জিহাদের দাঈদের খেদমতে কিছু কথা পর্ব - ৩,৪
.
১১. দ্বীনদার শ্রেণি, ধর্মীয় রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য মতবিরোধকারীদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি মনে রাখতে হবে, তাদের ভালো কাজের প্রশংসা ও উৎসাহ দেয়া হবে এবং ভুলের সমালোচনা ও নছিহত করা হবে, গোপন ভুলের ক্ষেত্রে গোপনে নছিহত, প্রকাশ্য ভুলের ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে নছিহত। তাদের ভুলভ্রান্তি ও ত্রুটির কারণে তাদের ভালো কাজগুলোকে মোটেও অস্বীকার করা যাবে না। প্রত্যেক জিনিসকে তার আপন জায়গায় রাখা হলো ইনসাফ। মু-জ|/হি"দদের জন্য এই ইনসাফ রক্ষা করা অন্যদের চাইতে বেশি জরুরি। এভাবে কাজ করলে আমরা একদিকে যুলম থেকে বেঁচে গেলাম, অন্যদিকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হবে। অন্য দিকে তাদের ভালো কাজের প্রশংসা ও উৎসাহ দেয়ার দ্বারা সে গোড়ামির শিকার হবে না। আর ইনশাআল্লাহ হকের জন্য তার অন্তর খুলে যাবে।
.
১২. দাওয়াতের মধ্যে সর্বদা একথা বোঝানো যে, আমরা হেদায়াতের পথে আহবানকারী একটি দল। মানুষের সফলতা ও কামিয়াবির জন্য আমরা দাঁড়িয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে মানুষের গোলামি থেকে বের করে আল্লাহর আনুগত্যের ছায়ায় নিয়ে আসা। আমরা নিজেদের পরিচয় “কিছু শ|স্তি বাস্তবায়ন চাই” দ্বারা করাবো না। অন্য কেউ করলে তাও গ্রহণ করবো না। এই শ|স্তিগুলো আমরাও বাস্তবায়ন করবো, কারণ এগুলো শ;রী:য়তের গুরত্বপূর্ণ বিষয় এবং এর অনেক বরকত আছে। কিন্তু শ|স্তি বাস্তবায়ন করাই পূর্ণ শ*রি*য়ত নয়। শ;রী:য়তের মধ্যে আল্লাহর ভয় জাগ্রত রাখা, ইনসাফ-ন্যয়বিচার, পবিত্রতা-লজ্জার প্রসার, সাম্য, মানুষের সেবা, ইসলামি সমাজ, জীবনব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করা। ভালো কাজের প্রতি আহবান, সৎ কাজের আদেশ অসৎ কাজে নিষেধ করা। অসহায়-গরিব মানুষের জন্য যাকাতের ব্যবস্থা, আল্লাহর বিধান কার্যকর করাসহ আরও অনেক গুরত্বপূর্ণ বিষয় আছে। শ|স্তি তো শুধু অপরাধীদের দেয়া হয়। আর একটি ইসলামি সমাজ যেখানে ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা চালু আছে সেখানে আর কী পরিমাণ অপরাধ হয়? অন্য দিকে ওই সমাজব্যবস্থা দ্বারা কত মানুষ উপকৃত হয়? স্পষ্টত এই উভয়টির মাঝে কোন তুলনা চলেনা। একটি সমাজের লাখো মানুষের মাঝে কিছু মানুষের নিজেদের ভুলের কারণে যে বিধানের সম্মুখীন হয়, তা দিয়ে কি কোন শ|স"নব্যবস্থার পরিচয় করানো যায়? না, বরং যা অধিক ও প্রবল, তা দিয়ে পরিচয় করানো হয়। দ্বীন প্রতিষ্ঠার অগণিত ফায়দা। সর্বোচ্চ সৌন্দর্য, সীমাহীন বরকত এত ব্যাপক ও বেশি যে, এর দ্বারা সারা দুনিয়ার মানুষ উপকৃত হয়। তাই আমরা এগুলো দ্বারাই আমাদের পরিচয় দেব। ব|তি"ল শ|স"নব্যবস্থায় কি কি শ|স্তি নেই? তা দ্বারা কি তার আহবানকারীরা ব|তি"ল শ|স"নব্যবস্থার পরিচয় করায়? না, বরং কথিত উপকারিতার কথা বর্ণনা করে?
.
১৩. দাওয়াতের মধ্যে ‘ধীরে চল’ এবং ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে কর’ নীতির অনুসরণ করা উচিৎ। বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রেখে তার থেকে কম গুরত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রাধান্য দেয়ার দ্বারা দাওয়াতের প্রভাব কমে যায়। অথবা সম্বোধিত ব্যক্তি ভুল বোঝে। যেমন সেনাবাহিনীর কারো সাথে আমাদের শঃত্রুতার কথা বললে প্রথমে তাদের বড় অপরাধ হিসেবে কু%ফু"রি শ|স"ন ব্যবস্থা ও কু%ফু"রির লিডারদের রক্ষা করা উল্লেখ করা উচিৎ। আল্লাহকে ছেড়ে টাকা পয়সার গোলামি, সব ধরনের জুলমকে উল্লেখ করা উচিৎ। কিন্তু যদি সৈনিকদের বাদ্যের তালে নাচাকে প্রথম অপরাধ বলা হয়, তাহলে শ্রোতা মু-জ|/হি"দদের জি@হা/দের উদ্দেশ্য সৈনিকদের নাচাকেই মনে করবে। নাচ-গান সৈনিকদের দাড়ি কাটতে বাধ্য করার মতো গুনাহের আলোচনাও হওয়া উচিৎ তবে তার আপন জায়গায়। তেমনিভাবে একজন ব্যক্তি নামাজও পড়ে না, জি@হা/দও করে না, এক্ষেত্রে তাকে কোন বিষয় বলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ? স্পষ্টত নামাজের কথা বলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্যও তো কবর, আখেরাতের জীবনের ফিকির তৈরি করা আরও বেশি জরুরি। কিন্তু যদি সব কিছু বাদ দিয়ে জি@হা/দের ফরযিয়ত ও জি@হা/দে বের না হলে কি ধমকি এসেছে, তার আলোচনা করলে ওই লোকের ওপর কি প্রভাব পড়বে?
