তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
|| দ্বিতীয় পর্ব ||
‘গণতন্ত্র মুসলিমদের যা ছিনিয়ে নিল… পর্ব - ৩
=======================================
.
প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ!
অতঃপর গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক কথা হচ্ছে: গণতন্ত্র পাশ্চাত্যের হোক বা প্রাচ্যের হোক, পাকিস্তানের হোক বা হিন্দুস্থানের হোক; তার মেরুদন্ড ও কেন্দ্র কিন্তু কখনো আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত-বন্দেগী করা নয়, নয় আল্লাহ তা‘আলার গোলামী করাও। বরং তা হচ্ছে: তাঁর পবিত্র সত্ত্বার গোলামীর স্থলে মানুষের গোলামী করা। এখানে সকল চেষ্টা-প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য হয়ে থাকে প্রতাপশালী শ্রেনীর অভিলাষগুলো পূরণ করা। এক কথায় গণতন্ত্র হলো: لا إله إلا الإنسان অর্থাৎ ‘মানুষ ছাড়া কোন মাবুদ নাই’ এর বাস্তব নমুনা। কেননা, এখানে মানুষরূপী শয়তানদের অভিলাষ ও কামনার ইবাদত করা হয়। অথচ ইসলামের মূল মর্মবাণীই হচ্ছে: মানুষ সম্পূর্ণভাবে মহান আল্লাহ তা‘আলার সামনে ঝুঁকে যাবে, আত্মসমর্পন করবে। এই কালিমা لا إله إلا الله সেই সকল ইচ্ছা এবং সেই সকল অভিলাষ থেকে বিরত থাকার ওয়াদা, যা আল্লাহ সুবহানাহু তা‘আলার অপছন্দ।
.
মহান আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেছেন-
وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يَفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ.
“আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুযায়ী তাদের মাঝে বিচার নিষ্পত্তি কর। তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না(অর্থাৎ তাদের অভিলাষ এবং নাজায়েজ আকর্ষণের প্রতি ঝুঁকে যেও না)এবং তাদের সম্বন্ধে সতর্ক হও, যাতে আল্লাহ যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন, তারা তার কিছু হতে তোমাকে বিচ্যুত না করে।”(সূরা মায়েদা-৪৯)
.
মুহতারাম ভাইয়েরা আমার!
এটাই হচ্ছে ইসলামের আসলরূপ। এটাই হচ্ছে আল্লাহর দ্বীনের প্রকৃত স্বরূপ। যেখানে আল্লাহ তা‘য়ালার বিধানাবলীর ক্ষেত্রে অজ্ঞ লোক ও সংকীর্ণমনা মানুষদের নাজায়েজ অভিলাষের উপর উৎসর্গিত হওয়া যায় না বরং সকল অভিলাষ মানুষের খালিক-সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘য়ালার সেই পবিত্র দ্বীনের অনুগামী হয়ে থাকে; যে দ্বীন শুধুমাত্র প্রজ্ঞা ও উপকার দান করে থাকে। এ সকল আসমানী হিদায়াতের বিপরীতে গণতন্ত্র ঘোষণা করে থাকে যে, মানুষদের বিষয়াবলী তাদের মর্জি মোতাবেক পরিচালনা কর। তাদের সকল বৈধ-অবৈধ অভিলাষের অনুগামী হও এবং সর্বদা সতর্কতার সাথে খেয়াল রাখ যাতে তাদের কোন চাহিদার বিরোধিতা করা না হয়, যার কারণে তারা অসন্তুষ্ট হয়ে যায়! বিষয়টা কেমন জানি এমন হয়ে গেল যে, আল্লাহ তা‘আলা অসন্তুষ্ট হলে হোক কিন্তু তারা(জনগণ) যাতে অসন্তুষ্ট না হয়!! (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)
প্রিয় ভাইয়েরা আমার!
আপনারা নির্বাচনে দেখেছেন যে, তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও টার্গেট কি ছিল? সাধারণ জনগণকে অসৎকাজ থেকে বিরত রাখা কি তার উদ্দেশ্য ছিল? তাদেরকে সৎকাজের দিকে আহবান করা এবং সৎকাজের রক্ষনাবেক্ষনের নিমিত্তে উৎসর্গিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত করা কি উদ্দেশ্য ছিল? নাকি ভাল-মন্দ পার্থক্য করা ব্যতিরেকেই ভাল-মন্দ সকল ধরনের লোকদেরকে সন্তুষ্ট করা এবং তাদের সহযোগিতা হাসিল করার জন্যই এখানে সকল প্রয়াস ব্যয় করা হয়েছে?
.
.
চলমান...
টিকা –
.
.
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
করেছেন
আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
|| দ্বিতীয় পর্ব ||
‘গণতন্ত্র মুসলিমদের যা ছিনিয়ে নিল… পর্ব - ২
=======================================
প্রিয় ভাইয়েরা আমার!
আপনারা জানেন যে, ইসলাম ও কুফরের সংঘাত চিরন্তন।
মহার আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন-
}وَلَا يَزَالُونَ يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّى يَرُدُّوكُمْ عَنْ دِينِكُمْ إِنِ اسْتَطَاعُوا{.(سورة البقرة:217)
“তারা সর্বদা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকবে যে পর্যন্ত তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে না দিবে, যদি তারা সক্ষম হয়।”
(সূরা বাকারা-২১৭)
সুতরাং ক|ফিররা আমাদের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ সেই সময় পর্যন্ত চালু রাখবে যতক্ষন না তারা মুসলমানদেরকে তাদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে না দিবে। বর্তমানে শুধু আমেরিকা ও পশ্চিমারা নয় বরং সকল কুফর বিশ্ব মুসলমানদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে লিপ্ত আছে। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, বর্তমানে খৃষ্ট ধর্মের দিকে বা অন্য কোন নতুন ধর্মের দিকে দাওয়াত দেয়া হয় না, বরং সাধারণভাবে সকল মুসলমানকে এবং বিশেষভাবে দ্বীনি ভাইদেরকে যার দিকে আহবান করে থাকে, তা হলো: গণতন্ত্রের নর্দমাতে প্রবেশ করার দাওয়াত। যখন দ্বীনের ধারক-বাহকদেরকে গণতন্ত্রের নর্দমাতে প্রবেশের করাতে পারবে, তখন-ই কেবল আল্লাহ তা‘আলার দুশমন ক|ফিরদের এই সকল নেতাদের চিত্তের স্থিরতা ফিরে আসে। এ কারণেই তো সকাল-সন্ধ্যা সর্বদা গণতন্ত্রের দিকে কেবল আহবান করা হয়ে থাকে। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নিক্সন বলেছিলেন যে, আমেরিকার পক্ষ থেকে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য একটিই বার্তা, আর এটার জন্যই সে লড়াই করে; তার একটা হলো: গণতন্ত্র আর অন্যটি হলো: পুঁজিবাদ (সুদী ব্যবস্থাপনা)।
সাম্প্রতিক সময়েও মু-জা/হি-দীনের কাছে বৈশ্বিক ক|ফিরদের এই একটিই দাবি যে, তোমরা গণতন্ত্রে অংশগ্রহন কর! এক্ষেত্রে তোমরা যে কোনভাবে অংশগ্রহন কর না কেন তাতে কোন সমস্যা নেই। চাই দ্বীনদারির সাথে অংশগ্রহন কর বা বদদ্বীনির সাথে অংশগ্রহন কর। এসব কিছুই মেনে নেয়া হবে। ইসলাম নিয়ে অংশগ্রহন করতে চাও? শরীয়তের কথা বলতে চাও? তাহলেও কোন সমস্যা নেই। তথাপি তোমরা গণতন্ত্রে অংশগ্রহন কর! দাঁড়ি, পাগড়ি, নামায ও রোযা সবকিছুই এখানে পালন করতে পারবে। সুতরাং শুধুমাত্র একবার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ময়দানে অবতীর্ণ হও!... যদি একবার আপনারা এই ময়দানে অবতীর্ণ হয়ে যান, তাহলে আপনাদের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ-অনুযোগ শেষ হয়ে যাবে। তখন আপনাদের আর কোন ধরণের পেরেশানী থাকবে না। টার্গেটকৃত চিহিৃত ব্যক্তিদের তালিকা থেকে আপনাদের নাম বাদ দিয়ে দেয়া হবে। জাতিসংঘ কর্তৃক সাহায্যের বন্ধ দরজা আপনাদের জন্য খুলে দেয়া হবে। সর্বোপরি আপনাদের থেকে সব ধরণের বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়া হবে। আ-ফ-গানিস্তান, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও মালিসহ সকল স্থানের মু-জা/হি-দীনের দিকে আপনি একটু লক্ষ করুন! তাতে দেখতে পাবেন যে, সকল স্থানের মু-জা/হি-দীনের নিকট তাদের এই একটিই দাবি। (তা হলো-তোমরা গণতন্ত্রে অংশগ্রহন কর।)
এখন কথা হচ্ছে: এই গণতন্ত্রের মাঝে এমন কি বিষয় আছে? যার কারণে “ইসলামী গণতন্ত্র” এর বৈশ্বিক নেতাকেও বৈশ্বিক ক|ফিরদের ভাল লাগে, তাকে পছন্দ করে?! মনে করুন এখনকার তথাকথিত ইসলামী গনতন্ত্রে ইসলাম, নিরাপত্তা, ন্যায়পরায়ণতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠাসহ সকল ধরনের কল্যাণ বিদ্যমান থাকলেও তা ক|ফিরদের পছন্দের। আ-ফ-গানিস্তানে ইমারতে ইসলামী বিদ্যমান থাকাবস্থায় এই কল্যাণগুলো বিদ্যমান ছিল, কিন্তু সেখানে গণতন্ত্র ছিল না । তাই কুফফারদের দল এই সকল কল্যাণকে গ্রহন করে নেয় নাই। তাহলে এর মূল কারণ কী, এর নিগুড় রহস্য কী?! যে কারণে আমাদের দ্বীনদার ভাইদের গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও ধর্মহীনদের গণতান্ত্রিক রাজনীতির মাঝে কোন পার্থক্য বাকি নেই? কি সেই উপাদান?! যার কারণে এই পথে কল্যাণ স্থিমিত হয়ে যায় আর অকল্যাণের শক্তিমত্তা বৃদ্ধি পায়।
মুহতারাম ভাইয়েরা আমার!
