person
!
প্রোফাইল আপডেট

TamimAdnani এর সময়ক্রম

ঈমানের স্বাদ ও মিষ্টতা পেতে হলে-

শরীর সুস্থ থাকলে মুখে খাবারের স্বাদ ও মজা অনুভব করা যায়। অসুস্থ শরীরে খাবার অনেক মজাদার ও সুস্বাদু হলেও তেতো এবং মজাহীন মনে হয়। তদ্রুপ ঈমান ও আমলের মজা অনুভবের জন্য সুস্থ ও খাঁটি ঈমান থাকা জরুরী। সুস্থ ও খাঁটি ঈমান ব্যাতিরেকে ঈমান ও আমলের  স্বাদ অনুভব করা সম্ভব নয়। ঈমানের স্বাদ ও মিষ্টতা অনুভব করতে হলে কতগুলো গুণ অর্জন করা জরুরী। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
ذَاقَ طَعْمَ الْإِيمَانِ مَنْ رَضِيَ بِاللهِ رَبّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمّدٍ رَسُولًا.
ঐ ব্যাক্তি ঈমানের প্রকৃত মজা অনুভব করবে, যে আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীনরূপে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাসূলরূপে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করবে। (সহীহ মুসলিম ৩৪)
.
এই হাদীস থেকে বোঝা গেল, কোন ব্যাক্তি যদি আল্লাহর ইবাদত, রাসুলের আনুগত্য ও ইসলামের বিধি বিধানকে মনে প্রাণে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করে নেয়, তাহলে সে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ অনুভব করবে এবং কোন বিধান বাহ্যত কঠিন এবং কষ্টকর মনে হলেও এতে সে এক অপার্থিব স্বাদ খুঁজে পাবে। পক্ষান্তরে আল্লাহ রাসুল ও ইসলামের সাথে কারো সম্পর্ক যদি হয় শুধুই বংশীয়; বাবা মা মুসলিম তাই সেও মুসলিম, কিন্তু তাঁদের সাথে তার দিলের সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি, তাহলে সে ঈমানের প্রকৃত মজা ও স্বাদ অনুভব করতে পারবেনা। ইসলামের অনেক বিধান তার কাছে এই যুগে অচল ও কঠিন মনে হবে।  
.
অপর এক হাদীসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
ثَلاَثٌ مَنْ كُنّ فِيهِ وَجَدَ حَلاَوَةَ الإِيمَانِ: أَنْ يَكُونَ الله وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمّا سِوَاهُمَا، وَأَنْ يُحِبّ المَرْءَ لاَ يُحِبّهُ إِلّا لِلّهِ، وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِي الكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النّارِ.
তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে সে ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করবে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তার কাছে সবকিছু থেকে অধিক প্রিয় হওয়া, কাউকে ভালোবাসলে শুধু আল্লাহরই জন্য ভালোবাসা, আর কুফুরীতে ফিরে যাওয়াকে এমন ঘৃণা করা, যেমন সে ঘৃণা করে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে। সহীহ বুখারী ১৬, সহীহ মুসলিম ৪৩
.
এই হাদীসের বক্তব্য আগের হাদীসের বক্তব্যের প্রায় কাছাকাছি। এই হাদীসের সারমর্ম হলো-ঈমানের মিষ্টতা ঐ ব্যক্তিই অনুভব করবে, যার অন্তর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালবাসায় সিক্ত থাকবে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসাকে জগতের সবকিছুর উর্ধ্বে স্থান দেবে। তার সব কাজে আল্লাহ ও তার রাসূলের ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি অর্জনই লক্ষ্য থাকবে। অন্য কারো প্রতি যদি ভালবাসা হয়, সেটিও হবে সম্পূর্ণ এই ভালবাসার অধীন।
আর ইসলাম তার কাছে এতই প্রিয় যে, ইসলাম ছেড়ে কুফরীর দিকে ফিরে যাওয়া অথবা ইসলামকে বাদ দিয়ে অন্য কোন তন্ত্র মন্ত্র ও মতবাদ গ্রহণ করা আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়েও বেশি অপছন্দনীয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঈমানের স্বাদ ও মিষ্টতা অনুভব করার তাওফিক দান করুন। আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঈমানের স্বাদ ও মিষ্টতা অনুভব করার তাওফিক দান করুন। আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন
11 অক্টোবর 2024 করেছেন TamimAdnani
মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ক যেমন হবে-

