হাসিনার মেগা উন্নয়ন প্রকল্প: বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের জন্য কেন বেশি সুবিধাজনক?
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আওতায় বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে একাধিক মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল। তবে, অনেক প্রকল্পে মূল সুবিধাভোগী হিসেবে ভারতের কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। বিশেষত, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সাথে সংযোগ স্থাপন এবং তাদের ট্রানজিট সুবিধা বাড়াতে এ প্রকল্পগুলো প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছে। অথচ বাংলাদেশের কিছু অভ্যন্তরীণ অঞ্চল উন্নয়নের বাইরে থেকে গেছে। এখন আমরা দেখবো, কীভাবে এসব প্রকল্প ভারতের জন্য সুবিধাজনক হয়েছে এবং কেন হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের চেয়ে ভারতের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পদ্মা সেতু: দুই দেশের জন্য ভিন্ন উদ্দেশ্য
পদ্মা সেতু প্রকল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি প্রধান প্রতীক। এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রাজধানীর সাথে সংযুক্ত করেছে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে সহজ করেছে।
তবে পদ্মা সেতুর সাথে যুক্ত বেশ কিছু প্রকল্প, যেমন ভাঙ্গা থেকে যশোর হয়ে বেনাপোল পর্যন্ত চার লেনের মহাসড়ক এবং রেললাইন, মূলত ভারতের ট্রানজিট সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পিত। ভারত এই করিডোর ব্যবহার করে তার সেভেন সিস্টার রাজ্যগুলোতে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী পণ্য পরিবহন করতে পারবে।
ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে, পদ্মা সেতুর সাথে এই অতিরিক্ত প্রকল্পগুলো তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর তৈরি করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে এ ধরনের প্রকল্পের প্রভাব সীমিত। দেশের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে যেমন জামালপুর বা চাঁদপুরে সেতু নির্মাণের চেয়ে এই প্রকল্পগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা সরকারের অগ্রাধিকার নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
পেট্রাপোল-আগরতলা করিডর: ভারতের ট্রানজিট সুবিধার একটি মডেল
পেট্রাপোল থেকে আগরতলা পর্যন্ত সংযোগ ব্যবস্থা ভারতের জন্য একটি কৌশলগত করিডোর। এই করিডোরে বাস্তবায়িত আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন প্রকল্প ভারতের বাণিজ্যিক পরিবহন খরচ এবং সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিবে।
- আগরতলা থেকে কলকাতার মধ্যে পণ্য পরিবহন সময় ৩৮ ঘণ্টা থেকে মাত্র ৫-৬ ঘণ্টায় নেমে আসবে।
- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অর্থনীতি চাঙা হবে।
- ভারতের সেভেন সিস্টার রাজ্যগুলোতে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী পরিবহন নিশ্চিত হবে।
কিন্তু বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত তার নিজস্ব উন্নয়নের জন্য ব্যাপক সুবিধা অর্জন করেছে, যেখানে বাংলাদেশের সরাসরি লাভ উল্লেখযোগ্য নয়।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সরকার দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে একাধিক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তবে এসব প্রকল্পের মধ্যে কিছু উদ্যোগ ভারতের ট্রানজিট সুবিধা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের তুলনায় ভারতের জন্য বেশি সুবিধাজনক হয়েছে। এসব কথা একটু বেশি মনে হলে একটা বিষয় একটু চিন্তা করতে পারেন, মোদি কেন আগরতলাকে নর্থ ইস্টের ট্রেড হাব হিসেবে তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছিল? অথচ এই রাজ্যই নর্থ ইস্টের সবচেয়ে বেশি ল্যান্ড লক একটা রাজ্য।
অন্যান্য মেগা প্রকল্প: ভারতের জন্য বিশেষ সুবিধা
আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগ প্রকল্প - বাংলাদেশের আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা রেলওয়ে স্টেশনের সাথে সংযুক্ত করেছে। প্রকল্পটির মোট দৈর্ঘ্য ১২.২৪ কিলোমিটার, যার মধ্যে ৬.৭৮ কিলোমিটার বাংলাদেশে এবং ৫.৪৬ কিলোমিটার ভারতে অবস্থিত। এই রেলপথের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সাথে দেশের অন্যান্য অংশের যোগাযোগ সহজতর হবে, যা তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মেঘনা সেতু নির্মাণ - মেঘনা নদীর ওপর নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা ভারতের ট্রানজিট সুবিধা বাড়াতে সহায়ক হবে। এই সেতুর মাধ্যমে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সাথে দ্রুত পণ্য পরিবহন সম্ভব হবে। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পরিলক্ষিত হবে না।
যশোর থেকে বেনাপোল পর্যন্ত চার লেনের মহাসড়ক এবং রেললাইন - এই প্রকল্প পদ্মা সেতুর সাথে সংযুক্ত। এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে ভারতের পণ্য পরিবহন সহজ হবে, বিশেষ করে তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সাথে সংযোগ স্থাপনে। তবে সমালোচকরা মনে করেন, এই প্রকল্পগুলোর জন্য যে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, তা জামালপুরে যমুনা সেতু বা চাঁদপুরে মেঘনা সেতু নির্মাণে বিনিয়োগ করা হলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বেশি কার্যকর উন্নয়ন সাধিত হতো।
উপরের প্রকল্পগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শেখ হাসিনার সরকারের কিছু মেগা প্রকল্প ভারতের ট্রানজিট সুবিধা বৃদ্ধিতে সহায়ক, যা তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতো। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কিছু অঞ্চল উন্নয়নের বাইরে রয়ে গেছে। যদি এসব অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হতো, তাহলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিকাশ আরও সুদূরপ্রসারী হতো।
বাংলাদেশের অবহেলিত অঞ্চল
জামালপুরের উন্নয়নের অভাব - যমুনা নদীর ওপর জামালপুরে একটি সেতু নির্মাণ করা গেলে রংপুর বিভাগের কৃষি এবং শিল্প পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত এবং সাশ্রয়ী হতো। এটি সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় সময় ও খরচ কমিয়ে আনতে পারত এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হতো।
চাঁদপুরে মেঘনা সেতুর প্রয়োজন - চাঁদপুরে একটি সেতু নির্মাণ বরিশাল, খুলনা এবং চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারত। এর ফলে দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত হতো এবং ঢাকার উপর নির্ভরতা কমানো যেত।
অর্থনৈতিক ভারসাম্যের অভাব
পদ্মা সেতু এবং এর সাথে সংযুক্ত প্রকল্পগুলোতে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে ব্যবহার করা সম্ভব ছিল। উদাহরণস্বরূপ, পদ্মা রেল প্রকল্পে ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু এর থেকে আয় এসেছে মাত্র ৩৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে, এই প্রকল্পের ঋণের কিস্তি বছরে প্রায় ১৪০০ কোটি টাকা।
এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে ভারতের ট্রানজিট সুবিধা বাড়লেও, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি। বরং অভ্যন্তরীণ সেতু ও সংযোগ প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ করলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতো।
শেখ হাসিনার মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে ভারতের ট্রানজিট সুবিধা বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অঞ্চলগুলো অবহেলিত থেকে গেছে। নারায়ণগঞ্জের মেঘনা সেতু এবং যশোর-বেনাপোল করিডোরের মতো প্রকল্পগুলো ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জন্যেই ছিল, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেনি।
যদি এসব প্রকল্প পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো, তাহলে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হতো এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হতো। তাই হাসিনার মেগা প্রকল্পগুলোর প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি এবং অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলাটাই স্বভাবিক।
11 এপ্রিল 2025
করেছেন
আবু উবাইদাহ
লেভ তাহোর: ধ/র্মের নামে নি/ষ্ঠু/রতা ও শি/শু/দের নি/পী/ড়/নের ই/হু/দি নেটওয়ার্ক
.
সম্প্রতি ইন্টারপোল ই/স/র|য়েলি নাগরিক ইয়োয়েল আল্টারকে গ্রেফতার করেছে, যে ই/হু/দি গোষ্ঠী "লেভ তাহোর"-এর অন্যতম সদস্য। গুয়|তেম|ল|য় তাকে আ/টক করা হয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, তাকে মেক্সিকোতে বিচারের সম্মুখীন করা হবে। "লেভ তাহোর" নামের এই কাল্টকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শি/শু প|চ|রক|রী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখান থেকে ১৬০টিরও বেশি শি/শুকে উ/দ্ধা/র করা হয়েছে এবং ৪০ জন ন|রী-কে সহিংসতা থেকে মুক্ত করা হয়েছে।
.
এই চর/মপ/ন্থী ই/হু/দি সংগঠনটি কেবল শি/শু প|চা| নয়, বরং নি-র্য|তন, জো/র/পূর্বক বিয়ে, যৌ/ন নির্য|তন এবং ন|রী/দেরকে বিক্রি করার মতো গুরুতর অপর|ধের সাথে জড়িত। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিশ্ব মিডিয়া এই ঘটনাগুলোকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না! কেন? কারণ অপরাধীরা মু/স/লিম নয়! মুসলিমদের বি/রু/দ্ধে যেকোনো অভিযোগ হলে বিশ্ব মিডিয়ার হেডলাইনে তা আসে, কিন্তু ই/হু/দি, খ্রি/স্টা| বা অন্যান্য সম্প্রদায়ের অপরাধীরা ধরা পড়লে সেটিকে ধামাচাপা দেওয়া হয় বা গুরুত্ব কমিয়ে দেখানো হয়।
.
লেভ তাহোর: কিভাবে এই চ/রমপ/ন্থী গোষ্ঠীর উত্থান?
.
"লেভ তাহোর" (হিব্রু ভাষায় অর্থ: "বিশুদ্ধ হৃদয়") প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৮ সালে ই/স/র|য়েলে। এটি মূলত উগ্রপন্থী ই/হু/দি গোষ্ঠী "হাসিদিক" ধারার অনুসারী। সংগঠনটি প্রথমে ই/স/র|য়েলিয়েলেই সক্রিয় ছিল। পরে তারা কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, নি/র্য|তনমেক্সিকো, গুয়|তেম|ল| ও অন্যান্য দেশে গোপনে স্থানান্তরিত হয়।
.
মূল অপরাধসমূহ:
.
✔ শি/শু পাচার: কম বয়সী শি/শুদের অপহরণ করে গোপন লোকেশনে নিয়ে যাওয়া।
✔ জো/রপূ/র্বক বি/য়ে: ১২-১৩ বছর বয়সী কিশোরীদের ৪০-৫০ বছরের বৃদ্ধদের সাথে জো/রপূ/র্বক বি/য়ে দেওয়া।
✔ যৌ/ন নি/র্য|তন: লেভ তাহোরের নেতা এবং সদস্যরা সংগঠনের এবং অপহরন করা মে/য়ে/দের উপর যৌ/ন নি/র্য|তন চালাতো।
✔ শি/শু এবং ন|রীদের বিক্রি করা: বিভিন্ন পতিতালয় সহ বিভিন্ন যায়গায় ন|রী এবং শি/শুদের বিক্রি করা।
.নি/র্য|তন
এত ভয়াবহ অপর|ধের পরও বিশ্ব মিডিয়া কেন এদের বি/রু/দ্ধে এত নীরব?
.
পশ্চিমা মিডিয়ার দ্বৈতনীতি: মুসলিম হলে সন্ত্রাসী, ই/হু/দি-খ্রি/স্ট|ন হলে ‘মানসিক রোগী’!
আমরা লক্ষ্য করি, যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তি বা সংগঠন কোনো সরকার বিরোধী কাজে জড়িত হয় বা অন্য কোন কাজ যা পশ্চিমাদের পছন্দ নয়, তবে পশ্চিমা মিডিয়া সেটিকে "ইসলামিক চ/রম/পন্থা" বলে প্রচার করে এবং পুরো মুসলিম সম্প্রদায়কে দায়ী করে। কিন্তু যখন কোনো ই/হু/দি বা খ্রি/স্ট|ন গোষ্ঠী জঘন্য অপরাধ করে, তখন সেটাকে "বিচ্ছিন্ন ঘটনা" বা "মানসিক সমস্যার কারণে সংঘটিত অপরাধ" বলে চালিয়ে দেওয়া হয়।
.