তাহলে আপনারা তার প্রকৃত কারণ শুনুন! ইসলাম শক্তি প্রয়োগ করে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ প্রদানের শিক্ষা দেয়। তাছাড়া ইসলামে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ প্রদান করা ফরয। কিন্তু গণতন্ত্রে যেহেতু অসৎকাজ, নোংরাকাজ স্বীয় অবস্থায় বহাল থাকা, তার প্রচার-প্রসার হওয়া, এটা অসৎকাজের গণতান্ত্রিক অধিকার। কেননা, গণতন্ত্রের মৌলিক নীতিই হচ্ছে: Book For Book এবং Tv Channel For Tv Channel অর্থাৎ বইকে তার আপন অবস্থায় এবং টিভি চ্যানেলকে তার আপন অবস্থায় ছেড়ে দিতে হবে। তাই এখন যদি কেউ খুব অশ্লীল বই লিখে, তাহলে তাকে লিখতে দাও, এই বইকে প্রচার-প্রসার হতে দাও। যদি তোমার কাছে অশ্লীল মনে হয় তাহলে তুমি এই বই পড়ো না। তার চেয়েও যদি আরো বেশী খারাপ লাগে, তাহলে তুমি এই বইয়ের পরিবর্তে আরেকটি ভাল বই লিখে ফেল। অথবা ধরুন: কেউ খুব অশ্লীল টিভি চ্যানেল খুলল, যেখানে চূড়ান্ত পর্যায়ের অশ্লীল দৃশ্য দেখানো হয় বা তাতে কুফরী মতবাদ ছড়ানো হয়, তাহলে তাতেও কোন সমস্যা নেই। আপনি সেই চ্যানেল দেখবেন না, এটা ছাড়া অন্যান্য চ্যানেল তো আরো অনেক আছে, আপনি সেগুলোর মধ্য থেকে ভালো চ্যানেলগুলো দেখুন। এরপরেও যদি আপনার বেশী কষ্ট লাগে এবং আপনার সক্ষমতাও আছে, তাহলে আপনি একটি ভালো চ্যানেল খুলুন... কিন্তু আপনি এই অশ্লীল চ্যানেলকে শক্তি প্রয়োগ করে বন্ধ করে দিবেন, এটা আপনার জন্য বৈধ হবে না। আইন এটাকে অনুমোদন করবে না! তা এই জন্য যে, সে যা কিছুই করবে এটা তার গণতান্ত্রিক অধিকার। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের আসল রুপ, যেখানে পবিত্র মানুষকে অপবিত্রতা বরদাশত করতে হয়। আর এটা তো প্রকাশ্য বিষয় যে, অবশেষে এই অপবিত্রতাই প্রচার-প্রসার লাভ করে থাকে। তাছাড়া দুর্গন্ধযুক্ত অপবিত্র স্থানে পবিত্র মানুষ কতক্ষণ থাকতে পারে? এটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের আসল রুপ, যেখানে অকল্যাণের সামনে কল্যাণের হাতকে সম্পূর্ণরূপে বেঁধে দেয়া হয়! অথচ ইসলাম সম্পূর্ণ তার বিপরীত। কারণ, ইসলাম সমাজকে পবিত্র রাখার উপর তাগিদ প্রদান করে। কেননা, ব্যক্তি ও সমাজ সকলের দায়িত্ব হলো: তারা অসৎকর্মের রাস্তা প্রতিরোধ করবে এবং অশ্লীলতা ও নোংরামী যারা প্রচার-প্রসার করে তাদেরকে প্রতিহত করবে।
চলমান...
টিকা –
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
করেছেন
আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
|| দ্বিতীয় পর্ব ||
"গণতন্ত্র মুসলিমদের যা ছিনিয়ে নিল" পর্ব - ১
=======================================
بِسْمِ اللّہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
الحمد لله رب العالمين. والصلوة والسلام على رسوله الكريم. أما بعد...
হামদ ও সালাতের পর-
পাকিস্তানে বসবাসরত আমার দ্বীন প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা!
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
প্রথম পর্বে আলোচনা করা হয়েছিল যে, বর্তমানে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে (পাকিস্তানে) আল্লাহর দ্বীন চূড়ান্ত সংকটময় অবস্থায় রয়েছে। তাছাড়া এখানকার ধর্মীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আমাদের দ্বীনি ভাইয়েরা ধর্মহীনতার বিরুদ্ধে বাঁধ হওয়ার পরিবর্তে স্বয়ং তারাই তার স্রোতে ভেসে চলেছেন এবং দ্বীনি রাজনৈতিক দলগুলো বাতিলদের বিজয় ও ক্ষমতায়নকে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়, জেনে বা না জেনে গ্রহন করে নিয়েছেন। পাশাপাশি এ বিষয়টিও আরজ করেছিলাম যে, এ রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার মূল কারণগুলো বহিরাগত নয় বরং অভ্যন্তরীণ। বর্তমান পর্বে সেই কারণগুলোর মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি মৌলিক কারণ ‘গণতন্ত্র’ নিয়ে আজ আপনাদের সামনে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।
প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ!
হায় আফসোস! গণতন্ত্রের অনিষ্টতা যদি শুধু এটাই হত যে, এর দ্বারা ইসলামের বিজয় অর্জন করা সম্ভব না, তাহলে এই বিষয় নিয়ে আমরা এত মাথা ঘামাতাম না। কিন্তু বিষয়টি এমন নয়! বরং বাস্তবতা হচ্ছে: গণতান্ত্রিক পন্থায় ইসলাম কখনোই বিজয় লাভ করতে পারবে না। আর এই বাস্তবতাকে কেবল কোন অন্ধ লোকের পক্ষেই অস্বীকার করা সম্ভব। পাকিস্তান, মিসর, আল-জাযায়ের, তুরস্ক, তিউনিসিয়া প্রভৃতি দেশগুলোই নয় বরং পুরো ইসলামী বিশ্ব এর বাস্তব সাক্ষী। তবে যে কথা বলা প্রয়োজন, অনুভূতি জাগানোর জন্য যে কথা বলা উচিত এবং যার জন্য আমরা আপনাদের নিকট হাত জোড় করে নিবেদন করি; তা হলো- আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা এই পথ(গণতন্ত্র)পরিহার করুন। কেননা, দ্বীনের ধারক-বাহকরা যখন এই পথে পা বাড়ান, তখন দ্বীনকে বিজয়ী করা তো অনেক পরের কথা, স্বয়ং তাদের দ্বীন শংকার মধ্যে পড়ে যায়। এই পথে চলার দ্বারা দ্বীনের উন্নতি সাধন করা তো অসম্ভব, কিন্তু এর দ্বারা স্বয়ং দ্বীনের ধারক-বাহকরা ধর্মহীনতা প্রচার-প্রসারের উল্লেখযোগ্য কারণ হিসাবে পরিগণিত হন। তাদের কারণে কাফিরদের শক্তি-সামর্থ বেড়ে যায় এবং অসৎ কর্মকান্ডের উন্নতি সাধিত হয়।
এই গণতান্ত্রিক রাজনীতির শয়তানী দিকটা হলো: শরয়ীভাবে পালনীয় আবশ্যকীয় আমল এবং দ্বীনি দায়িত্ব পালন করাটা তাদের(ধর্মীয় রাজনীতিবিদদের) জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। যা থেকে মুক্ত হতে পারার মধ্যেই দ্বীনের ধারক-বাহকরা তাদের রাজনৈতিক সফলতা দেখতে পায়!
আমার প্রিয় ভাইয়েরা!