আজকাল তো আমরা ঈমানী বন্ধন বলে যে কিছু একটা আছে সেটাই ভুলে গেছি। এখন ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা হয় ভাষা,জাতি,অঞ্চল ইত্যাদির ভিত্তিতে। অথচ মুমিন হিসেবে আমাদের ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার মাপকাঠি হওয়ার দরকার ছিল ঈমান। পৃথিবীর শেষ প্রান্তেও যদি একজন মুমিন থাকে সে আমার ভাই। আমি এটা দেখবোনা সে কি আফ্রিকান নাকি বাংলাদেশী কিবা কাশ্মীরি। তার ভাষার সাথে আমার ভাষার মিল আছে কি নেই এটাও আমি দেখবোনা। তার মাজহাব-মাসলাক কী সেটাও আমার দেখার বিষয় নয়। আমি দেখবো তার ঈমান আছে কিনা।
.
পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক একজন মুমিনের সাথে আরেকজন মুমিনের সম্পর্ক হবে ভালোবাসা, দয়া এবং মুহাব্বতের। নুমান ইবনে বশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
تَرَى المُؤْمِنِينَ فِي تَرَاحُمِهِمْ وَتَوَادِّهِمْ وَتَعَاطُفِهِمْ كَمَثَلِ الجَسَدِ، إِذَا اشْتَكَى عُضْوًا تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ جَسَدِهِ بِالسّهَرِ وَالحُمّى.
মুমিনদেরকে দেখবে পরস্পরের প্রতি দয়া, ভালোবাসা ও মমতার ক্ষেত্রে এক দেহের ন্যায়। দেহের একটি অঙ্গ অসুস্থ হলে (যেমন) গোটা দেহ অনিদ্রা ও জ্বরাক্রান্ত হওয়ার মাধ্যমে তার প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে (মুমিনদের অবস্থাও এরকম, একজন আক্রান্ত হলে সবাই তার সাহায্যে ছুটে আসে)। -সহীহ বুখারী ৬০১১,  সহীহ মুসলিম ২৫৮৬
.
মুমিনদের পরস্পরের মাঝে ঈমানী বন্ধন কতটুকু দৃঢ় হওয়া উচিত তা আমরা এই হাদীস থেকে উপলব্ধি করতে পারি। শুধু ঈমানী যোগসূত্রের কারণেই তারা একে অপরকে ভালোবাসে, একে অপরের প্রতি মমতা, ভালোবাসা ও হৃদ্যতা পোষণ করে।
 পৃথিবীর কোথাও কোনো মুমিন আক্রান্ত হলে সবাই তার জন্য এগিয়ে আসে, তার পাশে দাঁড়ায়, প্রয়োজনে নিজের জান দিয়ে হলেও তাঁকে সাহায্য সহযোগিতা করে এবং জুলুম হতে রক্ষা করে।  ঈমানের দাবিদার হওয়া সত্ত্বেও যদি কারো মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যগুলো না থাকে, তাহলে তার উপলদ্ধি করা উচিত যে, তার এখনো পূর্ণাঙ্গ ও খাঁটি ঈমান নসীব হয়নি। আমাদের আদর্শ সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম সবাই এই সকল গুণে পরিপূর্ণ গুনান্বিত ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাদের ব্যাপারে ইরশাদ করেছেন,
 رُحَماءُ بَيْنَهُمْ
তারা একে অপরের প্রতি অত্যন্ত দয়াদ্র। সূরা ফাতহ-
.
অপর এক হাদীসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ক কতটুকু দৃঢ় হওয়া উচিত, তা একটি উদাহরণের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন। হাদিসটি হল –
আবু মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِنّ المُؤْمِنَ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ، يَشُدّ بَعْضُهُ بَعْضًا وَشَبّكَ أَصَابِعَهُ.
মুমিনরা একে অপরের জন্য অট্টালিকার ন্যায়। যার এক অংশ অপর অংশকে মজবুত করে রাখে। তারপর তিনি (বুঝানোর জন্য) তাঁর এক হাতের আঙ্গুল অপর হাতের আঙ্গুলের মাঝে প্রবেশ করে দেখালেন। -সহীহ বুখারী ৪৮১,২৪৪৬, সহীহ মুসলিম ২৫৮৫
.
একটি ভবনের জন্য যেমন ভিত,খুঁটি,ছাদ সবগুলো একটি অপরটির জন্য অপরিহার্য,একটি অপরটি ছাড়া দূর্বল এবং শক্তিহীন এবং একে অপরের পরিপূরক।  তেমনি মুমিনরা সবাই একটি ভবনের ন্যায় , এই ভবনের কেউ ভিত, তো কেউ খুঁটি, আবার কেউ ছাদ। সবাই একে অপরের সহযোগী। একজন বিপদে পড়লে অন্যরা তার সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।  
ইবনু বাত্তাল রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ এই হাদিসে মুমিনদের আখিরাতের বিষয়ে এবং দুনিয়াবি জায়েজ বিষয়ে একে অপরের সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে অন্যন্য মুসলিম ভাই বিশেষত মজলুম মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানোর তাওফিক দান করুন। আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন
08 অক্টোবর 2024 করেছেন TamimAdnani
আমাদের মনে অনেক সময় ভালো কাজ করার প্রেরণা আসে এবং সেই কাজটি আঞ্জাম দেয়ার মত সুযোগও থাকে। তখন অনেকেই এই ভেবে সেই কাজটা বিলম্ব করি যে, এখন থাক! সময় তো আছেই, পরে করে নেয়া যাবে। কিন্তু এই ভাবনা সঠিক নয়। বরং কোন ভালো কাজ করার ইচ্ছা মনে জাগলে এবং সুযোগ থাকলে তৎক্ষণাৎ করে ফেলা উচিত। দেরি করা উচিত নয়। কারণ আমি তো জানিনা পরে আর সেই সুযোগ পাবো কিনা বা ঐ মানসিকতা বহাল থাকবে কিনা।  
সুরা আনফালের ২৪ নং আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন-
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اسۡتَجِیۡبُوۡا لِلّٰهِ وَ لِلرَّسُوۡلِ اِذَا دَعَاکُمۡ لِمَا یُحۡیِیۡکُمۡ ۚ وَ اعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰهَ یَحُوۡلُ بَیۡنَ الۡمَرۡءِ وَ قَلۡبِهٖ وَ اَنَّهٗۤ اِلَیۡهِ تُحۡشَرُوۡنَ ﴿۲۴﴾
হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও; যখন তিনি তোমাদেরকে এমন জিনিসের দিকে আহবান করেন যা তোমাদেরকে জীবন দান করবে। জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হন। আর অবশ্যই তোমাদেরকে তাঁর নিকট একত্রিত করা হবে। (সুরা আনফাল-২৪)  
একারণে আমাদের সবার উচিত হবে, যখনই মনে ভালো কোনো কাজের চিন্তা আসবে, সামর্থ্য থাকলে সাথে সাথে করে ফেলা, দেরি না করা।  কারণ হতে পারে আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট হয়ে পরে আমার থেকে এই কাজের তাওফিক ছিনিয়ে নেবেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের হেফাজত করুন।
পাশাপাশি আরো একটি দোয়ায় মনোযোগী হতে পারি আমরা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়াটি খুব বেশি বেশি পড়তেন। আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি দোয়া খুব বেশি বেশি পড়তেন। দোয়াটি হলো-
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
অর্থাৎ হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত রাখুন।
আনাস রাদিয়াল্লাহু বলেন: আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ। আমরা তো আপনার প্রতি এবং আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি ঈমান এনেছি, এরপরও কি আপনি আমাদের ব্যাপারে কোনোরকম আশংকা করেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কেননা সমস্ত বান্দার অন্তরসমূহ রহমানের দুই আঙ্গুলের মাঝে রয়েছে। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা পরিবর্তন করেন। তিরমিজি ২১৪০
05 অক্টোবর 2024 করেছেন TamimAdnani
তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও ট্রল-বিদ্রুপ করা ঈমান পরিপন্থী কাজ
  
