person
!
প্রোফাইল আপডেট

গণতন্ত্রের বিকল্প কী?

17 অক্টোবর 2024 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন (অতিথি) (6 পয়েন্ট) 229 বার প্রদর্শিত

গণতন্ত্রের সমালোচনার মোকাবেলার জন্য আমাদের গণতন্ত্রমুগ্ধ ইসলামিস্ট ভাইদের কিছু ডিফল্ট জবাব আছে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ব্যাপারে কেউ কোন কথা বললেই এ মুখস্থ কথাগুলো নিয়ে তারা হাজির হন। এর মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত জবাব হল – গণতন্ত্রের বিকল্প কী? এতো যখন সমালোচনা করছেন তখন বিকল্প একটি পথ দেখিয়ে দেন না! ইসলাম কায়েমের সঠিক পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে দেখান তো! – ইত্যাদি।

এধরণের প্রশ্ন যারা করেন তাদের অধিকাংশ উত্তর জানার জন্য প্রশ্ন করেন না। কারণ এমন প্রশ্ন করা অনেককেই আপনি দেখবেন অন্যান্য আলোচনায় প্রস্তাবিত বিভিন্ন বিকল্প পদ্ধতির ব্যাপারে ‘জ্ঞানগর্ভ’ সমালোচনা (সেটাও মুখস্থ) পেশ করছে। বিসাইডস, যে বিষয়টা নিয়ে এতো আলোচনা হয়েছে, যে আলোচনার কথা কাফিররাও জানে, মুরতাদরাও জানে, সেটা তারা কোনভাবেই খুঁজে পাচ্ছেন না, এটা বিশ্বাসযোগ্য না।

আসলে এ এধরণের প্রশ্ন করার উদ্দেশ্য হল যে গণতন্ত্রের সমালোচনা করছে তাঁকে হয় চুপ করানো, বা বেকায়দায় ফেলা। আমরা সবাই জানি, ‘ইসলাম কায়েমের পদ্ধতি কী হবে?’ - এ প্রশ্নের এমন কিছু উত্তর আছে যেগুলো অ্যামেরিকা-অনুমোদিত (যেমন গণতন্ত্র মুগ্ধ ভাইদের পছন্দের উত্তর)। আবার এমন কিছু উত্তর আছে যেগুলো চিন্তাপরাধ। এসব উত্তরকে সঠিক মনে করলেই মুসলিমদের বন্দী, গুম, হত্যা ইত্যাদি করা জায়েজ হয়ে যায়। একারণে অনেকেই অনেক পরিস্থিতিতে বিপজ্জনক উত্তরগুলোর সরাসরি আলোচনা এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন। মুখস্থ প্রশ্ন নিয়ে গণতন্ত্রমুগ্ধ ভাইরা তাঁদের বেকায়দায় ফেলে নিজেদের মনে মনে আদর্শিক বিজয়ের আনন্দ খোঁজেন।

তো এই কূটতর্কের দিকটা একটু ঘুরিয়ে দেয়া যাক। যারা গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম কায়েমের পদ্ধতিতে বিশ্বাস করেন, তাদের কাছে প্রশ্ন রাখা যাক – কিভাবে এই পদ্ধতিতে আপনারা ইসলাম কায়েম করবেন? মেহেরবানি করে বিস্তারিত এবং স্পষ্ট আলোচনা করুন।

একটি ইসলামী দল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতায় আসলো।
ধরে নিলাম, নির্বাচনে জেতার আগেই আলজেরিয়ার মতো সেনাবাহিনী নামিয়ে দেয়া হলো না।
আরো ধরে নিলাম যে তাদের অবস্থা বাংলাদেশ, পাকিস্তানের জামায়াত ইসলামীর মতো না। কোন জোট না করে তারা নিজে নিজে ক্ষমতায় আসতে পারে (বা জোট হলেও তারা জোটের প্রধান দল, পার্শ্বচরিত্র না)।
আরো ধরে নিলাম যে, মিশরের মতো সামরিক অভ্যুত্থান করে গণহত্যা চালানো হল না। ক্ষমতায় আসার পর তারা টিকেও গেলেন।
আরো ধরে নিলাম যে, তারা গণতন্ত্রের পাইপ ড্রিমের হাল আমলের জনপ্রিয়তম ফেরিওয়ালা এরদোগানের মতো বারো-পনেরো বছর ক্ষমতায় টিকেও থাকলেন, এক ইঞ্চি মাটিতেও ইসলাম কায়েম না করে।
প্রশ্নের ফ্রেইমওয়ার্ক বোঝা গেল?
আচ্ছা, তারপর কী?
পরের স্টেপগুলো কী?
এ পদ্ধতির এন্ডগেইমটা কী?
কিভাবে এ অবস্থা থেকে এখন ইসলাম কায়েম করা হবে? কিভাবে এখন ধাপে ধাপে আল্লাহর আইন দিয়ে শাসন করা হবে? শরীয়াহ বাস্তবায়ন করা হবে? শরীয়াহ অনুযায়ী পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারন ও বাস্তবায়ন করা হবে? মযলুম মুসলিমদের সাহায্য করা হবে?

