person
!
প্রোফাইল আপডেট

আবু উবাইদাহ এর সময়ক্রম

তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
   || চতুর্থ পর্ব ||   
 
গ'ণ'তন্ত্রের নর্দমা থেকে উত্তরণের
“কাঙ্খিত সহজ কর্মপন্থা…!” পর্ব - ১

.
.

بِسْمِ اللّہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

الحمد لله رب العالمين. والصلوة والسلام على رسوله الكريم. أما بعد…

হামদ ও সালাতের পর-
.
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সম্পৃক্ত মুহতারাম দ্বীনি ভাই ও বন্ধুগণ!
.
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ.
.
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেছেন-

وَأَنَّ هَٰذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ ذَٰلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿الأنعام: ١٥٣﴾

“নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ (অর্থাৎ এটি ইসলাম ও শ'রী-য়তের আলোকে দেখানো সরল-সোজা রাস্তা)। অতএব, এ পথে চল এবং অন্যান্য পথে চলো না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সংযত হও।
(সূরা আন‘আম: ১৫৩)
.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র হাদীস শরীফে ইরশাদ করেছেন-

}قَدْ تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْبَيْضَاءِ لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا{

“আমি তোমাদেরকে আলোকউজ্জ্বল দিনের মত সুস্পষ্ট পথের উপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতগুলো দিনের মতেই আলোকউজ্জ্বল।”
(মুসনাদে আহমাদ)
.
প্রিয় ভাইয়েরা!

আল্লাহ তা‘আলার দ্বীন ও শ'রী-য়ত এবং এই শ'রী-য়তের চাহিদা ও তাকাযাগুলো সবকিছুই প্রতীয়মান…তা আলোকউজ্জ্বল দিনের মতই প্রকাশমান। এখন কথা হচ্ছে: আল্লাহ তা‘আলার এই দ্বীন ও শ'রী-য়তের মাঝে এই গণতান্ত্রিক রাজনীতির কোন অবকাশ আছে কিনা? তারপর কথা হচ্ছে: এই গণতান্ত্রিক রাজনীতির যে মন্দ পরিণতি; যার শিকার আমাদের দ্বীনদার ভাইয়েরা হয়েছেন এবং পুরো জাতি যার মন্দ পরিণাম ভোগ করছে, এই দ্বীনে কি এগুলো সহ্যক্ষম হতে পারে? এ ব্যাপারে আমাদের অবস্থান আপনারা জানেন বিধায় তা আর বলার অবকাশ রাখে না। কিন্তু কথা হলো: এসব কিছু বিদ্যমান থাকার পরেও যে সকল ভাইয়েরা আমাদের সাথে একমত হতে পারছেন না, তাদের খেদমতে আমাদের সবিনয় নিবেদন হলো: এ ব্যাপারে (اسْتَفْتِ قَلْبَكَ ) অর্থাৎ আপনি আপনার অন্তরকে জিজ্ঞাসা করুন, এবং (وَاسْتَفْتِ نَفْسَكَ ) অর্থাৎ আপনি আপনার নিজের কাছেই ফতোয়া তালাশ করুন- আপনার কি নিশ্চিত বিশ্বাস আছে যে, এই ধরনের রাজনীতি ও সংগ্রাম ইসলামে কাম্য? অথবা এই গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথে চলার দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার দ্বীন বিজয়ী হবে ও দ্বীনের দুশমনরা পরাজিত হবে? অথবা আপনার অন্তর কি এ ব্যাপারে আশ্বস্ত যে, এই পথে চলার দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার নাযিলকৃত শ'রী-য়তের উপর আমল হচ্ছে? আল্লাহ তা‘আলাই ভালো জানেন, কিভাবে কারো অন্তর আশ্বস্ত হতে পারে? আর যদি অন্তর আশ্বস্ত নাই হয়, বরং সংশয়পূর্ণ হয়। তাহলে এমন সংশয়পূর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রে তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

}وَالْإِثْمُ مَا حَاكَ فِي صَدْرِك وَإِنْ أَفْتَاكَ عَنْهُ النَّاسُ{

“গোনাহ হলো: যা তোমার মনে খটকা সৃষ্টি করে, যদিওবা মানুষ তা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে ফতোয়া প্রদান করে।”

অন্য হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো ইরশাদ করেছেন-

۔}دَعْ مَا يُرِيبُكَ إِلَى مالا يُرِيبُكَ{

“তুমি সন্দেহ-সংশয়পূর্ণ বিষয় ছেড়ে নিশ্চিত বিষয় গ্রহন কর।”
.
সুতরাং হে প্রিয় ভাই ও বন্ধুরা!

আপনাদের নিকট আমাদের প্রথম নিবেদন হলো: আপনারা গ'ণ'তন্ত্রের প্রকৃত বাস্তবতা ও পরিণতি এবং শ'রী-য়তের চাহিদা ও তাকাযাগুলো সামনে রেখে নিজেদের মুহাসাবা (হিসাব গ্রহন) করুন। কারণ, আমরা সকলেই তো সেই মহাদিবসের দিকে যাত্রা করছি, যার ব্যাপারে মহান আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেছেন-

يَقُولُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ أَيْنَ الْمَفَرُّ ﴿القيامة: ١٠﴾ كَلَّا لَا وَزَرَ ﴿القيامة: ١١﴾ إِلَىٰ رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمُسْتَقَرُّ ﴿القيامة: ١٢﴾ يُنَبَّأُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ بِمَا قَدَّمَ وَأَخَّرَ ﴿القيامة: ١٣﴾ بَلِ الْإِنسَانُ عَلَىٰ نَفْسِهِ بَصِيرَةٌ ﴿القيامة: ١٤﴾ وَلَوْ أَلْقَىٰ مَعَاذِيرَهُ ﴿القيامة: ١٥﴾

“সে দিন মানুষ বলবেঃ পলায়নের জায়গা কোথায় ? (১০) না কোথাও আশ্রয়স্থল নেই। (১১) আপনার পালনকর্তার কাছেই সেদিন ঠাঁই হবে। (১২) সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে সে যা সামনে প্রেরণ করেছে ও পশ্চাতে ছেড়ে দিয়েছে। (১৩) বরং মানুষ নিজেই তার নিজের সম্পর্কে চক্ষুমান। (১৪) যদিও সে তার অজুহাত পেশ করতে চাইবে (১৫)।”
(সূরা কিয়ামাহ: ১০-১৫)
.
অতএব, হে প্রিয় ভাইয়েরা!

আসুন, আমরা প্রত্যেকই আমাদের আখেরাতের জীবন নিয়ে চিন্তা-ফিকির করি। কেননা, আমাদের সকলকেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সামনে একাই উপস্থিত হতে হবে। (তারপর নিজেদের কৃতকর্মের হিসাব দিতে হবে।) তাই এখানে সর্বাগ্রে আমাদের নিজেদের মুক্তির ফিকির করতে হবে, তারপর নিজেদের সন্তানাদি, বন্ধু-বান্ধব ও নেতাদের মুক্তির ফিকির করা উচিত।
.
সুপ্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ,

অতঃপর কথা হচ্ছে: যখন আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে অগ্রাহ্য করি এবং তা পরিত্যাগ করার প্রতি জোরদার আবেদন পেশ করি, তখন সাথে সাথেই আমাদেরকে বলা হয় যে, তা হচ্ছে সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা উঠানোর নামান্তর। পাশাপাশি আরো বলা হয় যে, এই মুজাহিদীনরা আমাদেরকে অস্ত্র ধারণ করে নিজেদের মাথা কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছে।
.
মুহতারাম ভাইয়েরা আমার!

এখন প্রশ্ন হলো: এটি কি এক চরম বাস্তবতা নয় যে, শক্তি, জুলুম ও জাহিলিয়্যাতের ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতার মুকাবিলা কখনো তাদের সামনে নত হওয়ার দ্বারা অর্জিত হয়না? বাতিলদের দেখানো পথে সংগ্রাম করার দ্বারা এবং তাদের সংবিধানের অনুগত থাকার দ্বারা কখনো বাতিলদের একচ্ছত্র শাসনব্যবস্থা নিশ্চিহ্ন হবে না। জাহিলিয়্যাতের মুকাবিলা, ইসলামের প্রতিরক্ষা ও বিজয় অর্জন করা যদি কখনো জাহিলিয়্যাতের সাথে সমঝোতা করার দ্বারা এবং তার শর্তাবলী মেনে নেওয়ার দ্বারা সম্ভবপর হতো, তাহলে সশস্ত্র জিহাদ কখনো ফরয হতো না। এমনিভাবে وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ (অর্থাৎ আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ফিতনা/ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়;) এবং كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ (অর্থাৎ তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে,)সহ আরো অসংখ্য জিহাদের আয়াত নাযিল হত না। অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাওয়াত ও তাবলীগ করার সাথে সাথে হিজরত ও জিহাদের পথে বের হতেন না।
.
.
চলমান...
টিকা –
.
.
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
উস্তাদ উ@স]ম। ম]হ-মুদ হাফিজাহুল্লাহ
14 জানুয়ারি 2025 করেছেন আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
     || তৃতীয় পর্ব ||

‘গনতান্ত্রিক রাজনীতি দ্বীনি ভাইদের
ক্ষমতায়নের কারণ নাকি দুর্বলতার কারণ?!!’ পর্ব - ৪

.
প্রিয় সূধীবৃন্দ!

সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে এই নিয়ম চলে আসছে যে, বিপরীত শক্তির মোকাবিলা শক্তির দ্বারাই করতে হয়। মহান রাব্বুল আলামীনও তাঁর সৃষ্টজগত চালানোর জন্য এই নিয়মই লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। এই নিয়ম মুসলিম ও ক|ফি'র  সকলের জন্যই প্রযোজ্য। তাছাড়া কু"ফু/রী  বিশ্বে যেসব বড় ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে তারও মৌলিক কারণ হচ্ছে এটা। আর এটা কখনো সাধারণ চিন্তা-ভাবনা বা শান্তিপূর্ণ সং-গ্র|ম করার দ্বারা  অর্জিত হয়নি। বরং চিন্তা-ভাবনা করার সাথে সাথে শক্তি প্রয়োগ করতে হয়েছে, তখনিই গিয়ে সকল বাঁধা-বিপত্তি দূর হয়েছে এবং পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ফান্সের বিপ্লবের দিকে একটু লক্ষ্য করুন! এটা হচ্ছে সেই বিপ্লব যার মাধ্যমে সেখানে গ-ণ/ত'ন্ত্র  সিস্টেম প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। কিন্তু সেই গণতান্ত্রিক সিস্টেমও কি ভোটের গণনা দ্বারা আনা হয়েছিল? অহিংস নীতির কারণে কি  এই পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল? না, কক্ষনো না। বরং চেপে বসা শ|স"কশ্রেণীর সাথে সংঘাতে যেতে হয়েছে, জীবন দিতে হয়েছে, তখন গিয়ে কোথাও কোন নতুন সিস্টেম প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পেরেছে। আমাদের আশে পাশে রাফেযী বিপ্লবের ইতিহাসও আপনাদের সামনে রয়েছে। সেখানেও ভোটের গণনা দ্বারা পুরোনো সিস্টেম রহিত হয়ে যায়নি, বরং তা শক্তিমত্তার বহির্প্রকাশ ছিল। পাশাপাশি তা একটি বিপ্লব ছিল, ফলশ্রুতিতে পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল।
.
যদি আমাদের পাকিস্তানী সিস্টেমটি অস্তিত্ব লাভ করে থাকে, তবে তা এখানে ১৯47 সালের ভোট গণনা করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আসল কথা হচ্ছে: ১৯৪৭ সালে সিস্টেম একটুও পাল্টায়নি বরং পূর্ব থেকে প্রতিষ্ঠিত সিস্টেমের মাঝে ক্ষমতার স্থানান্তর হয়েছে মাত্র। যার কারণে চেহারা পাল্টিয়েছে, কিন্তু সিস্টেম আগের সিস্টেম হিসাবেই অক্ষুন্ন রয়েছে। সেনাবাহিনী, শিক্ষাব্যবস্থা, রাজনীতি এবং সংবিধানসহ পুরো সিস্টেম ইংরেজদের সিস্টেম হিসাবেই অবশিষ্ট ছিল। নতুন সিস্টেম যদি ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে, তাহলে তা ইংরেজরা প্রতিষ্ঠা করেছে। ইংরেজরা জ্ঞান-বিজ্ঞান, সভা-সমাবেশ ও শান্তিপূর্ণ উৎসগুলির দ্বারা নিজেদের সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করে নাই। বরং তারা শক্তি ও ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে, বন্দুক ও বারুদ দ্বারা নিজেদের রাস্তার সকল বাঁধা-বিপত্তি দূর করেছে। তখন গিয়ে তারা কোন স্থানে কোন সিস্টেম আমাদের উপর চাপিয়ে দিতে পেরেছে। সুতরাং আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হলো: যুক্তি, ইতিহাস ও ইসলামসহ সকল কষ্টিপাথর দ্বারা একথা সম্পূর্ণরূপে ভুল প্রমাণিত হয়েছে যে, শক্তি ও ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে কোন বাতিল সিস্টেম বিজয়ী হবে, অতঃপর তা গ-ণ/ত'ন্ত্র াতিক সং-গ্র|মের মাধ্যমে পরিবর্তন করে ফেলা হবে! এবং তদস্থলে তার সম্পূর্ণ বিপরীত-উল্টো আসমানের রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত ন্যায়-ইনসাফের উপর ভিত্তিকৃত ইসলামী সিস্টেম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে।
.
প্রিয় ভাইয়েরা আমার!

এমতাবস্থায় যদি আপনার কোন হিতাকাঙ্খী আপনাকে বাতিল সিস্টেমের পক্ষ থেকে চিহ্নিত রেখার উপর চলতে প্ররোচিত করে, গ-ণ/ত'ন্ত্র ের সাথেই সংশ্লিষ্ট হওয়ার ও তার প্রতি বিশ্বস্ত হওয়ার প্রতি প্ররোচিত করে; তাহলে আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে চাই যে, এমন হিতাকাঙ্খীরা এই বাতিল সিস্টেমের সম্মান ও বিজয়কে একটি স্বীকৃত বাস্তবতা হিসাবে মেনে নিয়েছে এবং আমাদের শংকা আছে যে, সম্ভবত তাদের অন্তরে ভালকাজের প্রচার এবং মন্দকাজের প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতিও অদ্যবধি বাকি নেই। যদি এই প্রতিশ্রুতি এবং অভিপ্রায় থাকত, তাহলে তার বাস্তবতা স্বীকার করে নিত এবং অন্তর্দৃষ্টি এবং পরিকল্পনা অনুসারে সঠিক পথ গ্রহন করে নিত।
.
সুপ্রিয় ভাইয়েরা আমার!

তো এখন কথা হলো: এর সমাধান কিসে? শ;রী:য়াহর উদ্দেশ্য কি এবং তার কর্ম প্রদ্ধতি কি হতে পারে? যার উপর আমল করার মাধ্যমে আমরা নিজেরাও বদদ্বীনি থেকে বাঁচতে পারব এবং আমাদের জাতিকেও শ;রী:য়াহর বরকতসমূহের দ্বারা ভরপুর করে দিতে পারব। এই বিষয়ের উপর আগামী পর্বে ও শেষ পর্বে আলোচনা করা হবে, ইনশা আল্লাহ।

وآخر دعوانا أنِ الحمدُ للهِ ربِ العالمين .والسلامُ عليكم ورحمةُ اللهِ وبركاتُه.
.
.
টিকা –
.
.
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
03 জানুয়ারি 2025 করেছেন আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
     || তৃতীয় পর্ব ||

‘গনতান্ত্রিক রাজনীতি দ্বীনি ভাইদের
ক্ষমতায়নের কারণ নাকি দুর্বলতার কারণ?!!’ পর্ব - ৪

.
প্রিয় সূধীবৃন্দ!

সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে এই নিয়ম চলে আসছে যে, বিপরীত শক্তির মোকাবিলা শক্তির দ্বারাই করতে হয়। মহান রাব্বুল আলামীনও তাঁর সৃষ্টজগত চালানোর জন্য এই নিয়মই লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। এই নিয়ম মুসলিম ও ক|ফি'র  সকলের জন্যই প্রযোজ্য। তাছাড়া কু"ফু/রী  বিশ্বে যেসব বড় ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে তারও মৌলিক কারণ হচ্ছে এটা। আর এটা কখনো সাধারণ চিন্তা-ভাবনা বা শান্তিপূর্ণ সং-গ্র|ম করার দ্বারা  অর্জিত হয়নি। বরং চিন্তা-ভাবনা করার সাথে সাথে শক্তি প্রয়োগ করতে হয়েছে, তখনিই গিয়ে সকল বাঁধা-বিপত্তি দূর হয়েছে এবং পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ফান্সের বিপ্লবের দিকে একটু লক্ষ্য করুন! এটা হচ্ছে সেই বিপ্লব যার মাধ্যমে সেখানে গ-ণ/ত'ন্ত্র  সিস্টেম প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। কিন্তু সেই গণতান্ত্রিক সিস্টেমও কি ভোটের গণনা দ্বারা আনা হয়েছিল? অহিংস নীতির কারণে কি  এই পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল? না, কক্ষনো না। বরং চেপে বসা শ|স"কশ্রেণীর সাথে সংঘাতে যেতে হয়েছে, জীবন দিতে হয়েছে, তখন গিয়ে কোথাও কোন নতুন সিস্টেম প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পেরেছে। আমাদের আশে পাশে রাফেযী বিপ্লবের ইতিহাসও আপনাদের সামনে রয়েছে। সেখানেও ভোটের গণনা দ্বারা পুরোনো সিস্টেম রহিত হয়ে যায়নি, বরং তা শক্তিমত্তার বহির্প্রকাশ ছিল। পাশাপাশি তা একটি বিপ্লব ছিল, ফলশ্রুতিতে পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল।
.
যদি আমাদের পাকিস্তানী সিস্টেমটি অস্তিত্ব লাভ করে থাকে, তবে তা এখানে ১৯47 সালের ভোট গণনা করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আসল কথা হচ্ছে: ১৯৪৭ সালে সিস্টেম একটুও পাল্টায়নি বরং পূর্ব থেকে প্রতিষ্ঠিত সিস্টেমের মাঝে ক্ষমতার স্থানান্তর হয়েছে মাত্র। যার কারণে চেহারা পাল্টিয়েছে, কিন্তু সিস্টেম আগের সিস্টেম হিসাবেই অক্ষুন্ন রয়েছে। সেনাবাহিনী, শিক্ষাব্যবস্থা, রাজনীতি এবং সংবিধানসহ পুরো সিস্টেম ইংরেজদের সিস্টেম হিসাবেই অবশিষ্ট ছিল। নতুন সিস্টেম যদি ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে, তাহলে তা ইংরেজরা প্রতিষ্ঠা করেছে। ইংরেজরা জ্ঞান-বিজ্ঞান, সভা-সমাবেশ ও শান্তিপূর্ণ উৎসগুলির দ্বারা নিজেদের সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করে নাই। বরং তারা শক্তি ও ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে, বন্দুক ও বারুদ দ্বারা নিজেদের রাস্তার সকল বাঁধা-বিপত্তি দূর করেছে। তখন গিয়ে তারা কোন স্থানে কোন সিস্টেম আমাদের উপর চাপিয়ে দিতে পেরেছে। সুতরাং আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হলো: যুক্তি, ইতিহাস ও ইসলামসহ সকল কষ্টিপাথর দ্বারা একথা সম্পূর্ণরূপে ভুল প্রমাণিত হয়েছে যে, শক্তি ও ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে কোন বাতিল সিস্টেম বিজয়ী হবে, অতঃপর তা গ-ণ/ত'ন্ত্র াতিক সং-গ্র|মের মাধ্যমে পরিবর্তন করে ফেলা হবে! এবং তদস্থলে তার সম্পূর্ণ বিপরীত-উল্টো আসমানের রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত ন্যায়-ইনসাফের উপর ভিত্তিকৃত ইসলামী সিস্টেম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে।
.
প্রিয় ভাইয়েরা আমার!

এমতাবস্থায় যদি আপনার কোন হিতাকাঙ্খী আপনাকে বাতিল সিস্টেমের পক্ষ থেকে চিহ্নিত রেখার উপর চলতে প্ররোচিত করে, গ-ণ/ত'ন্ত্র ের সাথেই সংশ্লিষ্ট হওয়ার ও তার প্রতি বিশ্বস্ত হওয়ার প্রতি প্ররোচিত করে; তাহলে আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে চাই যে, এমন হিতাকাঙ্খীরা এই বাতিল সিস্টেমের সম্মান ও বিজয়কে একটি স্বীকৃত বাস্তবতা হিসাবে মেনে নিয়েছে এবং আমাদের শংকা আছে যে, সম্ভবত তাদের অন্তরে ভালকাজের প্রচার এবং মন্দকাজের প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতিও অদ্যবধি বাকি নেই। যদি এই প্রতিশ্রুতি এবং অভিপ্রায় থাকত, তাহলে তার বাস্তবতা স্বীকার করে নিত এবং অন্তর্দৃষ্টি এবং পরিকল্পনা অনুসারে সঠিক পথ গ্রহন করে নিত।
.
সুপ্রিয় ভাইয়েরা আমার!