বর্তমানে আমাদের মধ্যে যে ব্যাধিটি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, সেটি হল বিরোধী মতের ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল না থাকা এবং কারো সাথে মতের সামান্য অমিল হলে তার বিরুদ্ধে গালি-গালাজ ও ট্রলের অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া। সাধারণদের মাঝে তো বটেই দ্বীনদার শ্রেণির মাঝেও এই রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
.
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজর বুলালেই দেখা যায়, আমাদের ভাইরা একে অন্যকে এমন নোংরা ভাষায় আক্রমণ করছেন যেগুলো মুখেও আনা যায়না। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, বিভিন্ন জায়গায় দ্বীনি মাহফিল ও মজলিসগুলোতেও এখন ঈমান আমলের বয়ানের পাশাপাশি গালিগালাজ ও গীবতের চর্চা হয়।   
.
কারো সাথে মতবিরোধ হলে বা কারো ফাতওয়া-মাসাইল ও কর্মকান্ড ভুল মনে হলে সংশোধনের নিয়তে দরদের সাথে আলোচনা করা যায়। এর জন্য সালাফদের রেখে যাওয়া নীতি ও আদর্শ আমাদের সামনে আছে। কিন্তু গালি গালাজ করা, ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করা, পূর্বের এমন পাপ কাজ যার জন্য সে অনুতপ্ত হয়েছে সেসব নিয়ে আলোচনা করা কোনভাবেই সংশোধনের পদ্ধতি হতে পারেনা। অথচ এই কাজগুলো অনেকে দ্বীনের কাজ মনে করে করছে। এসব যে গুনাহের কাজ এই অনুভূতিও নেই অনেকের মাঝে। যারা এই কাজগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি তাদের সামনে আজ দুটি হাদীস উল্লেখ করবো। আশা করি হাদীসদুটিই আমাদের সংশোধনের জন্য যথেষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ।
.
১। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالطّعّانِ، وَلَا اللّعّانِ، وَلَا الْفَاحِشِ، وَلَا الْبَذِيءِ.
মুমিন কটুভাষী ও লানতকারী হতে পারে না এবং অশ্লীল ও অশালীন কথা বলতে পারে না। তিরমিযী ১৯৭৭
.
২। আবু বারযা আল আসলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
يَا مَعْشَرَ مَنْ آمَنَ بِلِسَانِهِ وَلَمْ يَدْخُلِ الْإِيمَانُ قَلْبَهُ! لَا تَغْتَابُوا الْمُسْلِمِينَ وَلَا تَتّبِعُوا عَوْرَاتِهِمْ؛ فَإِنّهُ مَنْ يَتّبِعْ عَوْرَاتِهِمْ يَتّبِعِ اللهُ عَوْرَتَهُ، وَمَنْ يَتّبِعِ اللهُ عَوْرَتَهُ يَفْضَحْهُ فِي بَيْتِهِ.
হে ঐ সকল লোক, যারা মুখে ঈমান এনেছে, কিন্তু ঈমান এখনো তাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি, তোমরা মুসলমানদের গীবত করো না, তাদের অপ্রকাশিত দোষ-ত্রুটির অনুসন্ধান করো না, কেননা যে ব্যক্তি তাদের দোষ অনুসন্ধান করবে, আল্লাহ তার দোষ অনুসন্ধান করবেন। আর আল্লাহ কারো দোষত্রুটি তালাশ করলে তাকে তার ঘরের মধ্যেই অপদস্থ করে ছাড়বেন। মুসনাদে আহমাদ ১৯৭৭৬, সুনানে আবু দাউদ ৪৮৮০
.
এই হাদীস থেকে বোঝা গেল যে, মুসলিমদের দোষচর্চা করা, তাদের দোষ ত্রুটি প্রকাশে উৎসুক হওয়া মূলত মুনাফিকদের কাজ, যা এমন লোকদের থেকেই প্রকাশ পেতে পারে, যারা মুখে নিজেদের মুসলিম দাবী করলেও অন্তরে এখনো ঈমান প্রবেশ করেনি। আর এই ধরনের লোকদের জন্য আখিরাতে যে ভয়ানক আজাব অপেক্ষা করছে তা তো আমাদের কল্পনারও বাইরে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে এসকল মন্দ কাজ হতে হেফাজত করুন।
--
তবে এক্ষেত্রে অনেকে আবার ভ্রান্তির শিকার হন, অন্যদের বিরুদ্ধে তো তারা ঠিকই জবান এবং কলম চালান, অথচ নিজ পছন্দের ব্যাক্তি ও দলের কুরআন হাদীস বিরোধী বক্তব্য ও স্পষ্ট ভুলের ব্যাপারে আলোচনা করলে সেটাকে গীবত মনে করেন। সেসকল ভাইদের জেনে রাখা দরকার যে, সব ধরণের দোষ বর্ণনা গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়। উলামায়ে কেরাম এই ব্যাপারে বিশদ আলোচনা করেছেন। নির্ভরযোগ্য আলেমদের থেকে এই ব্যাপারে জেনে নেয়া কাম্য।
04 অক্টোবর 2024 করেছেন TamimAdnani
ইসরায়েল ও তার সহযোগীদের পণ্য বয়কটঃ ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর কার্যকর একটি উপায়

আট মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজায় অবিরাম ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে দখলদার ইস@রায়েলি বাহিনী। ইস@রায়েলি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত পুরো গাজা। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই শুধু ধ্বংস আর ধ্বংস, সারি সারি বিধ্বস্ত ঘরবাড়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া শত শত শহীদের দেহাবশেষ, কংক্রিটের নিচে চাপা পড়া তিলে তিলে গড়ে তোলা হাজারো মানুষের স্বপ্ন। মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, হাসপাতাল কিছুই অক্ষত রাখেনি হায়েনারা। তাদের এমন বর্বরতায় স্তব্ধ পুরো বিশ্ব। হামলায় প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছেন শত শত ফিলি@স্তিনি। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩৮ হাজার ছাড়িয়েছে, চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ। লাশের সারি বড় হতে হতে পাহাড়সম হচ্ছে, তবুও থামছেনা হায়েনাদের ধ্বংসযজ্ঞ। এখনো যারা বেঁচে আছেন তারাও প্রতিনিয়ত ভয় আর উৎকণ্ঠা নিয়েই বেঁচে আছেন। কখন আবার বিমান হামলা হবে, কখন আবার আরো একটি বাড়ি ট্যাংকের গোলার নিশানা হবে, কখন আবার হায়েনার ছোঁড়া গুলিতে প্রিয়জনের বুক ঝাঁঝরা হবে, এমন ভয় প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়ায় তাঁদের।  
.
ইসলামের প্রথম কিবলার প্রতিবেশীদের এই আজ পরিস্থিতি। তবুও আমরা নির্বাক, যেন কিছুই হয়নি। ধ্বংস্তূপের নিচে অবুঝ শিশুদের কান্না এবং অসহায় মা বোনদের আর্তচিৎকারে আকাশ বাতাস ভারি হতে দেখেও তাঁদের সাহায্য করার সম্ভাব্য উপায় খুঁজিনি, নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থেকেছি। ‘মুমিনরা একটি দেহের ন্যায়, এক অংশ আক্রান্ত হলে পুরো শরীরই ব্যাথা অনুভব করে’ রাসুলের এই বাণী শুনেও আমরা একটু নড়েচড়ে বসিনি, যেন আমরা উম্মতের প্যারালাইজড অংশ।
.
হাশরের ময়দানে ফিলি@স্তিনি ভাইরা যদি আল্লাহর কাছে আমাদের নামে নালিশ করে বলে যে, আমরা যখন শতাব্দির নির্মমতম গণহত্যার শিকার হচ্ছিলাম তখন এরা সবাই নিজ নিজ দেশে বসে তামাশা দেখছিল, কেউ এগিয়ে আসেনি। সেসময় কি জবাব দেবো আমরা?  
.
তাই আসুন যার যা আছে তাই নিয়ে ভাইদের পাশে দাঁড়াই, যারা বীরদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হায়েনাদের জবাব দিতে সক্ষম, তারা যেন যো@দ্ধাদের কাতারে নাম লেখান।  যারা অস্ত্র,অর্থ,পরামর্শ বা অন্য কোনোভাবে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারবেন তারা যেন তাই করেন। যাদের পক্ষে এসবকিছু সম্ভব নয় তারা অন্তত জায়ো@নিস্ট ইস@রায়েল এবং তার সহায়তাকারী দেশসমূহের সব ধরণের পণ্য বয়কট করার মাধ্যমে মজলুম ভাইদের পাশে দাঁড়াবেন।
.
আজ যদি আমরা সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে ভাইদের পাশে না দাঁড়াই, তাহলে দুনিয়া বা আখিরাতে এর প্রতিফল ভোগ করার জন্য যেন প্রস্তুত থাকি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন
03 অক্টোবর 2024 করেছেন TamimAdnani
সম্পদের আধিক্য নিয়ে গর্ব নয়, ভীত হওয়াই কাম্য


