সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন না। বর্তমানে বেশিরভাগ গৃহ বা পরিবারের নিরক্ষর পিতামাতারা শিশুশিক্ষার ব্যাপারে কোন জ্ঞানই রাখেন না এবং চরম উদাসীনতা প্রদর্শন করেন। এসব ক্ষেত্রে মূলত শিশুশিক্ষা সমস্যার পাশে মাতাপিতার শিক্ষার সমস্যার বা বয়স্ক শিক্ষার সমস্যা খুবই প্রকট।


মন্তব্য: উপরোক্ত পটভূমিকায় এটুকু মন্তব্য করা যায় যে বর্তমানের গৃহ বা পরিবার বিভিন্ন অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত কারণে শিশুশিক্ষায় উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। এরই ফলে বিভিন্ন শিক্ষাবিদ শিক্ষায় বাঞ্ছিত আদর্শ এবং গৃহের বিকল্প হিসেবে সুস্থ ও সুপরিকল্পিত গৃহের আবহাওয়া সমন্বিত বিদ্যালয় সৃষ্টির পক্ষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।


Credit: ByTure

24 এপ্রিল 2023 উত্তর প্রদান করেছেন (নবীন) (38 পয়েন্ট)
21 মার্চ 2024 সম্পাদিত করেছেন

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি উত্তর
16 অগাস্ট 2022 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন ইফতেখার নাইম (জ্ঞানী) (637 পয়েন্ট)
0 টি উত্তর
12 ডিসেম্বর 2021 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন ইফতেখার নাইম (জ্ঞানী) (637 পয়েন্ট)
1 উত্তর
10 অক্টোবর 2019 "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মো অনিক (প্রতিভাবান) (5,556 পয়েন্ট)
0 টি উত্তর
04 জুলাই 2024 "মাধ্যমিক পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল

18,654 টি প্রশ্ন

19,523 টি উত্তর

2,578 টি মন্তব্য

103,465 জন সদস্য

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

এক প্ল্যাটফর্মে কন্টেন্ট/লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি আর ফ্রী প্রমোশন!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার ধারণাটাই বদলে দিবে! (পড়ুন...)

আপনি কি জানেন—প্রতি সেকেন্ডে কারও না কারও লেখা চুরি হচ্ছে? আপনার লেখাগুলো কি নিরাপদ? যখন লেখা ছড়িয়ে থাকে—সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ কিংবা সংবাদপত্রে—হযবরল অগোছালো অবস্থায়… তখন একদিকে চুরির ভয়, অন্যদিকে লেখক হারান নিজের পরিচয়। প্রমাণও থাকে না। পাঠকও বা কিভাবে পাবে মূল লেখকের সংস্পর্শ?

ই-নলেজ আইডিয়া—আপনার কেন্দ্রীয় লেখালেখির ঠিকানা। প্রতিটি লেখার জন্য থাকছে ভেরিফাইড পোষ্ট আইডি (eID), আর আপনার জন্য কেন্দ্রীয় লেখক আইডি নম্বর—যেটা ব্যবহার করতে পারেন Bio, CV, কিংবা বই-র রেফারেন্সে। আর ই-আইডি(eID) জুড়ে দিবেন প্রতিটি লেখার সঙ্গে। (যেমন- পোষ্ট eID: ১২৩ ; #eID_123 #enolej)। ফলে কপিরাইট সুরক্ষা থাকবে নিশ্চিত, আর পাঠক থাকবে মূল লেখকের সংস্পর্শে। আর ভেরিফাই হলে করতে পারবেন আপনার পেজ কিংবা ব্লগ এর ফ্রী প্রমোশন!

আপনার লেখক প্রোফাইলেই থাকবে আপনার আর্কাইভ—সব লেখা, ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি আর পাঠকের প্রতিক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে গোছানো।

এখানে আপনি একা নন, পাচ্ছেন লেখক কমিউনিটি। বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে হাজারো লেখক ছড়িয়ে থাকলেও কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম একটাই—যেখানে আপনার স্বত্ব, স্বীকৃতি আর অবস্থান সুরক্ষিত। কেউ কারও eID নকল করতে পারবেনা, কেন্দ্রীয় সোর্স একটাই। এখানেই থাকছে লেখক র‍্যাংক—যেখানে তুলনায় ঝলমল করে উঠবে আপনার কৃতিত্ব।

এটাই আপনার কেন্দ্রীয় ঠিকানা। ভেরিফাই করুন আজই—আপনার লেখাকে দিন স্থায়ী সুরক্ষা।

বিস্তারিত পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ই-নলেজ কুয়েরি বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট। এখানে আপনি প্রশ্ন-উত্তর করার মাধ্যমে নিজের সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি দিতে পারেন অন্যদের সমস্যার নির্ভরযোগ্য সমাধান! বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যা, পড়ালেখা, ধর্মীয় ব্যাখ্যা, বিজ্ঞান বিষয়ক, সাধারণ জ্ঞান, ইন্টারনেট, দৈনন্দিন নানান সমস্যা সহ সকল বিষয়ে প্রশ্ন-উত্তর করতে পারবেন! প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে বাংলা ভাষায় উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য!
তাই আজই যুক্ত হোন ই-নলেজে আর বাড়িয়ে দিন আপনার জ্ঞানের গভীরতা...!
Empowering Novel Learners with Joy (Enolej)


...