.
১৪. আলোচনার সূচনা মতবিরোধপূর্ণ বিষয় দ্বারা করা যাবে না। জরুরি হলো একমতের বিষয় দ্বারা আলোচনা শুরু করা। সম্বোধিত ব্যক্তি যে বিষয়কে হক ও কল্যাণকর মনে করে, বিশেষ করে সে যে বিষয়ের প্রবক্তা, সে বিষয়ে তার সাথে একমত পোষণ করা এবং তাকে উৎসাহ দেয়া। সেই ঐক্যের বিষয়কে মূল বানিয়ে তারপর যে বিষয়ের দাওয়াত দিতে চায় তা পেশ করা। যদি প্রথমেই মতবিরোধের আলোচনা করা হয় বিশেষ করে নিজেদের লোকের কাছে, তাহলে সম্বোধিত ব্যক্তির জন্য কথা শোনা কষ্টকর হয়ে যাবে। তেমনিভাবে সব সংবেদনশীল বিষয় একই মজলিসে আলোচনা করবে না। মাদউকে আস্তে আস্তে দাওয়াত দেয়া হবে এবং তার মন মানসিকতা, হজম শক্তি অনুযায়ী তাকে বোঝাবে।
১৫. সম্বোধিত ব্যক্তির রূঢ় ব্যবহারে ধৈর্য ধারণ করবে এবং শরয়ী সীমারেখা রক্ষা করবে। তার খারাপ ব্যবহারের পর তার সাথে ভাল ব্যবহার করা তার সাথে ইহসান। যেই পরিমাণ দয়া ও তাকওয়ার সাথে তাকে দাওয়াত দেয়া হবে ওই পরিমাণ দাওয়াতের প্রভাব তার ওপর পড়বে। অন্যভাবে বললে, আপনার দাওয়াত ওই পরিমাণ দলিলের ময়দানে কার্যকর প্রমাণিত হবে।
.
১৬. জি@হা/দি মিডিয়ায় আমাদের দাওয়াত সাধারণ হওয়া উচিৎ। যেহেতু আমাদের সম্বোধিত ব্যক্তিদের অধিকাংশই সাধারণ শ্রেণির মানুষ। এজন্য আমাদের কথাও তাদের বুঝ অনুযায়ী হওয়া উচিৎ। তাদের বুঝের ঊর্ধ্বে যেন মোটেও না হয়। আমার কথার উদ্দেশ্য এটা নয় যে, বিশেষ ব্যক্তিদের দাওয়াত দেয়া হবে না। তাদেরকে উদ্দেশ্য করেও কথা বলা হবে, তাদের রুচি অনুযায়ী বক্তব্য হবে, কিন্তু সাধারণ বক্তব্যে সাধারণ মানুষের প্রতি লক্ষ রাখা জরুরি।
.
১৭. জি@হা/দি মিডিয়া এবং দাওয়াতের মধ্যে কোন অনৈসলামিক মাধ্যম গ্রহণ করা যাবে না। উদ্দেশ্য এবং মাধ্যম উভয়ের মধ্যে যত বেশি শ;রী:য়তের প্রতি লক্ষ রাখা হবে, সে পরিমাণ আল্লাহর রহমত নাযিল হবে এবং দাওয়াত বরকতময় হবে। বিশ্বাস করতে হবে, যে বিষয় শ;রী:য়তে নাজায়েয তা দ্বারা কখনও দাওয়াতের ফায়দা হয় না। সুতরাং মিথ্যা ও ধোঁকা থেকে পরিপূর্ণ দূরে থাকতে হবে। শ;রী:য়ত যে ক্ষেত্রে এর অনুমতি দিয়েছে সে ক্ষেত্র দাওয়াত নয়, জি@হা/দ। তাই আমাদের মিডিয়ায় কোন খবর বাড়িয়ে প্রচার করা যাবে না যার কোন বাস্তবতা নেই। এমন বাড়িয়ে প্রচার করার দ্বারা দাওয়াতের ক্ষ%তি হয় এবং আমাদের সত্যবাদিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
.