যখন কোনো অপরাধকে "মানসিক সমস্যা" বা "বিচ্ছিন্ন ঘটনা" বলা হয়, তখন সেটি ব্যক্তিগত বলে ধরা হয়, যার ফলে পুরো গোষ্ঠী বা আদর্শকে দায়ী করা হয় না। কিন্তু যদি সেটাকে "ধর্মীয় উগ্রবাদ" বলে প্রচার করা হয়, তখন তা পুরো সম্প্রদায় বা ধর্মের ওপর দায় চাপায়। ফলে, ই/হু/দি বা খ্রি/স্ট|ন অপরাধীদের ক্ষেত্রে "মানসিক সমস্যা" বা "বিচ্ছিন্ন ঘটনা" বলে বিষয়টি হালকা করা হয়, কিন্তু মুসলিমদের ক্ষেত্রে পুরো ইসলামকে দায়ী করে মিডিয়া ও রাজনীতি এটাকে বড় করে উপস্থাপন করে। এভাবেই পশ্চিমা শক্তিগুলো মুসলিমবিরোধী প্রচারণা চালায় এবং ই/হু/দি-খ্রি/স্ট|ন অপরাধীদের দায়মুক্তি দেয়।
.
উদাহরণ হিসেবে দেখুন:
.
???? ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে এক খ্রি/স্ট|ন সন্ত্রাসী মসজিদে ঢুকে ৫১ জন মুসল্লিকে হত্যা করে, কিন্তু মিডিয়া কখনো তাকে "খ্রি/স্ট|ন সন্ত্রাসী" বলেনি, বরং তাকে "একজন মানসিকভাবে অসুস্থ যুবক" হিসেবে দেখানো হয়।
???? যু/ক্তর|ষ্ট্রে ই/হু/দি ও খ্রি/স্ট|নরা যখন স্কুলে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়, তখন এটাকে "Mental Health Issue" বলে ধামাচাপা দেওয়া হয়।
???? কিন্তু মুসলিম কেউ কিছু করলে সাথে সাথে তাকে ‘সন্ত্রাসী’, বা ‘চ/রমপ/ন্থী’ বলে ঘোষণা করা হয়।
এই দ্বৈত নীতি প্রমাণ করে, পশ্চিমা মিডিয়া মুসলিমদের ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করে এবং অন্যান্য ধর্মীয় চরম অপরাধকেও ঢেকে রাখে।
.
ই/হু/দিদের মধ্যে চ/রম/পন্থা ও অপর|ধের ইতিহাস
.
বহু ই/হু/দি সংগঠনই দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে আসছে, কিন্তু বিশ্ব মিডিয়া এ নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য করে না। নিচে কয়েকটি বড় অপরাধমূলক ই/হু/দি গোষ্ঠীর উদাহরণ দেওয়া হলো:
.
১. লেভ তাহোর (Lev Tahor)
.
- বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শি/শু প|চ|রক|রী সংগঠন।
- মেক্সিকো ও গুয়|তেম|ল|য় ভয়ংকর কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল।
- গোপনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
.
২. কাহানিস্ট উগ্রপন্থীরা (Kahanist Extremists)
.
- ই/স/র|য়েলের উগ্র ই/হু/দি দল, যারা ফি/লি/স্তি/নি/দের বি/রু/দ্ধে নৃশংস হামলা চালায়।
- ১৯৯৪ সালে আমেরিকান-ই/হু/দি বারুচ গোল্ডস্টেইন ফি/লি/স্তি/নি/দের মসজিদে ঢুকে ২৯ জনকে শহীদ করে।
.
৩. ই/স/র|য়েলি মানবপাচার চক্র
.
- ২০০০ সাল থেকে বহু ই/স/র|য়েলি নাগরিক যু/ক্তর|ষ্ট্র ও ইউরোপে মানবপাচার ও দাসত্বের সাথে যুক্ত।
- এদের কারনে বিভিন্ন দেশের ন|রী ও শি/শুরা প্রায়ই দাসত্বের শিকার হয়, কিন্তু বিশ্ব মিডিয়া একে বড় করে তুলে ধরে না।
.
৪. ই/স/র|য়েলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও গণহত্যা
.
- গাজার বিক্ষোভে ২০০+ নিরস্ত্র ফি/লি/স্তি/নি/কে গুলি করে হত্যা করে IDF (২০১৮)।
- ২০২৩ সালে গাজায় মাত্র তিন মাসে ১০,০০০+ ফি/লি/স্তি/নি নিহত, যার অর্ধেকই শি/শু।
- পশ্চিমা বিশ্ব এটাকে ‘আত্মরক্ষা’ বলে প্রচার করে, যা চরম অসভ্যের মতো কথাবার্তা।
- বন্দিশালায় হাজারো ফি/লি/স্তি/নি/কে বছরের পর বছর আটকে রেখে অমানবিক নি/র্য|তন চালানো হয়।
- ই/স/র|য়েলি বসতি স্থাপনকারীরা "ডেথ টু আরবস" স্লোগান দিয়ে প্রকাশ্যে মুসলিম হত্যার ডাক দেয় কিছু দিন পরে পরে।
- ফি/লি/স্তি/নি/দের জমি দখল, ফসল নষ্ট করা, ঘরবাড়ি ধ্বংস করা ই/স/র|য়েলের রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ।
.
???? এত বড় বড় অপর|ধের পরও পশ্চিমারা ই/স/র|য়েলের গণহত্যাকে যুদ্ধনীতি বা আত্মরক্ষা হিসেবে প্রচার করে, কিন্তু মুসলমানদের ক্ষুদ্রতম প্রতিরোধকেও ‘সন্ত্রাসবাদ’ বলে চালিয়ে দেয়! এটাই তাদের প্রকৃত চেহারা। মুসলিমরা কি এমন জঘন্য অপরাধ করেছে? উত্তর হলো – না!
.
ইসলামকে দোষারোপ করা হয়, অথচ এ ধরনের বর্বর কর্মকাণ্ড ইসলামিক কোন সংগঠনের মধ্যে দেখা যায় না। মুসলিমরা শি/শু পাচার, জোরপূর্বক বিয়ে, অর্গান ট্রাফিকিং, যৌ/ন দাসত্বের মতো জঘন্য অপর|ধের সাথে জড়িত নয়।
➡ ইসলামিক দেশ (যেমন আফগানিস্থান) এবং সংগঠনগুলোতে শি/শু প|চ|রক|রী ও যৌ/ন অপরাধীদের জন্য কঠোর শ|স্তির বিধান রয়েছে।
➡ ইসলাম শি/শু নি/র্য|তন ও জোরপূর্বক বিয়েকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
➡ ইসলাম ন|রীর সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করে, যেখানে লেভ তাহোরের মতো সংগঠন ন|রীদের পণ্য বানিয়ে ফেলে।
এটা পরিষ্কার যে, বিশ্ব মিডিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলিমদের সন্ত্রাসী ও অপরাধী বানানোর চেষ্টা করে, অথচ ই/হু/দি ও খ্রি/স্ট|নদের অপরাধ চেপে যায়।
.
ই/হু/দি সংগঠন "লেভ তাহোর" এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী ই/হু/দি গোষ্ঠীগুলোর ভয়ংকর অপরাধ আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, কীভাবে ধর্মের নামে বিকৃত আদর্শ প্রচার করা হয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মিডিয়ার পক্ষপাতিত্ব। মুসলিমদের ছোট কিছুকেও বড় করে দেখানো হয়। এরচেয়েও বড় সমস্যা মুসলিমদের সব কিছুকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। ই/হু/দি-খ্রি/স্ট|নদের ভয়ংকর অপরাধগুলোকেও ধামাচাপা দেওয়া হয়। তথ্য এবং সত্য কখনো লুকিয়ে রাখা যায় না। তাই লেভ তাহোরের মতো গোষ্ঠীগুলোর মুখোশ উন্মোচন করা, প্রচার করা আমাদের সবার দ্বীনি ও নৈতিক দায়িত্ব!
07 এপ্রিল 2025
করেছেন
আবু উবাইদাহ
সেক্যু/লার ভান আর রা/ষ্ট্রীয় নি/পী/ড়ন: শাহবাগীদের ছলচাতুরি
.
আজকের আলোচনায় আমরা বাংলাদেশের শাহবাগ-অ|ন্দোলনের প্রেক্ষাপটে "সেক্যু/লার" দাবি করা গোষ্ঠীগুলোর আচরণ এবং তাদের রা/ষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রতি নি/পী/ড়নমূলক নীতির সাথে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করবো। ইতিহাস, গবেষণা এবং ম|নব|ধিক|র সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আমরা দেখবো কীভাবে এই সেক্যু/লার গোষ্ঠী সরক|রব্যবস্থ|র অনিয়ম এবং অত্য|চ|রের বিরুদ্ধে নয়, বরং সরাসরি সমর্থন করেছে। এর ফলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে গড়ে ওঠা “শাহবাগ-অ|ন্দোলন” নিজেদের বাংলাদেশের নিষ্ঠুর ফ্যাসিবাদের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
.
শেখ হাসিনা ফ্যাসিস্ট সরকারের নেতা হিসেবে পরিচালিত এই সময়ে রা/ষ্ট্রীয় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত ছিল এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা কঠোর ছিল। সমালোচকরা মনে করেন, আওয়ামী লীগ শুরুতেই শাহবাগী অ|ন্দোলনকে সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে সহায়তা করে, যা তাদের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। অ|ন্দোলনকারীরা যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি করলেও, মূলত তারা ইসল|মপ/ন্থী দলগুলোকেই লক্ষ্য করে, যেখানে সরকারের অন্যায় বা দু-র্নী/তি নিয়ে তারা কোনো অবস্থান নেয়নি।
.
সেক্যু/লারিজম সাধারণত রা/ষ্ট্র ও ধর্মকে আলাদা করার, ধর্মীয় বৈষম্যহীনতা নিশ্চিত করার এবং বাকস্বাধীনতার কথা বলে থাকে। কিন্তু শাহবাগীরা আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকে ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। সেক্যু/লার ম।নব।ধিক।র সংস্থা যেমন Human Rights Watch এবং Amnesty International বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হ/ত্যা, গু/ম, র|জনৈতিক প্রতিহিংসা, এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর ব্যাপক দ/মন-পী/ড়ন বেড়েছে (Human Rights Watch Report, 2017; Amnesty International, 2019)। কিন্তু এ অবস্থাতেও শাহবাগীদের ভূমিকায় কোন পরিবর্তন আসে নাই।
.
শাহবাগীরা সেক্যু/লারিজমের কথা বললেও, তারা আসলে সরকারের সকল দমন নীতিকে সমর্থন করেছে সব সময়। এর ফলে, যখন রা/ষ্ট্র বিরোধী মতামত বা ইসল|মপ/ন্থীদের বি/রু/দ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়, শাহবাগীরা নীরব থাকে বা এমনকি আনন্দিত হয়। সরক|র পু*লিশ ও র্য|বের মাধ্যমে যে দ/মন নি/পী/ড়ন চালায়, তার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমালোচনা থাকলেও, এই তথাকথিত সেক্যু/লার গোষ্ঠীর বড় একটি অংশ কখনোই এর বি/রু/দ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেনি। বরং, সরকার ধর্মীয় দমন ঘোষণা করে সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতাকেও দমন করেছে (Amnesty, “Muzzling Dissent in Bangladesh,” 2019)।
.
শাহবাগীরা একদিকে অভিযোগ করে যে, “মুসলিমরা রিয়েকশনারি,” অন্যদিকে তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে চরম প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ দেখায়, যেমন: ভিন্নমতকে সহ্য না করা, রা/ষ্ট্রের অন্যায়কে উপেক্ষা করা, এবং বিরোধী দলের ওপর নি/পী/ড়ন উপভোগ করা। ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে নাগরিকদের গু/ম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ ব্যাপকভাবে উঠেছে (H-u-man Rights Watch, 2017 Report)। International Federation for Human Rights (FIDH) এর পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ সরাসরি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে র্যাব দ্বারা আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করছে। অথচ শাহবাগী সেক্যু/লার গোষ্ঠী এই ক্রমবর্ধমান ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বি/রু/দ্ধে কোনো প্রতিবাদ করে না। বরং বেশিরভাগ সময় তারা সরকারের কথা পুনরুল্লেখ করে অথবা নীরব থাকে।
.