তো এখন কথা হলো: এর সমাধান কিসে? শ;রী:য়াহর উদ্দেশ্য কি এবং তার কর্ম প্রদ্ধতি কি হতে পারে? যার উপর আমল করার মাধ্যমে আমরা নিজেরাও বদদ্বীনি থেকে বাঁচতে পারব এবং আমাদের জাতিকেও শ;রী:য়াহর বরকতসমূহের দ্বারা ভরপুর করে দিতে পারব। এই বিষয়ের উপর আগামী পর্বে ও শেষ পর্বে আলোচনা করা হবে, ইনশা আল্লাহ।

وآخر دعوانا أنِ الحمدُ للهِ ربِ العالمين .والسلامُ عليكم ورحمةُ اللهِ وبركاتُه.
.
.
টিকা –
.
.
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
03 জানুয়ারি 2025 করেছেন আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
     || তৃতীয় পর্ব ||

‘গনতান্ত্রিক রাজনীতি দ্বীনি ভাইদের
ক্ষমতায়নের কারণ নাকি দুর্বলতার কারণ?!!’ পর্ব - ৩
============================================
.
আসলে সত্য কথা হলো: আপনাদের এই সাফল্য অর্জিত হওয়ার মূল কারণ ছিল আফগানিস্তানের উপর আমেরিকার আক্রমণ ও ইমারতে ইসলামী আফগানিস্তানের পতন। সাধারণ জনগণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করছিল, সীমান্ত, উপজাতীয় ও বেলুচিস্তানের জনগণের হৃদয়ে চোট ও রাগ ছিল, এমতাবস্থায় জেনারেলদের জন্য পাকিস্তানের ভূমিতে আমেরিকার গোলামী করাটা কোন সহজ ব্যাপার ছিল না। তজ্জন্য এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভকে থামানো জরুরী ছিল। আবার এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাতে তালেবানদের পদ্ধতিতে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়। আর সাধারণ জনগণও এই শ্লোগানের উপর ভিত্তি করে আপনাদেরকে সমর্থন করে। কিন্তু যখন আপনারা ক্ষমতার মহলে পৌঁছেছেন, তখন প্রতিবাদ আর প্রতিবাদ হিসাবে বাকি ছিল না। এই পাঁচ বছরে সরকার ও সেনাবাহিনী সবচেয়ে খারাপ অপরাধগুলি করেছে। যে পার্লামেন্টে তখন আপনারা একটি বড় সংখ্যা ছিলেন, সেই সময়ে নারী অধিকারের নামে সেই বিলটি পাস হয়, যাকে আপনারা নিজেরা “যিনা বিল” বলে নামকরণ করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে সম্মতিসহ যিনার অনুশীলন করা কোন আইনি অপরাধ হিসাবে বাকি থাকেনি। এই সময়ে দুর্বৃত্ততা, অনৈতিকতা, ধর্ম বিদ্বেষ গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়; উদারতাবাদ ও বুদ্ধিবৃত্তিক দেদীপ্যমান প্রদর্শনীর নামে ক্ষমতার পূজায় লিপ্ত হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী আমেরিকার হুকুমের গোলামে পরিণত হয়। এখানে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ শহরে সি,আই এসে কেন্দ্র স্থাপন করা শুরু করে দেয়। প্রত্যেক শহরে শহরে আমেরিকানদের হাতে দ্বীনদার ভাইয়েরা গ্রেফতার হতে থাকে। পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানের উপর ৫৭ হাজার বার বিমান হামলা করা হয়। জি/হা-দের নুসরত করার অপরাধে স্থানীয় মুসলমানদের উপর বোমা ও বারুদের গুলিবৃষ্টি বর্ষণ করা শুরু হয়। ন্যাটোর সামরিক যান আমাদের রাস্তা দিয়ে আমাদের নিরাপত্তার মাধ্যমে আফগানিস্তানে যাওয়া শুরু করে। লাল মসজিদের লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে; যাতে আমাদের বোনদের ও মেয়েদেরকে ফসফরাস বোমা দ্বারা পুড়িয়ে ফেলা হয়। কিন্তু আপনারা এই সকল ক্ষেত্রে কি কোন ধরনের বাঁধা তৈরী করতে পেরেছেন? তখন আপনাদের মাঝে সম্পূর্ণরূপে নিরবতা বিরাজমান ছিল কেন?! তার কারণ সুস্পষ্ট। তা হলো: পার্লামেন্টের এই সিটগুলি আপনাদের হাতকড়া এবং পায়ের বেড়ি হিসাবে প্রমাণিত হয়েছিল। মন্ত্রণালয় ও সিটের কারণে আপনাদের মুখে তালা লেগেছিল। মন্দকে প্রতিহত করা ও বাতিলের সামনে হুংকার দেওয়ার যে ক্ষমতা ছিল, তা প্রথমে আপস-মীমাংসা, তারপর পুনর্মিলন, অবশেষে এটা সহযোগিতায় পরিণত হয়…।
.
এটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের পন্থায় চলার বাস্তবতা। তাছাড়া অন্যান্য আরো অনেক বাস্তবতাও ‍ষ্পষ্ট করে দেয়। যেমন: গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে দ্বীনদার ভাইদের একেবারেই কোন শক্তি-সামর্থ নেই, এটার জানান দেয়। কারণ, গণতান্ত্রিক রাজনীতি শক্তি প্রদান করে না, বরং যে শক্তি ধর্মকে রক্ষা করতে পারে এবং কাফের ও ধর্মের দুশমনদের পথকে চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে সে শক্তিকে ছিনিয়ে নেয়। এর বিপরীতে, জনগণকে ভাল কাজের প্রতিরক্ষায় উন্নিত করা, মন্দপথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ানো এবং তাদের আত্মত্যাগের নি:স্বার্থ আবেগের দ্বারা তাদেরকে নিবেদিত রাখা এমন একটি প্রক্রিয়া, যা ধর্মীয় দলগুলোকে কোন সন্দেহ-সংশয় ছাড়াই ক্ষমতা প্রদান করে থাকে।
.
প্রিয় উপস্থিতি!

আপনারা পুরো বিশ্বের ইতিহাসের দিকে একটু তাকান! তাহলে আপনারা একটি চরম বাস্তবতা দেখতে পাবেন যে, গণতন্ত্রের ভিতরে ক্ষমতা স্থানান্তর হয় কেবল। যার কারণে ব্যক্তির চেহারা তো পাল্টায়, কিন্তু জোর-জবরদস্তি ও শক্তির উপর নির্ভরশীল পূর্ব থেকে চলে আসা চাপিয়ে দেওয়া সিস্টেমে কখনো কোন পবিরর্তন আসে না। সিস্টেমের পরিবর্তন অর্থাৎ উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সম্পূর্ণ এক নতুন সিস্টেম আনা; যার মাধ্যমে পূর্ব থেকে চেপে বসা শাসকশ্রেনী ও বুদ্ধিজীবিদের থেকে পরিত্রান হাসিল হবে, সেটা ভোটের গণনা দ্বারা কখনো হাসিল হয়নি ও কখনো হতে পারে না। তার জন্য এমন একটি শক্তির দরকার, এমন শক্তি সঞ্চারের প্রয়োজন; যা বাতিলদের শক্তিকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলে দিবে। ইসলামের ইতিহাস আপনার সামনে রয়েছে। সীরাত আমাদের জন্য এক আমলী নমুনা বা আদর্শ। মক্কার মুশরিকরা যখন সত্যের বিরোধিতায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং ইসলাম বিজয়ের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তখন নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু প্রজ্ঞাপূর্ণ মতামত দিয়েই মক্কা বিজয় করেননি। বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথমে মদীনায় শক্তি সঞ্চার করেছেন, ময়দানে বদর ও ময়দানে উহুদের মারহালা অতিক্রম করেছেন, অবশেষে মক্কা বিজয়ের রাস্তা সুগম হয়েছে, যার মাধ্যমে সকল বাঁধা-বিপত্তি দূর হয়ে যায় এবং মানুষ দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করতে আরম্ভ করে।
.
.
চলমান...
টিকা –
.
.
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
উস্তাদ উ@স]ম। ম]হ-মুদ হাফিজাহুল্লাহ
28 ডিসেম্বর 2024 করেছেন আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
     || তৃতীয় পর্ব ||