১৮. যেই শ্রেণির সাথে কথা বলা হবে, নিজেকে তাদেরই একজন করে কথা বলতে হবে। এর বিপরীতে সম্বোধিত ব্যক্তিদের মানসিকতা, আবেগ উদ্দীপনা ও তাদের অবস্থাদি জানা ব্যতীত যদি তাদেরকে দাওয়াত দেয়া হয় তাহলে তারা কথা বুঝবে না এবং এই দাওয়াতের জন্য তাদের অন্তর খুলবে না। মঙ্গলগ্রহের দিকে তাকিয়ে থাকা ব্যক্তি মঙ্গলগ্রহের অবস্থাদি সম্পর্কে অবগত হয়ে যদি পৃথিবীবাসীর সমস্যার সমাধান করতে শুরু করে, তাহলে কিভাবে পৃথিবীবাসী তার কথা মনযোগ দিয়ে শুনবে? সম্বোধিত ব্যক্তিরা নিজেদের সমস্যাকে যেই দৃষ্টিতে দেখে দ|ঈকেও সেই দৃষ্টিতে দেখতে হবে। সম্বোধিত ব্যক্তিরা যেই সমস্যা ও বাধা দ|ঈর সামনে পেশ করে তা দ|ঈরও অনুভব করতে হবে। এই অনুভবের পরেই ঐ বিষয়ের দাওয়াত দিবে শ*রি*য়ত যা চায় এবং আমলযোগ্য হয়। রোগ সম্মন্ধে জানা ছাড়াই যদি চিকিৎসার পর চিকিৎসা দেয়া হতে থাকে, তাহলে রোগ ভালো হবে কিভাবে? আর এমন ব্যক্তিকে রোগী চিকিৎসক হিসেবে গ্রহণ করবে কেন? দ|ঈ লোকদের মাঝে থেকে একটু সতর্ক থাকলে বুঝতে পারবে, কোন কথা কখন কার ওপর প্রভাব ফেলবে। সম্বোধিত ব্যক্তির চেহারার রং পরিবর্তনই দ|ঈকে অনেক কিছু বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু হাজার মাইল দূরে বসে থাকা সম্বোধিত ব্যক্তিকে যখন দেখা যায় না এবং দ|ঈ তাদের অবস্থাদি সম্পর্কে বেপরোয়া হয়ে নিজের জযবার কথা বলতে থাকে, তখন এই দাওয়াতের ফায়দা খুব কমই ইতিবাচক হয়।
.
করেছেন
আবু উবাইদাহ
জিহাদের দাঈদের খেদমতে কিছু কথা পর্ব - ১,২
.
আমরা আবার দাওয়াত বিষয়ে ফিরে আসি। জি@হা/দের দাওয়াত ও মিডিয়ার সাথে সম্পৃক্ত ভাইদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলবো ইনশা আল্লাহ। আশা করি এই কথাগুলো জি@হা/দি মান;হ|জের উন্নতি ও হেফাযতের ক্ষেত্রে সাহায্যকারী হবে।
.
১. দাওয়াতের ময়দানে জি@হা/দি আন্দো;লন যেন কখনও রাজনৈতিক আন্দো;লনে পরিণত না হয়। লক্ষ্য যেন এমন না হয় যে, এক শ্রেণির শ|স"কদেরকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে আরেক শ্রেণির শ|স"কদেরকে ক্ষমতায় বসানো। আর এমনটা হলে সেটা আর জি@হা/দ ফি-স|বিলিল্ল|হ থাকবে না।
আমাদের মনে রাখতে হবে জি@হা/দ ফি-স|বিলিল্ল|হ আল্লাহর সবচাইতে পছন্দের ইবাদত। আর এটি তখনই জি@হা/দ ও ইবাদত থাকে যখন তার সর্বদিকেই আল্লাহর সাথে এক গভীর সম্পর্ক তৈরি করা হয় এবং সুন্নতের অনুসরণ করা হয়। আল্লাহর সাথে এই সম্পর্ক ও সুন্নতের পাবন্দি আমাদের দাওয়াত, মিডিয়া এবং জি@হা/দের অন্যান্য আমলে স্পষ্ট থাকা উচিৎ।
.
২. জি@হা/দের দ|ঈ শুধু ফিকরী আলোচনা করবে না। অন্তর ও আত্মাকে পবিত্র রাখা, আখলাক চরিত্র সমুন্নত হওয়ার আলোচনাও খুব জরুরি। এটাও দাওয়াতের মৌলিক টার্গেট।
সুতরাং জি@হা/দের দ|ঈর জন্য তাযকিয়া, ইহসান, সীরাত ও আখলাক সুন্দর করার বিষয়বস্তুকেও দাওয়াতের স্বতন্ত্র অংশ বানানো উচিৎ। যার দ্বারা দ|ঈরও উপকার হবে, শ্রোতারও উপকার হবে। যদি এ বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা না হয় তাহলে অন্তর শক্ত হয়ে যায় আর এর দ্বারা আচরণ-উচ্চারণ এমন শক্ত হয়ে যায় যে, এর দ্বারা দ|ঈ নিজেও ধ্বংস হয়ে যায় এবং দাওয়াতেরও ক্ষ%তি করে।
.