আমাদের অনেকের অবস্থা তো হল, আমরা সম্পদশালী হওয়াকে এবং গাড়ী বাড়ীর মালিক হওয়াকে আল্লাহ তাআলার প্রিয়পাত্র হওয়ার দলিল মনে করি। কেউ অর্থকষ্টে থাকলে তার ব্যাপারে ধারণা করি সে মনে হয় এখনো আল্লাহর প্রিয় হতে পারেনি।
.
 আমাদের মধ্যকার অনেক দ্বীনদার ভাই-বোনদের মধ্যেও এমন ধারণা বিদ্যমান রয়েছে। তারা নিজ পছন্দের পীর এবং শাইখের অধিক সম্পদ থাকাকে গর্বের মনে করেন এবং বলেন যে, আমার শাইখকে আল্লাহ অনেক পছন্দ করেন; এজন্যই তিনি এত এত গাড়ী বাড়ীর মালিক হতে পেরেছেন। আল্লাহ তাকে পছন্দ করেন বিধায় শাসকশ্রেণির লোকেরাও তার কাছে হাদিয়া তোহফা নিয়ে আসে।
.
অথচ আমাদের সালাফরা শাসকদের হাদিয়া তোহফাকে ভয় পেতেন এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধন-সম্পদকে এই উম্মতের জন্য ফিতনা সাব্যস্ত করেছেন। সাহাবায়ে কেরাম প্রাচুর্য্যের অধিকারী হওয়াকে নেক আমলের প্রতিদান নষ্টের কারণ বলে মনে করতেন। এক হাদীসে এসেছে-
عَنْ إِبْرَاهِيمَ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ أُتِيَ بِطَعَامٍ وَكَانَ صَائِمًا فَقَالَ قُتِلَ مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ وَهُوَ خَيْرٌ مِنِّي كُفِّنَ فِي بُرْدَةٍ إِنْ غُطِّيَ رَأْسُهُ بَدَتْ رِجْلاَهُ وَإِنْ غُطِّيَ رِجْلاَهُ بَدَا رَأْسُهُ وَأُرَاهُ قَالَ وَقُتِلَ حَمْزَةُ وَهُوَ خَيْرٌ مِنِّي ثُمَّ بُسِطَ لَنَا مِنْ الدُّنْيَا مَا بُسِطَ أَوْ قَالَ أُعْطِينَا مِنْ الدُّنْيَا مَا أُعْطِينَا وَقَدْ خَشِينَا أَنْ تَكُونَ حَسَنَاتُنَا عُجِّلَتْ لَنَا ثُمَّ جَعَلَ يَبْكِي حَتَّى تَرَكَ الطَّعَامَ
ইবরাহীম রহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত, একবার আবদুর রহমান ইবনে ‘আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু রোজাদার ছিলেন, ইফতারের সময় তার  সামনে খাদ্য পরিবেশন করা হল। তখন তিনি বললেন, মুস‘আব ইবনে উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু শহীদ হলেন। তিনি ছিলেন আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। অথচ তাঁকে এমন একটি চাদর দিয়ে কাফন দেয়া হল যা দ্বারা তাঁর মাথা ঢাকলে পা খুলে যায় আর পা ঢাকলে মাথা খুলে যায়।
(বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে পড়ে, তিনি আরও বলেছিলেনঃ হামযাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু শহীদ হলেন। তিনিও ছিলেন আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এরপর দুনিয়াতে আমাদেরকে অনেক প্রাচুর্য্য দেয়া হল।  আমার আশঙ্কা হয়, না জানি (এসব প্রাচুর্য্যের মাধ্যমে) আমাদের নেক আমলের প্রতিদান (দুনিয়াতেই) আগেভাগে দিয়ে দেয়া হয়েছে। একথা বলে তিনি কান্না করতে লাগলেন, কাঁদতে কাঁদতে এক পর্যায়ে খাবার খাওয়া ছেড়ে দিলেন। (বুখারী-১২৭৫)
.
এবার আমরা একটু নিজেদের দিকে নজর বুলাই, দেখি কোন পার্থক্য খুঁজে পাই কিনা!
25 সেপ্টেম্বর 2024 করেছেন TamimAdnani
সাদাসিধা জীবন: রাসুলের অনুসরণ