বাতিলকে পরিহার করা, বাতিলকে বাতিল বলা এবং বাতিলদের বিরোধিতা করা সেইসাথে অসৎকাজকে প্রকাশ্যভাবে অসৎ বলা, যারা এই সমস্ত অসৎকাজের প্রচার-প্রসার করে,তাদের থেকে সম্পর্কহীনতার ঘোষণা দেয়া এবং তাদের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ানো এসব কাজ সকল মুসলমানের উপর শরয়ীভাবে অপরিহার্য। পাশাপাশি তা সকল দ্বীনী জামা’আত প্রতিষ্ঠার প্রকৃত উদ্দেশ্যও বটে। কিন্তু আপনি নির্বাচনভিত্তিক রাজনীতির ফলাফল দেখুন। এর পুরো ইতিহাস সাক্ষী যে, গণতন্ত্র কল্যাণ বা অকল্যাণ, সত্য বা মিথ্যা, বন্ধুত্ব বা শক্রতার মাপকাঠি নয়। বরং গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বন্ধুত্ব ও শক্রতার মাপকাঠি ঠিক করে দেয় স্বার্থ। এ কারণেই দ্বীনের ধারক-বাহকরা যখন এই ময়দানে অবতীর্ণ হন, তখন জুলুম, নির্লজ্জতা, অসৎকাজ এবং কুফরী মতবাদের মত অনিষ্টতা প্রচার-প্রসারকারীদেরকে প্রতিহত করা তো পরের কথা, সেই অবস্থার প্রেক্ষিতে এ সকল ফ্যাসাদকে ফ্যাসাদ বলে আখ্যায়িত করাটাও তাদের আয়ত্বে থাকে না। বরং এই ফ্যাসাদগুলো রক্ষা করা যেহেতু তাদের রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়, তাই তারা তাদের(অনিষ্টতা প্রচার-প্রসারকারীগণ)কে সন্তুষ্ট রাখা নিজেদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হিসাবে স্থির করে নেয়।
চলমান...
টিকা –
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
করেছেন
আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
|| প্রথম পর্ব ||
দ্বীনের প্রহরীগণ কোথায়? পর্ব - ৪
সুপ্রিয় ভাইয়েরা আমার!
আফসোসের কথা হচ্ছে এই যে – যখন দ্বীনের ধারক-বাহকরা ইসলামী আন্দোলন ও শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা করার দাওয়াত দেন, তখন এই মুবারক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য নিজেদের কর্মীদেরকে এবং সাধারণ জনগণকে লাঠি ও গুলির সামনাসামনি হওয়ার জন্য প্রস্তুত করেন। চাই তাদের এই মানযিল লাভ হোক বা না হোক। কিন্তু আজ তারা তো এই মানযিলের দাওয়াত প্রদান করার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়ে গেছেন!
মোদ্দাকথা: যারা বাতিলদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল, কালের পরিক্রমায় তারাই আজ বাতিলদের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করার মত অবস্থায় পৌঁছে
হে পাকিস্তানের দ্বীনি ভাইয়েরা!
আজ একটি বাস্তবতা সূর্যের আলোর ন্যায় আমাদের সামনে প্রকাশমান। বাস্তবতাটা হচ্ছে – ইসলামকে বিজয়ীকরনের এই যুদ্ধে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ব্যর্থতা পূর্ণাঙ্গরূপে স্বীকার করে নিয়েছেন। ধর্মহীনদের বিজয় মনে-প্রাণে মেনে নিয়েছেন। বাতিলদের ক্রমাগত আক্রমণের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে রেখেছেন। এই প্লাবনের মোকাবেলায় শান্তি ও সন্ধির স্রোতে ভাসছেন। আর এভাবে ভেসে ভেসে চলাকেই ভাল মনে করে নিচ্ছেন। আপনি এখন রাজনৈতিক নেতাদের কথা-বার্তা ও কর্মকান্ডে এক প্রকার নিরাশা দেখতে পাবেন। যা তাদের বাক-ভঙ্গি থেকে ঝড়ে পড়ছে! তাছাড়া আপনি তাদের মাঝে এক প্রকার চাটুকারিতা দেখতে পাবেন, যা তাদের কথা-বার্তাতে সুষ্পষ্টরূপে বিদ্যমান। যারা বাতিলকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য আন্দোলন শুরু করেছিল, আজ তারাই বাতিলদের তত্ত্বাবধানে জীবন-যাপন করছে। বাতিলকে সন্তুষ্ট করার এবং তাদের থেকে ফায়েদা হাসিল করার জন্য ভিক্ষা চাওয়ার মত দৃশ্যও দৃষ্টিগোচর হচ্ছে!
এই দেশে উদারবাদী, পুঁজিবাদী ও ধর্মহীন দলগুলোর প্রত্যেকেরই দিক নির্দিষ্ট করা আছে। তাদের দাবী-দাওয়া, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং চলার পথ সুষ্পষ্টরূপে তাদের সামনে বিদ্যমান আছে। আর তারা তা প্রকাশ্যভাবেই ঘোষণা করে থাকে এবং ক্রমান্বয়ে উন্নতির শিখরে পৌঁছে যাচ্ছে। কিন্তু কারো যদি দিক নির্দিষ্ট না থাকে, কেউ যদি স্বীয় লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও সঠিক রাস্তা থেকে বঞ্চিত থাকে; তাহলে তারা হলেন আমাদের দ্বীনদার রাজনৈতিক ভাইয়েরা। এ সকল পরিস্থিতির অনিবার্য পরিণতি হলো: আজ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাকসাদ খোয়া যাচ্ছে। জাতির দুনিয়া ও আখিরাত ধ্বংস হচ্ছে। অস্থিরতা, অশান্ত ভাব, উদ্দেশ্যহীনভাবে চলাফেরার মাত্রা বেড়ে চলেছে। এরফলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম পর্যন্ত জাহিলিয়্যাতের ও ধর্মহীনতার এই সমুদ্রে ডুবে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে সেখানে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হওয়ার পরিবর্তে সেই মহান সত্ত্বার অসন্তুষ্টি অবতীর্ণ হচ্ছে এবং পুরো জাতি গোনাহগারে পরিণত হচ্ছে।
পরিশেষে প্রিয় ভাইয়েরা আমার!
একটি সত্য বিষয় হচ্ছে -এই অন্ধকারাচ্ছন্নতার উপাদানগুলো বহিরাগত নয়, বরং অভ্যন্তরীণ। আর এটাই হচ্ছে লাঞ্ছনার ও পরাজয়ের মৌলিক কারণ। এই সকল বিষয়াবলীর উপর ভ্রুক্ষেপ করা ব্যতীত কোন একজন লোকের পক্ষে এক কদম সামনেও বাড়তে পারার কথা না!মুহতারাম ভাই ও বন্ধুগণ!
আমাদেরকে আজ বলতেই হবে যে, এ সকল পরিস্থিতি তৈরী হওয়ার কারণগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে: দ্বীনের ধারক-বাহকদের এই গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অংশগ্রহন। এখন কথা হচ্ছে – এই গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে কী ধরণের অনিষ্ট আছে, যার কারণে দ্বীনের ধারক-বাহকরা তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থেকে পর্যন্ত বঞ্চিত হচ্ছে? এ ব্যাপারে আগামী বৈঠকে আলোচনা করা হবে, ইনশা আল্লাহ।
وآخر دعوانا أنِ الحمدُ للهِ ربِ العالمين .والسلامُ عليكم ورحمةُ اللهِ وبركاتُه.
টিকা –
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
করেছেন
আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
|| প্রথম পর্ব ||
দ্বীনের প্রহরীগণ কোথায়? পর্ব - ৩
প্রিয় ভাইয়েরা আমার!
আপনারাই বলুন! বাতিলদের ক্রমবর্ধমান এই অগ্রসরতার মোকাবেলায় আমাদের এই মহান দ্বীনের প্রতিরক্ষার জন্য নিখাদ প্রাচীর রচনার ক্ষেত্রে এবং দ্বীনকে বিজয়ী করার ক্ষেত্রগুলোতে আজ একেবারেই শূণ্যতা ও নিরবতা বিরাজ করছে কেন?
সুপ্রিয় ভাইয়েরা আমার!
হযরত উমর রাযি. এর ফরমান শুনুন- সুনানে তিরমিযীতে এসেছে
حاسبوا أنفسكم قبل أن تحاسبوا.
“তোমাদের হিসাব গ্রহণের আগে, তোমরা নিজেরা নিজেদের হিসাব গ্রহণ করো।”
সুতরাং দ্বীনদরদী ভাই ও বন্ধুরা, আসুন! আমরা সকলেই নিজেরা নিজেদের হিসাব গ্রহণ করি। এছাড়া আপনারা আপনাদের এই (রাজনৈতিক) দীর্ঘ সফরের একটি জরিপ করুন যে, পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আপনাদের এই সফরে দ্বীনের ধারক-বাহকরা কোন কোন ক্ষেত্রগুলোতে অগ্রসরতা, অগ্রগামীতা অর্জন করতে পেরেছে? অথবা বাস্তবেই কি আপনাদের নিশ্চিত বিশ্বাস আছে যে, গণতান্ত্রিক রাজনীতির মাধ্যমে এখানে ইসলামের বিজয় সম্ভব হবে? নাকি ইসলাম ও গণতন্ত্র বিষয় দুইটি সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে?
প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ!