প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট ও বিস্তারিত উত্তর পেলে উপকৃত হই।

‘আমরা না আমাদের সন্তানেরা ইসলাম কায়েম করবে’, ‘আমরা চারা লাগাবো আমাদের নাতিরা ফল খাবে’ – এ জাতীয় কর্মী ভুলানো কথা না। বিভিন্ন বিদেশী পত্রিকার আন্তর্জাতিক সেকশানের খবর মিলিয়ে ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ জাতীয় কিছুও চাচ্ছি না।

স্পষ্ট, আবেগহীন, রেটোরিকমুক্ত, নিরস, প্র্যাগম্যাটিক এবং কম্প্রিহেনসিভ উত্তর চাচ্ছি। এবং সাথে এটাও জানতে চাচ্ছি কোন ধরণের আক্রমনের স্বীকার না হয়ে সে উত্তর নিয়ে নির্মোহ বিশ্লেষনের অধিকার অন্যদের আছে কি না।

যেহেতু এ প্রশ্ন তাদের মুখের ডগায় থাকে, তাই আশা করা যায় উত্তরও কাছাকাছি কোথাও থাকার কথা।


লিংক কপি হয়েছে!

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
*গণতন্ত্রের বিকল্প হিসেবে আলোচিত শাসনব্যবস্থা ৪টা:*

1. *রাজতন্ত্র / Monarchy*
*ধারণা*: একক রাজা/রানী বংশপরম্পরায় রাষ্ট্র চালায়  
*প্রকার*:
- *নিরঙ্কুশ*: সৌদি আরব - রাজার হাতে সব ক্ষমতা
- *সাংবিধানিক*: যুক্তরাজ্য, জাপান - রাজা প্রতীকী, নির্বাচিত সরকার চালায়  
*সুবিধা*: দ্রুত সিদ্ধান্ত, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা  
*অসুবিধা*: জবাবদিহিতা কম, একজনের ভুলে পুরো দেশের ক্ষতি

2. *একনায়কতন্ত্র / Authoritarianism*
*ধারণা*: একজন নেতা/দল/সামরিক বাহিনীর হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত  
*উদাহরণ*: চীন - কমিউনিস্ট পার্টি, উত্তর কোরিয়া  
*সুবিধা*: দ্রুত উন্নয়ন, কঠোর আইন-শৃঙ্খলা। চীনের অবকাঠামো উন্নয়ন এর উদাহরণ  
*অসুবিধা*: ভিন্নমত দমন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি

3. *টেকনোক্রেসি / Technocracy*
*ধারণা*: ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী - বিশেষজ্ঞরা তথ্য-উপাত্ত দিয়ে দেশ চালাবে  
*উদাহরণ*: সিঙ্গাপুরের অনেক নীতি বিশেষজ্ঞ কমিটি দিয়ে হয়  
*সুবিধা*: আবেগ বাদ দিয়ে যুক্তি-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত, দক্ষতা  
*অসুবিধা*: জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন কম, "জনগণ কী চায়" সেটা গৌণ হয়

4. *সরাসরি গণতন্ত্র / Direct Democracy + নতুন মডেল*
*ধারণা*: প্রতিনিধি ছাড়া জনগণ সরাসরি ভোট দেবে। এখন টেকনোলজির যুগে এটা সম্ভব  
*উদাহরণ*: সুইজারল্যান্ডে রেফারেন্ডাম খুব বেশি হয়  
*নতুন আইডিয়া*: "Sortition" - লটারির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সংসদে নেওয়া, এথেন্সে প্রাচীন গ্রিসে ছিল  
*সুবিধা*: জনগণের ক্ষমতা সরাসরি  
*অসুবিধা*: সবাই সব বিষয়ে এক্সপার্ট না, সিদ্ধান্ত নিতে সময় বেশি

*তুলনার চাবি*
কোনো ব্যবস্থাই 100% পারফেক্ট না। মূল পার্থক্য 2 জায়গায়:
1. *ক্ষমতা কার হাতে*: জনগণ vs একজন vs বিশেষজ্ঞ
2. *জবাবদিহিতা*: কত দ্রুত ভুল শুধরানো যায়