৩. যেহেতু কথা ও কাজ উভয়টি সঠিক হওয়ার জন্য শ;রী:য়তের ইলম জরুরি। কিন্তু দাওয়াতের বিষয়টি আরো একটু সংবেদনশীল। কারণ এর দ্বারা অন্যদেরকেও একটি বিশেষ ফিকির ও চেষ্টার দিকে আহবান করা হয়। একারণে দাওয়াতের জন্য ইলমকে সহীহ করা বেশি জরুরি। এ উদ্দেশ্যে ইন্টারনেটে জি@হা/দের দাওয়াতের দায়িত্বে নিয়োজিত ভাইদের জন্য জরুরি হলো, ইলমে দ্বীন ও ফাহমে জি@হা/দ বাড়ানো এবং দাওয়াতের পদ্ধতি সুন্দর করার জন্য বিশেষ দৃষ্টিপাত করা উচিৎ। তার জন্য অন্যান্য ওলামায়ে কেরামের সাথে জি@হা/দি আন্দো;লনের ওলামায়ে কেরাম ও তাদের কিতাবসমুহের দিকে দৃষ্টিপাত জরুরি। সবচেয়ে উত্তম হলো দাওয়াত ও মিডিয়ার কাজ পুরোপুরি ওলামায়ে কেরামের নেগরানীতে করা। এর কারণ হলো ভাসাভাসা ইলমের কারণে অযথা তর্ক বিতর্ক, বেহুদা বাকবিতণ্ডা হতে পারে। কিন্তু দাওয়াত হতে পারে না। জি@হা/দের দ|ঈর জন্য জরুরি হলো, যে বিষয়ের দাওয়াত দেবে তার ফরজ ওয়াজিব মুস্তাহাব আদাবের বিষয়গুলো জানবে।
.
৪. দাওয়াতের মধ্যে শক্ত ব্যবহার, গ|ল;মন্দ, ভুল উপাধি এবং সব ধরণের খারাপ কথা বলা থেকে বিরত থাকবে। জরুরি হলো দ|ঈর কথা কোমল, মন-মস্তিষ্ক আকর্ষণকারী দলিল ও পদ্ধতিতে হবে। এ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে, যার সাথে আলোচনা পর্যালোচনা চলছে সেখানে শুধু সেই সম্বোধিত ব্যক্তিই থাকে না। বরং অন্যান্য শ্রোতা-পাঠকও থাকে। তারা যদিও সমর্থক না হয় কিন্তু উভয় পক্ষের দলিল ও দাওয়াতের পদ্ধতি পর্যালোচনা করে। যদি দ|ঈ ধৈর্য সহকারে দলিলের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে তাহলে এই অসমর্থক শ্রেণির ওপরও প্রভাব পড়ে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তাদেরও কেউ কেউ দ|ঈর পক্ষে কথা বলে। আমরা যেন এই নীতি গ্রহণ না করি যে, সম্বোধিত ব্যক্তি যদি নরম হয় তাহলে আমিও নরম, আর সে যদি শক্ত হয় তাহলে আমিও কঠোর আচরণ করবো। বরং উচিৎ হলো সে যেমনই হোক দ|ঈর ব্যবহার সুন্দর হতে হবে।
.
৫. জি@হা/দের দ|ঈর ওপর নফসের চাহিদা, অতি জযবা, গোস্বা ও প্রতিশোধস্পৃহা যেন প্রবল না হয়। তার পুরো দাওয়াতি আমল বুদ্ধি হেকমত, জ্ঞান ইনসাফ এবং কল্যাণকামীদের মাশওয়ারার অধীন হবে। সে তো বাহাদুর নয় যে সম্বোধিত ব্যক্তিকে আছাড় দেয়। দ|ঈ তো সেই হেকিম যে সর্বদা চিন্তা করে তার কোন ভুলের কারণে রোগীর অসুস্থতা বেড়ে না যায়। সে ইলম ও হেকমতের সাথে কাজ নেয় এবং সর্বদা চেষ্টা করে, যেকোনভাবে সম্বোধিত ব্যক্তির মনের দরজা খুলে তাতে নিজের কথা প্রবেশ করাবে।
.
৬. দ|ঈ সম্বোধিত ব্যক্তির মন ও মস্তিস্ক উভয়কে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে। তার কথা দলিলসমৃদ্ধ হবে যা সম্বোধিত ব্যক্তির মেধাকে আকর্ষণ করবে এবং দরদ ব্যথার সাথে হবে যা তার অন্তরকে প্রভাবিত করবে। সবসময় শুধু যৌক্তিক কথা প্রভাবিত করে না। আবার সবসময় জযবাতি কথাও উপকারী হয় না। দ|ঈর জন্য হেকমত ও মাওয়ায়েযে হাসানা উভয়টি দ্বারাই কাজ নিতে হবে। হেকমত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ওই পদ্ধতি যা মেধাকে প্রভাবিত করে, আর মাওয়ায়েযে হাসনা হলো যা অন্তরকে প্রভাবিত করে।
.
.
৭. জনসাধারণের সামনে আমাদের বক্তব্য শক্তিশালি হওয়া উচিৎ। দুর্বল বক্তব্য অনুচিৎ। অর্থাৎ এমন বক্তব্য দেয়া হবে, যা কল্যাণ ও সফলতার পথ দেখাবে এবং অপমান লাঞ্ছণা থেকে মুক্তির রাস্তা দেখাবে। তবে আমাদের কথার মাঝে যেন গর্ব অহঙ্কারের কোন ঘ্রাণও না থাকে; বরং সম্বোধিত ব্যক্তি যেন আমাদের কথায় দরদ ব্যথা বুঝতে পারে।
.
৮. আমাদের সাথে মতবিরোধ পোষণকারী ভাইদেরকে দাওয়াত দেয়ার ক্ষেত্রে দরদ-ব্যথা সমবেদনা এবং কল্যাণকামিতার প্রাধান্য থাকবে। অপমান অপদস্থ করা, গ|ল;মন্দ করা, ক|ফে"র ফতোয়া দেয়া থেকে সম্পূর্ণ রূপে বিরত থাকতে হবে। তেমনিভাবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও একই আচরণ করা হবে।
.