ইসলামী যে কোনো সংগঠনের সামান্য কার্যক্রমকে তারা তীব্রভাবে খারাপ হিসেবে দেখাতে খুব উৎসাহী, অথচ সরকারের নানা খারাপ কাজ নিয়ে তারা কিছুই বলে না। এটা দেখাচ্ছে যে, তাদের আসল আদর্শ ঠিক নেই বা সেক্যু/লারিজমের মতো কিছুই আসলে দুনিয়াতে নেই, এটা শুধু বইয়ের পাতায়ই আছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সেক্যু/লারিজমের নামে রাজনীতিকে একপাক্ষিকভাবে সমর্থন করা আসলে প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করা।
.
কিছু পর্যবেক্ষক অভিযোগ করেন যে, এই “শাহবাগী” গোষ্ঠী ইসলাম এবং ইসল|মপ/ন্থীদের প্রতি অতিরিক্ত বিদ্বেষ দেখায়। মুক্তমনা ব্লগ|রদের লেখায় প্রায়ই দেখা যায়, মুসলিম রীতিনীতি, কুরআন-হাদিস, এবং নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে অসম্মানজনক মতামত প্রকাশের সময় তারা চরম উল্লাস প্রকাশ করে (সূত্র: বিভিন্ন মুক্তমনা ব্লগ আর্কাইভ, ২০১৩-২০১৫)।
.
দেশের বৃহত্তর মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুভূতিকে আঘাত করা হলো বাংলাদেশের “সেক্যু/লারিজমের” মূল চেতনা। শাহবাগীরা ইসলামী দল বা ইসল|মপ/ন্থী ব্যক্তিদের বি/রু/দ্ধে “রিয়েকশনারি” বা প্রতিক্রিয়াশীল বলে অভিযোগ করে। কিন্তু আসলে তাদের নিজের রাজনৈতিক অবস্থান খুবই রিয়েকশনারি। তারা ক্ষমতাসীন দলের বর্বরতা ও নিজস্ব স্বার্থকে সব সময়ই সমর্থন করে এসেছে। সুতরাং, রা/ষ্ট্রক্ষমতার সমর্থনে থাকা একদল “সেক্যু/লার” মানুষ, যারা মৌলিক ম।নব।ধিক।রের মূল্যবোধকে সম্মান দেয় না এবং দলীয় পরিচয়ে অন্যায়কে মেনে নেয়, এরা হলো বাংলাদেশের সেক্যু/লার শাহবাগি।
.
আমরা অনেকেই শাহবাগীদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানি না এবং এদের মূল ভূমিকায় কে ছিলেন, সেটা খুঁজে দেখি না। শুধু দুইজন – সলিমুল্লাহ খান এবং ফরহাদ মজহার – নাম বললেই বোঝা যায় আমরা কতটা অজানা। এখন আপনি বলুন, এই দুইজন সম্পর্কে আপনারা কী জানেন?
.
“শাহবাগী সেক্যু/লার” ধারণাটি আদর্শিকভাবে দ্বিমুখী অবস্থায় আটকে আছে। একদিকে তারা দাবি করে, তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে রা/ষ্ট্রকে ধ/র্মনিরপেক্ষ এবং উদারপন্থী রাখা; কিন্তু অন্যদিকে, বাস্তবে তারা সরকারের ফ্যাসিবাদী দমন, গু/ম-খুনসহ অসংখ্য মানবাধিকার লঙ্ঘনকে প্রশ্নাতীতভাবে মেনে নেয়। কেউ রাজনৈতিক অন্ধ সমর্থন বা নিপীড়নের সঙ্গে আপোষ করলে সেটাকে কোন আদর্শ বলা যায় না। বর্তমানে অনেক যায়গায় সেক্যু/লারিজমের এমনই রূপই দেখা যাচ্ছে। এরা রা/ষ্ট্রশক্তির স্বৈরতন্ত্রকে সহায়তা করে, যা মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি করে।
24 মার্চ 2025
করেছেন
আবু উবাইদাহ
পৃথিবীতে লি/ব|রেলদের পতন এবং ড|নপ/ন্থীদের উত্থান: বাস্তবতা, কারণ এবং শিক্ষা
.
বর্তমানে অনেক জায়গায় লি/ব|রেল দলগুলোর জনপ্রিয়তা কমে গেছে, যেখানে ড|ন/পন্থী দল ও মতাদর্শের উত্থান স্পষ্ট। লি/ব|রেলদের পতনের প্রধান কারণ হলো তাদের নীতির সাথে বাস্তব কাজের মিল না থাকা এবং বাস্তবসম্মত নীতির অভাব। অন্যদিকে, ড|নপ/ন্থীরা মানুষের প্রকৃত প্রয়োজন ও চাহিদা লক্ষ্য করে রাজনীতি চালাচ্ছে এবং সফলভাবে মানুষের সমর্থন পাচ্ছে। এই পরিবর্তন শুধু রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সামাজিকবিজ্ঞানের একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ, যেখানে রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব এবং সামাজিক পরিবর্তনের গভীর বিশ্লেষণ করা যায়।
.
লি/ব|রেলদের পতনের কিছু কারণ -
.
ক। কথা আর কাজে মিল নেইঃ
.
১. লি/ব|রেল নীতির দ্বন্দ্ব: লি/ব|রেল মতাদর্শের মূল কথা হলো মানবাধিকার, সমতা এবং গ/ণত/ন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। এটি মানুষের জন্য ন্যায্য এবং সমৃদ্ধ সমাজের স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু বাস্তবতায়, লি/ব|রেল দেশগুলো প্রায়ই তাদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে ব্যর্থ হয়। তারা কথায় মানবাধিকার রক্ষা করে, কিন্তু বাস্তবে তাদের নীতিতে প্রায়শই স্ববিরোধিতা দেখা যায়।
.
২. মানবাধিকার ও যু/দ্ধ: যুক্তর|ষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো লি/ব|রেল দেশগুলো প্রায়ই মানবাধিকার রক্ষার কথা বলে। কিন্তু বাস্তবিকভাবে, তাদের কার্যক্রম এই নীতির সাথে মিল না খাওয়ায় প্রায়ই বিপরীত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৩ সালে যুক্তর|ষ্ট্র ইরাকে যু/দ্ধ শুরু করে গ/ণবি/ধ্বংসী অ/স্ত্র থাকার অভিযোগ তুলে। পরে জানা যায়, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন ছিল। এর ফলে ইরাকে লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষ নিহত হয় এবং দেশটি চরম অস্থি/তিশীলতায় পড়ে। ইউরোপীয় দেশগুলো শরণার্থীদের মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও, শরণার্থী সংকটের সময় ভূমধ্যসাগরে শরণার্থীদের ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনাগুলোতে তাদের উদাসীনতা স্পষ্ট দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৫ সালে শরণার্থী সংকটের সময় ইউরোপের ভূমধ্যসাগরে প্রায় ৮,০০০ শরণার্থী ডুবে মারা যায়, যা মানবাধিকারের নীতি বিরোধী আচরণের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
.
৩. অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও দারিদ্র্য: লি/ব|রেল দেশগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য বিভিন্ন দেশের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞাগুলো সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাধারণ ইরানিদের খাদ্য ও ওষুধের সংকটে ফেলেছে, যা মানবাধিকার ধারণার বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালে ইরানে খাদ্য এবং ওষুধের দাম প্রায় ৩০% বাড়ে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তোলে।
.
৪.জলবায়ু পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতি ও কর্পোরেট প্রভাব: লি/ব|রেল দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কাজ করার বড় প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু কর্পোরেট লবিগুলোর চাপে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রায়ই ব্যর্থ হয়। ইউরোপের অনেক দেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, বেশ কিছু কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষার জন্য এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দেরি করছে। কানাডার লি/ব|রেল প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তির একজন প্রবক্তা ছিল। তবে, তার সরকার তেল পাইপলাইন সম্প্রসারণ প্রকল্প (Trans Mountain Pipeline Expansion) অনুমোদন করে। এই প্রকল্পটি জীবাশ্ম জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত হবে, যা কার্বন নির্গমন আরও বাড়াবে। ট্রুডো সরকারের এই পদক্ষেপকে পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলো তীব্র সমালোচনা করেছে, তারা এটিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছে।
.
খ। ইউটোপিয়ান চিন্তাভাবনাঃ
.
১. লি/ব|রেল আইডিওলজির সীমাবদ্ধতা: লি/ব|রেল চিন্তার মূল লক্ষ্য হলো একটি নিখুঁত এবং ন্যায়সঙ্গত সমাজের স্বপ্ন, যেখানে সবাই সমান সুযোগ পায় এবং কোনো বাধা ছাড়াই নিজের জীবন উন্নত করতে পারে। এটি একটি আদর্শিক ধারণা, যেখানে মানুষের নেতিবাচক দিকগুলো যেমন, লোভ, স্বার্থপরতা এবং প্রতিযোগিতার মতো বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করা হয়। লি/ব|রেলরা প্রায়ই "সবার জন্য সমান সুযোগ" এবং "বিনামূল্যে অভিবাসন" এর মতো ধারণা প্রচার করে। এই ধারণাগুলো কাগজে-কলমে দারুণ শোনলেও বাস্তবে এটি সমাজ এবং অর্থনীতিতে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে।
.
উদাহরণস্বরূপ বিনামূল্যে অভিবাসন: বিনামূল্যে অভিবাসনের ধারণা অনুযায়ী, যে কেউ যেকোনো দেশে বসবাস ও কাজ করতে পারে। কিন্তু বাস্তবিকভাবে, এটি একটি দেশের অর্থনীতি এবং সংস্কৃতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। যেমন, ইউরোপে অনেক শরণার্থী এসে একটি বড় সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি করেছে। ২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের সময় জার্মানিতে অনেক অভিবাসী প্রবেশ করেছিল। এর ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চাকরি হারানোর ভীতি বেড়েছিল এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৬ সালে জার্মানিতে অভিবাসীদের বেশি হবার কারণে চাকরি বাজারে চাপ পড়ে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে চাকরি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।
.
২. বাস্তবতার সীমাবদ্ধতা: ইতিবাচক হলেও, এই ধারণাগুলো বাস্তবে প্রায়ই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। মানুষের প্রতিভা, পরিবার, এবং সামাজিক অবস্থানের ভিন্নতার কারণে সুযোগের ফারাক থাকে। যেমন, যু/ক্তর।ষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থা দেখতে পারেন। সরকারি স্কুলগুলোতে সবাই সমান শিক্ষা সুযোগ পায়, কিন্তু ধনী পরিবারের সন্তানরা ব্যক্তিগত স্কুলে ভালো শিক্ষা পায়। ফলে, "সমান সুযোগ" শুধুমাত্র একটি ধারণা হিসেবে থেকে যায়।
.
৩. কর্পোরেট প্রতিযোগিতা: লি/ব|রেল ধারণা অনুযায়ী, মানুষ স্বাভাবিকভাবে পরার্থপর এবং সহানুভূতিশীল। কিন্তু বাস্তবে, মানুষ প্রায়ই নিজের স্বার্থকে আগে রাখে। কর্পোরেট দুনিয়ার উদাহরণ থেকে এটা ভালোভাবে বোঝা যেতে পারে। বড় কোম্পানাগুলো ছোট ব্যবসাগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করে তাদের বাজার থেকে বের করে দেয়। এর ফলে "সবার জন্য সমান সুযোগ" কেবল একটি ধারণা হিসেবে থেকে যায়।
.
গ। মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব না দিয়ে বৈশ্বিক নীতিকে গুরুত্ব দেয়াঃ
.
লি/ব|রেল নীতিগুলো প্রায়শই বড় বিষয়গুলির দিকে মনোযোগ দেয়, কিন্তু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন এবং সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দেয় না। তারা কর্পোরেট স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয়, যা অনেক সময় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তোলে। এর ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং ড|নপ/ন্থী দলগুলোর উত্থান সহজ হয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার সময় যু/ক্তর।ষ্ট্রের বড় ব্যাংক এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেইলআউট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একই সময়ে সাধারণ মানুষ চাকরি হারিয়েছিল এবং তাদের বাড়ি বন্ধক রাখতে বাধ্য হয়েছিল, তাদের জন্যে অইরকম কিছু করা হয়নি। কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষা করার জন্য সরকারের এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল।
.