‘গনতান্ত্রিক রাজনীতি দ্বীনি ভাইদের
ক্ষমতায়নের কারণ নাকি দুর্বলতার কারণ?!!’ পর্ব - ৩
============================================
.
আসলে সত্য কথা হলো: আপনাদের এই সাফল্য অর্জিত হওয়ার মূল কারণ ছিল আফগানিস্তানের উপর আমেরিকার আক্রমণ ও ইমারতে ইসলামী আফগানিস্তানের পতন। সাধারণ জনগণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করছিল, সীমান্ত, উপজাতীয় ও বেলুচিস্তানের জনগণের হৃদয়ে চোট ও রাগ ছিল, এমতাবস্থায় জেনারেলদের জন্য পাকিস্তানের ভূমিতে আমেরিকার গোলামী করাটা কোন সহজ ব্যাপার ছিল না। তজ্জন্য এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভকে থামানো জরুরী ছিল। আবার এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাতে তালেবানদের পদ্ধতিতে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়। আর সাধারণ জনগণও এই শ্লোগানের উপর ভিত্তি করে আপনাদেরকে সমর্থন করে। কিন্তু যখন আপনারা ক্ষমতার মহলে পৌঁছেছেন, তখন প্রতিবাদ আর প্রতিবাদ হিসাবে বাকি ছিল না। এই পাঁচ বছরে সরকার ও সেনাবাহিনী সবচেয়ে খারাপ অপরাধগুলি করেছে। যে পার্লামেন্টে তখন আপনারা একটি বড় সংখ্যা ছিলেন, সেই সময়ে নারী অধিকারের নামে সেই বিলটি পাস হয়, যাকে আপনারা নিজেরা “যিনা বিল” বলে নামকরণ করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে সম্মতিসহ যিনার অনুশীলন করা কোন আইনি অপরাধ হিসাবে বাকি থাকেনি। এই সময়ে দুর্বৃত্ততা, অনৈতিকতা, ধর্ম বিদ্বেষ গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়; উদারতাবাদ ও বুদ্ধিবৃত্তিক দেদীপ্যমান প্রদর্শনীর নামে ক্ষমতার পূজায় লিপ্ত হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী আমেরিকার হুকুমের গোলামে পরিণত হয়। এখানে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ শহরে সি,আই এসে কেন্দ্র স্থাপন করা শুরু করে দেয়। প্রত্যেক শহরে শহরে আমেরিকানদের হাতে দ্বীনদার ভাইয়েরা গ্রেফতার হতে থাকে। পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানের উপর ৫৭ হাজার বার বিমান হামলা করা হয়। জি/হা-দের নুসরত করার অপরাধে স্থানীয় মুসলমানদের উপর বোমা ও বারুদের গুলিবৃষ্টি বর্ষণ করা শুরু হয়। ন্যাটোর সামরিক যান আমাদের রাস্তা দিয়ে আমাদের নিরাপত্তার মাধ্যমে আফগানিস্তানে যাওয়া শুরু করে। লাল মসজিদের লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে; যাতে আমাদের বোনদের ও মেয়েদেরকে ফসফরাস বোমা দ্বারা পুড়িয়ে ফেলা হয়। কিন্তু আপনারা এই সকল ক্ষেত্রে কি কোন ধরনের বাঁধা তৈরী করতে পেরেছেন? তখন আপনাদের মাঝে সম্পূর্ণরূপে নিরবতা বিরাজমান ছিল কেন?! তার কারণ সুস্পষ্ট। তা হলো: পার্লামেন্টের এই সিটগুলি আপনাদের হাতকড়া এবং পায়ের বেড়ি হিসাবে প্রমাণিত হয়েছিল। মন্ত্রণালয় ও সিটের কারণে আপনাদের মুখে তালা লেগেছিল। মন্দকে প্রতিহত করা ও বাতিলের সামনে হুংকার দেওয়ার যে ক্ষমতা ছিল, তা প্রথমে আপস-মীমাংসা, তারপর পুনর্মিলন, অবশেষে এটা সহযোগিতায় পরিণত হয়…।
.
এটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের পন্থায় চলার বাস্তবতা। তাছাড়া অন্যান্য আরো অনেক বাস্তবতাও ‍ষ্পষ্ট করে দেয়। যেমন: গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে দ্বীনদার ভাইদের একেবারেই কোন শক্তি-সামর্থ নেই, এটার জানান দেয়। কারণ, গণতান্ত্রিক রাজনীতি শক্তি প্রদান করে না, বরং যে শক্তি ধর্মকে রক্ষা করতে পারে এবং কাফের ও ধর্মের দুশমনদের পথকে চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে সে শক্তিকে ছিনিয়ে নেয়। এর বিপরীতে, জনগণকে ভাল কাজের প্রতিরক্ষায় উন্নিত করা, মন্দপথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ানো এবং তাদের আত্মত্যাগের নি:স্বার্থ আবেগের দ্বারা তাদেরকে নিবেদিত রাখা এমন একটি প্রক্রিয়া, যা ধর্মীয় দলগুলোকে কোন সন্দেহ-সংশয় ছাড়াই ক্ষমতা প্রদান করে থাকে।
.
প্রিয় উপস্থিতি!

আপনারা পুরো বিশ্বের ইতিহাসের দিকে একটু তাকান! তাহলে আপনারা একটি চরম বাস্তবতা দেখতে পাবেন যে, গণতন্ত্রের ভিতরে ক্ষমতা স্থানান্তর হয় কেবল। যার কারণে ব্যক্তির চেহারা তো পাল্টায়, কিন্তু জোর-জবরদস্তি ও শক্তির উপর নির্ভরশীল পূর্ব থেকে চলে আসা চাপিয়ে দেওয়া সিস্টেমে কখনো কোন পবিরর্তন আসে না। সিস্টেমের পরিবর্তন অর্থাৎ উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সম্পূর্ণ এক নতুন সিস্টেম আনা; যার মাধ্যমে পূর্ব থেকে চেপে বসা শাসকশ্রেনী ও বুদ্ধিজীবিদের থেকে পরিত্রান হাসিল হবে, সেটা ভোটের গণনা দ্বারা কখনো হাসিল হয়নি ও কখনো হতে পারে না। তার জন্য এমন একটি শক্তির দরকার, এমন শক্তি সঞ্চারের প্রয়োজন; যা বাতিলদের শক্তিকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলে দিবে। ইসলামের ইতিহাস আপনার সামনে রয়েছে। সীরাত আমাদের জন্য এক আমলী নমুনা বা আদর্শ। মক্কার মুশরিকরা যখন সত্যের বিরোধিতায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং ইসলাম বিজয়ের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তখন নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু প্রজ্ঞাপূর্ণ মতামত দিয়েই মক্কা বিজয় করেননি। বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথমে মদীনায় শক্তি সঞ্চার করেছেন, ময়দানে বদর ও ময়দানে উহুদের মারহালা অতিক্রম করেছেন, অবশেষে মক্কা বিজয়ের রাস্তা সুগম হয়েছে, যার মাধ্যমে সকল বাঁধা-বিপত্তি দূর হয়ে যায় এবং মানুষ দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করতে আরম্ভ করে।
.
.
চলমান...
টিকা –
.
.
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
উস্তাদ উ@স]ম। ম]হ-মুদ হাফিজাহুল্লাহ
28 ডিসেম্বর 2024 করেছেন আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
     || তৃতীয় পর্ব ||

‘গনতান্ত্রিক রাজনীতি দ্বীনি ভাইদের
ক্ষমতায়নের কারণ নাকি দুর্বলতার কারণ?!!’ পর্ব - ২
============================================
.
সুপ্রিয় সূধীমন্ডলী!

এটাই হচ্ছে প্রকৃত তত্ত্ব। কিন্তু আলোচনাকে সামনে বাড়ানোর প্রয়োজনে…যদি আমরা মেনেও নিই যে, তা দ্বীনদার ভাইদের জিতের ফিরিস্তি। তাহলে প্রশ্ন হলো: এই জিতের ফিরিস্তি কি আপনাদেরকে রাজনৈতিক নির্বাচন দিয়েছে? আপনারা অধিক ভোট পেয়েছেন বলেই কি সংবিধানে এই ধারাগুলো সংযুক্ত করা হয়েছে? নাকি বিষয়টি সম্পূর্ণ তার উল্টো?! প্রকৃত বাস্তবতা হলো: এই নামমাত্র পরিবর্তনও আপনারা তখনই করতে পেরেছেন, যখন আপনারা জনগণকে ‘নাহি আনিল মুনকার’ তথা মন্দকাজের প্রতিরোধ শিরোনাম দিয়ে রাস্তায় নামাতে পেরেছেন। তারা শরীয়ত প্রতিষ্ঠার খাতিরে গুলি ও লাঠিচার্জ এবং সরকারের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিজয়াবলি লাভের কারণ এই নয় যে, পার্লামেন্টে আপনাদের ডিজিটাল শক্তি বেশী ছিল, বরং পার্লামেন্টের বাহিরে আপনাদের প্রতিবাদ এমন একটি প্রতিরোধ ছিল; যার কারণে শাসকশ্রেণি কয়েকটি জিনিস মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। যখন ১৯৪৯ খৃষ্টাব্দে প্রস্তাবনামূলক দাবি গৃহীত হওয়ার আইন পাশ হয়, তখনকার সময়ে আপনাদের কতটি সিট ছিল? তখন তো আইন পরিষদে আপনাদের শুধু একটি সিট ছিল। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে যখন সংবিধান প্রণিত হয়, তখন তো আপনাদের দলসমূহ সবচেয়ে খারাপ পরাজয়ের শিকার হয়েছিল। সেই সময় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরীয়ত প্রতিষ্ঠার নামে আপনারা মন্দকাজ থেকে বাঁধাপ্রদানের যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন, সেই আন্দোলনের ভীতির কারণেই সংবিধানে ইসলামী ধারাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল…আর এই ধারাগুলো কাদের হাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল? কে ১৯৭৩ সালের এই তথাকথিত ইসলামী সংবিধানকে পাশ করেছিলেন? এই ধোঁকাবাজির “সৌভাগ্য” প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের অর্জিত হয়েছে, যার দ্বীন বিদ্বেষ ও ছল-ছাতুরীর উপর আপনারা সবাই ঐক্যমত পোষণ করেছেন।
.
এমনিভাবে কাদিয়ানীদেরকে যখন কাফির বলে ঘোষণা করা হয়, তখন পার্লামেন্টে আপনাদের কতটি সিট ছিল? তখন  নামকা ওয়াস্তে আপনাদের কিছু সিট ছিল। কিন্তু আপনাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এসেম্বলির ভিতরে আপনাদের থেকে ভিন্ন মতাদর্শিক এবং রাজনৈতিক বিরোধীরাও আপনাদের জন্য ভোট প্রদান করে। এখন বলুন তো! কেন এই বিরোধীরা আপনাদেরকে সমর্থন করেছিল? কেন আপনাদের সামনে তারা হাঁটু গেড়ে ছিল? তাহলে শুনুন- তারা “খতমে নবুওয়াত” আন্দোলনের কারণে হাঁটু গেড়েছিল। “খতমে নবুওয়াতের” আন্দোলন কোন ব্যালেট বক্সের আন্দোলন ছিল না। তা ছিল না ছোট বক্সে কাগজ ফেলানোর কোন কারিশমা বরং তা ছিল মন্দকাজ থেকে বাঁধা প্রদান করার আন্দোলন। আর তা এমন একটি আন্দোলন ছিল; যেখানে সাধারণ জনগণ কুরবানী দিয়েছেন, রক্তের নযরানা পেশ করেছেন এবং প্রতিদিন কয়েকজন মুসলমান শহীদ হয়েছেন।
.
অন্যদিকে তার বিপরীত চিত্র দেখুন! আপনাদের এমন একটা সময় এসেছিল, যখন আপনাদের নিকট নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশী সংখ্যক সিট ছিল। ২00২ সালের নির্বাচনে আপনারা জাতীয় পরিষদের 63 টি আসন পেয়েছেন। সীমান্তে সম্পূর্ণরূপে আপনাদের সরকার ছিল এবং বেলুচিস্তান সরকার আপনাদের অবদান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। এটা এমন একটা বিজয় ছিল, যা ইতিপূর্বে কখনো অর্জিত হয়নি এবং ভবিষ্যতে অর্জিত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। এখন বলুন! সেই সময় ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে আপনারা কি কোন অগ্রগতি করতে পেরেছিলেন ? আপনারা কি আইনী ও সাংবিধানিক সংস্কার করতে পেরেছিলেন?!
.
.
চলমান...
টিকা –
.
.
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
09 ডিসেম্বর 2024 করেছেন আবু উবাইদাহ
আন্দোলন, গণহত্যা, গণঅভ্যুত্থান  - পর্ব ১
.
জুলাই ২০২৪, বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ অবিস্মরণীয় ইতিহাস হিসেবে লিখা হচ্ছে, লিখা থাকবে। সরকারি চাকরিতে সাধারণ ছাত্র সমাজের কোটাবিরোধী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন হিসেবে শুরু; এরপর ভারতের পাপেট জালিম-ত|গু'ত শেখ হাসিনার গণ-হ-ত্যা ও ক্র্যাকডাউনের কারণে সপ্তাহের ব্যবধানে তা এক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশে অবস্থানরত এবং কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করা আমরা ঘটনাপ্রবাহ মোটামোটি জানি। তাই আমাদের আজকের আলাপ এখনও আলো-আঁধারে থাকা এমনকিছু বিষয়ে যেগুলোকে একজন জি/হা-দপন্থী মুসলিম দাঈর পর্যবেক্ষণ, মন্তব্য, নাসীহা, করণীয় ইত্যাদির বিক্ষিপ্ত (কিন্তু প্রয়োজনীয়) প্রবন্ধ বলা যেতে পারে।
.
[১] ভারতীয় আধিপত্যবাদের থাবা?
.
শুরুতে সাধারণ অধিকার আদায়ের নিরীহ এক আন্দোলন হওয়া সত্ত্বেও তা দমনের নামে ত|গু'ত হাসিনা প্রকৃতপক্ষে ভারতের র-এর সহায়তায় ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য এই গণ-হ-ত্যা ও ক্র্যাকডাউন চালিয়েছে।
স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার যে ভারতের মদদেই টিকে আছে এবং ভারতের স্বার্থরক্ষাকারী পাপেট হিসেবেই কাজ করছে এ কথা তো স্বতঃসিদ্ধ এবং অকাট্যভাবে প্রমাণিত। আর ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সময়ে সময়ে হাসিনা যেসব গণ-হ-ত্যা চালিয়েছে সেসবে ভারতের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সম্পৃক্ততার কথাও জনপরিসরে বারবার আলোচনায় এসেছে।