আপনারা নিজেরাই নিজেদের ফায়সালা করুন। নিজেদের কাছ থেকে নিজেরাই উত্তর খুঁজে নিন। আপনাদের অন্তর কি এই বিষয়ে ইতমিনান যে, গণতন্ত্রের এই সর্বনাশা পথে চলে আপনারা শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার মানযিলের দিকে অগ্রসরমান হচ্ছেন? দ্বীনের দুশমনরা পরাজিত হচ্ছে? ধর্মহীনতা ও বেহায়াপনার রাজত্ব নিশ্চিহৃ হয়ে যাচ্ছে? অসৎকাজ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে? জাতির দ্বীন-ধর্ম বাঁচানোর ক্ষেত্রে আপনারা সফলকাম হচ্ছেন? আমাদের মেনে নেওয়া উচিত এবং আপনাদের স্বীকার করা উচিত যে, পাকিস্তানে উদারপন্থার নাম দিয়ে ধর্মহীনতা, জুলুম-ফ্যাসাদের ক্ষমতা দিনের পর দিন শুধু দৃঢ় থেকে অধিকতর দৃঢ় হচ্ছে। বাতিল নিত্যদিন নতুন নতুন রূপ ধারণ করে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। অপরদিকে “প্রকৃত সত্য” উত্তরাধিকারীবিহীন অপরিচিত অবস্থায় পরাজয় থেকে অত্যধিক পরাজয়ের দিকে ধাবমান হচ্ছে!
চলমান...
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
করেছেন
আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
|| প্রথম পর্ব ||
দ্বীনের প্রহরীগণ কোথায়? পর্ব - ২
=============================
.
প্রিয় ভাই ও বন্ধুরা!
.
সম্প্রতি পাকিস্তানে আল্লাহ তা‘আলার এই মহান দ্বীনের উপর চূড়ান্ত পর্যায়ের আঘাত এসেছে। যার ফলে সংকটময় পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। হয়তোবা এমন পরিস্থিতি নিকট অতীতে আর কখনো আসেনি। যুগের ভাষায় এই মহান দ্বীন যেন আমাদেরকে ডেকে ডেকে বলছে যে, مَنْ أَنْصَارِي إِلَى اللَّهِ অর্থাৎ আল্লাহর জন্য কারা আমার সাহায্যকারী হবে? এবং كُونُوا أَنصَارَ اللَّهِ অর্থাৎ তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও…। যেহেতু আমাদের মধ্য থেকে প্রত্যেকেই এই মহান দ্বীনের সম্বোধিত ব্যক্তি – তাই আমাদের প্রত্যেককেই সম্বোধন করে বলছে যে, এই মহান দ্বীনের সাহায্যকারী কেউ আছো কি? আছো কি কেউ জাহিলিয়্যাতের চিৎকার ও ঔদ্ধত্যতার মাঝে এই মহান দ্বীনের প্রকৃত অবস্থা ও দ্বীনের মৌলিক পয়গামের ঝান্ডাকে উর্ধ্বে তুলে ধরবে? কেউ আছো কি পাকিস্তানে তুফানের ন্যায় ধেয়ে আসা এই ধর্মহীনতার প্রবল স্রোতের বিপরীতে দ্বীনের প্রতিরক্ষা বিধানের নিমিত্তে প্রাচীরের ন্যায় দাঁড়িয়ে যাবে? এই মহান দ্বীন তো আমাদেরকে ও আপনাদেরকে সকলকেই সম্বোধন করে বলছে যে, কে এই জাহিলিয়্যাতের চিৎকার, ঔদ্ধত্যতা এবং অন্ধকারের প্রচন্ডতার এই বাদুড় সদৃশ লোকদের দ্বারা ভীত হওয়ার পরিবর্তে তাদের উপর মারাত্মকভাবে আঘাত হানবে? তাদের চোখে চোখ রাখবে? তাদেরকে চরম পর্যায়ের অসম্মান ও লাঞ্ছনার পরিস্থিতিতে ফেলবে এবং ইসলামের সম্মান ও শরীয়তের মর্যাদা দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠিত করবে?
.
ভাইয়েরা আমার!
আল্লাহর কসম করে বলছি: আজ যেভাবে দ্বীনের দাওয়াত ও তার আসল রুহ এবং চাহিদাসমূহ স্বয়ং আমাদের দ্বীনের ধারক-বাহকদের কাছে অপরিচিত হয়ে যাচ্ছে, এমনটি মনে হয় ইতিপূর্বে আর কখনো হয়নি!
.
সুপ্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ!
আপনারাই বলুন! এটা কি সত্য নয় যে, আজ দ্বীনের ধারক-বাহকদের কাছ থেকে সকল ধরনের রাজনৈতিক শ্লোগান ও জনসাধারণের সকল ধরনের চাহিদার কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু ইসলামের কি প্রয়োজন, ইসলামের কি চাহিদা, এই মহান দ্বীনের ভাষ্য কী, তার মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি কি? এই জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে তো কোথাও আলোচনা হচ্ছে না। বর্তমানে কতগুলো ইস্যুতে আমাদের দ্বীনের ধারক-বাহকদের অবস্থান ধর্মহীনদের বিপরীতে এবং ইসলামী ভাষ্যের অনুকূলে? অথচ আজ আমরা সকাল-সন্ধ্যা আমাদের দ্বীনের ধারক-বাহকদের কাছ থেকে গণতন্ত্রের প্রশংসা, সম্মান, আইনের প্রতি বিশ্বস্ত ও শ্রদ্ধাশীল হওয়াসহ আরো অনেক বিষয়ে বক্তৃতা শুনতে পাই। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলার সাথে বিশ্বস্ত হওয়া, বিশুদ্ধ কুরআন ও সহীহ হাদীসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, শরীয়তের আনুগত্যের দাওয়াত, শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব প্রভৃতি বিষয়ের উপর তাদের কোন বক্তৃতা শুনতে পাই না। আজ সাধারণ জনগণের সামনে উন্নয়ন ও স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আগাম ইশতেহার তো খুব ভালভাবেই প্রচার করা হচ্ছে, কিন্তু সাধারণ জনগণকে রবের আনুগত্য ও তাঁর হকসমূহ যথাযথভাবে আদায় করার ব্যাপারে দাওয়াতের দৃশ্য কোথাও দেখা যাচ্ছে না! বর্তমানে এই দেশে দেশপ্রেম ও জাতিপ্রেমের ঝান্ডা উড়ানোর জন্য অগণিত এজেন্ট কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু এই ইস্যুতে যদি মৌলিকভাবে কারো কমতি থেকে থাকে, তাহলে প্রকৃতপক্ষে তা দ্বীনের ধারক-বাহকদের কমতি। কেননা দ্বীনের ধারক-বাহকদের পরিচয়ের ভিত্তি দেশপ্রেমের পরিবর্তে খোদাপ্রেম হওয়া কাম্য ছিল; যেহেতু তারা এক কালিমা, এক কাবা ও এক রাসূল এবং এক উম্মত হওয়ার দাবী করে থাকে।
.
মুহতারাম ভাইয়েরা আমার!
আজ আমাদের সেই ধরণের দ্বীনের ধারক-বাহকরা কোথায় – যারা স্রোতের ন্যায় ধেয়ে আসা ধর্মহীনতা ও অপকর্মের নোংরামির পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে? একত্ববাদীদের সেই প্রজন্ম আজ কোথায় হারিয়ে গেছে, যারা পশ্চিমাদের ও উদারপন্থীদের তুফানসম গোস্তাখীর বিরুদ্ধে লড়াই করবে? মহান আল্লাহ তা‘আলার সেই সব প্রিয় বান্দাদেরকে আমরা আজ কোথায় তালাশ করবো – যারা এই দাবী করবে যে, এই দেশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসারীদের দেশ। তাই এখানে উদারতাবাদ, পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রবাদসহ অন্যান্য তন্ত্রমন্ত্র চলবে না। বরং এখানে শুধুমাত্র ইসলাম ও ইসলামী মতবাদ-ই চলবে।
.
.
চলমান...
টিকা –
.
.
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
করেছেন
আবু উবাইদাহ
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
|| প্রথম পর্ব ||
দ্বীনের প্রহরীগণ কোথায়? পর্ব - ১
=============================
بِسْمِ اللّہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
الحمد لله رب العالمين. والصلوة والسلام على رسوله الكريم. أما بعد…
হামদ ও সালাতের পর-
.
পাকিস্তানে বসবাসরত আমার দ্বীন প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা!
.
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
.
সুপ্রিয় দ্বীনদার ভাইয়েরা আমার- আজ আমি আপনাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা নিবেদন করতে চাই। আপনারা আমার এমন সব ভাই যাদের অন্তরে দ্বীনের মহব্বত রয়েছে এবং আপনারা সমাজে দ্বীনদার হিসাবে পরিচিত। আমার এই নিবেদন বিশেষ করে সেই সব দ্বীনী ভাইদের প্রতি, যারা কোন ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত।
.