দুনিয়ার জীবনটা হল ক্ষণস্থায়ী। অল্প কিছু সময়ের জন্য এখানে এসেছি আমরা। আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনটা হল বিশাল সমুদ্রে এক ফোঁটা পানির ন্যায় কিংবা তার চেয়েও সামান্য। এখানে এসেছি আমরা আখিরাতকে সুসজ্জিত করতে। ইনশাআল্লাহ কিছুদিন পর আমরা সকলেই দুনিয়ার এই ক্ষুদ্র সফর শেষে পাড়ি জমাবো আমাদের সম্মানিত পিতা আদম আলাইহিস সালামের আদি বাসগৃহ জান্নাতে। জান্নাতই আমাদের আসল বাড়ি। তাই জান্নাতের জন্যই আমাদের সকল ব্যস্ততা হওয়া উচিত।
ক্ষণিকের দুনিয়ার মিছে চাকচিক্যের পেছনে পড়ে আসল বাড়ির কথা ভুলে যাওয়া কোন বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারেনা। কিন্তু জীবনভর এই অনর্থক কাজই করে চলেছি আমরা। দুনিয়া নিয়ে আমাদের ব্যস্ততা দেখলে মনে হয় যেন দুনিয়াই সব;আখিরাত বলে কিছু নেই। বাল্যকাল থেকে যৌবনকাল, যৌবনকাল থেকে বার্ধক্য পুরোটা সময় শুধু দুনিয়া নিয়েই ব্যস্ত আমরা। কিভাবে আরো বেশি সম্পদের মালিক হবো, কিভাবে আরো সুন্দর বাড়ি বানাব, কিভাবে আরো দামী গাড়ির মালিক হবো এসব চিন্তাই ঘিরে রাখে আমাদের। অথচ কিভাবে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবো, কিভাবে আখিরাতে আরো বেশি মর্যাদার অধিকারী হবো, কিভাবে জান্নাতকে আরো বেশি সুসজ্জিত করবো এসব চিন্তাই হওয়া দরকার ছিল আসল চিন্তা।
.
অনেকে আবার ভাবে, দুনিয়াটা এখন একটু সাজিয়ে নেই। পরে যখন ময়দানের ডাক আসবে বা কাজ কর্ম কমে আসবে তখন দ্বীনের জন্য নামবো। অভিজ্ঞতা বলে, এমনটি যারা ভাবে তাদের অধিকাংশের পক্ষেই পরবর্তীতে আর দুনিয়া ছেড়ে আখিরাত নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবার এবং এর জন্য সময় বের করার সুযোগ হয়না।
তাই আসুন, দুনিয়াকে দুনিয়ার মতই মূল্য দেই;জীবনের লক্ষ্য না বানাই। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِنْكَبِي فَقَالَ ‏"‏ كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ وَعُدَّ نَفْسَكَ فِي أَهْلِ الْقُبُورِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ لِي ابْنُ عُمَرَ إِذَا أَصْبَحْتَ فَلاَ تُحَدِّثْ نَفْسَكَ بِالْمَسَاءِ وَإِذَا أَمْسَيْتَ فَلاَ تُحَدِّثْ نَفْسَكَ بِالصَّبَاحِ وَخُذْ مِنْ صِحَّتِكَ قَبْلَ سَقَمِكَ وَمِنْ حَيَاتِكَ قَبْلَ مَوْتِكَ فَإِنَّكَ لاَ تَدْرِي يَا عَبْدَ اللَّهِ مَا اسْمُكَ غَدًا ‏"
ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘাড়ে হাত রেখে বললেনঃ পৃথিবীতে এমনভাবে জীবনযাপন করো, যেন তুমি একজন প্রবাসী অথবা পথচারী মুসাফির। আর নিজেকে কবরবাসী মনে করবে।
মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বললেনঃ তুমি সকালে উপনীত হলে বিকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকবে মনে করোনা এবং বিকালে উপনীত হলে সকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকবে মনে করো না। অসুস্থ হওয়ার পূর্বে সুস্থতাকে কাজে লাগাও, মৃত্যু আসার আগেই জীবনের সুযোগকে কাজে লাগাও। কেননা, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি তো জান না, আগামীকাল তুমি কি নামে অভিহিত হবে। (তিরমিজী- ২৩৩৩)
.
আরেক হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: ذَكَرَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا عِنْدَهُ الدُّنْيَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَلَا تَسْمَعُونَ، أَلَا تَسْمَعُونَ، إِنَّ الْبَذَاذَةَ مِنَ الْإِيمَانِ، إِنَّ الْبَذَاذَةَ مِنَ الْإِيمَانِ
আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন সাহাবীরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে দুনিয়ার ব্যাপারে আলোচনা করলো। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা কি শুনতে পাওনা! তোমরা কি শুনতে পাওনা যে, সাদাসিধা জীবনযাপন করাই হল ঈমানের অংশ, সাদাসিধা জীবনযাপন করাই হল ঈমানের অংশ। (আবু দাউদ- ৪১৬১)  
.
এসকল হাদীসের বাস্তব নমুনা ছিলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ। তাঁরা দুনিয়াকে হাতের নাগালে পেয়েও লাথি মেরে পেছনে ছুঁড়ে ফেলেছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হয়েও কখনো বিলাসিতার ধারে কাছেও যাননি। কখনো তিনি মিহি আটার রুটি খাননি। তাঁর ঘরে কখনো লাগাতার তিনদিন পেটভরে খাবারের আয়োজন হয়নি। আরামদায়ক বিছানায় শোয়ার সুযোগ হয়নি, খেজুরের পাতার বিছানায় ঘুমাতেন,যার ফলে পিঠে দাগ পড়ে যেত। আরো কত কত কষ্ট করেছেন তিনি। অথচ আমরা...
 .
প্রিয় পাঠক, মৃত্যুই যখন আমাদের প্রকৃত ভবিষ্যত, তাহলে অন্য কোন ভবিষ্যত নির্মানের জন্য আখিরাতকে পেছনে রাখছি ! জান্নাতই যখন আমাদের আসল বাড়ি, তাহলে অন্য কোন বাড়িকে সাজানোর জন্য জান্নাতের কথা ভুলে আছি !
তাই আসুন দুনিয়ার ধোঁকায় না পড়ি, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের মত সাদাসিধা জীবনযাপন করি, আখেরাতের পাথেয় অর্জন করি।
আল্লাহ তাআলা সহজ করুন। আমীন, ছুম্মা আমীন।
21 সেপ্টেম্বর 2024 করেছেন TamimAdnani
আসুন শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই
.
যদি অস্ট্রেলিয়ান ক্রুসেডাররা কানাডিয়ান ক্রুসেডারদের সাথে মিলে ইসলাম ধ্বংসের মিশনে নামতে পারে, যদি আমেরিকান ক্রুসেডাররা ব্রিটিশ ক্রুসেডারদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইরাক আফগানে মুসলিম নিধন অভিযান চালাতে পারে, যদি ইসরাইলের ইয়াহুদীরা ভারতীয় মুশরিক এবং পশ্চিমা ক্রুসেডারদের সহায়তা নিয়ে সমগ্র আরব অঞ্চলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে পারে, তাহলে আমরা এক আল্লাহর বান্দা হয়ে, এক রাসুলের উম্মত হয়ে কেন নিজেদের ভেতরকার পারস্পরিক মতভেদ ভুলে এক কালেমার পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হতে পারিনা?
.
মুশরিক এবং কুফফারদের মাঝে শত শত মতপার্থক্য এবং দৃষ্টিভঙ্গির ফারাক থাকা স্বত্বেও শুধুমাত্র শত্রু এক হওয়ার কারণে সবাই একে অপরের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। অথচ আমাদের মুসলিমদের মাঝে শত শত মিল থাকা স্বত্বেও শাখাগত কিছু মত পার্থক্যের কারণে শত শত দলে বিভক্ত হয়ে বসে আছি। আমাদের সবার শত্রু তো এক ও অভিন্ন, আমাদের সবার লক্ষ্যও তো এক ও অভিন্ন।