৯. দ|ঈর মুদারাত ও মুদাহানাত (সৌজন্য আচরণ ও চাটুকারিতা) এর মাঝে পার্থক্যের জ্ঞান থাকতে হবে। উভয়ের মাঝে পার্থক্যকারী সীমারেখার প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। অর্থাৎ তার দাওয়াত নরম ভাষায় হতে হবে তবে অসত্যকে কখনও সত্য বলবে না। বরং সমস্ত নরম ব্যবহারের সাথে সাথে হককে হক ও ব|তি"লকে ব|তি"ল বলবে।
.
১০. কু%ফু"রি শ|স"নব্যবস্থা, তার নেতৃত্ব ও হেফাযতকারীদের শরয়ী হুকুম এবং অন্যান্য কু%ফু"রিগুলো বিস্তারিত বোঝা এবং অন্যকে বোঝানো, এই ব্যাপারে সতর্ক করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটাকে গ্রহণযোগ্য ওলামায়ে কেরামের কিতাবের মাধ্যমে দাওয়াতের অংশ বানানো উচিৎ। যাতে এ কাজের ভয়াবহতার অনুভূতি তৈরি হয় এবং অন্তরে কু%ফু"রি শ|স"নব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ বিদ্বেষ তৈরি হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট করে কাউকে ক|ফে"র ফতোয়া দেয়া ভিন্ন বিষয়। আর তা বিচার ফায়সালার বিষয়, যার দায়িত্ব মুত্তাকি পরহেজগার, বুঝমান, বিচক্ষণ ও গ্রহণযোগ্য ওলামায়ে কেরামের ওপর দেয়া উচিৎ। নির্দিষ্ট তাকফিরের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো গ্রহণযোগ্য ওলামায়ে কেরামের অনুসরণ করা। নিজের পক্ষ থেকে কোন ব্যক্তি বা দলকে ক|ফে"র বলা থেকে বিরত থাকা। যদি এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা না হয় তাহলে তা নিজের ঈমানের জন্য আশংকাজনক এবং দাওয়াত ও জি@হা/দের ক্ষেত্রে অনেক বড় ক্ষ%তির কারণ।
.
.
চলমান...
.
টিকা –
.
.
দাওয়াতের পদ্ধতি ও জিহাদি মানহ|জের হেফাযত
উস্তাদ উসামা মাহমুদ হাফিজাহুল্লাহ
করেছেন
আবু উবাইদাহ
ইন্টারনেটের ষড়যন্ত্র এবং জিহাদ ও মুজাহিদীনের হেফাযতের গুরুত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক
.
মুজ|হিদ ও জিহ|দের মানহ|জের হেফাযত ও শক্তিশালী করা দুটি আলাদা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুটির কোন একটির ব্যাপারে অবহেলা অপূরণীয় ক্ষতির কারণ। বাস্তবতা হলো, জিহ|দের ম|নহ|জের হেফাযত মুজ|হিদদের হেফাযত থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মুজ|হিদদের দৌড়-ঝাপ, কুরবানির উদ্দেশ্যই হলো হকের দাওয়াত ও পয়গাম বিজয়ী হোক। কিন্তু ম|নহ|জ যদি খারাপ হয়, সফরের রাস্তা যদি ভুল হয়ে যায়, তখন মুসাফির যতই উদ্দীপনা ও ইখলাসের সাথে পথ চলুক, সে কখনও মনযিলে পৌঁছতে পারবে না।
.
পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, এ অবস্থায় দাওয়াত নিজে নিজে ধ্বংস হয়ে যায় এবং অ|ন্দোলন নিজের কর্মীদের দ্বারাই বরবাদ হয়ে যায়। আর যদি ম|নহ|জ সহীহ হয় তাহলে তা তখনই সফল হয় যখন তার কর্মীরা শক্তিশালী হয় এবং সম্মুখসমরেও বিজয়ী হয়। সুতরাং মুজ|হিদ ও জিহ|দের ম|নহ|জ রক্ষা ও শক্তিশালী করা, উভয়টিই জরুরি এবং একটি আরেকটির সাথে সম্পৃক্ত।
.
দ্বীনের দুশমনদের যুদ্ধ এই দুই ময়দানেই চালু আছে। তারা জিহ|দের ময়দানে মুজ|হিদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত। বিভিন্ন পন্থায় তাদেরকে হত্যা করা, বন্দী করা এবং তাদের বস্তুগত ক্ষতি করার চেষ্টায় লিপ্ত। অন্যদিকে তারা জিহ|দের ম|নহ|জ নষ্ট করা ও জিহ|দি কফেল|র মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য বিভিন্ন চালবাজি করছে। তারা এই উদ্দেশ্যে ইন্টারনেটও ব্যবহার করে। সুতরাং ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ভাইদের দুশমনের এই দুই হামলার পদ্ধতি জানা এবং তা থেকে সতর্ক থাকা জরুরি।
.
আসল-নকল চিহ্নিতকরণ
.