লি/ব|রেল দেশগুলো সাধারণ মানুষের চাকরি ও জীবনযাত্রার উন্নতির চাইতে জলবায়ু পরিবর্তন বা বৈশ্বিক নীতির মতো বড় বিষয়গুলিতে বেশি মনোযোগ দেয়। উদাহরণ হিসেবে ফ্রান্সে "ইয়েলো ভেস্ট" আন্দোলনকে দেখা যেতে পারে। ফ্রান্স সরকার যখন পরিবেশ রক্ষার জন্য জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করল, তখন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি ক্ষতিগ্রস্ত হল। তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে সড়কে নেমে আসে, কারণ এটি তাদের জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে দেয়।
.
ঘ। তাত্ত্বিকতা, "Woke" রাজনীতি এবং জনসাধারণের মূল সমস্যাগুলোর প্রতি উদাসীনতাঃ
.
লি/ব|রেল দলগুলোর একটি বড় দুর্বলতা হলো তাত্ত্বিক আলোচনা এবং "ওয়োক" ("woke") রাজনীতিতে বেশি মনোযোগ দেওয়া। এর ফলে তারা প্রায়ই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা এবং বাস্তব সমস্যাগুলো থেকে দূরে চলে যায়। লি/ব|রেলদের আলোচনা অনেক সময় জটিল তাত্ত্বিক বিষয়গুলিতে সীমাবদ্ধ থাকে, যা শিক্ষিত মধ্যবিত্তের জন্য আকর্ষণীয় হলেও, গ্রামীণ বা কম শিক্ষিত মানুষের সাথে তাদের দূরত্ব বাড়ায়। এই কারণে তারা সাধারণ মানুষের প্রকৃত চাহিদা এবং সমস্যাগুলো সঠিকভাবে বুঝতে পারে না।
.
১। তাত্ত্বিক আলোচনা: লি/ব|রেল নেতারা প্রায়ই মানবাধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো বিষয় নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনায় ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু এই আলোচনাগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার সাথে সম্পর্কহীন। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যে ব্রেক্সিট বিতর্কের সময় লি/ব|রেল রাজনীতিকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে থাকার পক্ষে "অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি" এবং "বৈশ্বিক সংযোগ" এর কথা বলেন। কিন্তু তারা ব্রেক্সিট সমর্থকদের বাস্তব সমস্যাগুলো, যেমন চাকরি হারানো এবং স্থানীয় শিল্পের পতন, ঠিকভাবে বুঝতে পারেনি। এর ফলে, সাধারণ মানুষের বড় একটা অংশ লি/ব|রেল চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
.
২। "Woke" রাজনীতি: "Woke Politics" শব্দটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক সচেতনতা এবং প্রগতিশীল অ্যাকটিভিজম বোঝাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। "Woke" রাজনীতি একটি সামাজিক আন্দোলন, যা সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বিষয়গুলিতে সচেতনতা বাড়াতে এবং প্রগতিশীল পরিবর্তনের দিকে মনোযোগ দেয়। এটি লিঙ্গ সমতা, এলজিবিটিকিউ অধিকার এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই L/G/B/T/Q+ অধিকারের ব্যাপারে বেশি সচেতনতা দেখা যায়। তবে, এই আন্দোলন প্রায়ই সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলো, যেমন চাকরি, মূল্যস্ফীতি, নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবা, উপেক্ষা করে। মূলত, এর দার্শনিক ভিত্তি পোস্ট-মডার্নিজম বা উত্তর-আধুনিকতাবাদ।
.
৩। রাজনৈতিক শুদ্ধতা: "Woke" রাজনীতি প্রায়ই এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে যেখানে রাজনৈতিক শুদ্ধতার নামে ভিন্নমত প্রকাশ করতে বাধা দেয়। এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরক্তি এবং অসন্তোষ সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ, যু/ক্তর।ষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টি "Woke" আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত নীতি গ্রহণ করেছিল, যা মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধানে সাহায্য করতে পারেনি। এর ফলে, তারা ড|ন/পন্থী রি/প।বলিকানদের কাছে ভোট হারায়।
.
ড|নপ/ন্থীদের উত্থানের কারণ, কেন তারা জনপ্রিয়তা অর্জন করছে -
.
ড|নপ/ন্থী দলগুলোর উত্থান বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তারা সাধারণ মানুষের আবেগ এবং বাস্তব সমস্যাগুলোর সাথে সংযুক্ত কৌশল ব্যবহার করে, যা তাদের নির্বাচনে সফল হতে সাহায্য করছে। নিচে ড|নপ/ন্থীদের উত্থানের কয়েকটি প্রধান কারণ এবং কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো:
.
১. সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলোকে কেন্দ্র করে প্রচারণাঃ
.
ড|ন/পন্থীরা সাধারণ মানুষের চাকরি, নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার মতো সমস্যাগুলোকে তাদের প্রচারণার মূল বিষয় করে। ভারতে, মোদি সরকার নির্বাচনের আগে কৃষকদের ঋণ মওকুফ এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা গ্রামীণ ভোটারদের আকৃষ্ট করেছিল। মোদি সরকারের "প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি" প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়েছিল। এর ফলে ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজেপি গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে।
.
যুক্তর|ষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প 'আমেরিকানদের জন্য চাকরি' নীতির ওপর জোর দিয়ে মধ্যবিত্ত মানুষের মধ্যে অনেক সমর্থন পেয়েছিল। তার স্লোগান ছিল, 'মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন (MAGA)', যা আমেরিকান চাকরি এবং আমেরিকান পণ্যকে গুরুত্ব দেয়। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে কর্পোরেট কর কমানো এবং বাণিজ্য সুরক্ষার নীতি গ্রহণ করে ২০১৮ সালে বেকারত্বের হার ৩.৫% এ নেমে আসে, যা গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল।
.
২. আবেগকে কেন্দ্র করে প্রচারণাঃ
.
ড|ন/পন্থীরা জাতীয়তা, ধর্ম, এবং ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আবেগ কাজে লাগায়। তারা এমন বার্তা দেয় যা মানুষকে একত্রিত করে এবং একটি গোষ্ঠীর পরিচয় তৈরি করে। ভারতে মোদি সরকার "হি/ন্দু/ত্ববাদ" প্রচারণা চালিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হি/ন্দুদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী অনুভূতি তৈরি করেছে। এর ফলে তাদের ভোটব্যাংক শক্তিশালী হয়েছে।
.
যুক্তর|ষ্ট্রে ডোন-|ল্ড ট্র|-ম্পের "MAGA" (Make America Great Again) স্লোগান আমেরিকানদের মধ্যে দেশপ্রেম এবং জাতীয় গৌরব বাড়িয়েছে। এটি মধ্যবিত্ত এবং গ্রামীণ জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে।
.
তুর/স্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ ত|ইয়েপ এরদোয়|ন ড|নপ/ন্থী রাজনীতির একটি ভালো উদাহরণ। সে মানুষের আবেগ, ধর্মীয় পরিচয় এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে বারবার নির্বাচনে জিতেছে। এরদোয়ানের "অভ্যন্তরীণ শত্রু মোকাবিলা" এবং "পশ্চিমা হস্তক্ষেপ বিরোধিতা"র বার্তা মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক হয়েছে, যা তাদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য এবং নিরাপত্তা অনুভূতি জাগিয়েছে।
.
৩. সরল বার্তা এবং কার্যকর উদ্যোগঃ
.
ট্রাম্পের "MAGA" (Make America Great Again) ভিশন সাধারণ মানুষের আবেগের সাথে মিলেছে। তার সরল ও স্পষ্ট বার্তা মানুষদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়েছে। ইউরোপের ড|নপ/ন্থী দলগুলো "নিজেদের সংস্কৃতি রক্ষা করো" এবং অভিবাসন বিরোধী বার্তা দিয়ে সহজেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
.
পোল্যান্ডে ড|ন/পন্থী দল "ল অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি (PiS)" অভিবাসন এবং জাতীয়তাবাদী ভাবধারাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তারা সহজ ভাষায় বার্তা দিয়ে এবং স্থানীয় সমস্যাগুলোতে মনোযোগ দিয়ে মানুষের মন জয় করেছে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এবং তার দল "ফিদেজ" (Fidesz) ড|নপ/ন্থী জাতীয়তাবাদীর সফল উদাহরণ। অরবান ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে মানুষের সমর্থন পেয়েছে। তার নেতৃত্বে হাঙ্গেরি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কৌশলগুলোর মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা শক্তিশালী করেছে। ২০১৫ সালের ইউরোপীয় অভিবাসী সংকটের সময়, অরবান দৃঢ়ভাবে অভিবাসনের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, "হাঙ্গেরি ইউরোপকে রক্ষা করছে।"
.
৪. প্রাক-নির্বাচনী অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদানঃ
.
ড|নপ/ন্থী দলগুলো প্রায়ই নির্বাচনের ঠিক আগে জনগণের কাছে আর্থিক সুবিধা নিয়ে আসে, যা তাদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করে। ভারতে মোদি সরকার ফ্রি রেশন, নগদ অর্থ বিতরণ, এবং প্রধানমন্ত্রীর 'আবাস ইয়োজনার' মতো প্রকল্প চালু করে সাধারণ মানুষদের মধ্যে প্রভাব ফেলে। এই প্রকল্পগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা বাড়িয়েছে।
.
যুক্তর|ষ্ট্রে রি/প।বলিকান পার্টি কর কমানো এবং মধ্যবিত্তদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করে জনগণের সমর্থন পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২০ সালে ট্যাক্স রিফান্ড বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত করেছিল। রি/প।বলিকান পার্টির এই নীতিমালা সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা বাড়িয়েছে।
.
ড|নপ/ন্থীরা সাধারণ মানুষ
11 মার্চ 2025
করেছেন
আবু উবাইদাহ
পিআর ফার্ম এবং বট আইডি: মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে ডিজিটাল যুদ্ধ এবং এর মোকাবিলা
.
বর্তমান বিশ্বে সোশ্যাল মিডিয়া একটি অপ্রতিরোধ্য মাধ্যম। এটি কেবল ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মতামত প্রকাশের স্থান নয়, বরং এটি রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সামাজিক পরিবেশে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। পিআর ফার্ম (পাবলিক রিলেশন ফার্ম) এবং বট আইডি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রভাব বিস্তারে ব্যবহৃত দুটি শক্তিশালী হাতিয়ার। প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও রাষ্ট্রগুলো এই প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করে জনমত নিয়ন্ত্রণ, ভ্রান্ত তথ্য প্রচার এবং বিরোধীদের দমন করার কাজ করে।
.
মুসলিম উম্মাহ, যারা ইতিমধ্যেই ইসলামফোবিয়া এবং নেতিবাচক প্রচারণার শিকার, এই ডিজিটাল প্রোপাগান্ডার মূল লক্ষ্যবস্তু। পিআর ফার্ম ও বট আইডি কীভাবে কাজ করে, কাদের দ্বারা পরিচালিত হয় এবং কীভাবে মুসলিম উম্মাহ এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারে তা বিশদে আলোচনা করা জরুরি।
.
পিআর ফার্ম: কী এবং কীভাবে কাজ করে?
.
পিআর (পাবলিক রিলেশন) ফার্ম হলো এমন একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠান, যা ব্যক্তি, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল বা এমনকি পুরো একটি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জনমত প্রভাবিত করার জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা এবং কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসব ফার্মের কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সংবাদ প্রচারণা পরিচালনা করা, ব্র্যান্ড বা ইমেজ তৈরি এবং পুনর্নির্মাণ করা, প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে তোলা, এবং নির্দিষ্ট বার্তা বা ন্যারেটিভ প্রচারের মাধ্যমে জনমত গঠন করা।
.