২০১৮ইং সালের নির্বাচনী হা-ঙ্গা-মা শেষ হয়েছে মাত্র কিছুদিন হল। এতে আপনাদের স্বল্প পরিমাণ প্রার্থীরাই এসেম্বলিতে পৌঁছাতে পেরেছেন। এর ফলে আপনারা অতীতের ন্যায় আজও এ বিষয়ে পেরেশানীতে রয়েছেন। এমনিভাবে আপনারা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করেছেন। নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে কি হয় নাই এটা আমাদের আজকের মজলিসের আলোচ্য বিষয় নয়। বরং আমাদের মূল উদ্দেশ্য ও আলোচ্য বিষয় এর চাইতে আরো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এই আলোচনাটি সংক্ষিপ্ত চারটি পর্বে সমাপ্ত করা হবে (ইনশা আল্লাহ)। আল্লাহ তা‘আলা এই আলোচনাকে আমাদের সকলের জন্য উপকারী হিসেবে কবুল করে নিন।(আমীন)
.
মুহতারাম ভাইয়েরা আমার!
আপনাদের মাঝে হয়তো কেউ কেউ এটা মনে করে থাকতে পারেন যে, আমরা মু-জা/হি;দীনরা আপনাদের ভাল চাই না অথবা প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি (আল্লাহ এমনটি না করুন)। আমার প্রিয় ভাই ও বন্ধুরা! আসলে বিষয়টি কক্ষনো এমন নয়। যদিও আমরা আপনাদের এই গণতন্ত্রভিত্তিক রাজনীতির উপর স/ন্তুষ্ট নই। আল্লাহ তা‘আলাকে সাক্ষী রেখে বলছি – আমরা নিজেদের জন্যও গণ-ত/ন্ত্রের পথ ধরে চলাকে পছন্দ করিনা। বরং এই পথের পথিক হওয়াকে নিজেদের দ্বীন ও আখিরাতের জন্য বিপদজনক মনে করি।
.
হে প্রিয় ভাইগণ!
আপনারা হলেন দ্বীনের ধারক বাহক। তাই আপনাদের এই সুস্পষ্ট অনিষ্টের পথে ও ইবলিসের তৈরীকৃত এই ভ্রান্তিমূলক পথে উদাসীন হয়ে ঘুরে ফিরে চলার চাইতে নিজেদের দ্বীনি পরিচয় ও পরিচিতি নিয়ে থাকাটা অধিক উত্তম ও সুউচ্চ মর্যাদার বিষয়। নতুবা এর ফলশ্রুতিতে দ্বীন-ইসলামের শক্ররা দ্বীনের ধারক বাহকদের নিয়ে হাসি-তামাশা করার সুযোগ পাবে! সুতরাং আপনারা নিশ্চিত বিশ্বাস রাখুন যে, আমরা আপনাদের অহিতকামী নই। বরং আপনাদের হিতকামী। আপনাদের দুশ-মন নই, বরং আপনাদের ভাই ও বন্ধু। ইনশা আল্লাহ আমরা কখনো আপনাদের জন্য এমন কোন বিষয় পছন্দ করব না, যা আমরা নিজেরা নিজেদের জন্য পছন্দ করি না। আর তা এই জন্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র হাদীসে ইরশাদ করেছেন:
عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ.
হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- “তোমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা নিজের জন্য পছন্দ করে”। (সহীহ বুখারী)
.
দ্বিতীয় কথা হচ্ছে: আমরা যখন আপনাদেরকে উদ্দেশ্য করে কোন কথা নিবেদন করি, তখন আমাদের প্রতিও আপনাদের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রশ্ন আসতে পারে যে, আপনারা মু-জা/হি;দীনরা দ্বীনের কী কী সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন? বাতিলদের কোন কোন পথ অবরুদ্ধ করেছেন? উম্মাতে মুসলিমার জখমগুলোতে কোন ধরনের প্রতিকারের ব্যবস্থা নিয়েছেন? তাহলে শুনুন- ইনশা আল্লাহ, আমরা মনে করি (প্রকৃত অবস্থা তো আল্লাহ তা‘আলাই ভালো জানেন) এ কথা বলা কোন ধরণের বাড়াবাড়ি হবে না যে – আলহামদুলিল্লাহ, মু-জা/হি;দীনে কেরাম তাদের সাধ্যের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে উম্মাতে মুসলিমার কল্যাণ সাধনে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে তারা তাদের নিকট বা তাদের নিয়ন্ত্রনে কোন কিছুই অবশিষ্ট রেখে দেননি। বরং তাদের নিকট যা ছিল, সে সব কিছুই এই মহান দ্বীনের জন্য, দ্বীনের দাওয়াত ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাজলুম উম্মতের সাহায্যের জন্য অনবরত বিলিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন (ইনশা আল্লাহ ভবিষ্যতেও বিলিয়ে যাবেন)।
.
ছুম্মা আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে আ-ফ-গা-নি-স্তা-ন থেকে ইয়েমেন ও মালি পর্যন্তই নয় বরং পুরো দুনিয়াতে আল্লাহর এই প্রিয় বান্দারা নিজেদের ফরয জি@হা/দ আদায় করে চলেছেন।
.
অন্যদিকে আমরা অতি দুঃখের সাথে এই বিষয়টিও আপনাদের সমীপে পেশ করতে চাই যে, পবিত্র জি@হা/দের নাম অ।ই-এস এর মত অপরাধীরা নিয়েছে। তারপর তারা বিশ্বময় জি@হা/দের বদনাম করেছে। জি@হা/দের মত পবিত্র নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ করেছে। ফলশ্রুতিতে ইসলাম ও মুসলিমদেরকে অনেক জু/লু/ম সহ্য করতে হয়েছে। পাশাপাশি এর দ্বারা কুফর ও কাফিরদের অনেক উপকার সাধিত হয়েছে। এরপর গোপনীয় গোয়েন্দাসংস্থাগুলো অ।ই-এসের পন্থায় বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে, যাতে করে ইসলাম ও মুসলিমদের অনেক বেশী বদনাম হয় এবং জু/লু/ম ও ফ্যাসাদের এই রাত্রি কখনো শেষ না হয়।
.
অতঃপর কথা হচ্ছে: আমরা এটাও স্বীকার করি যে, প্রকৃত মু-জা/হি;দীনরা ফেরেশতা নন, তারা মানুষ। তাই তাদের থেকেও ভুল-ভ্রান্তি প্রকাশ পেতে পারে। সুতরাং আমাদের দাবী এটা নয় যে, জি@হা/দের নামে যে কেউ যা কিছু করবে সবই সঠিক বলে গণ্য হবে। আর আপনারাও তাদের দেখাদেখি সেই সব কিছু করে বেড়াবেন। বরং আমাদের আহবান হচ্ছে এই যে, আল্লাহ তা‘আলার এই মহান দ্বীনের যে দাবী এবং শরীয়াহর যে চাহিদা রয়েছে, আমরা ও আপনারা সবাই তার উপর আমল করবো। কিয়ামতের দিন আমাদের নিজেদেরকে অন্য কারো ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না, বরং আমাদেরকে আমাদের আকীদ-বিশ্বাস ও আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সুতরাং কেউ দ্বীনের নুসরত করার জন্য প্রস্তুত হোক বা না হোক; আমরা ও আপনারা দ্বীনের নুসরতের জন্য কোমর বেঁধে কাজে লেগে যাব। পাশাপাশি আমরা ঐ সমস্ত ভুল-ভ্রান্তি থেকেও বেঁচে থাকার চেষ্টা করবো, যার কারণে অন্যরা দ্বীনের যথাযথ নুসরত করতে পারেনি। এটাই আমাদের মূললক্ষ্য হওয়া উচিত এবং এ সম্পর্কেই আমরা জিজ্ঞাসিত হব।
.
.
চলমান...
টিকা –
.
.
ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সমীপে দরদমাখা আহবান
তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও
করেছেন
আবু উবাইদাহ
সতর্কীকরণ
.
জি/হ|@দের রাস্তা অতিক্রমকারী মু'জ|হি"দদেরকে এখানে একটি সমস্যা ও শ"ত্রুদের একটি নি'কৃষ্ট চাল সম্পর্কে সতর্ক করা জরুরি মনে করছি। তবে তার আগে একটি কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, তা হলো জি/হ|@দের রাস্তা ধৈর্য ও সংকল্পের রাস্তা। এ রাস্তা কাঁটায় ভরা, তবুও এ রাস্তায় শেষ পর্যন্ত চলতে হয়; কারণ এটি জান্নাতের রাস্তা। এ পথে চলা ইচ্ছাধীন নয়, বরং বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরয হল, এ রাস্তায় চলা।
.
আপনারা জানেন যে, এ রাস্তায় চলা কখনও সহজ ছিল না। একারণেই প্রথম থেকেই মুমিন ও মুনা;ফিকের মাঝে পার্থক্য করে আসছে। এ অবস্থায় যে বাস্তবিক পক্ষেই আখেরাতকে চায়, যে সত্যিকারেই আল্লাহকে ভালোবাসে, যে উম্মতের এই দুর্দশায় আসলেই ব্যথিত, সে এই রাস্তায় পাহাড়ের মতো কঠিন সমস্যাকেও হাসিমুখে বরণ করে নেয়। সে জি/হ|@দ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিরাপদ জিন্দেগী গ্রহণ করাকে আযাব মনে করে।
.