সব ময়দানেই আসল নকলের মিশ্রণ থাকে। বাজারের মধ্যে আসল জিনিস শেষ করার জন্য নকল জিনিসটি পরিচিত করানো হয়। বিভিন্নভাবে নকলের খুব প্রচার করা হয়। হক বাতিলের এই লড়াইয়েও বাতিল এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছে।
এটি তো স্পষ্ট যে, বাতিল হকের দাওয়াতকে বন্ধ করতে পারে না, কিন্তু যদি বাতিল হকের বিজ্ঞাপনফলক ও নামফলক সহকারে উপস্থিত হয়, তাহলে হকের কিছু না কিছু ক্ষতি হয়। অ|মেরিকার ‘RAND Corporation’ এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যদি মুসলিমরা মোল্লা উমর দাঁড় করায়, তাহলে আমাদের মোল্লা ব্রেডলি (নকল মোল্লা) দাঁড় করানো উচিৎ।
.
এজন্য অ|মেরিকার ওই সমস্ত ব্যক্তির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি থাকে, যারা বাহ্যিকভাবে হকের দাওয়াত দেয়, কিন্তু ভিতরে ভিতরে তারা মানুষকে হক থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। যেহেতু আল্লাহ মানুষের স্বভাবে হকের প্রতি আকর্ষণ রেখেছেন (যদি অন্তর নষ্ট না হয়ে থাকে) এজন্য বাতিল শুধু বাতিল বেশে, বাতিল শিরোনামে হকের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। সে হয়ত স্বভাব-প্রকৃতি নষ্ট করে দিতে পারে। ফলে হিরোইন ও বিষকে মহৌষধ মনে করে সেবন করে। অথবা অন্য কোন পদ্ধতিতে ধোঁকার আশ্রয় নেয়, আর নিজেদের বাতিলের ওপর হকের শিরোনাম লাগিয়ে লোকদেরকে হকের নামে গোমরাহ করে।
.
নেটের জগতে উভয় কাজই হয়। একদিকে স্বভাব নষ্ট করার খুব চেষ্টা হচ্ছে, অন্যদিকে জিহ|দি অ|ন্দোলনের বিরুদ্ধে ধোঁকাবাজির জাল বিছানো হচ্ছে। ভুল চিন্তা-চেতনা ও আমলকে সঠিক হিসেবে খুব প্রচার করা হচ্ছে। হক্ব পছন্দকারী ব্যক্তিদের সামনে গোমরাহীর রাস্তাকে সঠিক বলে দেখানো হচ্ছে। এ অবস্থায় মনযিলে মাকসুদে পৌঁছতে আগ্রহী ব্যক্তি, যার জযবার সাথে প্রয়োজনীয় হুশ নেই, সঠিক ইলম অর্জনে আগ্রহী নয়, সে ধোঁকার শিকার হয়। এই কপালপোড়া জিহ|দের নামে নিজেও ধ্বংস হয়, সেই সাথে জিহ|দি কাফেল|রও বদনামের কারণ হয়। এ অবস্থায় শুধু ওই ব্যক্তিই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে, যে জিহ|দের জযবার সাথে জিহ|দের বুঝ এবং হুশ ঠিক রাখে। এই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি শরি'য়তের ইলমের বাতি হাতে নেয়, তারপর পূর্ববর্তী মুজ|হিদদের দেখানো রাস্তায় চলতে থাকে।
.
.
করেছেন
আবু উবাইদাহ
ষড়যন্ত্র মোকাবেলার তিনটি পদ্ধতি
.
নেট ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা তিনভাবে করা যায়-
.
এক.
.
জিহ|দি মানহ|জের বুঝ পরিপূর্ণরূপে অর্জন করা। এই মানহ|জ কী? কোথা থেকে এই মানহ|জকে নেব? দাওয়াত ও জিহ|দের প্রত্যেক বাঁক, ধ্বংস|ত্মক গর্ত এবং প্রত্যেক দুই রাস্তাকে চেনা। যাতে পা ফসকে না যায়, আর ভুল রাস্তায় চলা শুরু না করে। এবিষয়ে পূর্বেও আলোচনা হয়েছে যে, জিহ|দি ফিকির, মানহ|জ, জায়েয-নাজায়েয, উপকার-ক্ষতির ইলম জিহ|দি অ|ন্দোলনের গ্রহণযোগ্য ওলামা ও উমারা থেকে নেওয়া।
.
তেমনিভাবে জিহ|দের দা'ঈ ও মুজ|হিদের এমন যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করতে থাকা, যাতে করে সঠিক-ভুল, উপকারী-অপকারী ফিকির ও আমলের মাঝে বিচক্ষণতার সাথে পার্থক্য করতে পারে। আর যখনই কোন জিহ|দের শত্রু জিহ|দের দ|ঈ বা মুজ|হিদ সেজে জিহ|দের মানহ|জের মাঝে ছিদ্র তৈরি করতে চায়, তখনই যাতে সাথে সাথে তাকে পাকড়াও করতে পারে। এমন ব্যক্তি থেকে নিজে পৃথক হয়ে যাওয়া, অন্যকে তার ব্যাপারে সতর্ক করা এবং তাদেরকে একদম একঘরে করে ফেলা জরুরি। এটা নাহি আনিল মুনকার। আর জিহ|দি দলগুলোর মাঝে এই ব্যাপারে অবহেলা আছে যার কারণে শাম, ইরাক থেকে খো;র|সান পর্যন্ত অনেক খেসারত দিতে হয়েছে।
.
দুই.
.