পিআর ফার্মগুলো মূলত মিডিয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে আসে এবং কিছু বিষয় চেপে যায়। তারা সংবাদ মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই কাজের মাধ্যমে তারা একটি নির্দিষ্ট ইস্যুতে ইতিবাচক বা নেতিবাচক জনমত তৈরি করতে পারে। এদের কার্যক্রমের মধ্যে বড় একটা কাজ হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা।
.
পিআর ফার্মের কার্যক্রম এর কিছু বাস্তব উদাহরণ:
.
১. হিল অ্যান্ড নোল্টন (Hill & Knowlton):
হিল অ্যান্ড নোল্টন একটি বিখ্যাত পিআর ফার্ম, যা ১৯৯১ সালের গালফ ওয়ার-এর সময় কুয়েত সরকার এবং তাদের মিত্রদের পক্ষ থেকে কাজ করেছিল। এই ফার্মটি "নাইরা টেস্টিমনি" নামে পরিচিত একটি বিতর্কিত ঘটনা পরিচালনা করেছিল। এতে এক কিশোরী সাক্ষ্য দেয় যে, ইরাকি সৈন্যরা কুয়েতের হাসপাতালে প্রবেশ করে শিশুদের ইনকিউবেটর থেকে টেনে বের করে হত্যা করেছে। পরবর্তীতে জানা যায়, এই গল্প ছিল সম্পূর্ণভাবে পরিকল্পিত এবং মিথ্যা, যা কুয়েতি সরকারের স্বার্থে জনমত প্রভাবিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
.
২. এডেলম্যান (Edelman):
এডেলম্যান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পিআর ফার্ম, যা বিভিন্ন বৃহৎ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এবং রাজনীতিকদের সঙ্গে কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ, তারা একসময় ওয়ালমার্টের পক্ষে কাজ করেছে, যেখানে তারা ওয়ালমার্টের শ্রম নীতি এবং স্থানীয় ব্যবসাগুলোর ওপর প্রভাব নিয়ে সমালোচনা মোকাবিলার জন্য প্রচারণা চালিয়েছিল।
.
৩. সাউদার্ন কোম্পানি এবং বুরসন-মারস্টেলার (Burson-Marsteller):
এই পিআর ফার্মটি জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জন্য কাজ করেছে, যেখানে তারা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করার জন্য পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছিল।
.
পিআর ফার্মগুলো তাদের কার্যক্রমে বেশ কিছু কৌশল ব্যবহার করে:
.
১. মিডিয়া ম্যানিপুলেশন: সংবাদমাধ্যমে নির্দিষ্ট গল্প প্রচার বা কিছু তথ্য গোপন করে জনমত গঠন।
২. ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট: কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তা সামাল দেওয়া।
৩. সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে জনসাধারণের মনোভাব নিয়ন্ত্রণ।
৪. মিথ্যা তথ্য প্রচার: অনেক ক্ষেত্রে কৌশলগতভাবে ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করে জনমত প্রভাবিত করা।
.
পিআর ফার্মের সাম্প্রতিক কার্যক্রম - ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা (Cambridge Analytica): যদিও এটি একটি ডেটা অ্যানালিটিক্স কোম্পানি, তবে পিআর ফার্ম হিসেবে তাদের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তারা ফেসবুকের ডেটা ব্যবহার করে প্রভাবশালী ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছিল, যা ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে জনমত তৈরিতে সাহায্য করেছিল।
.
এগুলো থেকে বোঝা যায় যে পিআর ফার্মগুলো কেবল কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং বা প্রচারণার জন্য কাজ করে না; তারা জনমত প্রভাবিত করতে এমনকি বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
.
বট আইডি: কী এবং কীভাবে কাজ করে?
.
বট আইডি হলো স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার প্রোগ্রাম যা সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডিজাইন করা হয়। এই আইডিগুলো মানব ব্যবহারকারীদের মতো আচরণ করে, তবে মূলত এগুলো প্রোগ্রাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এগুলোর ব্যবহার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া সমর্থন দেখানো, জনমত প্রভাবিত করা, ট্রেন্ড তৈরি করা, এবং বিরোধীদের আক্রমণ করার মতো কার্যক্রমে দেখা যায়। বট আইডি ব্যবহার করে একই মেসেজ হাজারো আইডি থেকে শেয়ার করা হয়, যার ফলে একটি মিথ্যা প্রচারণা সত্যে পরিণত হয়। এছাড়া জনপ্রিয় হ্যাশট্যাগ তৈরি করা, বিরোধী হ্যাশট্যাগ চাপিয়ে দেওয়া, বা জনমতের দিক পরিবর্তন করাও এর উদ্দেশ্য।
.
বট আইডি মূলত বিভিন্ন অ্যালগরিদম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মাধ্যমে কাজ করে। এগুলো নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রোগ্রাম করা হয় এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করা হয়। বট আইডিগুলোর কাজের ধাপগুলো নিম্নরূপ:
- স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হাজারো ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়, যেগুলো বিভিন্ন নাম, ছবি, এবং ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে মানুষের মতো দেখানো হয়।
- নির্দিষ্ট বিষয় বা বার্তা একযোগে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। এটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ড তৈরি করার জন্য কার্যকর।
- জনপ্রিয় হ্যাশট্যাগ তৈরি করার জন্য বট আইডিগুলো একসঙ্গে পোস্ট করে, অথবা বিরোধী হ্যাশট্যাগকে আড়াল করতে বিপুল পরিমাণ পোস্ট করে তা দমিয়ে ফেলে।
- বট আইডিগুলো একই সময়ে হাজার হাজার শেয়ার এবং কমেন্ট দিয়ে কোনো কন্টেন্টকে প্রভাবিত করে।
- যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ভিন্ন মতামত দেয়, তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মন্তব্য ছড়ানো হয়।
.
বাস্তব উদাহরণ এবং পিআর ফার্মের সংশ্লিষ্টতা
.
১. রাশিয়ান ট্রোল ফার্ম এবং ইন্টারনেট রিসার্চ এজেন্সি (Internet Research Agency):
রাশিয়ার এই পিআর ফার্মটি বট আইডি ব্যবহার করে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ভূমিকা পালন করেছিল। তারা ফেসবুক, টুইটার এবং ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ভুয়া খবর, বিভ্রান্তিকর তথ্য, এবং প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে জনমত প্রভাবিত করেছিল। প্রায় ৫০,০০০ বট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ পোস্ট শেয়ার করা হয়, যার ফলে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত হতে পারে বলে অভিযোগ উঠে।
.
২. ভারতের নির্বাচনী প্রচারণা:
ভারতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সোশ্যাল মিডিয়ায় বট আইডি ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করার জন্য কাজ করে। ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে বেশ কয়েকটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, টুইটারে এবং ফেসবুকে বট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ভুয়া সমর্থন দেখানো এবং বিরোধীদের আক্রমণ করা হয়েছিল। বিশেষ করে বিজেপি'র আইটি সেল এই কাজের জন্য কুখ্যাত।
.
৩. সৌদি আরব এবং খাশোগি হত্যাকাণ্ড:
সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে পরিচালিত বট নেটওয়ার্কগুলো সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। "যুদ্ধ শুরু" বা "মিথ্যা প্রচারণা" দাবি করে বট আইডি ব্যবহার করে সৌদি সরকারের বিরোধী ন্যারেটিভকে দমন করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
.
৪. বর্তমানে আওয়ামী লীগের সোশ্যাল মিডিয়া কৌশল:
সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে এক বিশাল প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা ফেসবুক, টুইটার এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে ইউনূস সরকারের সমালোচনামূলক কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দিচ্ছে। এসব কনটেন্ট মূলত তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
.
এছাড়া, আওয়ামী লীগের নেতারা ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং এসব বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। তারা ইউনূস সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান ও নীতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে, যা বিভ্রান্তি এবং জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই প্রচারণার জন্য আওয়ামী লীগ প্রচুর পরিমাণে পেইড বট আইডি ব্যবহার করছে। এসব বট আইডি আওয়ামী লীগের পক্ষের অখ্যাত পেজ এবং ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে ধারাবাহিকভাবে পোস্ট, মন্তব্য এবং শেয়ারের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। পোস্টগুলোর গঠন এবং সমন্বিত প্রচারণা দেখলেই বোঝা যায়, এটি একটি সুসংগঠিত এবং পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
.
৫. পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়া কৌশল:
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এবং সরকার দীর্ঘদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বট অ্যাকাউন্ট এবং সংগঠিত প্রচারণা ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করার অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) এবং ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এর ভূমিকা। আইএসআই মূলত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রভাব বিস্তারে সক্রিয়। অন্যদিকে, আইএসপিআর সামরিক বাহিনীর মিডিয়া এবং জনসংযোগ শাখা হিসেবে কাজ করে, যা সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা এবং তাদের বার্তা প্রচারের জন্য কাজ করে।
.
পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সামরিক বাহিনীও প্রায়ই বট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রচারণা চালায়। এক্স (সাবেক টুইটার) হলো পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম, যেখানে প্রতিদিনই বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিংয়ে উঠে আসে। এই হ্যাশট্যাগগুলো প্রায়শই সামরিক বাহিনী, রাজনৈতিক দল বা সরকারের সমর্থনে অথবা বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়।
বেশ কয়েকটি ঘটনার মধ্যে দেখা গেছে, সামরিক বাহিনীর সমালোচনা করার পরপরই কিছু নির্দিষ্ট এক্স হ্যান্ডেলের মাধ্যমে সমালোচকদের লক্ষ্য করে ট্রোলিং এবং কটূক্তি চালানো হয়। এই অ্যাকাউন্টগুলো প্রায়ই সামরিক বাহিনীর পক্ষে সংগঠিত প্রচারণায় জড়িত। এমনকি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সময় সামরিক বাহিনী তাদের স্বার্থে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়ন্ত্রিত তথ্য ছড়ানোর জন্য বট এবং ট্রোল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
.
সাম্প্রতিক সময়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ইমরান খানের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর প্রচারণা এবং তার সমর্থকদের লক্ষ্য করে চালানো প্রচারণা বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। সামরিক বাহিনীর সমালোচনা দমন করতে এবং সরকারের পক্ষে জনমত তৈরি করতে বিশাল পরিমাণে বট অ্যাকাউন্ট সক্রিয় ছিল।
.
বট আইডি ব্যবহারের উদ্দেশ্য:
.
- নির্বাচনের সময় ভুয়া সমর্থন বা নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর জন্য বট আইডি ব্যবহার হয়। উদাহরণস্বরূপ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০১৬ সালের প্রচারণার সময় রাশিয়ান বট নেটওয়ার্কের ভূমিকা।
- সামাজিক বিভাজন তৈরির জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় বা জাতিগত ইস্যুতে বট ব্যবহার করে উত্তেজনা ছড়ানো হয়। যেমন ভারতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
- বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে তাদের ক্ষতি করার জন্য বট ব্যবহার করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, অনেক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগীদের দুর্বল করতে এমন প্রচারণায় অর্থ ব্যয় করে।
- একই মেসেজ বারবার শেয়ার করে একটি মিথ্যাকে সত্য মনে করানো হয়।
- যেসব ইস্যু প্রচার করা প্রয়োজন, সেগুলোকে শীর্ষ ট্রেন্ডে নিয়ে আসা হয়।
- বিরোধীদের আক্রমণ করে তাদের মতামতকে চাপা দেওয়া হয়।
.
বট আইডি মূলত জনমত প্রভাবিত করতে এবং ইচ্ছামতো ন্যারেটিভ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এটি শুধু রাজনীতিতে নয়, কর্পোরেট যুদ্ধ, সামাজিক ইস্যু, এমনকি যুদ্ধকালীন প্রোপাগান্ডার অংশ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বট আইডি এবং পিআর ফার্মের ভূমিকা এতটাই জটিল এবং সুসংগঠিত যে এটি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।
.
পিআর ফার্ম এবং বট আইডি: মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে ব্যবহার
.