ঘটনাবহের অস্থিরতা এখনও চলমান থাকা, কারফিউ-সেনাবাহিনী ইত্যাদি জারি করে এখনও র নির্দেশিত হাসিনা বাহিনীই শাসনে থাকা – ইত্যাদি কারণে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণসহ এখনই ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র' এর (সরাসরি) সম্পৃক্ততা প্রমাণ করা সম্ভব নয়। তাছাড়া আরেক দেশে হস্তক্ষেপের সময় ইন্টেলিজেন্স বাহিনী স্বাভাবিকভাবেই তাদের রেকর্ড যতো সম্ভব মুছে দেওয়ার চেষ্টা করে।
.
কিন্তু এতকিছু সত্ত্বেও আল্লাহর ইচ্ছায় কিছু কিছু আলামত ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা বাংলাদেশে ২০২৪-এর জুলাইয়ের গণ-হ-ত্যায় হাসিনার সহায়তাকারী হিসেবে উপমহাদেশীয় হিন্দুত্ববাদী ভারতকেই নির্দেশ করছে। (এই ব্যাপারে আরও বিস্তারিত পরে আসছে ইন শা আল্লাহ)
.
[২] দ্বন্দ্বের শুরু ও শেষ
.
২০২৪-এর জানুয়ারিতে বাংলাদেশে আরেকবার গণতন্ত্রের নামে নির্বাচন নাটক অনুষ্ঠিত হয়ে আওয়ামী লীগ যখন আবার ক্ষমতায় আসে, এরপর থেকে এখানে ভারতীয় পণ্য বয়কটের আন্দোলন জনপ্রিয় হতে শুরু করে। কিন্তু এইসব অর্থনৈতিক লাভক্ষতির হিসেব ছাড়াও মুমিনরা ভাল করেই জানে যে, গোঁড়া হিন্দু'ত্বব|দী ভারতের সাথে মুসলিমদের মূল দ্বন্দ্ব ঈমানে, আকিদায়, দ্বীনে।
.
পণ্য বয়কট আন্দোলন না হলেও ভারত যে হাসিনা সরকারকে দিয়ে প্রয়োজনে - অপ্রয়োজনে সুযোগ পেলেই এখানকার ইসলামপন্থীদেরকে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধীদেরকে হত্যায় মেতে উঠে, তা ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ, ২০১৩ সালের শাপলাচত্বর গণ-হ-ত্যা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলনে ক্র্যাকডাউন – ইত্যাদি ঘটনায় তা স্পষ্ট হয়। এটা ঠিক যে মুসলিমদের ভারতীয় পণ্য বয়কট আন্দোলনের কারণে এবার আমাদের উপর ওদের ক্ষোভটা হয়তো খানিক বেশিই ছিল।
.
মোদির জাতীয় ক্ষমতায়ন শুরুই হয়েছিল গুজরাটে মিথ্যে অযুহাতে মুসলিমদের ওপর স্মরণকালের ভয়াবহতম গণ-হ-ত্যা চালিয়ে। আর কাশ্মিরের বেদনাদায়ক ঘটনা থেকে শুরু করে তুচ্ছাতিতুচ্ছ কারণে মুসলিমদের হত্যা, লুন্ঠন, ধর্ষণ এসব তো আমাদের অহরহই দেখতে হয়। ভারতীয় জাতীয়তাবাদী হওয়া সত্ত্বেও স্রেফ ঈমানের কারণে, দ্বীনের কারণে ওরা মুসলিম হত্যায় মেতে উঠতে দ্বিধা করে না। এমনকি বাবরি মসজিদের শাহাদাত, সেখানে রামমন্দির নির্মাণ... তাই এই উপমহাদেশে হিন্দু'ত্বব|দীদের সাথে আমাদের দ্বন্দ্বের শুরু আর শেষ যে একমাত্র ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ – তা আমাদের ভুলে যাওয়া যাবে না। এত জুলুম আর নিষ্পেষণের মাঝেও কাশ্মিরের জন্য ভারতীয় মুসলিম ভাইদের তোলা ‘তেরা মেরা রিশতা কীয়া, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ স্লোগান কিন্তু গুজরাটের কসাইরা সহসা ভুলে যায় না।
.
[৩] সহজ সরল প্রশ্ন ও কিছু যৌক্তিক অনুমান
.
ভারতীয় পণ্য বয়কট আন্দোলনের কথা বললে, এবার এখানকার সাধারণ ছাত্রদের (যাদের অধিকাংশই মুসলিম) আন্দোলনের কারণে ভারতের সবচেয়ে বড় পণ্য ‘শেখ হাসিনা’ বয়কট (আদতে উৎখাত) হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আর এই ফেরাউনতূল্য ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা হলো বাংলাদেশের মুসলিমদের ওপর, বাংলাদেশের সম্পদের ওপর ভারতের আধিপত্যের সবচেয়ে বড় গেটওয়ে, ভারতের সবচেয়ে বড় স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী থেকে সাধারণ মুসলিমদের খুন করার কথা তো আগেই এসেছে। সম্পদের দিক দিয়ে শেষমেশ দেখেছিলাম শেখ হাসিনা ভারতকে রেল ট্রানজিট এবং মংলা বন্দরও দিয়ে দিয়েছে। ভারতীয় মিডিয়াগুলো সেটাকে উপমহাদেশীয় জিওপলিটিক্সে চীনের বিরুদ্ধে ভারতের বিজয় হিসেবে জোরেশোরে প্রচারও করছে।
.
ঠিক এমন মুহুর্তেই যদি সাধারণ ছাত্র – যাদের অধিকাংশই কিনা আবার মুসলিম – তাদের আন্দোলনের কারণে বাংলাদেশে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট, ভারতের সবচেয়ে বড় পণ্য ‘শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ’ পতনের অবস্থা তৈরি হয় তাহলে যে তা মূলত ভারতের জন্যই এক বিশাল পরাজয় হবে তা যেকোনো বিবেকবান, চিন্তাশীল বান্দাই বুঝতে পারবে। শুধু তাই নয়, এই মুহুর্তে ত|গু'ত আওয়ামী লীগের পতন হলে ভারতের অতিসাম্প্রতিক যে রেল ট্রানজিট, মংলা বন্দর ইত্যাদি বিজয়গুলো নিয়ে তারা উল্লাস করছে সেগুলোও মুহুর্তেই ধুলো হয়ে যেতে পারে।
.
তাহলে যে প্রশ্নের উত্তর একেবারে সহজ হয়ে যায় – সাধারণ ছাত্রদের (যাদের অধিকাংশই মুসলিম) আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহে ভারতীয় অ্যাসেট শেখ হাসিনার পতনোন্মুখ অবস্থা তৈরি হলে বরাবরের মত সেখানে গণ-হ-ত্যা আর ক্র্যাকডাউনে কে সাহায্য করতে সবার আগে এগিয়ে আসবে?
উত্তরটা একেবারেই সহজ। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' পরামর্শ দিয়ে, আন্তর্জাতিক সমর্থন তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে এবং দেশের ভেতর সিস্টেমেটিক ভাবে তাদের গড়ে তোলা নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে আগের মতই এই গণ-হ-ত্যাকারী সরকারকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করবে।  
.
[৪] আন্দোলন, তিনটি তাৎপর্য ও শিক্ষা
.
২০২৪ এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ যে তিনটি বিষয় ছিল, তার প্রথমটি হলো – এক নতুন প্রজন্ম রক্ত দিতে শিখে গিয়েছে। তারা ফেরাউনতুল্য শাসকের ভয় কাটিয়ে উঠেছে। এটা এমন এক পরীক্ষা যে পরীক্ষায় অনেক রথী মহারথীরাও ফেল করে যায়। সেই পরীক্ষাতেই ছাত্ররা আল্লাহর ইচ্ছায় পাশ করেছে। আন্দোলনের চূড়ান্ত সাফল্য (এখনও) না মিললেও ছাত্ররা তাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ যেটুকু করার ছিল, সেটুকু করতে পেরেছে আলহামদুলিল্লাহ। সফলতা-বিফলতার মালিক তো আল্লাহ।
.
আর সাধারণ মুসলিম থেকে বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনের জন্যও শিক্ষাটা এখানে – রক্ত ছাড়া বিজয় তো দূরের কথা, সেই পথে হাঁটাও যায় না। কতো আন্দোলন শুরুর দিকে মার খেয়ে সমঝোতায় আর চুক্তির ফাঁদে হারিয়ে গিয়েছে।
.
ছাত্রদের এবারের আন্দোলনে দ্বিতীয় যে তাৎপর্যপূর্ণ ও শিক্ষামূলক বিষয় ছিল, সাধারণ থেকে ইসলামি যেকোনো সংগঠনের জন্য, তা হলো – হায়ারার্কি (hierarchy) বেইজড স্ট্রাকচার থেকে বের হয়ে হোলাক্রেসি (holacracy) স্ট্রাকচারে আন্দোলন পরিচালনা করা। হায়ারার্কি বেইজড স্ট্রাকচারে এক কিংবা অল্প কয়েকজনের নির্দেশে কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সেটা একটা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংগঠন বা আন্দোলন যেকোনো কিছুতেই হতে পারে। অন্যদিকে হোলাক্রেসিতে কোনো সেন্ট্রালাইজড নেতৃত্ব থাকে না; অনেকেই নিজস্ব সার্কেলে নেতৃত্ব পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অনেক বেশি ডিটেইলসে যেতে চাই না। এগুলো একটু সার্চ করলেই উভয় স্ট্রাকচারের সুবিধা-অসুবিধা, প্র্যাক্টিকালিটি সবকিছু পেয়ে যাবেন।
.
কোনো সংগঠন পরিচালনা করতে হায়ারার্কি বেইজড স্ট্রাকচারই বেশি ফলদায়ক এটা যেমন ঠিক, তেমনি আন্দোলন বা অভ্যুত্থানের সময় জালিমের হাতে নেতৃত্বশূন্য না হওয়ার জন্য হোলাক্রেসি স্ট্রাকচারই বেশি যুতসই। ছাত্ররা জেনে কিংবা না জেনে এমনই একটা স্ট্রাকচার দাঁড় করিয়েছে মাশাআল্লাহ, যা তাদের আন্দোলনকে ৬ জন সমন্বয়ক দিয়ে প্রত্যাহার নাটক করিয়েও দমাতে পারেনি। ষাটের বেশি সমন্বয়ক ছাড়াও শেষদিনের খবর পর্যন্ত জেনেছি, “আমি কে? তুমি কে? সমন্বয়ক, সমন্বয়ক” স্লোগান এসেছে।
.