জিহ|দের নেতা ও ময়দ|নের প্রতিনিধিদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা। এজন্য নেটের সাধারণ মাধ্যম পরিহার করে এমন মাধ্যম ব্যবহার করা যাতে কোন সন্দেহ জনক ব্যক্তির অনুপ্রবেশ সম্ভব নয়। আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালোভাবেই এই ব্যবস্থাপনা করা আছে। মুজ|হিদদের পরিভাষায় একে তাযকিয়া নেয়া বলে। আলহামদুলিল্লাহ খোর|সান থেকে ই'য়েমেন, মালি পর্যন্ত জিহ|দি অ|ন্দোলন এই মাধ্যমে খুব জোরেশোরে চলছে।
.
সুতরাং ইন্টারনেটে যদি কোন জিহ|দের দাঈ বা মুজ|হিদ সরাসরি সাক্ষাৎ বা জিহ|দি কাজে সাহায্য করতে চায় অথবা জিহ|দি গোপন বিষয় জানার চেষ্টা করে তাহলে এই ব্যক্তির সাথে চলাফেরার ব্যাপারে খুব বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এই ব্যক্তির ব্যাপারে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ খবর নেবে। আমি আবারও বলছি, ওই ব্যক্তির ব্যাপারে জিহ|দের আসল ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে খোঁজ খবর নেবে। তাযকিয়া নেবে। তাযকিয়া অর্জন হলে তার সাথে সরাসরি সাক্ষাতে কিংবা অন্যান্য বিষয়ে সমস্যা নেই। এই তাযকিয়া অর্জন করা কোন কঠিন কিছু নয়। ইন্টারনেটে আলহামদুলিল্লাহ মুজ|হিদদের প্রতিনিধিত্বকারী পেইজ, ওয়েবসাইট ও চ্যানেল বিদ্যমান আছে। যার এডমিনশিপ (Adminship) গ্রহণযোগ্য মুজ|হিদদের হাতে আছে এবং তাদের সাথে যোগাযোগ করা যায়।
.
তিন.
.
মুজ|হিদদের কাতারে গোয়েন্দ| বিভাগ, Intelligence System কে প্রশস্ত ও শক্তিশালী করা। এই ব্যবস্থাপনাও আলহামদুলিল্লা্হ বিদ্যমান আছে। কিন্তু একে অভিজ্ঞ ও আলেমদের হতে এমন ব্যক্তিদের অধীনে হওয়া উচিৎ যারা দূরদর্শী এবং যাদের নেগর|নিতে কোন নিরপরাধ ব্যক্তির ক্ষতি হয় না এবং কোন অপরাধী সহজে পার পায় না।
.
যদি উপরে উল্লেখিত তিনটি বিষয়ে গুরত্বারোপ করা হয় তাহলে আশা করা যায় জিহ|দের মানহ|জও হেফাযতে থাকবে এবং গোয়েন্দ|দের জন্য জমিন সংকীর্ণ হবে। আল্লাহর ইচ্ছায় বড় বড় দাবাড়ুও মুজ|হিদদের বড় কোন ক্ষতি করতে পারবে না। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “আমি ধোঁকাবাজ নই, আর আমাকে ধোঁকা দেয়া সম্ভব নয়”।
.
এটা তো জীবনের সকল বিষয়ে হওয়া উচিৎ। আর জিহ|দের ক্ষেত্রে তো আরও বেশি এ বিষয়ে খেয়াল রাখা দরকার। আর এই ধরণের সতর্কতাই জিহ|দি ঈমানের চাহিদা।
করেছেন
আবু উবাইদাহ
অনলাইনে জিহাদ ও বন্দী মুক্তির জন্য অর্থ কালেকশনের ব্যাপারে সতর্কবার্তা!
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ ফরমান,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا خُذُوا حِذْرَكُمْ فَانفِرُوا ثُبَاتٍ أَوِ انفِرُوا جَمِيعًا
হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের সতর্কতা অবলম্বন করো এবং পৃথক পৃথকভাবে কিংবা সমবেতভাবে (জিহাদের) অভিযানে বেরিয়ে পড়। (সুরাহ নিসা-৭১)
.
ইমাম ইবনুল জাওযি রাহিমাহুল্লাহ এই আয়াতের তাফসিরে দুই ধরণের সতর্কতার কথা উল্লেখ করেছেন।
এক. অস্ত্র সাথে রাখার সতর্কতা,
দুই. শত্রুর ব্যাপারে সতর্কতা
.
এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা জিহাদের অভিযানে বের হওয়ার পূর্বে সতর্কতা অবলম্বনের আদেশ করেছেন। অর্থাৎ জিহাদের সাথে সতর্কতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
এই সম্পর্ক এতো গভীর যে, যারা সতর্কতা অবলম্বন করবে না, তাদের দ্বারা জিহাদের অভিযান পরিচালনা বা জিহাদের কাজ আঞ্জাম দেওয়াই সম্ভব হবে না। কারণ, যাদের দ্বারা আল্লাহ তাআলার প্রথম আদেশ পালন করা হবে না, তাদের দ্বারা একই আয়াতের দ্বিতীয় আদেশ তথা জিহাদের অভিযানে বের হওয়া কীভাবে সম্ভব হতে পারে !
.
