person
!
প্রোফাইল আপডেট

বিগব্যাং থেকে কিভাবে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়? এর পূর্ব এবং পরের ইতিহাস কি? বিজ্ঞান কি বলে?

08 মার্চ 2021 "মহাকাশবিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (বিশারদ) (4,107 পয়েন্ট) 444 বার প্রদর্শিত

লিংক কপি হয়েছে!

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
বিগব্যাং আসলে মহাবিশ্বের শুরু হওয়ার মূল কারণ ছিল না! ব্যাপারটা অনেকটা ঈশপের গল্পের মতো যে অনেক অনেক আগে আমাদের এই মহাবিশ্ব একটা বিন্দুতে ঘনীভূত অবস্থায় ছিল যাকে বলা হয় সিংগুলারিটি। কিন্তু হঠাৎ হয় প্রচন্ড বিস্ফোরণ, বুম! এক সেকেন্ডের ট্রিলিয়নথ ভাগের একভাগ সময়ে পুরো মহাবিশ্ব আলোর চেয়েও বেশি গতিতে প্রসারিত হয়েছে এবং পরিণত হয়েছে বর্তমান মহাবিশ্বে যা আমরা এখন দেখছি। যাইহোক এই জনপ্রিয় থিওরিটি যা এতদিন ধরে সবাই জেনে আসছিল এবং বিজ্ঞানীরা যা জানতেন সেটা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। কোনো সিংগুলারিটি ছিল না। আবার মহাবিশ্ব প্রসারণ মাত্রা বিগ ব্যাং এর পর প্রায় শামুকের গতির মতো ধীর হয়ে গিয়েছে আগের তুলনায়। হ্যাঁ, বিগব্যাং মহাবিশ্বের সূত্রপাতের আসল এবং একমাত্র কারণ ছিল না।বিগব্যাং থিওরির প্রতি কোনো অসম্মান নেই। কারণ এটি যে ঘটেছে তাঁর যথেষ্ট প্রমাণ বিজ্ঞানীদের কাছে আছে এবং সেগুলো সম্পূর্ণ যৌক্তিক। এডুইন হাবল, যিনি প্রথম উত্থাপন করেছিলেন মহাবিশ্বের প্রসারণের কথা। ১৯২০ সালের দিকেই বিজ্ঞানীরা প্রথম লক্ষ্য করেন যে আমাদের মহাবিশ্বের দূরবর্তী গ্যালাক্সি গুলো নিকটবর্তী গ্যালাক্সি থেকে দ্রুততর দূরে সরছে। এর কারণটাই হচ্ছে মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে, অর্থ্যাৎ আমাদের মহাবিশ্ব আগে অনেক ক্ষুদ্র ছিল!

যদি মহাবিশ্বের প্রসারণ ঘটে তাহলে অবশ্যই আলোরও প্রসারণ ঘটবে! এটাই হচ্ছে, মানে গ্যালাক্সি গুলো দূরে সরছে ও “রেড শিফট” বিকিরণ করছে। আলো প্রসারিত হতে হতে লাল আলোর বিকিরণের দিকে অগ্রসর হয়েছে; তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণের সবচেয়ে স্বল্প শক্তিসম্পন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্য। এর অর্থ হচ্ছে পূর্বে মহাবিশ্বে আরো বেশি শক্তি সম্পন্ন বিকিরণ ঘটেছিল। মানে বিগ ব্যাং এর সময় কালে সকল বস্তু প্রচন্ড উত্তপ্ত অবস্থায় ছিল। এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে পরমাণুর গঠন হওয়া সম্ভব ছিলনা সে তাপমাত্রায়। এবং এর প্রমাণ হিসাবে আমরা পাই Cosmic Microwave Background(CMB)

তাছাড়াও বিগব্যাং এর আরো প্রমাণ হিসাবে বিজ্ঞানীরা জেনেছেন এক ব্ল্যাকহোল সম্পর্কে যেটা সেইসময়ে গঠিত হয়েছিল যখন মহাবিশ্ব যথেষ্ট পরিমাণে তাপ হারিয়েছে যাতে আলো নিজস্ব গতিতে মুক্তভাবে চলতে পারে। আর Dense Plasma Soup এর Recreation এর মাধ্যমে প্রাপ্ত অণু পরমাণুর অনুপাতের হিসেব তো আছেই।

Inflation Theory অনেক সমস্যারই সমাধান করে দেয় বিগব্যাং থিওরি সম্পর্কে। এটা বলে যে মহাবিশ্ব সমতল, যে গতিতে প্রসারিত হয়েছে এবং যেভাবে প্রায় মহাবিশ্বের সব বস্তুই একই তাপমাত্রা সম্পন্ন তাঁরা একবার হলেও নিজেদের মধ্যে তাপীয় আদান প্রদান করেছে। এই থিওরি আরো বলে যে ম্যাগনেটিক মনোপোল এর অস্তিত্ব হয়ত ছিল কিন্তু ঘনত্বের পরিবর্তনের ফলে সেগুলো ক্রমশই আনডিটেক্টেবল রয়ে গিয়েছে। ভ্যকুম এনার্জির হ্রাস বৃদ্ধি কীভাবে এই গ্যালাক্সি, নক্ষত্র ইত্যাদি তৈরি করেছে সেটাও ভালোভাবে ব্যাখ্যা করে। যদি এই অতিরিক্ত শক্তি না থাকত তবে কখনোই মানবজগৎ অস্তিত্বশীল হতো না।