সে বোঝে যে, এখানকার দৌড়-ঝাপ, চেষ্টা-প্রচেষ্টা, কষ্ট-মসিবত, পেরেশানি, ম|রপিট, ব'ন্দীত্ব, অনাহ|র, দেশ|ন্তর এবং মৃত্যু সবই (আযর ও সাওয়াবের) মাইলফলক। তাই তারা এসব বিপদ দেখে ঘাবড়ায় না। অঃস্ত্র রেখে দেয় না, ভীত হয় না; বরং বিপদাপদের সামনে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। আল্লাহর কাছে তাওফিক চেয়ে বিপদের এই পাহাড় কেটে নিজের জন্য জান্নাতের রাস্তা তৈরি করে। সে জানে আখেরাতের পথিক দ্বীনের দু'শমঃনের শক্তি দেখে ভীত হয় না। তাদের ধোঁ"কাপূর্ণ চাল'বাজি ও ষ'ড়;যন্ত্র দেখে মন খারাপ করে না। সে বোঝে, হ'ক রাস্তার হাতিয়ার হলো তাকওয়া ও সবর। এই দুটি জিনিস যদি থাকে তাহলে ব|তিলের সমস্ত ষ'ড়;যন্ত্র, চালবাজি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। আর আল্লাহ তার বান্দাকে এই মহাসড়কে চলার তাওফিক দান করেন। এবং তাকে জান্নাতে নিয়ে যান।
.
সতর্কীকরণ হলো-
হ'কের রাস্তায় ব|তিলের পক্ষ থেকে একটি বাধা হলো তাদের ধোঁ:কা। এটা এমন একটা চাল, যা ব|তিল নিজের শ'ক্তি শেষ হয়ে গেলে এবং সমস্ত মাধ্যম অকেজো হয়ে গেলে ব্যবহার করে। সব শ'ক্তি শেষ হয়ে গেলে ধোঁ:কাবাজির জ|ল বিছায়। তাদের ধোঁ:কার একটি হলো তাদের কিছু গো'লাম মু'জ|হি"দ, দ|ঈ সেজে ইন্টারনেটের পথে মুখলিস মু'জ|হি"দ পর্যন্ত পৌঁছে এবং তাকে ফাঁসিয়ে জে;লে বন্দী করে। এই জ|ল তো মাকড়সার জ|লের মতো দুর্বল, কিন্তু মু'জ|হি"দদের গাফলতির কারণে অনেক সময় তা ভয়ানক হয়ে উঠে।
.
দু'শম;নের এই সম্ভাব্য চাল যদি আগেই বোঝা যায়, তাহলে এর মোকাবেলা করা খুবই সহজ। দু'শম;ন এক্ষেত্রেও ব্যর্থ হবে। কিন্তু এই ধরণের চাল সম্পর্কে যদি কোন ধারণাই না থাকে, তাহলে যেই জি/হ|@দের কথা বলবে তাকেই সত্যিকারের মু'জ|হি"দ মনে হতে থাকবে। আর এভাবেই আমরা নিজ পায়ে হেঁটে জ|লে আবদ্ধ হব। আরব হোক বা আফ্রিকা, আমেরিকা, ইউরোপ হোক বা ভারত উপমহাদেশ হোক সব জায়গায়ই দ্বীনের দু'শম;নরা এই চ|লবজি করছে। সুতরাং তাদেরকে চেনা এবং চিহ্নিত করা জরুরি।
.
আমরা ইন্টারনেটে এক্ষেত্রে দুই ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হই। আমাদের পাঠক ও সম্পৃক্ত ব্যক্তিদেরকে উভয় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য তৈরি করা জরুরি।
.
একটি চ্যালেঞ্জ হলো, স'হীহ জি/হ|@দি মান;হ|জকে বোঝা, শুধু তাকেই গ্রহণ করা এবং তাতেই অগ্রসর হওয়া।
.
দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো, গো;য়েন্দ|দের অ'পতৎ;পরতা থেকে বাঁচা এবং শুধু আসল মু'জ|হি"দদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা।
ইন্টারনেট ও তার বাহিরে আমাদের এই চ্যালেঞ্জের সাথে যদি সংগ্রাম করতে হয়, আর আমরা জি/হ|@দের বিরুদ্ধে ষ'ড়;যন্ত্রের মোকাবেলা করা আমাদের বুনিয়াদি দ|ওয়াতের অংশ না বানাই, তাহলে তা হবে ওই ব্যক্তির মত যে খরস্রোতা নদীতে ঝাঁপ দিলো কিন্তু সাতারের কোন খবর নেই। আল্লাহ আমাদেরকে এ ময়;দ|নের হাতিয়ার গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন, আমীন।
.
নিরাপত্তার জুজুবুড়ি ও জি/হ|@দের দ|ঈদের করণীয়
.
দ্বীনের দু'শম;নদের চাহিদা হলো যুবকরা নেটে সবধরনের খারাপ জিনিস দেখুক, সব অশ্লীলতার গর্তে প্রবেশ করুক, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আসল জীবনের পথ দেখায় এমন বিষয় থেকে (দ্বীনের দ|ওয়াত ও জি/হ|@দ থেকে) দূরে থাকুক। তাদের চেষ্টা হলো নেটে এমন এক পরিবেশ তৈরি করা, যাতে জি/হ|@দ বিষয়ে কোন কিছু দেখলেই যু;বক"দের অন্তর কাঁপা শুরু হয় এবং এমন মনে করে যে, এসব বিষয় দেখলেই জি/হ|@দের দু'শম;নরা তাকে উঠিয়ে নিয়ে গুম করে ফেলবে।
.
দু'শম;ন তাদের এই চাহিদা ও চেষ্টাকে গোপন করেনি। বরং তাদের “RAND Corporation” তার রিপোর্টে উল্লেখ করেছে: নেটে নি'র|পত্তার একটি ধোঁয়া তোলা উচিৎ (জি/হ|@দি বিষয় দেখা রিস্ক, দেখলেই ধরবে এমন মানসিকতা সৃষ্টি করা)। এর দ্বারা অধিকাংশ মানুষ জি/হ|@দি পেইজ ও সাইট থেকে দূরে সরে যাবে। নেটে দ|ওয়াতের কাজে নিয়োজিত ভাইদের জন্য জরুরি হলো এই ভয়ের চিকিৎসা করবে। তাদেরকে বোঝাবে যে, শুধু বিষয়টি দেখা বা পড়ার দ্বারা কোন সমস্যা হয় না। সাথে সাথে তাদেরকে এমন টেকনিক শেখাবে, যাতে নিজেকে নি'র|পদ রেখে দ|ওয়াতি বিষয় পড়তে পারে। বাস্তবতা হলো শুধু জি/হ|@দি বিষয় দেখা পড়ার দ্বারা কোন ক্ষতি নেই, সমস্যা হলো দ|ঈর বেশে থাকা বহুরূপি ইসলামের দু'শম;নকে আসল দ|ঈ মনে করা। তাকে নিজের আসল অবস্থান বলা, তার সাথে অফলাইনে সম্পর্ক করা। অথবা জি/হ|@দ ধ্বংসকারী মান;হ|জকে আসল মান;হ|জ মনে করা। নেটের এই দুই দিকের সমস্যা বোঝা ও বেঁচে থাকা সকলের জন্য জরুরি।
করেছেন
আবু উবাইদাহ
আকীদা সংশ্লিষ্ট শাখাগত মতবৈচিত্র ও তানজিমের দৃষ্টিভঙ্গি
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
তানজিম কায়িদাতিল জিহাদ সকল বিষয়ে পরিপূর্ণভাবে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর আদর্শ লালন করে।
-
যেসব শাখাগত বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর মাঝে একাধিক হক্বপন্থী মাজহাব মাসলাক ও মানহ|জ রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে সবগুলোকেই আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত মনে করে। নির্দিষ্ট কোনো একটি মাসলাককে পৃথিবীর সকল মুসলমানের উপর চাপিয়ে দেওয়ার মতাদর্শ লালন করে না। বরং শরীয়াহর গণ্ডির ভিতর থেকে প্রত্যেক অঞ্চলের মানুষ নিজ নিজ অঞ্চলে প্রচলিত মাজহাব মাসলাকের অনুসরণ করাকেই অধিক উত্তম ও নিরাপদ মনে করে।
-
এ মূলনীতি ফিকহের ম|জ*হ|বগুলোর ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য তেমনি অ|'কী'দ|র শাখাগত ম|জ*হ|বগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। হানাফী, শাফিয়ী, মালিকী, হাম্বলী সবগুলো ম|জ*হ|বই অ|হলুস সুন্ন|হর অন্তর্গত ম|জ*হ|ব। ঠিক তেমনি অ|'কী'দ|র ফুরুঈ বিষয়গুলোতেও আশআরী, মাতুরিদী এবং আছারী ধারা সবগুলোই অ|হলুস সুন্ন|হর অন্তর্ভুক্ত ম|স'ল|ক।
-