পিআর ফার্ম এবং বট আইডির কার্যক্রমের মাধ্যমে মুসলিমদের বিরুদ্ধে জনমত প্রভাবিত করার এবং ইসলামফোবিয়া ছড়ানোর একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা সারা বিশ্বে দৃশ্যমান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পিআর ফার্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বট আইডির সক্রিয় ব্যবহার মুসলিমদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। মিডিয়ার মাধ্যমে মুসলিমদের প্রায়শই সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থার সাথে সংযুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটলেই তার সাথে ইসলাম বা মুসলিমদের নাম জড়ানোর মাধ্যমে সারা বিশ্বে ইসলামফোবিয়া বৃদ্ধির একটি পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা দেখা যায়। এই কাজগুলোতে পিআর ফার্মগুলো সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে, যারা পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট বার্তা প্রচার করে এবং বট আইডির মাধ্যমে সেটিকে ব্যাপক জনসমর্থন পাচ্ছে এমন একটি ভুয়া ধারণা তৈরি করে।
.
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতেও এই ফার্মগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন মুসলিম দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোকে আরও জটিল করে তোলার জন্য প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়। উদাহরণস্বরূপ, আরব বসন্তের সময়ও পিআর ফার্ম এবং বট আইডি ব্যবহার করেছিল বিভিন্ন সরকার এবং পশ্চিমারা। ফিলিস্তিন সংকটেও এ ধরনের প্রচারণা চালিয়ে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। মিডিয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনের মানবিক সংকটকে আড়াল করে ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমকে ন্যায্যতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন মুসলিম দেশগুলোতে বিভক্তি বাড়ছে, অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের প্রতি সহানুভূতি হ্রাস পাচ্ছে।
.
সামাজিক বিভাজন সৃষ্টিতেও এই কার্যক্রম প্রভাব ফেলছে। মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করার জন্য ভুয়া খবর এবং নেতিবাচক প্রচারণা ছড়ানো হয়। এক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আরেক সম্প্রদায়কে খেপিয়ে তুলে তাদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি করা হয়। এটি কেবল ধর্মীয় সহিংসতাকেই উস্কে দেয় না, বরং মুসলিম যুবকদের মধ্যে হতাশা এবং বিভ্রান্তি তৈরি করে। এসব প্রচারণার ফলে যুবকরা কখনো কখনো বিভিন্ন ভাবে বিভ্রান্ত হয়। ফলে সমাজে একটি দীর্ঘস্থায়ী বিভক্তি সৃষ্টি হয়, যা কেবল মুসলিম সম্প্রদায় নয়, পুরো বিশ্বেই সামাজিক স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করে।
.
এই ধরনের প্রোপাগান্ডা কৌশলগুলো গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রায়শই অদৃশ্য থেকে যায়। কিন্তু এর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী, যা মুসলিমদের বিশ্বব্যাপী ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং মুসলিম-বিরোধ
08 মার্চ 2025
করেছেন
আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
|| চতুর্থ পর্ব ||
গ'ণতন্ত্রের নর্দমা থেকে উত্তরণের
“কাঙ্খিত সহজ কর্মপন্থা…!” পর্ব - ২
.
সুতরাং প্রিয় ভাইয়েরা আমার!
আল্লাহ তা‘আলার নামে কসম করে বলছি; ঐ সমস্ত লোকেরা সৌভাগ্যবান, যারা বর্তমান যামানার ত্ব|গুতদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছে এবং আল্লাহ তা‘আলার আহবান- انفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا (অর্থাৎ তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে…)এর উপর সাড়া দিয়ে ‘লাব্বাইক’ বলে জি'হ।দের ময়দানে অবতীর্ণ হয়ে গেছেন। কিন্তু এমতাবস্থায় এখানে কেউ এই কথা বলতে পারেন যে, আমাদের সাধ্য নেই, আর সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা কি কেউ কারো উপর কখনো চাপিয়ে দিতে পারে? তাহলে এখানে আমার প্রিয় ভাইদের কাছে একটি প্রশ্ন রাখছি…যদি ধরে নেয়া হয় যে, বাতিলদের বিরুদ্ধে লড়াই করার মত শক্তি আমাদের নেই, তথাপি কি এখানে বাতিলদের সৈনিক হওয়ার এবং তাদের রঙে রঙিন হওয়ার কোন সুযোগ আছে?! বর্তমানে দুর্বলতা ও অক্ষমতার দরুন কি বাতিল শাসনব্যবস্থার অনুগত হওয়ার ও জ|হিলিয়্য|তের ঝান্ডাবাহী হওয়ার কোন অনুমতি এই দ্বীন প্রদান করে? এখানে কি এই দু’টি উপায়ই আছে; হয়তো এই বাতিল শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করা, আর যদি এটির সক্ষমতা না থাকে, তাহলে নিজেরাই বাতিল শাসনব্যবস্থার হাতিয়ার হয়ে যাওয়া; তার থেকে ভরপুর ফায়েদা (সুবিধা) নেওয়া, গুণগান গাওয়া, তার অনুসরণে গোমরাহীর পথে চলা, তার প্রতিরক্ষা, শক্তি যোগানো ও উন্নতি করা এবং নিজেদের সুবিধা আচ্ছামত ভোগ করা?!
.
প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ!
না, বিষয়টি কখনো এমন হতে পারে না। এটা আল্লাহর দ্বীন হতে পারে না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলার দ্বীন ত্ব|গুতদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার ও বাতিলদের সাথে শত্রুতা পোষণ করার শিক্ষা দেয়। তাছাড়া এই দ্বীন যার যতটুকু সাধ্য-সক্ষমতা আছে, ততটুকু দ্বারাই জুলুম ও কু'ফরের বিরোধিতা করাকে ফরয আখ্যায়িত করেছে। আর এই দ্বীন তো ভালো কাজের দিকে আহবান করার এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করার শিক্ষা প্রদান করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীস শরীফে ইরশাদ করেছেন:
سَيَكُونُ أُمَرَاءُ بَعْدِي يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُونَ.
“আমার পরে কতিপয় শাসক এমন আসবে; তারা মুখে যা বলে নিজেরা তা করে না। আর যা করে করে তার জন্য তাদেকে আদেশ করা হয়নি।”
.
যেন তারা মদীনার শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার সুর বাজায়, এবং إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (অর্থাৎ আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।) মুখে বলে বলে সাধারণ জনগণের চোখে ধুলো নিক্ষেপ করে, অথচ প্রকৃত বাস্তবতা হলো: তারা ইসলামের শিকড় গোড়া থেকে কেটে ফেলছে। অন্যদিকে ইসলামের স্থলে উদারতন্ত্রবাদ ও নাস্তিক্যবাদ স্থাপন করা তাদের অন্যতম টার্গেট। পাকিস্তানের এই একচেটিয়া অ-রাজা জেনারেলরা (সেনাবাহিনী) এবং তাদের ইশারায় চলা পুতুল শাসকরা আপনাদের সামনে রয়েছে! তারা কি এই হাদীসের অন্তর্ভুক্ত হবে না?
উল্লেখিত হাদীসের পরের অংশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো ইরশাদ করেছেন-
فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ لا إِيمَانَ بَعْدَهُ .
“অতএব যে ব্যক্তি হাত (শক্তি) দ্বারা তাদের মুকাবিলা করবে (অর্থাৎ তাদের বিরুদ্ধে জি'হ।দের ময়দানে অবতীর্ণ হবে,) সে মু’মিন। যে ব্যক্তি মুখ দ্বারা তাদের মুকাবিলা করবে (অর্থাৎ যারা কলম ও বয়ানের মাধ্যমে তাদের চেহারার মুখোশ উন্মোচন করবে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ফরয দায়িত্ব পালন করবে, তাদের ভ্রান্ত পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান করবে,) সেও মু’মিন। আর যে ব্যক্তি অন্তর দ্বারা তাদের মুকাবিলা করবে, সেও মু’মিন। এরপর আর ঈমানের কোন স্তর নেই।”
.
অন্তর দ্বারা জি'হ।দ করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: অন্তরে সেই পরিমাণ ঘৃণা বিদ্যমান থাকা, যা দ্বীন থেকে সম্পর্কহীনতার প্রতি, আল্লাহ তা‘আলার এই সকল শক্রদের থেকে কোন প্রকারের সাহায্য-সহযোগিতা ও ফায়েদা (সুবিধা) নেওয়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে না। বরং তা তাদের সাথে অন্তরঙ্গতা পরিত্যাগ করার এবং সাহায্য-সহযোগিতা বন্ধ করার জন্য তাদেরকে প্রস্তুত করে তুলবে। এই ধরনের ঘৃণাই অন্তর দ্বারা জি'হ।দ করার নামান্তর, যা অবশেষে এক মহা বিপ্লব ও জি'হ।দী আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করবে এবং সাথে সাথে জুলম ও ফ্যাসাদের সকল প্রতিবন্ধকতাকে নিজের সঙ্গে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।
.
.
চলমান...
টিকা –
.
.
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
উস্তাদ উ@স]ম। ম]হ-মুদ হাফিজাহুল্লাহ
02 ফেব্রুয়ারি 2025
করেছেন
আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
|| চতুর্থ পর্ব ||
গ'ণতন্ত্রের নর্দমা থেকে উত্তরণের
“কাঙ্খিত সহজ কর্মপন্থা…!” পর্ব - ২
.
সুতরাং প্রিয় ভাইয়েরা আমার!
আল্লাহ তা‘আলার নামে কসম করে বলছি; ঐ সমস্ত লোকেরা সৌভাগ্যবান, যারা বর্তমান যামানার ত্ব|গুতদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছে এবং আল্লাহ তা‘আলার আহবান- انفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا (অর্থাৎ তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে…)এর উপর সাড়া দিয়ে ‘লাব্বাইক’ বলে জি'হ।দের ময়দানে অবতীর্ণ হয়ে গেছেন। কিন্তু এমতাবস্থায় এখানে কেউ এই কথা বলতে পারেন যে, আমাদের সাধ্য নেই, আর সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা কি কেউ কারো উপর কখনো চাপিয়ে দিতে পারে? তাহলে এখানে আমার প্রিয় ভাইদের কাছে একটি প্রশ্ন রাখছি…যদি ধরে নেয়া হয় যে, বাতিলদের বিরুদ্ধে লড়াই করার মত শক্তি আমাদের নেই, তথাপি কি এখানে বাতিলদের সৈনিক হওয়ার এবং তাদের রঙে রঙিন হওয়ার কোন সুযোগ আছে?! বর্তমানে দুর্বলতা ও অক্ষমতার দরুন কি বাতিল শাসনব্যবস্থার অনুগত হওয়ার ও জ|হিলিয়্য|তের ঝান্ডাবাহী হওয়ার কোন অনুমতি এই দ্বীন প্রদান করে? এখানে কি এই দু’টি উপায়ই আছে; হয়তো এই বাতিল শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করা, আর যদি এটির সক্ষমতা না থাকে, তাহলে নিজেরাই বাতিল শাসনব্যবস্থার হাতিয়ার হয়ে যাওয়া; তার থেকে ভরপুর ফায়েদা (সুবিধা) নেওয়া, গুণগান গাওয়া, তার অনুসরণে গোমরাহীর পথে চলা, তার প্রতিরক্ষা, শক্তি যোগানো ও উন্নতি করা এবং নিজেদের সুবিধা আচ্ছামত ভোগ করা?!
.
প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ!
না, বিষয়টি কখনো এমন হতে পারে না। এটা আল্লাহর দ্বীন হতে পারে না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলার দ্বীন ত্ব|গুতদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার ও বাতিলদের সাথে শত্রুতা পোষণ করার শিক্ষা দেয়। তাছাড়া এই দ্বীন যার যতটুকু সাধ্য-সক্ষমতা আছে, ততটুকু দ্বারাই জুলুম ও কু'ফরের বিরোধিতা করাকে ফরয আখ্যায়িত করেছে। আর এই দ্বীন তো ভালো কাজের দিকে আহবান করার এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করার শিক্ষা প্রদান করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীস শরীফে ইরশাদ করেছেন:
سَيَكُونُ أُمَرَاءُ بَعْدِي يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُونَ.
“আমার পরে কতিপয় শাসক এমন আসবে; তারা মুখে যা বলে নিজেরা তা করে না। আর যা করে করে তার জন্য তাদেকে আদেশ করা হয়নি।”
.