আন্দোলনের ক্ষেত্রে কেন এই ধরনের মডেল বেশি উপযোগী সেটা বোঝার জন্য এই শেখ হাসিনা অধ্যায়েই হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন কিংবা মোদিবিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। যেকোনো আন্দোলন ফুঁসে ওঠা দমানোরই একটা উল্লেখযোগ্য স্ট্র্যাটেজি হলো – মাথা কেটে দেওয়া বা নেতৃত্বশূন্য করে ফেলা। সেটা নেতৃত্বকে বন্দি করে, তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সমঝোতা বা চুক্তি করে ইত্যাদি বিভিন্নভাবেই হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা তা হতে দেয়নি।
.
অধিকাংশ (ইসলামি) আন্দোলন বা সংগঠনের ব্যর্থতা এখানেই যে তারা পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি না করে একজন কিংবা অল্প কয়েকজনের দিকে চেয়ে থাকে যা তাদেরকে সামান্য নেতৃত্বশূন্য অবস্থাতেই দিশেহারা করে দেয়।
.
তৃতীয় তাৎপর্যপূর্ণ ও শিক্ষামূলক বিষয়টি হলো – অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া। এই ছাত্ররা ২০১৮ সালে, সড়ক আন্দোলনে মার খেয়ে, ঘরে ফিরে গিয়ে আরও বেশি জুলুমের শিকার হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা তাদেরকে ২০২৪ সালে এসে আর আন্দোলন থেকে দমাতে পারছে না। আল্লাহ চাইলে আন্দোলন সফল হবে, না চাইলে হবে না। কিন্তু এতটুকুতেই ছাত্ররা যে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের আপাদমস্তক প্রস্তুত করতে পেরেছে, তা সত্যিই আওয়ামী দুঃশাসন ভেঙ্গে এক নতুন ইতিহাস গড়ার আশা দেখায়।
.
.
কলেবর বেড়ে যাওয়ায় প্রথম পর্ব এখানেই শেষ করছি ইনশাআল্লাহ। পরের পর্বই শেষ ইনশাআল্লাহ। সেখানে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আলাপ হবে ইন শা আল্লাহ। সেগুলোর মধ্যে থাকবে – বিভিন্ন দিক থেকে আন্দোলনের সেক্যুলারাইজেশনের ষঢ়যন্ত্র এবং ইসলামপন্থীদের দায়, ইসলাম এবং শত্রুর প্রকৃত পরিচয়, ছাত্র ভাইদের প্রতি নাসীহা ও আমাদের করণীয়, তিরস্কার এবং সূরাহ মায়েদার আয়াত ইত্যাদি। আল্লাহই তাওফিকদাতা।
.
আপনাদের ভাই আবু উবাইদাহ আল হিন্দি
২৩ মুহাররম, ১৪৪৬ হিজরি
29 নভেম্বর 2024 করেছেন আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
     || তৃতীয় পর্ব ||
‘গনতান্ত্রিক রাজনীতি দ্বীনি ভাইদের
ক্ষমতায়নের কারণ নাকি দুর্বলতার কারণ?!!’ পর্ব - ১
============================================
بِسْمِ اللّہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
الحمد لله رب العالمين. والصلوة والسلام على رسوله الكريم. أما بعد…
হামদ ও সালাতের পর-
.
পাকিস্তানে বসবাসরত আমার দ্বীন প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা!
.
গণতন্ত্রে আমাদের দ্বীনি ভাইদের অংশগ্রহন তাদের শক্তি বৃদ্ধির কারণ হয়েছে নাকি তাদের দুর্বলতার কারণ হয়েছে?  দ্বিতীয়ত: কোন সিস্টেম কি গণতন্ত্রের মাধ্যমে পরিবর্তিত হওয়া সম্ভব? এ দুটি বিষয়ের ‍উপর এই পর্বে আলোচনা করা হবে, ইনশা আল্লাহ। মহান আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে ও নেক আমলের দিকে পথপ্রদর্শন করুন।…আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন।
.
প্রিয় ভাইয়েরা আমার!
আমাদের দ্বীনি রাজনৈতিক দলগুলোর একটি দৃষ্টিভঙ্গি হলো: নির্বাচনভিত্তিক রাজনীতি তাদেরকে শক্তিশালী করেছে। এক্ষেত্রে তারা যুক্তি দিয়ে থাকে যে, এখানে যদি প্রস্তাবনামূলক দাবী গৃহীত হয়ে থাকে, কাদিয়ানীদেরকে কাফির ঘোষণা করা হয়ে থাকে এবং ১৯৭৩ সালের সংবিধান অস্তিত্বে এসে থাকে; যার কারণে আল্লাহ তা‘আলার হাকিমিয়্যাতের/ আইন প্রণয়নের একচ্ছত্র কর্তৃত্বের স্বীকারোক্তি দেয়া হয়েছে এবং নিশ্চিত বিশ্বাস প্রদান করা হয়েছে যে, এখানে কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন প্রণয়ন করা হবে না, তাহলে এই সব কীর্তিকলাপ নির্বাচনভিত্তিক রাজনীতির-ই ফলাফল বা সারাংশ।
.
আমরা (মু-জা-হি-দী-ন) মনে করি- প্রথমত: এগুলো কোন কীর্তিমূলক কর্মকান্ড-ই না। বরং তা এই প্রতারণাপূর্ণ সিস্টেমের উপর ভিত্তি করে একটি প্রদর্শনীমূলক পদক্ষেপ মাত্র। কারণ, এই সকল পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও আমরা শরীয়ত প্রতিষ্ঠার দিকে এক কদমও সামনে বাড়তে পারেনি বরং বাস্তবিকপক্ষে আমরা যেখান থেকে সফর শুরু করেছিলাম সেখান থেকে আরো অনেক অনেক দূরে অবস্থান করছি। তার কারণ কি…? তার কারণ হলো: পাকিস্তানের ইতিহাস এবং তার বর্তমান পরিস্থিতি এ কথার উপর সাক্ষী যে, এই সকল পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে দ্বীনদারদের শক্তিমত্তায় পৃথকীকরণ করা হয়েছে। তাদেরকে গণতান্ত্রিক শ্লোগানের মাঝে ফাঁসানো হয়েছে। যার কারণে তারা বর্তমানে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করণের ময়দানে সম্পূর্ণরূপে প্রতিক্রিয়াবিহীন অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে বাতিলদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও নেতৃত্ব আগের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
.
প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ!
আমরা প্রথমে এই সকল পদক্ষেপসমূহের প্রদর্শনীর ব্যাপারে আলোকপাত করতে চাই।  আপনি যদি প্রস্তাবনামূলক দাবি গৃহীত হওয়ার কপি সামনে রাখেন, তাহলে দেখতে পাবেন যে, তাতে বলা হয়েছে: হাকিমিয়্যাত তথা আইন প্রণয়নের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব কেবল আল্লাহ তা‘আলার জন্য এবং কুরআর ও সুন্নাহর বিপরীতে কোন আইন প্রণয়ন করা হবে না। কিন্তু ১৯৫২, ১৯৬২ ও ১৯৭৩ সালে সংবিধান প্রণয়ন করার সময় এবং পরবর্তীতে তাতে সংশোধনী করার সময়কালেও কুরআন ও সুন্নাহর আইনের প্রতি বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করা হয়নি। বরং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধারা সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আবার কোথাও কোথাও কিছু ধারা গোপনীয়ভাবে এমনভাবে প্রদান করা হয়েছে, যার কারণে এখানে (পাকিস্তানে) এমন জীবনব্যবস্থার প্রচলন হয়েছে; যা ধর্মনিরপেক্ষতাকে সুরক্ষা প্রদান করে এবং ইসলামী ধারাগুলোকে বাস্তবে অকার্যকর করে রাখে। যখন এই দ্বন্দ্বের কারণ জিজ্ঞাসা করা হল, তখন উত্তর পাওয়া গেলো যে…এই প্রস্তাবনামূলক দাবি গৃহীত হওয়া ও ইসলাম বিরোধী ধারাগুলি সব সমান মর্যাদার দাবি রাখে। একটি অপরটিকে নিঃশেষ করতে পারবে না। কোন একটি ধারাও অপর ধারার ‍উপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে না। উভয়টিই পার্লামেন্টের দুই তৃতীয়াংশ লোকের অধিক্য দ্বারা পাশ হয়েছে। আর পার্লামেন্টের দুই তৃতীয়াংশ লোকের আধিক্যপ্রাপ্তদেরই সংবিধান সংশোধনী করার অধিকার সংরক্ষণ করেন। যেন কোনটি জায়েজ আর কোনটি নাজায়েজ, কোনটি হালাল আর কোনটি হারাম? এর ফায়সালা পার্লামেন্ট করবে! তাছাড়া এখানে আর কোন অর্থ হতে পারে না যে, এখানে আল্লাহ তা‘আলার হাকিমিয়্যাত তথা আল্লাহ তা‘আলার আইনের কোন কর্তৃত্ব নেই, শরীয়তের কোন কর্তৃত্ব নেই বরং এখানে পার্লামেন্টের দুই তৃতীয়াংশ লোকের কর্তৃত্ব রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলার বিধানাবলিকে মানা ও তা প্রয়োগ করার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট নয় যে, বলা হবে এগুলো আল্লাহ তা‘আলার বিধানাবলি। বরং তার জন্য এসেম্বলী সদস্যদের সন্তুষ্টি আবশ্যক। যদি তাদের স্বীয় কামনা-বাসনার সাথে পুরোপুরিভাবে মিলে যায় এবং তাদের পক্ষ থেকে এই সকল বিধানাবলির সত্যায়নপত্র গৃহিত হয়, তাহলে তো ঠিক আছে। তখন এগুলো আইন হিসাবে পরিগণিত হবে। নতুবা শরীয়তের মুকাবেলায় তথাকথিত পাবলিক প্রতিনিধিদের কামনা-বাসনা এখানে শাসক হবে। কাদিয়ানীদের বিষয়টি লক্ষ্য করুন- কাদিয়ানীরা জিন্দিক। তারা ইসলামের নামে নিজেদের কুফর বিস্তার করে, অথচ শরয়ীভাবে ইসলামী রাষ্ট্রে থাকার কোন অধিকার তাদের নেই। কিন্তু এখানে (পাকিস্তানে) তাদেরকে কাফের আখ্যায়িত করা হয়েছে, পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের অধিকার ঘোষণা করে তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষাও প্রদান করা হয়েছে। যার কারণে বর্তমানে তারা নিজেদেরকে ছাড়া সবাইকে কাফির বলে থাকে। সরকারী গুরুত্বপূর্ণ পদে তারা অধিষ্ঠিত এবং প্রকাশ্যভাবে নিজেদের এই কুফরকে ইসলামের নামে বিস্তার করে চলেছে। মোটকথা: এই সকল পদক্ষেপগুলো মূলত: ইসলামের সাথে হাসি-ঠাট্রা এবং দ্বীনদারদের সাথে ধোঁকাবাজি করার নামান্তর। আর এই ধোঁকাবজির উদ্দেশ্য এছাড়া আর কিছুই নয় যে, তার মাধ্যমে দ্বীনদার ভাইদেরকে বাতিল জীবনব্যবস্থার প্রতি বিশ্বস্ত ও তাকে সুরক্ষা দানকারী হিসাবে তৈরী করা এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও মন্দকাজ প্রতিরোধকল্পে যে কোন ধরনের গুরুতর আন্দোলন তাদের মাধ্যমে প্রতিহত করা।