তাই অ|ল*ক|য়েদ| নির্দিষ্ট কোন ম|স'ল|ককে অফিসিয়াল ম|জ*হ|ব হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বাকিগুলোকে খারিজ করে দেয়নি। ‘অমুক ম|স'ল|কের অনুসারী না হলে তাকে ত|ন*জি&মে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না বা ত|ন*জি&মে থাকতে দেয়া হবে না’ - এমন কোনো ঘোষণাও কখনো দেয়নি।
-
মনে রাখতে হবে: জাহমিয়া, মুআত্তিলা, মুতাজিলা, মুজাসসিমারা অ|হলুস সুন্ন|হর অন্তর্ভুক্ত নয়। এদের ভ্রান্তির প্রতি অ|ল*ক|য়েদ| বিন্দুমাত্র সমর্থন বা সহানুভূতি রাখে না। পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে: আশআরী-মাতুরিদীদের উলামায়ে কেরামকে জাহমিয়া-মুরজিয়া-মুআত্তিলা সাব্যস্ত করা যেমন অন্যায়; একইভাবে আছারী ধারাকেও মুজাসসিমা, মুশাব্বিহা কিংবা হাশাবিয়্যাহ সাব্যস্ত করাও অন্যায়। তর্কে জেতার জন্য অ|হলুস সুন্নার কোন ম|জ*হ|বকে বাতিল ফিরকার নামে ডাকা শ;রী:য়তে বৈধ নয়। একই সঙ্গে অ|হলুস সুন্ন|হর অনুসারীরা খেয়াল রাখতে হবে- তারা যেন ওই বাতিল ফিরকাগুলোর মতামত দ্বারা পুরোপুরি কিংবা আংশিক প্রভাবিত না হন। তাদের প্রভাব এড়িয়ে তারা যেন পরিপূর্ণভাবে অ|হলুস সুন্ন|হর মতামতকেই লালন করেন।
-
অ|ল*ক|য়েদ| ত|লেঃব|নের হাতে বাইআতবদ্ধ একটি বৈশ্বিক জামাত। এর কর্মপরিধি সারা পৃথিবী জুড়ে। পৃথিবীর যে অঞ্চলে অ|হলুস সুন্ন|হ ওয়াল জামাআর যে ম|স'ল|কটি অধিক প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত, সে অঞ্চলের মু-জ|/হি"দগণ সাধারণত সে ম|স'ল|কের অনুসরণ করবেন- এটিই স্বাভাবিক। শ;রী:য়াহ সমর্থিত আবহমান কাল ধরে চলে আসা ম|স'ল|ক পরিত্যাগ করে ভিন্ন একটি ম|স'ল|ক গ্রহণ করতে হবে- এমন কথা অ|ল*ক|য়েদ| কখনও বলে না।
-
হাঁ, কারো নিকট নিজ অঞ্চলে প্রচলিত অ|'কী'দ|র ম|স'ল|কের তুলনায় আহলে সুন্ন|হর অ|'কী'দ|র ভিন্ন ম|স'ল|ক দলিল ও শরয়ী উসূলের আলোকে অগ্রগণ্য মনে হলে ব্যক্তিগতভাবে সে তার অনুসরণ করতে পারে। কিন্তু অন্যের উপর নিজের মত চাপিয়ে দেয়া, এসব ফুরুয়ী বিষয় নিয়ে ফেতনা ও সংশয় সৃষ্টি করার অধিকার রাখে না।
-
মূলত বিশ্বব্যাপী খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার সং&গ্র|মে লিপ্ত কোনো ইসলামী আ"ন্দো"লনের জন্যই এমন সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি লালন করা উচিত নয় যে, ইজতিহাদী বিষয়ে কেবল একটি ম|জ*হ|বকে অফিসিয়াল মতাদর্শ বানিয়ে নিয়ে বাকি সকল ম|জ*হ|ব-ম|স'ল|ককে বাতিল করে দিবে। এ ধরনের পদক্ষেপ মুসলিম সমাজে গভীর সংকটের সৃষ্টি করে।
-
এ জন্যই খলিফা মানসুর যখন ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহকে বলেছিলেন- "আমি সকল মুসলমানকে এই কিতাব (মুআত্তায়ে মালেক) অনুযায়ী চলার আদেশ দিতে চাই" তখন ইমাম মালেক রহিমাহুল্লাহ বলেছিলেন-
يا أمير المؤمنين، لا تفعل فإن الناس قد سبقت إليهم أقاويل وسمعوا أحاديث ورووا روايات وأخذ كل قوم بما سبق إليهم وعملوا به ودانوا به من اختلاف الناس أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وغيرهم، وإن ردهم عما اعتقدوه شديد، فدع الناس وما هم عليه وما اختار كل أهل بلد لأنفسهم. –رواه الإمام ابن عبد البر بإسناده في جامع بيان العلم وفضله (1/ 533)
“হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি এমনটা করবেন না। মানুষের নিকট বিভিন্ন মত আগেই পৌঁছেছে। তারা হাদীস শুনেছে, বিভিন্ন রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছে এবং সাহাবা-তাবেয়ীদের মতভেদ হতে প্রত্যেক জাতি ঐ মতটি গ্রহণ করেছে যা তাদের নিকট প্রথমে পৌঁছেছে এবং সে অনুযায়ী তারা আমল করেছে। এখন এ থেকে তাদেরকে ফিরানো কঠিন। তাই মানুষকে আপন অবস্থায় ছেড়ে দিন। যে অঞ্চলের মানুষ যে মত গ্রহণ করেছে তা অনুযায়ী আমল করতে দিন।” -জামিউ বয়ানিল ইলম: ১/৫৩৩
খলিফা তখন এই সংকল্প পরিত্যাগ করলেন।
-
অনেকের ধারণা ফিকহের শাখাগত বিষয়ে একাধিক হক ম|জ*হ|ব থাকলেও অ|'কী'দ|র শাখাগত বিষয়ে একটি ম|স'ল|কই সঠিক, বাকি সবাই বাতিল। অথচ এটি বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত। অ|'কী'দ|র যেসব সূক্ষ্ম বিষয়ে একাধিক ম|জ*হ|ব তৈরী হয়েছে সেসব বিষয় যদি অকাট্য, কতয়ী, এবং মুহকাম হতো তাহলে একাধিক ম|জ*হ|ব তৈরীই হতো না। বিষয়গুলো শাখাগত, জন্নী এবং সূক্ষ্ম বলেই একাধিক ম|জ*হ|ব তৈরী হয়েছে। সাধারণ মুসলিমদের জন্য মৌলিক অ|'কী'দ|টুকুই যথেষ্ট, শাখাগত ওইসব মতভেদ জানা জরুরী না। দ্বীনের পথে সং&গ্র|মকারীদের জন্য এসব বিষয়ে লিপ্ত না হয়ে নিজেদের আসল কাজে ব্যস্ত থাকা উচিৎ। সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম যেমনিভাবে এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে কোনো বিতর্কে লিপ্ত হননি- সেটিকেই ইসলামী আ"ন্দো"লনগুলো নিজেদের কর্মপন্থা বানানো উচিৎ। শায়খ উ;স|"ম| এবং শায়খ জ|"ওয়|"হিরির জীবন ও কর্মপন্থা আমাদেরকে এটাই শিখায়। এসব বিষয়কে তাঁরা কখনোও প্রশ্রয় দেননি। আর নির্দিষ্ট কোনো ম|জ*হ|বকে অফিসিয়াল ম|জ*হ|ব বানিয়ে বাকিদেরকে খারিজও করেননি। ফলে ত|লেঃব|ন-অ|ল*ক|য়েদ|র ছায়াতলে একই সময়ে হানাফী, শাফিয়ী, মালিকী, হাম্বলী এবং আশআরী-মাতুরিদী-আছারী সকল ঘরানার মুসলমান জি@হা/দ ফি-স|বিলিল্ল|হ জিম্মাদারী আদায় করেছেন।
-
আর অ|ল*ক|য়েদ| সমর্থক যেসকল উলামা এসব বিষয়ে কথা বলেছেন, কলম ধরেছেন: তো এসব বিষয়ে আলোচনা ও মতভেদ সালাফদের যামানা থেকেই চলে আসছে। আমরা সালাফদের মতভেদকে যেভাবে মূল্যায়ন করি, সমকালীনদের মতভেদকেও সেভাবেই মূল্যায়ন করা উচিৎ। এসব বিষয়কে অবলম্বন করে দলাদলী সৃষ্টি করা কখনও সালাফের তরিকা ছিল না।
-
যারা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন ক|য়েম করতে চান, সকল মুসলমানকে খেল|"ফতের সুশীতল ছায়াতলে একত্রিত করতে চান তাদের জন্য অ|হলুস সুন্ন|হ ওয়াল জামাআতের সকল ঘরানার প্রতি উদারতা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
করেছেন
আবু উবাইদাহ
জিহাদের দাঈদের খেদমতে কিছু কথা পর্ব - ৫,৬
.