যেন তারা মদীনার শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার সুর বাজায়, এবং إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (অর্থাৎ আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।) মুখে বলে বলে সাধারণ জনগণের চোখে ধুলো নিক্ষেপ করে, অথচ প্রকৃত বাস্তবতা হলো: তারা ইসলামের শিকড় গোড়া থেকে কেটে ফেলছে। অন্যদিকে ইসলামের স্থলে উদারতন্ত্রবাদ ও নাস্তিক্যবাদ স্থাপন করা তাদের অন্যতম টার্গেট। পাকিস্তানের এই একচেটিয়া অ-রাজা জেনারেলরা (সেনাবাহিনী) এবং তাদের ইশারায় চলা পুতুল শাসকরা আপনাদের সামনে রয়েছে! তারা কি এই হাদীসের অন্তর্ভুক্ত হবে না?
উল্লেখিত হাদীসের পরের অংশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো ইরশাদ করেছেন-
فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ لا إِيمَانَ بَعْدَهُ .
“অতএব যে ব্যক্তি হাত (শক্তি) দ্বারা তাদের মুকাবিলা করবে (অর্থাৎ তাদের বিরুদ্ধে জি'হ।দের ময়দানে অবতীর্ণ হবে,) সে মু’মিন। যে ব্যক্তি মুখ দ্বারা তাদের মুকাবিলা করবে (অর্থাৎ যারা কলম ও বয়ানের মাধ্যমে তাদের চেহারার মুখোশ উন্মোচন করবে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ফরয দায়িত্ব পালন করবে, তাদের ভ্রান্ত পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান করবে,) সেও মু’মিন। আর যে ব্যক্তি অন্তর দ্বারা তাদের মুকাবিলা করবে, সেও মু’মিন। এরপর আর ঈমানের কোন স্তর নেই।”
.
অন্তর দ্বারা জি'হ।দ করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: অন্তরে সেই পরিমাণ ঘৃণা বিদ্যমান থাকা, যা দ্বীন থেকে সম্পর্কহীনতার প্রতি, আল্লাহ তা‘আলার এই সকল শক্রদের থেকে কোন প্রকারের সাহায্য-সহযোগিতা ও ফায়েদা (সুবিধা) নেওয়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে না। বরং তা তাদের সাথে অন্তরঙ্গতা পরিত্যাগ করার এবং সাহায্য-সহযোগিতা বন্ধ করার জন্য তাদেরকে প্রস্তুত করে তুলবে। এই ধরনের ঘৃণাই অন্তর দ্বারা জি'হ।দ করার নামান্তর, যা অবশেষে এক মহা বিপ্লব ও জি'হ।দী আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করবে এবং সাথে সাথে জুলম ও ফ্যাসাদের সকল প্রতিবন্ধকতাকে নিজের সঙ্গে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।
.
.
চলমান...
টিকা –
.
.
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
উস্তাদ উ@স]ম। ম]হ-মুদ হাফিজাহুল্লাহ
29 জানুয়ারি 2025
করেছেন
আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
|| চতুর্থ পর্ব ||
গ'ণতন্ত্রের নর্দমা থেকে উত্তরণের
“কাঙ্খিত সহজ কর্মপন্থা…!” পর্ব - ২
.
সুতরাং প্রিয় ভাইয়েরা আমার!
আল্লাহ তা‘আলার নামে কসম করে বলছি; ঐ সমস্ত লোকেরা সৌভাগ্যবান, যারা বর্তমান যামানার ত্ব|গুতদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছে এবং আল্লাহ তা‘আলার আহবান- انفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا (অর্থাৎ তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে…)এর উপর সাড়া দিয়ে ‘লাব্বাইক’ বলে জি'হ।দের ময়দানে অবতীর্ণ হয়ে গেছেন। কিন্তু এমতাবস্থায় এখানে কেউ এই কথা বলতে পারেন যে, আমাদের সাধ্য নেই, আর সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা কি কেউ কারো উপর কখনো চাপিয়ে দিতে পারে? তাহলে এখানে আমার প্রিয় ভাইদের কাছে একটি প্রশ্ন রাখছি…যদি ধরে নেয়া হয় যে, বাতিলদের বিরুদ্ধে লড়াই করার মত শক্তি আমাদের নেই, তথাপি কি এখানে বাতিলদের সৈনিক হওয়ার এবং তাদের রঙে রঙিন হওয়ার কোন সুযোগ আছে?! বর্তমানে দুর্বলতা ও অক্ষমতার দরুন কি বাতিল শাসনব্যবস্থার অনুগত হওয়ার ও জ|হিলিয়্য|তের ঝান্ডাবাহী হওয়ার কোন অনুমতি এই দ্বীন প্রদান করে? এখানে কি এই দু’টি উপায়ই আছে; হয়তো এই বাতিল শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করা, আর যদি এটির সক্ষমতা না থাকে, তাহলে নিজেরাই বাতিল শাসনব্যবস্থার হাতিয়ার হয়ে যাওয়া; তার থেকে ভরপুর ফায়েদা (সুবিধা) নেওয়া, গুণগান গাওয়া, তার অনুসরণে গোমরাহীর পথে চলা, তার প্রতিরক্ষা, শক্তি যোগানো ও উন্নতি করা এবং নিজেদের সুবিধা আচ্ছামত ভোগ করা?!
.
প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ!
না, বিষয়টি কখনো এমন হতে পারে না। এটা আল্লাহর দ্বীন হতে পারে না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলার দ্বীন ত্ব|গুতদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার ও বাতিলদের সাথে শত্রুতা পোষণ করার শিক্ষা দেয়। তাছাড়া এই দ্বীন যার যতটুকু সাধ্য-সক্ষমতা আছে, ততটুকু দ্বারাই জুলুম ও কু'ফরের বিরোধিতা করাকে ফরয আখ্যায়িত করেছে। আর এই দ্বীন তো ভালো কাজের দিকে আহবান করার এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করার শিক্ষা প্রদান করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীস শরীফে ইরশাদ করেছেন:
سَيَكُونُ أُمَرَاءُ بَعْدِي يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُونَ.
“আমার পরে কতিপয় শাসক এমন আসবে; তারা মুখে যা বলে নিজেরা তা করে না। আর যা করে করে তার জন্য তাদেকে আদেশ করা হয়নি।”
.
যেন তারা মদীনার শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার সুর বাজায়, এবং إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (অর্থাৎ আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।) মুখে বলে বলে সাধারণ জনগণের চোখে ধুলো নিক্ষেপ করে, অথচ প্রকৃত বাস্তবতা হলো: তারা ইসলামের শিকড় গোড়া থেকে কেটে ফেলছে। অন্যদিকে ইসলামের স্থলে উদারতন্ত্রবাদ ও নাস্তিক্যবাদ স্থাপন করা তাদের অন্যতম টার্গেট। পাকিস্তানের এই একচেটিয়া অ-রাজা জেনারেলরা (সেনাবাহিনী) এবং তাদের ইশারায় চলা পুতুল শাসকরা আপনাদের সামনে রয়েছে! তারা কি এই হাদীসের অন্তর্ভুক্ত হবে না?
উল্লেখিত হাদীসের পরের অংশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো ইরশাদ করেছেন-
فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ لا إِيمَانَ بَعْدَهُ .
“অতএব যে ব্যক্তি হাত (শক্তি) দ্বারা তাদের মুকাবিলা করবে (অর্থাৎ তাদের বিরুদ্ধে জি'হ।দের ময়দানে অবতীর্ণ হবে,) সে মু’মিন। যে ব্যক্তি মুখ দ্বারা তাদের মুকাবিলা করবে (অর্থাৎ যারা কলম ও বয়ানের মাধ্যমে তাদের চেহারার মুখোশ উন্মোচন করবে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ফরয দায়িত্ব পালন করবে, তাদের ভ্রান্ত পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান করবে,) সেও মু’মিন। আর যে ব্যক্তি অন্তর দ্বারা তাদের মুকাবিলা করবে, সেও মু’মিন। এরপর আর ঈমানের কোন স্তর নেই।”
.
অন্তর দ্বারা জি'হ।দ করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: অন্তরে সেই পরিমাণ ঘৃণা বিদ্যমান থাকা, যা দ্বীন থেকে সম্পর্কহীনতার প্রতি, আল্লাহ তা‘আলার এই সকল শক্রদের থেকে কোন প্রকারের সাহায্য-সহযোগিতা ও ফায়েদা (সুবিধা) নেওয়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে না। বরং তা তাদের সাথে অন্তরঙ্গতা পরিত্যাগ করার এবং সাহায্য-সহযোগিতা বন্ধ করার জন্য তাদেরকে প্রস্তুত করে তুলবে। এই ধরনের ঘৃণাই অন্তর দ্বারা জি'হ।দ করার নামান্তর, যা অবশেষে এক মহা বিপ্লব ও জি'হ।দী আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করবে এবং সাথে সাথে জুলম ও ফ্যাসাদের সকল প্রতিবন্ধকতাকে নিজের সঙ্গে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।
.
.
চলমান...
টিকা –
.
.
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
উস্তাদ উ@স]ম। ম]হ-মুদ হাফিজাহুল্লাহ
23 জানুয়ারি 2025
করেছেন
আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
|| চতুর্থ পর্ব ||
গ'ণ'তন্ত্রের নর্দমা থেকে উত্তরণের
“কাঙ্খিত সহজ কর্মপন্থা…!” পর্ব - ১
.
.
بِسْمِ اللّہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
الحمد لله رب العالمين. والصلوة والسلام على رسوله الكريم. أما بعد…
হামদ ও সালাতের পর-
.
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সম্পৃক্ত মুহতারাম দ্বীনি ভাই ও বন্ধুগণ!
.
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ.
.
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেছেন-
وَأَنَّ هَٰذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ ذَٰلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿الأنعام: ١٥٣﴾
“নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ (অর্থাৎ এটি ইসলাম ও শ'রী-য়তের আলোকে দেখানো সরল-সোজা রাস্তা)। অতএব, এ পথে চল এবং অন্যান্য পথে চলো না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সংযত হও।
(সূরা আন‘আম: ১৫৩)
.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র হাদীস শরীফে ইরশাদ করেছেন-
}قَدْ تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْبَيْضَاءِ لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا{
“আমি তোমাদেরকে আলোকউজ্জ্বল দিনের মত সুস্পষ্ট পথের উপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতগুলো দিনের মতেই আলোকউজ্জ্বল।”
(মুসনাদে আহমাদ)
.
প্রিয় ভাইয়েরা!
আল্লাহ তা‘আলার দ্বীন ও শ'রী-য়ত এবং এই শ'রী-য়তের চাহিদা ও তাকাযাগুলো সবকিছুই প্রতীয়মান…তা আলোকউজ্জ্বল দিনের মতই প্রকাশমান। এখন কথা হচ্ছে: আল্লাহ তা‘আলার এই দ্বীন ও শ'রী-য়তের মাঝে এই গণতান্ত্রিক রাজনীতির কোন অবকাশ আছে কিনা? তারপর কথা হচ্ছে: এই গণতান্ত্রিক রাজনীতির যে মন্দ পরিণতি; যার শিকার আমাদের দ্বীনদার ভাইয়েরা হয়েছেন এবং পুরো জাতি যার মন্দ পরিণাম ভোগ করছে, এই দ্বীনে কি এগুলো সহ্যক্ষম হতে পারে? এ ব্যাপারে আমাদের অবস্থান আপনারা জানেন বিধায় তা আর বলার অবকাশ রাখে না। কিন্তু কথা হলো: এসব কিছু বিদ্যমান থাকার পরেও যে সকল ভাইয়েরা আমাদের সাথে একমত হতে পারছেন না, তাদের খেদমতে আমাদের সবিনয় নিবেদন হলো: এ ব্যাপারে (اسْتَفْتِ قَلْبَكَ ) অর্থাৎ আপনি আপনার অন্তরকে জিজ্ঞাসা করুন, এবং (وَاسْتَفْتِ نَفْسَكَ ) অর্থাৎ আপনি আপনার নিজের কাছেই ফতোয়া তালাশ করুন- আপনার কি নিশ্চিত বিশ্বাস আছে যে, এই ধরনের রাজনীতি ও সংগ্রাম ইসলামে কাম্য? অথবা এই গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথে চলার দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার দ্বীন বিজয়ী হবে ও দ্বীনের দুশমনরা পরাজিত হবে? অথবা আপনার অন্তর কি এ ব্যাপারে আশ্বস্ত যে, এই পথে চলার দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার নাযিলকৃত শ'রী-য়তের উপর আমল হচ্ছে? আল্লাহ তা‘আলাই ভালো জানেন, কিভাবে কারো অন্তর আশ্বস্ত হতে পারে? আর যদি অন্তর আশ্বস্ত নাই হয়, বরং সংশয়পূর্ণ হয়। তাহলে এমন সংশয়পূর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রে তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
}وَالْإِثْمُ مَا حَاكَ فِي صَدْرِك وَإِنْ أَفْتَاكَ عَنْهُ النَّاسُ{
“গোনাহ হলো: যা তোমার মনে খটকা সৃষ্টি করে, যদিওবা মানুষ তা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে ফতোয়া প্রদান করে।”
অন্য হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো ইরশাদ করেছেন-
۔}دَعْ مَا يُرِيبُكَ إِلَى مالا يُرِيبُكَ{
“তুমি সন্দেহ-সংশয়পূর্ণ বিষয় ছেড়ে নিশ্চিত বিষয় গ্রহন কর।”
.