.
আমাদের সবার লক্ষ্য তো একটাই, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান কায়েম করা এবং জালেমদের ধ্বংস করে মাজলুমদের ইনসাফ প্রদান করা। আমাদের সবার উদ্দেশ্য তো একটাই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা এবং জান্নাতে গিয়ে চূড়ান্ত সুখ এবং সফলতা লাভ করা। তাহলে কেন আমরা নিজ দল এবং মতের বাইরে কাউকে সহ্য করতে পারিনা। কেন আমরা নিজ দল এবং মতের বাইরে অন্য কাউকে হক পথের পথিক ভাবতে পারিনা! কেন আমরা নিজ দল এবং মতের বাইরে ভিন্ন কাউকে দ্বীনের কাজ করছে এই স্বীকৃতি দিতে পারিনা!
.
আমাদের সবার শত্রু এক। বুঝতে হবে ভারত এবং তাদের এদেশীয় দোসররা চায় আমাদের শেষ করে দিতে। কিন্তু একসাথে সবাইকে ধরলে পালটা আঘাত সহ্য করা কঠিন হয়ে যাবে তাই তারা আমাদেরকে বিভিন্ন দল উপদলে বিভিক্ত করে রাখতে চায়।  তারা চায় আমরা নিজেদের মধ্যে দলাদলিতে লিপ্ত থাকি তাহলে তাদের জন্য আমাদের শায়েস্তা করতে সহজ হবে। আমাদের বর্তমান অবস্থা হলো। আমার পছন্দের দল এবং মতের বাইরে ভিন্ন কোন মুসলিমের উপর নির্যাতন হলে আমি বিচলিত হইনা, ভাবি তাদেরকে শায়েস্তা করলে ভালোই হবে, তারা শেষ হয়ে গেলে আমার মতবাদ ছড়িয়ে দিতে পারবো খুব সহজেই। কিন্তু একটিবারের জন্যও চিন্তা করিনা এর পরই কিন্তু আমার পালা আসবে। আমাদের পরস্পরের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে মূলত তারা আমাদের সম্মিলিত শক্তিকে বিক্ষিপ্ত করে দিয়েছে যার ফলে আমরা তাদের সহজ শিকারে পরিণত হয়েছি।  
.
বর্তমানে এই অঞ্চলের মুসলিম এবং ইসলামপন্থীদের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো ভারতের হিন্দুত্ববাদীরা। তাদের লক্ষ্য হলো পুরো উপমহাদেশে একজন মুসলিমের নাম নিশানাও বাকি রাখবেনা। সবাইকে শেষ করে হিন্দুরাষ্ট্র  কায়েম করবে। যেখানে থাকবেনা কোন মসজিদ, থাকবেনা কোন মাদ্রাসা, থাকবে শুধু মন্দির,মঠ এবং শ্মশান। এই রাষ্ট্রে মুসলিমদের অবস্থা হবে দাস দাসীর চেয়েও করুণ। তাদের কোন অধিকার থাকবেনা। যখন খুশি মারবে যখন খুশি কাটবে। প্রতিউত্তরে কিছুই বলা যাবেনা।
.
এই কথাগুলো তারা এখন প্রকাশ্যেই বলছে, ভারতের বিভিন্ন জায়গায় এসব বিষয়ে সাধারণ হিন্দুদের কাউন্সিলিং করার জন্য বড় বড় সমাবেশ এবং র‍্যালির আয়োজন হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে উগ্র হিন্দুরা এর পক্ষে জনমত তৈরি করছে এবং মুসলিমদের নিধন করার জন্য আয়োজন করছে সামরিক ট্রেনিংয়ের।   
.
আমাদের দেশের অবস্থাও যে ভালো তা কিন্তু নয়। এদেশেও প্রশাসনের সর্বত্র হিন্দুত্ববাদীদের রাজত্ব দেখা যাচ্ছে। সর্বত্রই তাদের সরব উপস্থিতি। উপরস্থ কোন পদে নামধারী কোন মুসলিমের পদায়ন হলেও তাকে আগে দাদা বাবুদের কাছে আনুগত্যের শপথ নিতে হয়। এরপরই মিলে সেই পদ। সেই পদে গিয়ে কেউ যদি কোনভাবে ভারতীয় প্রভুদের অসন্তুষ্টিমূলক কোন কাজ করে ফেলে তাহলে তাকে কৌশলে সরিয়ে দেয়া হয় অথবা গুম করে ফেলা হয়। এটাই স্বাধীন বাংলাদেশের পরাধীনতার আসল চিত্র। এর থেকে যদি আমরা মুক্তি পেতে চাই তাহলে নিজেদের দলাদলি ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।
.
সামনে আলেম ওলামা এবং ইসলামপন্থীদের জন্য খুবই কঠিন দিন আসছে। গুজরাট, মুজাফফরনগর নেলি মুরাদাবাদের মত গণহত্যার প্রস্তুতি চলছে ভারত বাংলাদেশ জুড়ে।  এর সামান্য কিছু নমুনা আমরা গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় দেখতে পেয়েছি। ভোলায় হিন্দু কতৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবমাননার প্রতিবাদে মিছিল করায় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে নবীপ্রেমিকদের হত্যা করা। কুমিল্লায় হিন্দু কতৃক কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে মিছিল বের করায় চাদপুরের হাজীগঞ্জ সহ বিভিন্ন জায়গায় বহু মুসলিমের বুকে গুলি চালানো এবং ব্যাপক ধর পাকড় চালানো। ভারতের কসাই মোদির আগমনের বিরোধিতা করায় চট্টগ্রাম বাহ্মণবাড়িয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় অনেক মুসলিমকে হত্যা করা।
.
 নাস্তিক এবং ইসলাম অবমাননাকারীদের বিচার দাবি করায় ৬ই মে রাতে শাপলা চত্বরে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অগণিত তৌহিদী জনতাকে হত্যা করা। একজন আলিমের মৃত্যুদন্ডের প্রতিবাদ করায় দুই শতাধিক মুসলিমকে নির্মমভাবে হত্যা করা। এমন আরো অনেক ঘটনা ঘটেছে গত অল্প কয়েক বছরে। এগুলো তো সব বড় বড় ঘটনা এর বাইরেও অসংখ্য গুম খুন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে শুধুমাত্র ভারতীয় আধিপত্যবাদকে মেনে না নেয়ার কারণে.
.
মোটকথা যে বা যারাই হিন্দু বা হিন্দুত্ববাদীদের ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরোধিতা করবে তাকেই হয়তো গুম করে ফেলা হবে অথবা মিথ্যা মামলায় রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হবে কিংবা নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হবে। এই পর্যন্ত বহু আলেম ওলামা এবং সাধারণ মানুষ এই ধরণের গুম খুনের শিকার হয়েছেন। অসংখ্য আলেম ওলামা তাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ নির্যাতনের কারণে কারাগার কিংবা বন্দী অবস্থায়ই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন।
.
এখনো যদি আমরা আমাদের আসল শত্রুকে না চিনি, তাদের বিরুদ্ধে শক্তভাবে প্রতিরোধ গড়ে না তুলি তাহলে আরো অনেক আলেম উলামাকে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন করা হবে। গুম খুনের শিকার হতে হবে আরো অনেক দায়ী বক্তাকে। তাই আসুন আমরা সকলে নিজেদের মধ্যকার ভেদাভেদ ভুলে একতাবদ্ধ হই এবং শত্রুর বিরুদ্ধে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাওফিক দান করুন। ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ।
13 সেপ্টেম্বর 2024 করেছেন TamimAdnani
আল্লাহু আকবারের মর্ম অনুধাবন