১৯. একটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে, তা হলো: দাওয়াতের মধ্যে আমাদের শঃত্রু হিসেবে শুধু কু%ফু"রি শ|স"নব্যবস্থা ও তার নেতৃত্ব এবং সশস্ত্র বাহিনীকে বর্ণনা করা। তাদের বিরুদ্ধে জি@হা/দের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হবে। তেমনিভাবে সেক্যুলারিজমও আমাদের আসল প্রতিপক্ষ। আর যেই দ্বীনদার শ্রেণি আমাদের বিরোধিতা করে তারা আমাদের শঃত্রু নয়, তাদেরকে আমরা দাওয়াত দেব।
.
২০. দাওয়াতের মধ্যে জি@হা/দ দ্বারা আমাদের আসল উদ্দেশ্য ই’লায়ে কালেমাতুল্লাহ বর্ণনা করা। অর্থাৎ ব্যক্তিজীবন, সামাজিকজীবন, রাষ্ট্রীয়জীবনে শ*রি*য়ত বাস্তবায়ন করা। মাজলুমদের সাহায্য করা এবং ক|ফে"রদের হাত থেকে মুসলিমদের ভূমিগুলো উদ্ধার করাও জি@হা/দের উদ্দেশ্য। তবে এগুলো সব মূল উদ্দেশ্যের (দ্বীনের বিজয়) অধীন।
.
২১. ইসলামি অধিকৃত ভূমি, বিশেষ করে বাইতুল মাকদিস ও হারামাইনকে মুক্ত করার কথা বলতে থাকা। তেমনিভাবে ফিলিস্তিনের ওপর ইহুদিদের দখলদারিত্বে আমেরিকা ও আরব ত|গু'তদের সংশ্লিষ্ট থাকার কথা বারবার স্পষ্ট করতে থাকা। এ কারণে আমেরিকার প্রতি শঃত্রুতা পোষণ ও সারা দুনিয়ার মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে হামলার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। কাশ্মীর উম্মতে মুসলিমার তাজা যখম। কাশ্মীরের জি@হা/দেরও দাওয়াত দেয়া হবে এবং তাতে এজেন্সিগুলোর অধীনস্থতার থেকে বের হওয়া এবং শ;রী:য়তের মাকসাদের অনুগামী করার চেষ্টা করা। ইমারাতে ইসলামিয়া আ-ফ/গা/নি/স্তা-নের সাহায্য সহযোগিতার কথা বলা দাওয়াতের বুনিয়াদি বিষয়।
.
২২. দাওয়াতের মধ্যে জি@হা/দি অ|ন্দো;লনের শঃত্রু কমানো এবং বড় শঃত্রু (কু%ফু"রি শ|স"ন ব্যবস্থার লিডার ও রক্ষকদের) বিরুদ্ধে উম্মতকে এক করা।
.
২৩. পাকিস্তানে জি@হা/দের দাওয়াত শুধু দেশীয় ত|গু'তদের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের বিরুদ্ধেও হবে এবং এটা বর্তমানে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু শুধু তাদের বিরুদ্ধেই হবে না। প্রথমত তাদের বিরুদ্ধে করতে হবে, যাদের যুলম, কু%ফু"র এবং মুসলমানদের দুশমন হওয়ার ব্যাপারে মুসলমান জনসাধারণ সবাই একমত। শায়খ উসমা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ’র মতে যেই ক|ফে"রের কু%ফু"রি স্পষ্ট সাধারণ মুসলমান তাদের বিরুদ্ধে জি@হা/দের দাওয়াতকে সহজে কবুল করে। কিন্তু যদি কোন ক|ফে"র ইসলামের পোশাক পরে এবং ধোকা-জালিয়াতির মাধ্যমে কাজ করে তাহলে এই লোকের কু%ফু"রি আসল ক|ফে"র থেকেও ভয়ঙ্কর হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে জি@হা/দ করাকে অত সহজে মেনে নেয় না। আমেরিকা ও ভারত এমন ক|ফে"র রাষ্ট্রের মাঝে এমন যে, যাদের কু%ফু"র, যু-লু*ম, অ|গ্র|স&ন এবং মুসলমানদের শঃত্রু হওয়ার ব্যাপারে কোন সাধারণ মানুষেরও মতবিরোধ নেই। এই দুই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জি@হা/দ করা আসল উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং খুবই জরুরি। সাথে সাথে এই জি@হা/দি অ|ন্দো;লনকে শক্তিশালি করা, আঞ্চলিকভাবে ব|তি"ল শ|স"নব্যবস্থাকে বোঝানো এবং তার বিরুদ্ধে মুসলমানদেরকে দাঁড় করানোর জন্যও জরুরি। আমেরিকা ও ভারতের বিরুদ্ধে জি@হা/দ স্থানীয় ত|গু'তদের নেফাকি প্রকাশ করে দেয়। এর মাধ্যমে তাদের দ্বীনের সাথে শঃত্রুতাও প্রকাশ পেয়ে যায়।
.
২৪. আমাদের সব কথা ও কাজ যেন জি@হা/দের সুউচ্চ উদ্দেশ্য ও দাবির বিশ্লেষণ করে হয়। দাওয়াতের মধ্যে এমন কোন কথা ও জি@হা/দের মধ্যে এমন কোন কাজ করা যাবে না, যার দ্বারা জনসাধারণের মনে আমাদের জি@হা/দের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অস্পষ্টতা তৈরি হয় এবং সেই কথা ও কাজ না বোঝার কারণে ফেতনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু বলেন: “…… লোকদের সামনে যদি এমন কথা বল যা তারা বোঝে না, তাহলে ঐ কথা তাদের জন্য ফেতনার (হক থেকে দূরে সরার) কারণ হতে পারে।”
এজন্য এমন কোন কথা যা সম্বোধিত ব্যক্তি বুঝবে না তা বলা উচিৎ নয়। তেমনিভাবে যে কাজ সাধারণ মানুষের মনে জি@হা/দের উদ্দেশ্যের বিপরীত ধারণার সৃষ্টি করে তা করা থেকে দূরে থাকা উচিৎ, যদিও তা সঠিক হয়।
.
২৫. কাজের যিম্মাদার আসলে দাওয়াত। দাওয়াত একদিকে জি@হা/দ ও মু-জ|/হি"দদের উপকার করে, তেমনিভাবে তা অপূরণীয় ক্ষ%তিও করতে পারে। যদি দাওয়াত মু-জ|/হি"দদের ইনসাফকারী হিসেবে পেশ করে, যেমন, তাদের জি@হা/দ ভালো উদ্দেশ্যে, তারা নিরপরাধ মানুষের র?ক্ত প্রবাহিত করে না। শুধু ইসলাম ও মুসলমানদের শঃত্রুদের হত্যা করে। তাহলে জি@হা/দের সমর্থক বাড়বে। আর যদি দাওয়াত মু-জ|/হি"দদের ঘোষণাকৃত বিষয়ের বিপরীত দেখায় তাহলে তা ইসলামের শঃত্রুদের উপকার করে। কার্যক্রমের জিম্মাদারি নেয়া যেহেতু খুবই সংবেদনশীল ও খুবই দায়িত্বপূর্ণ কাজ, এজন্য দাওয়াতের দায়িত্ব যদি দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের হাতে না থাকে তাহলে এই একটি কাজই জি@হা/দের দাওয়াত নষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারে।
.
২৬. দাওয়াত ও জি@হা/দের ক্ষেত্রে এমন বাক্য, দৃশ্যই দেখানো হবে, যা দাওয়াতের ক্ষেত্রে উপকারী প্রমাণিত হওয়াটা নিশ্চিত। যেক্ষেত্রে একটু সন্দেহ হবে, তা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাকে যা সন্দেহে ফেলে তা তুমি ছেড়ে যে বিষয় (নিশ্চিতভাবে *রি*য়ত সম্মত হওয়ার কারণে) তোমাকে সন্দেহে ফেলেনা, সে বিষয় গ্রহণ কর।”
তাছাড়া এমন দাওয়াতের ক্ষেত্রে এমন কোন কথা বা দৃশ্য দেখানো যাবে না, যার দুই অর্থ হয়, আপনি তো ভালো অর্থ নিলেন কিন্তু অন্যরা খারাপ অর্থ নিল, আর এর দ্বারা প্রতিপক্ষ প্রোপাগান্ডার সুযোগ পেল। দাওয়াত ও জি@হা/দি মিডিয়ায় সাধারণত শুধু ওই অর্থ উদ্দেশ্য নেয়া হয়, যা সাধারণ মানুষ বোঝে। হতে পারে এটা আপনার বুঝের বিপরীত। এজন্য আপনার কথা দ্বারা মানুষ কি বার্তা পায় সেটাই হলো আসল। আর এটাকেই সঠিক ও উপকারী রাখার গুরুত্ব দিতে হবে। এর একটি উদাহরণ হলো গোয়েন্দা ও সৈন্যদের জবাই করার দৃশ্য, এমন ছবি প্রকাশ করার দ্বারা জি@হা/দি মিডিয়ার ক্ষ%তি হয় এবং মু-জ|/হি"দদেরকে নির্দয় প্রমাণকারীরা একটি সুযোগ পেয়ে যায়।
করেছেন
আবু উবাইদাহ