সুতরাং হে প্রিয় ভাই ও বন্ধুরা!
আপনাদের নিকট আমাদের প্রথম নিবেদন হলো: আপনারা গ'ণ'তন্ত্রের প্রকৃত বাস্তবতা ও পরিণতি এবং শ'রী-য়তের চাহিদা ও তাকাযাগুলো সামনে রেখে নিজেদের মুহাসাবা (হিসাব গ্রহন) করুন। কারণ, আমরা সকলেই তো সেই মহাদিবসের দিকে যাত্রা করছি, যার ব্যাপারে মহান আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেছেন-
يَقُولُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ أَيْنَ الْمَفَرُّ ﴿القيامة: ١٠﴾ كَلَّا لَا وَزَرَ ﴿القيامة: ١١﴾ إِلَىٰ رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمُسْتَقَرُّ ﴿القيامة: ١٢﴾ يُنَبَّأُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ بِمَا قَدَّمَ وَأَخَّرَ ﴿القيامة: ١٣﴾ بَلِ الْإِنسَانُ عَلَىٰ نَفْسِهِ بَصِيرَةٌ ﴿القيامة: ١٤﴾ وَلَوْ أَلْقَىٰ مَعَاذِيرَهُ ﴿القيامة: ١٥﴾
“সে দিন মানুষ বলবেঃ পলায়নের জায়গা কোথায় ? (১০) না কোথাও আশ্রয়স্থল নেই। (১১) আপনার পালনকর্তার কাছেই সেদিন ঠাঁই হবে। (১২) সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে সে যা সামনে প্রেরণ করেছে ও পশ্চাতে ছেড়ে দিয়েছে। (১৩) বরং মানুষ নিজেই তার নিজের সম্পর্কে চক্ষুমান। (১৪) যদিও সে তার অজুহাত পেশ করতে চাইবে (১৫)।”
(সূরা কিয়ামাহ: ১০-১৫)
.
অতএব, হে প্রিয় ভাইয়েরা!
আসুন, আমরা প্রত্যেকই আমাদের আখেরাতের জীবন নিয়ে চিন্তা-ফিকির করি। কেননা, আমাদের সকলকেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সামনে একাই উপস্থিত হতে হবে। (তারপর নিজেদের কৃতকর্মের হিসাব দিতে হবে।) তাই এখানে সর্বাগ্রে আমাদের নিজেদের মুক্তির ফিকির করতে হবে, তারপর নিজেদের সন্তানাদি, বন্ধু-বান্ধব ও নেতাদের মুক্তির ফিকির করা উচিত।
.
সুপ্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ,
অতঃপর কথা হচ্ছে: যখন আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে অগ্রাহ্য করি এবং তা পরিত্যাগ করার প্রতি জোরদার আবেদন পেশ করি, তখন সাথে সাথেই আমাদেরকে বলা হয় যে, তা হচ্ছে সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা উঠানোর নামান্তর। পাশাপাশি আরো বলা হয় যে, এই মুজাহিদীনরা আমাদেরকে অস্ত্র ধারণ করে নিজেদের মাথা কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছে।
.
মুহতারাম ভাইয়েরা আমার!
এখন প্রশ্ন হলো: এটি কি এক চরম বাস্তবতা নয় যে, শক্তি, জুলুম ও জাহিলিয়্যাতের ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতার মুকাবিলা কখনো তাদের সামনে নত হওয়ার দ্বারা অর্জিত হয়না? বাতিলদের দেখানো পথে সংগ্রাম করার দ্বারা এবং তাদের সংবিধানের অনুগত থাকার দ্বারা কখনো বাতিলদের একচ্ছত্র শাসনব্যবস্থা নিশ্চিহ্ন হবে না। জাহিলিয়্যাতের মুকাবিলা, ইসলামের প্রতিরক্ষা ও বিজয় অর্জন করা যদি কখনো জাহিলিয়্যাতের সাথে সমঝোতা করার দ্বারা এবং তার শর্তাবলী মেনে নেওয়ার দ্বারা সম্ভবপর হতো, তাহলে সশস্ত্র জিহাদ কখনো ফরয হতো না। এমনিভাবে وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ (অর্থাৎ আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ফিতনা/ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়;) এবং كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ (অর্থাৎ তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে,)সহ আরো অসংখ্য জিহাদের আয়াত নাযিল হত না। অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাওয়াত ও তাবলীগ করার সাথে সাথে হিজরত ও জিহাদের পথে বের হতেন না।
.
.
চলমান...
টিকা –
.
.
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
উস্তাদ উ@স]ম। ম]হ-মুদ হাফিজাহুল্লাহ
21 জানুয়ারি 2025
করেছেন
আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
|| চতুর্থ পর্ব ||
গ'ণতন্ত্রের নর্দমা থেকে উত্তরণের
“কাঙ্খিত সহজ কর্মপন্থা…!” পর্ব - ২
.
সুতরাং প্রিয় ভাইয়েরা আমার!
আল্লাহ তা‘আলার নামে কসম করে বলছি; ঐ সমস্ত লোকেরা সৌভাগ্যবান, যারা বর্তমান যামানার ত্ব|গুতদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছে এবং আল্লাহ তা‘আলার আহবান- انفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا (অর্থাৎ তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে…)এর উপর সাড়া দিয়ে ‘লাব্বাইক’ বলে জি'হ।দের ময়দানে অবতীর্ণ হয়ে গেছেন। কিন্তু এমতাবস্থায় এখানে কেউ এই কথা বলতে পারেন যে, আমাদের সাধ্য নেই, আর সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা কি কেউ কারো উপর কখনো চাপিয়ে দিতে পারে? তাহলে এখানে আমার প্রিয় ভাইদের কাছে একটি প্রশ্ন রাখছি…যদি ধরে নেয়া হয় যে, বাতিলদের বিরুদ্ধে লড়াই করার মত শক্তি আমাদের নেই, তথাপি কি এখানে বাতিলদের সৈনিক হওয়ার এবং তাদের রঙে রঙিন হওয়ার কোন সুযোগ আছে?! বর্তমানে দুর্বলতা ও অক্ষমতার দরুন কি বাতিল শাসনব্যবস্থার অনুগত হওয়ার ও জ|হিলিয়্য|তের ঝান্ডাবাহী হওয়ার কোন অনুমতি এই দ্বীন প্রদান করে? এখানে কি এই দু’টি উপায়ই আছে; হয়তো এই বাতিল শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করা, আর যদি এটির সক্ষমতা না থাকে, তাহলে নিজেরাই বাতিল শাসনব্যবস্থার হাতিয়ার হয়ে যাওয়া; তার থেকে ভরপুর ফায়েদা (সুবিধা) নেওয়া, গুণগান গাওয়া, তার অনুসরণে গোমরাহীর পথে চলা, তার প্রতিরক্ষা, শক্তি যোগানো ও উন্নতি করা এবং নিজেদের সুবিধা আচ্ছামত ভোগ করা?!
.
প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ!
না, বিষয়টি কখনো এমন হতে পারে না। এটা আল্লাহর দ্বীন হতে পারে না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলার দ্বীন ত্ব|গুতদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার ও বাতিলদের সাথে শত্রুতা পোষণ করার শিক্ষা দেয়। তাছাড়া এই দ্বীন যার যতটুকু সাধ্য-সক্ষমতা আছে, ততটুকু দ্বারাই জুলুম ও কু'ফরের বিরোধিতা করাকে ফরয আখ্যায়িত করেছে। আর এই দ্বীন তো ভালো কাজের দিকে আহবান করার এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করার শিক্ষা প্রদান করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীস শরীফে ইরশাদ করেছেন:
سَيَكُونُ أُمَرَاءُ بَعْدِي يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُونَ.
“আমার পরে কতিপয় শাসক এমন আসবে; তারা মুখে যা বলে নিজেরা তা করে না। আর যা করে করে তার জন্য তাদেকে আদেশ করা হয়নি।”
.
যেন তারা মদীনার শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার সুর বাজায়, এবং إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (অর্থাৎ আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।) মুখে বলে বলে সাধারণ জনগণের চোখে ধুলো নিক্ষেপ করে, অথচ প্রকৃত বাস্তবতা হলো: তারা ইসলামের শিকড় গোড়া থেকে কেটে ফেলছে। অন্যদিকে ইসলামের স্থলে উদারতন্ত্রবাদ ও নাস্তিক্যবাদ স্থাপন করা তাদের অন্যতম টার্গেট। পাকিস্তানের এই একচেটিয়া অ-রাজা জেনারেলরা (সেনাবাহিনী) এবং তাদের ইশারায় চলা পুতুল শাসকরা আপনাদের সামনে রয়েছে! তারা কি এই হাদীসের অন্তর্ভুক্ত হবে না?
উল্লেখিত হাদীসের পরের অংশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো ইরশাদ করেছেন-
فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ لا إِيمَانَ بَعْدَهُ .
“অতএব যে ব্যক্তি হাত (শক্তি) দ্বারা তাদের মুকাবিলা করবে (অর্থাৎ তাদের বিরুদ্ধে জি'হ।দের ময়দানে অবতীর্ণ হবে,) সে মু’মিন। যে ব্যক্তি মুখ দ্বারা তাদের মুকাবিলা করবে (অর্থাৎ যারা কলম ও বয়ানের মাধ্যমে তাদের চেহারার মুখোশ উন্মোচন করবে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ফরয দায়িত্ব পালন করবে, তাদের ভ্রান্ত পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান করবে,) সেও মু’মিন। আর যে ব্যক্তি অন্তর দ্বারা তাদের মুকাবিলা করবে, সেও মু’মিন। এরপর আর ঈমানের কোন স্তর নেই।”
.
অন্তর দ্বারা জি'হ।দ করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: অন্তরে সেই পরিমাণ ঘৃণা বিদ্যমান থাকা, যা দ্বীন থেকে সম্পর্কহীনতার প্রতি, আল্লাহ তা‘আলার এই সকল শক্রদের থেকে কোন প্রকারের সাহায্য-সহযোগিতা ও ফায়েদা (সুবিধা) নেওয়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে না। বরং তা তাদের সাথে অন্তরঙ্গতা পরিত্যাগ করার এবং সাহায্য-সহযোগিতা বন্ধ করার জন্য তাদেরকে প্রস্তুত করে তুলবে। এই ধরনের ঘৃণাই অন্তর দ্বারা জি'হ।দ করার নামান্তর, যা অবশেষে এক মহা বিপ্লব ও জি'হ।দী আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করবে এবং সাথে সাথে জুলম ও ফ্যাসাদের সকল প্রতিবন্ধকতাকে নিজের সঙ্গে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।
.
.
চলমান...
টিকা –
.
.
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
উস্তাদ উ@স]ম। ম]হ-মুদ হাফিজাহুল্লাহ
21 জানুয়ারি 2025
করেছেন
আবু উবাইদাহ