গণতন্ত্র ধীর কিন্তু ভুল শোধরানোর সুযোগ দেয়। অন্য ব্যবস্থা দ্রুত কিন্তু ভুল হলে মাশুল বেশি।

তুমি কোন দিকটা নিয়ে বেশি জানতে চাও - দক্ষতা নাকি জবাবদিহিতা?
31 মে উত্তর প্রদান করেছেন (পন্ডিত) (12,616 পয়েন্ট)

সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
09 অক্টোবর 2019 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মো অনিক (প্রতিভাবান) (5,556 পয়েন্ট)
1 উত্তর
09 অক্টোবর 2019 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মো অনিক (প্রতিভাবান) (5,556 পয়েন্ট)
1 উত্তর
09 অক্টোবর 2019 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন মো অনিক (প্রতিভাবান) (5,556 পয়েন্ট)
1 উত্তর
01 অক্টোবর 2019 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন km saju (বিশারদ) (2,135 পয়েন্ট)
1 উত্তর
09 জুন 2020 "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন আদিব মাহমুদ (প্রতিভাবান) (7,793 পয়েন্ট)

18,653 টি প্রশ্ন

19,566 টি উত্তর

2,578 টি মন্তব্য

103,477 জন সদস্য

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

এক প্ল্যাটফর্মে কন্টেন্ট/লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি আর ফ্রী প্রমোশন!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার ধারণাটাই বদলে দিবে! (পড়ুন...)

আপনি কি জানেন—প্রতি সেকেন্ডে কারও না কারও লেখা চুরি হচ্ছে? আপনার লেখাগুলো কি নিরাপদ? যখন লেখা ছড়িয়ে থাকে—সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ কিংবা সংবাদপত্রে—হযবরল অগোছালো অবস্থায়… তখন একদিকে চুরির ভয়, অন্যদিকে লেখক হারান নিজের পরিচয়। প্রমাণও থাকে না। পাঠকও বা কিভাবে পাবে মূল লেখকের সংস্পর্শ?

ই-নলেজ আইডিয়া—আপনার কেন্দ্রীয় লেখালেখির ঠিকানা। প্রতিটি লেখার জন্য থাকছে ভেরিফাইড পোষ্ট আইডি (eID), আর আপনার জন্য কেন্দ্রীয় লেখক আইডি নম্বর—যেটা ব্যবহার করতে পারেন Bio, CV, কিংবা বই-র রেফারেন্সে। আর ই-আইডি(eID) জুড়ে দিবেন প্রতিটি লেখার সঙ্গে। (যেমন- পোষ্ট eID: ১২৩ ; #eID_123 #enolej)। ফলে কপিরাইট সুরক্ষা থাকবে নিশ্চিত, আর পাঠক থাকবে মূল লেখকের সংস্পর্শে। আর ভেরিফাই হলে করতে পারবেন আপনার পেজ কিংবা ব্লগ এর ফ্রী প্রমোশন!

আপনার লেখক প্রোফাইলেই থাকবে আপনার আর্কাইভ—সব লেখা, ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি আর পাঠকের প্রতিক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে গোছানো।

এখানে আপনি একা নন, পাচ্ছেন লেখক কমিউনিটি। বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে হাজারো লেখক ছড়িয়ে থাকলেও কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম একটাই—যেখানে আপনার স্বত্ব, স্বীকৃতি আর অবস্থান সুরক্ষিত। কেউ কারও eID নকল করতে পারবেনা, কেন্দ্রীয় সোর্স একটাই। এখানেই থাকছে লেখক র‍্যাংক—যেখানে তুলনায় ঝলমল করে উঠবে আপনার কৃতিত্ব।

এটাই আপনার কেন্দ্রীয় ঠিকানা। ভেরিফাই করুন আজই—আপনার লেখাকে দিন স্থায়ী সুরক্ষা।

বিস্তারিত পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ই-নলেজ কুয়েরি বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট। এখানে আপনি প্রশ্ন-উত্তর করার মাধ্যমে নিজের সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি দিতে পারেন অন্যদের সমস্যার নির্ভরযোগ্য সমাধান! বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যা, পড়ালেখা, ধর্মীয় ব্যাখ্যা, বিজ্ঞান বিষয়ক, সাধারণ জ্ঞান, ইন্টারনেট, দৈনন্দিন নানান সমস্যা সহ সকল বিষয়ে প্রশ্ন-উত্তর করতে পারবেন! প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে বাংলা ভাষায় উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য!
তাই আজই যুক্ত হোন ই-নলেজে আর বাড়িয়ে দিন আপনার জ্ঞানের গভীরতা...!
Empowering Novel Learners with Joy (Enolej)


...