সুতরাং আমরা এখন বিগব্যাং থিওরির বেলায় নতুন করে বলতে পারি, অনেক অনেক বছর আগে সেখানে এক প্রকার রহস্যময় শক্তি ছিল যখন কোনো বস্তু বা বিকিরণ অস্তিত্বমান ছিল না। এই শক্তিরই হঠাৎ অতি দ্রুত প্রসারণ যা ঘটে চোখের পলক ফেলার ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন সেকেন্ডের মধ্যে তৈরি করে আমাদের মহাবিশ্ব এবং সেভাবেই বিশেষ শক্তি পরিণত হয় গ্যালাক্সি, ক্লাস্টার, নক্ষত্র সহ যা কিছু আছে আমাদের চোখে দৃশ্যমান এবং বাকীটুকু ইতিহাস!
08 মার্চ 2021 উত্তর প্রদান করেছেন (বিশারদ) (4,107 পয়েন্ট)

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
1 উত্তর
16 জানুয়ারি 2020 "রসায়ন" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন FM (গুণী) (453 পয়েন্ট)
1 উত্তর
16 জানুয়ারি 2020 "পদার্থবিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন FM (গুণী) (453 পয়েন্ট)

18,654 টি প্রশ্ন

19,525 টি উত্তর

2,578 টি মন্তব্য

103,471 জন সদস্য

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

এক প্ল্যাটফর্মে কন্টেন্ট/লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি আর ফ্রী প্রমোশন!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার ধারণাটাই বদলে দিবে! (পড়ুন...)

আপনি কি জানেন—প্রতি সেকেন্ডে কারও না কারও লেখা চুরি হচ্ছে? আপনার লেখাগুলো কি নিরাপদ? যখন লেখা ছড়িয়ে থাকে—সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ কিংবা সংবাদপত্রে—হযবরল অগোছালো অবস্থায়… তখন একদিকে চুরির ভয়, অন্যদিকে লেখক হারান নিজের পরিচয়। প্রমাণও থাকে না। পাঠকও বা কিভাবে পাবে মূল লেখকের সংস্পর্শ?

ই-নলেজ আইডিয়া—আপনার কেন্দ্রীয় লেখালেখির ঠিকানা। প্রতিটি লেখার জন্য থাকছে ভেরিফাইড পোষ্ট আইডি (eID), আর আপনার জন্য কেন্দ্রীয় লেখক আইডি নম্বর—যেটা ব্যবহার করতে পারেন Bio, CV, কিংবা বই-র রেফারেন্সে। আর ই-আইডি(eID) জুড়ে দিবেন প্রতিটি লেখার সঙ্গে। (যেমন- পোষ্ট eID: ১২৩ ; #eID_123 #enolej)। ফলে কপিরাইট সুরক্ষা থাকবে নিশ্চিত, আর পাঠক থাকবে মূল লেখকের সংস্পর্শে। আর ভেরিফাই হলে করতে পারবেন আপনার পেজ কিংবা ব্লগ এর ফ্রী প্রমোশন!

আপনার লেখক প্রোফাইলেই থাকবে আপনার আর্কাইভ—সব লেখা, ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি আর পাঠকের প্রতিক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে গোছানো।

এখানে আপনি একা নন, পাচ্ছেন লেখক কমিউনিটি। বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে হাজারো লেখক ছড়িয়ে থাকলেও কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম একটাই—যেখানে আপনার স্বত্ব, স্বীকৃতি আর অবস্থান সুরক্ষিত। কেউ কারও eID নকল করতে পারবেনা, কেন্দ্রীয় সোর্স একটাই। এখানেই থাকছে লেখক র‍্যাংক—যেখানে তুলনায় ঝলমল করে উঠবে আপনার কৃতিত্ব।

এটাই আপনার কেন্দ্রীয় ঠিকানা। ভেরিফাই করুন আজই—আপনার লেখাকে দিন স্থায়ী সুরক্ষা।

বিস্তারিত পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ই-নলেজ কুয়েরি বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট। এখানে আপনি প্রশ্ন-উত্তর করার মাধ্যমে নিজের সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি দিতে পারেন অন্যদের সমস্যার নির্ভরযোগ্য সমাধান! বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যা, পড়ালেখা, ধর্মীয় ব্যাখ্যা, বিজ্ঞান বিষয়ক, সাধারণ জ্ঞান, ইন্টারনেট, দৈনন্দিন নানান সমস্যা সহ সকল বিষয়ে প্রশ্ন-উত্তর করতে পারবেন! প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে বাংলা ভাষায় উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য!
তাই আজই যুক্ত হোন ই-নলেজে আর বাড়িয়ে দিন আপনার জ্ঞানের গভীরতা...!
Empowering Novel Learners with Joy (Enolej)


...