দুই রাকাত নামাজে একজন মুসলিম অন্তত এগারোবার আল্লাহু আকবার বলে। পাঁচওয়াক্ত ফরজ নামাজ এবং সুন্নাত ও ওয়াজিব মিলিয়ে একদিনে এই সংখ্যাটা একশো পঞ্চাশের অধিক হয়।  এর মানে হল একজন মুসলিম দিনে দেড়শো বারের অধিক তার রবকে সবচেয়ে বড় বলে ঘোষনা দিচ্ছে। সে যেমনি তার রবকে সবচেয়ে বড় বলে ঘোষনা দিচ্ছে তেমনি তার দেয়া শরীয়ত এবং বিধি বিধানকেও সকল ধর্ম ও মতবাদের উপর স্থান দেবে এটাই ছিল স্বাভাবিক।
কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন কিছু পরিলক্ষিত হয়, কিছুক্ষণ পুর্বে আল্লাহু আকবার বলে আল্লাহর বড়ত্বের ঘোষনা দিয়ে আসা ব্যাক্তিটাও মসজিদ থেকে বের হয়েই আল্লাহ প্রদত্ত শাসননীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে আল্লাহ দ্রোহীদের বানানো শাসননীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতিকে সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত করার এবং সে অনুযায়ী রাষ্ট্র, সমাজ পরিচালনা করার শপথ নিচ্ছে।
সমাজ, রাষ্ট্র ও আইন আদালতে ইসলামকে অচল মনে করছে। ইসলামের বিধানকে উন্নতি ও অগ্রগতির অন্তরায় মনে করছে। ইসলাম ধর্ম ও অন্যন্য বাতিল ধর্মকে সমমর্যাদার মনে করছে। ইসলামের অনেক বিধানকে সেকেলে, অচল, পশ্চাতপদ ও বর্বর মনে করছে। ইসলামী বিধানের পরিবর্তে পশ্চিমাদের নোংরামীকে যুগোপযোগী, আধুনিক ও কল্যাণকর মনে করছে।  
এর কারণ হল আমরা মুখে আল্লাহ সবচেয়ে বড় বললেও মনেপ্রাণে এই কথা মেনে নিতে পারিনি। যদি মনেপ্রাণে এই কথা মেনে নিতে পারতাম তাহলে কখনো আমাদের পক্ষে আল্লাহর দেয়া সমাজনীতি অর্থনীতি রাষ্ট্রনীতি তথা ইসলামী শরীয়াহর বদলে জমিনে ভিন্ন কোন মতবাদকে মেনে নেয়া সম্ভব হতোনা। এর অধীনে শান্তভাবে জীবন-যাপন করা এবং একে বিনাশ করার পরিবর্তে এর প্রতিরক্ষা করার কথা তো কল্পনাও করতাম না।
সত্যিকার্থেই যে ব্যাক্তি আল্লাহকে সবচেয়ে বড় বলে বিশ্বাস করে সে তার জীবন ব্যয় করে হলেও বাকি সব বাতিল মতবাদকে ধ্বংস করে আল্লাহর দেয়া শরীয়াহকে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। এমন কিছু তাওহীদবাদী নির্ভীক যুবক উঠে দাঁড়াবে এই আশায়…
15 অগাস্ট 2024 করেছেন TamimAdnani
মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে কয়েকটি কথা.......
.
১। আজকের এই বিজয় ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী আধিপত্যের জুলুমের শাসনের বিরুদ্ধে এদেশের মুক্তিকামী মানুষের এক বিজয়। সুতরাং রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিগত ১৬ বছরে অন্যায়-অবিচার ও জুলুমের যে ক্যান্সার তৈরি করা হয়েছে, তার মূলোৎপাটন করা না হলে এর সুফল এদেশের মানুষ কখনোই পাবে না।
২। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়াসহ বিগত প্রায় ১৬ বছরে যত মানুষ নির্যাতিত হয়েছে, হত্যা,গুম-খুন,হামলা-মামলার শিকার হয়ে অপরিসীম যন্ত্রণা সহ্য করেছেন, তাদের কান্নাগুলো অভিশাপ হয়েই আজ খুনিদের পতন ঘটিয়েছে। সুতরাং তাদের হৃদয়ের যন্ত্রণা উপশমের প্রচেষ্টা অব্যাহত না থাকলে, তাদের বোবা কান্নাগুলো আবার অভিশাপ হয়ে নতুন অপরাধীদেরকে তাড়া করবে।
৩। বিগত প্রায় ১৬ বছরে যারা অপরাধ করেছে এবং সেই অপরাধে সহযোগী ও সমর্থক হয়ে তাতে ইন্ধন জুগিয়েছে (হোক রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক-আধা সামরিক বাহিনী বা অন্য যেকোনো ব্যক্তি), তাদের প্রত্যেককে তাদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৪। উলামায়ে কিরামসহ জালিমের কারাগারে বন্দী যত নীরিহ মানুষ রয়েছে, তাদের সকলকে অবিলম্বে সসম্মানে মুক্তি দিয়ে তাদের উপর হওয়া অত্যাচারের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৫। নিরপরাধ কোনো মানুষকে যেনো একটা ফুলের টোকাও দেওয়া না হয়। আপনার সাথে ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো দ্বন্দ্ব কারো থাকতেই পারে কিন্তু এই সুযোগে তাকে কোনো ধরণের ক্ষতি করা হলে তা হবে সম্পূর্ণ জুলুম। আর জালিমের কোনো ক্ষমা নেই, যা আজ আমরা প্রত্যক্ষ করলাম। আর এক জালিমের বিরোধিতা করে নিজেই জালিম হয়ে যাওয়ার চেয়ে ঘৃণ্য অপরাধ আর হতে পারে না।
৬। ব্যক্তিগত কিংবা জাতীয় কোনো সম্পদের কোনো ধরণের ক্ষতি করা যাবে না। কারণ এই সম্পদের মালিক এদেশের মানুষ। অপরাধী ও তাদের সমর্থকদের অবৈধ সম্পদ ক্রোক করে তা জনগণের জন্য ব্যয় করতে হবে। সম্পদ ক্ষতি করা মানে আমি আমার নিজেরই ক্ষতি করছি।
৭। এদেশে বিগত ১৬ বছর ধরে সবচেয়ে নির্যাতিত হয়েছেন আলিম-উলামা ও ইসলামপন্থীগণ। সুতরাং তাদেরকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। যেখানে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয় না, সেখানে জুলুমের রাজত্ব কখনো বন্ধ হবে না। তথাকথিত সুশীল ও নিরাপদে থাকা ব্যক্তিদেরকে ক্ষমতায় বসালে একই জুলুমের পুনরাবৃত্তি ঘটবে কোনো সন্দেহ নেই।
৮। যে বীর ছাত্ররা এই আন্দোলন শুরু করেছে এবং এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, তাদেরকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। এ দেশ এবং দেশের জনগণের বিষয়ে সেনাবাহিনী কিংবা সাবেক সরকারের কর্মকর্তাদের চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া যাবেনা, বরং বিপ্লবী ছাত্র-জনতাই এ বিষয়ে ফায়সালা করবে।
৯।  ইসলাম হচ্ছে একমাত্র পূর্ণাংগ ও ইনসাফভিত্তিক জীবনব্যবস্থা। সুতরাং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের বিধানের আলোকে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক আদর্শ সমাজ পরিচালনা করা হলেই জুলুমের চক্র বন্ধ করা সম্ভব। অন্যথায় ঘুরেফিরে একই জুলুম আবার ফিরে আসবে, আজ কিংবা কাল।
07 অগাস্ট 2024 করেছেন TamimAdnani