.
.
চলমান...
টিকা –
.
.
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
15 নভেম্বর 2024 করেছেন আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
   || দ্বিতীয় পর্ব ||
‘গণতন্ত্র মুসলিমদের যা ছিনিয়ে নিল… পর্ব - ৫
=======================================
.
প্রিয় ভাইয়েরা!
.
সম্প্রতি পাকিস্তানে ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা ইসলামী জীবনাচারকে তার গোঁড়া থেকে উপড়ে ফেলছে এবং ইসলামের উপর সকল দিক থেকে আক্রমণ করে যাচ্ছে কিন্তু তাদের সম্মুখে আমাদের রাজনৈতিক দ্বীনি ভাইয়েরা মাথানত অবস্থায় নিজেদের পরিচ্ছন্নতা পেশ করছে! তারা ঐ সমস্ত ধর্মহীনদের সামনে এমনভাবে উজর-আপত্তি পেশ করে থাকে যে, নাউযুবিল্লাহ তাদের এই দ্বীনদারীর পরিচয় যেন মারাত্মক অপরাধের বিষয় যে, তাকে গোপন করার মাঝেই সফলতা নিহিত! তাদের প্রয়াস হচ্ছে: কিভাবে এই ধর্মনিরপেক্ষ ও দ্বীনের দুশমনেরা তাদেরকে নিজেদের পৃষ্ঠপোষক ভাববে অর্থাৎ যাদেরকে তাদের দাওয়াত দেয়া উচিত ছিল, যাদের অনিষ্টতাকে তাদের মুকাবিলা করা উচিত ছিল; আজ তারা তাদের থেকেই নিজেদের দাওয়াতকে লুকায়িত রাখে ও তাদের অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে এবং তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করাকে নিজেদের সফলতার পথ বলে বিবেচনা করে থাকে!! কিছুদিন পূর্বে এক দ্বীনি জামাতের প্রধানের কাছ থেকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান সাক্ষাৎকার গ্রহন করে। সাক্ষাৎ গ্রহনকারী প্রথমেই জিজ্ঞাসা করলেন: সেক্যুলারিজম তথা ধর্মনিরপেক্ষতা কি? তখন সেই মুততারাম এভাবে জবাব প্রদান করেন যে, আমার জনগণের সমস্যা ধর্মনিরপেক্ষতা নয়। বরং আমার জনগণের মৌলিক সমস্যা হচ্ছে: অসচ্ছলতা, বেকারত্ব এবং মৌলিক নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি থেকে বঞ্চিত হওয়া। হায় আল্লাহ! বিশ্বাস হচ্ছিল না যে, একজন দ্বীনি নেতা এমন কথা কিভাবে বলতে পারেন!!! একটি সময় এমন ছিল, যখন ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মহীনতার মোকাবিলা করাই দ্বীনি দলগুলোর প্রধান টার্গেট হত এবং তারা আল্লাহ তা‘আলা থেকে দুরত্ব অবলম্বন এবং দ্বীনের দুশমনদের এই ক্ষমতাকেই অসচ্ছলতা, বেকারত্ব ও নিরাপত্তাহীনতার মূল কারণ হিসাবে বিবেচনা করতেন। কিন্তু বর্তমানের অবস্থা দেখুন! স্বয়ং দ্বীনি দলগুলোর প্রধানরা পর্যন্ত ধর্মনিরপেক্ষতাকে একটি সমস্যা বলতেও নারাজ! এই কারণেই উল্লেখিত নেতার কাছ থেকে যখন পাকিস্তানে বিদ্যমান সমস্যাগুলির সমাধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন “আইনের শাসন, সম্পদের সুষম বন্টন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ”!! বর্তমানে এই সমস্ত কথা-বার্তা সকল ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলিই বলে থাকে। তাহলে এখন বলুন! দ্বীনি দল ও ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির উদ্দেশ্যের মাঝে আর কোন মৌলিক পার্থক্য বাকি থাকলো কি?!
.
ভাইয়েরা আমার!
আফসোস লাগে! কারণ, একটা সময় এমন ছিল যে, যখন ধর্মনিরপেক্ষবাদ ও ধর্মহীনতা খতম করাই আমাদের দ্বীনি দলগুলোর মূল টার্গেট হত। অথচ আজ এই গণতন্ত্রেরই ফলাফল যে, স্বয়ং আমাদের দ্বীনদার ভাইয়েরা ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের শিকারে পরিণত হওয়ার দৃশ্য সামনে আসছে। আরো আফসোসের কথা হচ্ছে; এ জাতীয় সকল চাটুকারিতা দ্বীনের নুসরতের নামে চলছে! এ জাতীয় সকল বাতিল রাজনীতির জন্য “দাওয়াতি মাসলাহাত”অর্থাৎ ‘দাওয়াতী স্বার্থ’ পরিভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে! অথচ বাস্তবতা হলো: যে মাসলাহাতের কথা এখানে বলা হচ্ছে, তার সাথে দ্বীনের কোন সম্পর্ক নেই!! এই স্থানে ‘তাফসীর ফি যিলালিল কুরআন’এর লেখক শহীদ মুফাসসির সায়্যিদ কুতুব রহ. এর কথা উদ্ধৃত করা ফায়েদা থেকে খালি হবে না, ইনশা আল্লাহ।  তিনি শরীয়াহর সীমারেখা ও বিধিনিষেধ থেকে উর্ধ্বে উঠার এই দাওয়াতী মাসলাহাতের ব্যাপারে বলেন:
.
“দাওয়াতি মাসলাহাত”নামের এই পরিভাষা দাঈীর নিজস্ব অভিধান থেকে মুছে ফেলে দেয়া উচিত। কেননা, তার মাধ্যমেই শয়তান আত্রুমণ করে থাকে। তার মাধ্যমেই দাঈীকে ফাঁসানো ও অধ:পতিত করা হয়। তার মাধ্যমেই শয়তান তাকে দাওয়াত ও দ্বীনের ফায়েদার নামে প্রকৃতপক্ষে ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং লাভের রাস্তা দেখায়। পরবর্তীতে “দাওয়াতি মাসলাহাত”এমন একটা মূর্তিতে পরিবর্তিত হয়ে যায় যে, ফলশ্রুতিতে দ্বীনদার ব্যক্তিরা তার আরাধনা/পূজা করা শুরু করে। আবার কখনো কখনো সে প্রকৃত দাওয়াত ও সুষ্পষ্ট মানহাযকে পর্যন্ত ভুলে যায়! দ্বীনের দাঈীদের জন্য আবশ্যক হলো: দ্বীনের এই দাওয়াত তার আসল তরীকার সাথে জুড়ে দেওয়া; যা আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে প্রেরিত হয়েছে। তাদের উপর আরো আবশ্যক হলো: সে এই সুষ্পষ্ট মানহাযের উপর দৃঢ় থাকবে। তবে তাকে এ দিকে লক্ষ্য রাখার কোন প্রয়োজন নেই যে, তার দাওয়াতের ফলাফল কি হবে? তা এই জন্য যে, এই গণতন্ত্রের রাস্তায় চলার দ্বারা সবচাইতে আশংকাজনক বিষয় হলো: দাঈী এর দ্বারা দাওয়াতের সহীহ মানহায থেকে পথচ্যুত হয়। আর এই পথচ্যুতিই প্রকৃত ধ্বংসের কারণ হয়। চাই তা ছোট হোক বা বড় হোক অথবা অন্য যেকোন কারণেই হোক না কেন। কেননা, দাওয়াতের উপকারিতা ও অপকারিতা আল্লাহ তা‘আলার কব্জায়। তিনি কোন দাঈীকে এমন কোন উপকারিতা পৌছাঁনোর দায়িত্ব অর্পণ করেননি, যার হুকুম তিনি তাকে দেননি। বরং দাঈীকে আল্লাহ তা‘আলা একটি বিষয়েরই জিম্মাদার নিযুক্ত করেছেন এবং দায়িত্ব দিয়েছেন, সেটা হলো: দাওয়ার পথে সে যাতে প্রকৃত রাস্তা থেকে বিচ্যুত না হয়ে যায় এবং এক মূহুর্তের জন্যও যাতে প্রকৃত রাস্তা থেকে পৃথক না হয়ে যায়।”
.
প্রিয় ভাইয়েরা আমার!
গণতান্ত্রিক রাজনীতির সাথে জড়িত ভাইয়েরা নিজেদের এই যাত্রার ক্ষেত্রে কিছু উপকারিতার কথা বলে থাকেন এবং কতিপয় কীর্তিকলাপও উল্লেখ করে থাকেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা কি কীর্তিকলাপ! যদি ধরে নেয়াও হয় যে, তা কীর্তিকলাপ, তাহলে কি তার কারণ রাজনৈতিক নির্বাচন? এই বিষয়ের উপর সামনের পর্বে আলোচনা করা হবে, ইনশা আল্লাহ।
وآخر دعوانا أنِ الحمدُ للهِ ربِ العالمين .والسلامُ عليكم ورحمةُ اللهِ وبركاتُه.
.
.
টিকা –
.
.
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
07 নভেম্বর 2024 করেছেন আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
   || দ্বিতীয় পর্ব ||
‘গণতন্ত্র মুসলিমদের যা ছিনিয়ে নিল… পর্ব - ৪
=======================================