18,653 টি প্রশ্ন

19,566 টি উত্তর

2,578 টি মন্তব্য

103,481 জন সদস্য

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

এক প্ল্যাটফর্মে কন্টেন্ট/লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি আর ফ্রী প্রমোশন!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার ধারণাটাই বদলে দিবে! (পড়ুন...)

আপনি কি জানেন—প্রতি সেকেন্ডে কারও না কারও লেখা চুরি হচ্ছে? আপনার লেখাগুলো কি নিরাপদ? যখন লেখা ছড়িয়ে থাকে—সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ কিংবা সংবাদপত্রে—হযবরল অগোছালো অবস্থায়… তখন একদিকে চুরির ভয়, অন্যদিকে লেখক হারান নিজের পরিচয়। প্রমাণও থাকে না। পাঠকও বা কিভাবে পাবে মূল লেখকের সংস্পর্শ?

ই-নলেজ আইডিয়া—আপনার কেন্দ্রীয় লেখালেখির ঠিকানা। প্রতিটি লেখার জন্য থাকছে ভেরিফাইড পোষ্ট আইডি (eID), আর আপনার জন্য কেন্দ্রীয় লেখক আইডি নম্বর—যেটা ব্যবহার করতে পারেন Bio, CV, কিংবা বই-র রেফারেন্সে। আর ই-আইডি(eID) জুড়ে দিবেন প্রতিটি লেখার সঙ্গে। (যেমন- পোষ্ট eID: ১২৩ ; #eID_123 #enolej)। ফলে কপিরাইট সুরক্ষা থাকবে নিশ্চিত, আর পাঠক থাকবে মূল লেখকের সংস্পর্শে। আর ভেরিফাই হলে করতে পারবেন আপনার পেজ কিংবা ব্লগ এর ফ্রী প্রমোশন!

আপনার লেখক প্রোফাইলেই থাকবে আপনার আর্কাইভ—সব লেখা, ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি আর পাঠকের প্রতিক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে গোছানো।

এখানে আপনি একা নন, পাচ্ছেন লেখক কমিউনিটি। বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে হাজারো লেখক ছড়িয়ে থাকলেও কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম একটাই—যেখানে আপনার স্বত্ব, স্বীকৃতি আর অবস্থান সুরক্ষিত। কেউ কারও eID নকল করতে পারবেনা, কেন্দ্রীয় সোর্স একটাই। এখানেই থাকছে লেখক র‍্যাংক—যেখানে তুলনায় ঝলমল করে উঠবে আপনার কৃতিত্ব।

এটাই আপনার কেন্দ্রীয় ঠিকানা। ভেরিফাই করুন আজই—আপনার লেখাকে দিন স্থায়ী সুরক্ষা।

বিস্তারিত পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ই-নলেজ কুয়েরি বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট। এখানে আপনি প্রশ্ন-উত্তর করার মাধ্যমে নিজের সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি দিতে পারেন অন্যদের সমস্যার নির্ভরযোগ্য সমাধান! বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যা, পড়ালেখা, ধর্মীয় ব্যাখ্যা, বিজ্ঞান বিষয়ক, সাধারণ জ্ঞান, ইন্টারনেট, দৈনন্দিন নানান সমস্যা সহ সকল বিষয়ে প্রশ্ন-উত্তর করতে পারবেন! প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে বাংলা ভাষায় উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য!
তাই আজই যুক্ত হোন ই-নলেজে আর বাড়িয়ে দিন আপনার জ্ঞানের গভীরতা...!
Empowering Novel Learners with Joy (Enolej)


...