মুহতারাম ভাইয়েরা আমার!

মহান রাব্বুল আলামীনের ঘোষণা হলো-إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ অর্থাৎ আদেশ ও আইন একমাত্র আল্লাহর চলবে। কিন্তু এর বিপরীতে গণতন্ত্র ঘোষণা করেছে যে, ان الحکم إِلَّا للشعب অর্থাৎ আদেশ বা আইন শুধুমাত্র জনগণের চলবে! গণতন্ত্র বলে: People are the supreme power অর্থাৎ জনগণের অভিলাষ ও ইচ্ছা অনুযায়ী শাসন চলবে! অধিকাংশ জনগণের অভিলাষ ও ইচ্ছা অনুযায়ী চলবে, যাদের (জনগণের) সরলতার অবস্থা হলো: যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশী ভালভাবে জালিয়াতি করতে পারবে; তারা তার পিছনেই ছুটে চলবে। অথচ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের অধিকাংশ লোকদের ব্যাপারে ইরশাদ করেছেন-
وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ.
“যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে।(তা এই জন্যে যে) তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরণ করে; আর তারা শুধু অনুমানভিত্তিক কথা বলে।”
(সূরা আন‘আম-১১৬)

এখন আপনি যদি একলক্ষ বার সংবিধানে আল্লাহর হাকিমিয়্যাত তথা হুকুমতের একটি ধারা লিখে দেন বা একলক্ষ বার এই নাপাক গণতন্ত্রের সাথে ইসলামী হুকুমতের আদান-প্রদান শুরু করে দেন, তাহলে বাস্তবে এটা কেমন হবে? তখন কার বিধানুয়ায়ী ফায়সালা করা হবে? দুইটির মাঝে কোন ফায়সালাগুলোর একেকটি ধারাকে দলীল হিসাবে পেশ করা হবে? দলীল হিসাবে পেশ করার মত মর্যাদা আল্লাহর নাযিলকৃত শরীয়াহর আছে কি? না, তাদের কাছে নেই! তা শুধু কতিপয় সেই সকল লোকদের জন্য-ই, যারা ভীতি প্রদর্শন, ধান্ধাবাজি ও ধোঁকাবাজির মাধ্যমে নিজেই নিজেকে জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে দাবি করে এবং তথাকথিত জনগণের এই প্রতিনিধি যখন নির্বাচিত হন, তখন তার অভিলাষগুলোই গণতন্ত্রের ‘পবিত্র’ আইন হিসেবে প্র্রণয়ন করে থাকে!

অতঃপর প্রিয় ভাইয়েরা!
এখানে আরেকটি বিষয়ের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। তা হলো: গণতন্ত্রকে লক্ষ লক্ষ জনতার শাসন বলা হয়, অথচ কক্ষনো এটা জনগণের শাসন নয়, বরং বাস্তবতা হচ্ছে: গণতন্ত্র ঐ সমস্ত লোকদের ক্ষমতার নাম, যা জনগণকে ক্ষমতা, মিথ্যা ও প্রতারণার মাধ্যমে পথভ্রষ্ট করে দেয়। আপনি পাকিস্তানে দেখুন! এ সমস্ত ক্ষমতা দ্বীনের দুশমন সেনাবাহিনী এবং ধর্মহীন মিডিয়ার ধনী লোকদের হাতে বিদ্যমান রয়েছে। সেনাবাহিনীর অস্ত্রের শক্তি আর মিডিয়ার মিথ্যাচার ও জাদুর মত ক্ষমতা থাকার দরুন এই উভয়টি জনগণকে কাবু করে ফেলে। তাই এসেম্বলিতে যদি কোন সিট পাওয়া যায়, ক্ষমতার প্রাসাদের স্বাদ যদি কিছু দিনের জন্য ভোগ করতে হয় অথবা যদি কমপক্ষে ক্ষমতার মসনদে থাকতে হয়, তাহলে সেনাবাহিনী ও  মিডিয়াকে সন্তুষ্ট রাখা জরুরী। আজ আপনাদের সামনে এসব কিছুই বিদ্যমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কে হয়েছেন? কিভাবে হয়েছেন? সেনাবাহিনীর অস্ত্র আর মিডিয়ার জাদুর মত ক্ষমতা ব্যতীত এই নাট্যমঞ্চ সাজানো কি সম্ভরপর ছিল? এই বাস্তবতা বুঝার পর; সম্প্রতি পাকিস্তানে আমাদের রাজনৈতিক দ্বীনি ভাইয়েরা সেনাবাহিনী ও ধর্মনিরপেক্ষ মিডিয়াকে সন্তুষ্ট রাখাকে নিজেদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য স্থির করে নিয়েছেন। আর এ কারণেই সেনাবাহিনীর নির্লজ্জ অত্যাচার, ইসলামী শরীয়াহর সাথে তাদের শক্রতার প্রচন্ড যুদ্ধক্ষেত্র অথবা ধর্মনিরপেক্ষ মিডিয়ার নির্লজ্জতা ও ইসলামের বিরুদ্ধে আক্রমণের ক্ষেত্রসহ সকল ক্ষেত্র বিদ্যমান থাকার পরও আমাদের রাজনৈতিক দ্বীনি ভাইয়েরা এই শ্রেণীর লোকগুলির সাথে তাদের সন্তুষ্টির বহির্প্রকাশ করতে দেখা যায়!

চলমান...
টিকা –

ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
31 অক্টোবর 2024 করেছেন আবু উবাইদাহ

18,653 টি প্রশ্ন

19,566 টি উত্তর

2,578 টি মন্তব্য

103,478 জন সদস্য

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

এক প্ল্যাটফর্মে কন্টেন্ট/লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি আর ফ্রী প্রমোশন!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার ধারণাটাই বদলে দিবে! (পড়ুন...)

আপনি কি জানেন—প্রতি সেকেন্ডে কারও না কারও লেখা চুরি হচ্ছে? আপনার লেখাগুলো কি নিরাপদ? যখন লেখা ছড়িয়ে থাকে—সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ কিংবা সংবাদপত্রে—হযবরল অগোছালো অবস্থায়… তখন একদিকে চুরির ভয়, অন্যদিকে লেখক হারান নিজের পরিচয়। প্রমাণও থাকে না। পাঠকও বা কিভাবে পাবে মূল লেখকের সংস্পর্শ?

ই-নলেজ আইডিয়া—আপনার কেন্দ্রীয় লেখালেখির ঠিকানা। প্রতিটি লেখার জন্য থাকছে ভেরিফাইড পোষ্ট আইডি (eID), আর আপনার জন্য কেন্দ্রীয় লেখক আইডি নম্বর—যেটা ব্যবহার করতে পারেন Bio, CV, কিংবা বই-র রেফারেন্সে। আর ই-আইডি(eID) জুড়ে দিবেন প্রতিটি লেখার সঙ্গে। (যেমন- পোষ্ট eID: ১২৩ ; #eID_123 #enolej)। ফলে কপিরাইট সুরক্ষা থাকবে নিশ্চিত, আর পাঠক থাকবে মূল লেখকের সংস্পর্শে। আর ভেরিফাই হলে করতে পারবেন আপনার পেজ কিংবা ব্লগ এর ফ্রী প্রমোশন!

আপনার লেখক প্রোফাইলেই থাকবে আপনার আর্কাইভ—সব লেখা, ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি আর পাঠকের প্রতিক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে গোছানো।

এখানে আপনি একা নন, পাচ্ছেন লেখক কমিউনিটি। বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে হাজারো লেখক ছড়িয়ে থাকলেও কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম একটাই—যেখানে আপনার স্বত্ব, স্বীকৃতি আর অবস্থান সুরক্ষিত। কেউ কারও eID নকল করতে পারবেনা, কেন্দ্রীয় সোর্স একটাই। এখানেই থাকছে লেখক র‍্যাংক—যেখানে তুলনায় ঝলমল করে উঠবে আপনার কৃতিত্ব।

এটাই আপনার কেন্দ্রীয় ঠিকানা। ভেরিফাই করুন আজই—আপনার লেখাকে দিন স্থায়ী সুরক্ষা।

বিস্তারিত পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ই-নলেজ কুয়েরি বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট। এখানে আপনি প্রশ্ন-উত্তর করার মাধ্যমে নিজের সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি দিতে পারেন অন্যদের সমস্যার নির্ভরযোগ্য সমাধান! বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যা, পড়ালেখা, ধর্মীয় ব্যাখ্যা, বিজ্ঞান বিষয়ক, সাধারণ জ্ঞান, ইন্টারনেট, দৈনন্দিন নানান সমস্যা সহ সকল বিষয়ে প্রশ্ন-উত্তর করতে পারবেন! প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে বাংলা ভাষায় উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য!
তাই আজই যুক্ত হোন ই-নলেজে আর বাড়িয়ে দিন আপনার জ্ঞানের গভীরতা...!
Empowering Novel Learners with Joy (Enolej)


...