সুতরাং উপরোক্ত আয়াতের আলোকে এটি স্পষ্ট যে, যারা জিহাদ করতে চাইবে, তাদের জন্য শত্রুর ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য। সতর্কতা অবলম্বন করা আল্লাহর আদেশ এবং ইবাদত। ফলে দেখা যায়, যারা শত্রুর ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের ইবাদত পালন করছে না, তাদের দ্বারা জিহাদের হচ্ছেই না বরং তারা নিজেরা ত্বগুতের জালে আটকে যাচ্ছেন।
.
আমাদের এই ভূমির বাস্তবতায় ত্বগুত প্রশাসন জিহাদের চিন্তাকে নির্মূল করতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, জিহাদস সমর্থকদেরকে গ্রেপ্ত|র করা। জিহাদ সমর্থকদেরকে গ্রেপ্ত|র করে তারা সর্বদা জিহাদের ব্যাপারে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাখতে চায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে, যাদেরকে গ্রেপ্ত|র করা হয়েছে, তাদের প্রায় অধিকাংশ ব্যক্তিকেই অনলাইনের কোনো না কোনো মাধ্যম থেকে গ্রেপ্ত|র করা হয়েছে।
.
সেই লক্ষ্যে তাদের প্রধান টার্গেট হচ্ছে, অনলাইনের বিভিন্ন মাধ্যমে টোপ ফেলে গ্রেপ্ত|র করা। সিটিটিসি সহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সদস্যরা ফেইসবুক,টেলিগ্রাম ও অন্যান্য মাধ্যমে বিরাট সংখ্যক আইডি খুলে জিহাদ করতে ইচ্ছুক মুখলিস ভাইদের সাথে সম্পর্ক করছে। এমনকি বিশ্ব|স করানোর জন্য তারা কোনো কোনো আইডি থেকে জিহাদ বিষয়ক পোস্টও দিয়ে থাকে। এক পর্যায়ে তারা সেসব জিহাদ সমর্থক ভাইদের মোবাইল নাম্বার কিংবা নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদেরকে গ্রেপ্ত|র করছে।
.
জিহ|দ সমর্থক ভাইদেরকে গ্রেপ্ত|রের আরেকটি ধরণ হচ্ছে, অনলাইনে জিহাদের জন্য কিংবা বন্দী ভাইদের মুক্তির জন্য টাকা কালেকশনের আহবান করা। এটি অনেকসময় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আয়োজন করে থাকে। অনেকসময় কিছু সরলমনা ভাইও এমনটি করে থাকেন। আবারো কখনো কখনো প্রত|রক চক্র অর্থ কালেকশন করে থাকে। যারাই এই আয়োজন করুক না কেনো, গো;য়েন্দ| সংস্থাগুলো সেই নাম্বার ট্র্যাক করে যারা টাকা দিয়েছে, তাদেরকে খুব সহজেই গ্রেপ্ত|র করে ফেলে।
.
সুতরাং অনলাইনে কারো সাথে মোবাইল নাম্বার, পরিচয় শেয়ার করা কিংবা জিহাদ ও বন্দী মুক্তির জন্য অনলাইনে কাউকে টাকা দেওয়ার মাধ্যমে নিজের অজান্তেই নিজেকে গোয়েন্দাদের হাতে সপে দিচ্ছেন। আমরা যদি সতর্ক না হই, যদি শত্রুর জালে নিজেকে আটকে ফেলি, তাহলে আমাদের দ্বারা হয়তো জিহাদের মতো ইবাদত আঞ্জ|ম দেওয়া সম্ভব হবে না। বরং আমাদের দ্বারা জিহাদ ও দ্বীনের শত্রুরাই লাভবান হবে।
.
আরেকটি বিষয়, কোনো জিহাদি তানজিম বা বুঝমান জিহাদি ভাইয়েরা কখনোই অনলাইনে সাদাকা কালেকশন করবে না। এই বিষয়টি আপনারা ভালোভাবে মাথায় রাখবেন। তাহলে আশা করি, ক্ষতির শিকার হবেন না ইনশাআল্লাহ।
.
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে স;তর্ক'তার সাথে জিহাদের পথে অগ্রসর হওয়ার তাউফিক দান করুন।
করেছেন
আবু উবাইদাহ
জিহাদি আন্দোলনের রাস্তায় আসল বাধা
.
আমরা এটা মানছি যে, দ্বীনদার নেতাদের এক শ্রেণি খুব দুনিয়াদার। এটাও মানছি যে, সমষ্টিগতভাবে এই দ্বীনী রাজনৈতিক দলগুলোর কাজ সঠিক নয়। তাদেরই কারণে কুফুরি শাসনব্যবস্থা শক্তি পাচ্ছে। তাগুতি শাসনব্যবস্থা তাদেরকে ইসলামের বিপক্ষে ব্যবহার করছে। এবিষয়ে সবাই একমত। রোগ নির্ণয়ে মতবিরোধ নেই, প্রশ্ন হলো চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে।
.
যদি আপনি এই সেকুলার, দ্বীনের দুশমন শ্রেণি, জালিম রাষ্ট্রের অস্ত্রধারী রক্ষীবাহিনীকে ছেড়ে, এই দ্বীনদারদের হিসাবনিকাশ শুরু করেন, তাদের বিরুদ্ধে কুফুরির ফতোয়া খুঁজতে থাকেন, তাহলে এটা চিকিৎসা নয়, বরং রোগবৃদ্ধি। এই শ্রেণি বর্তমান সময়ে জিহাদি আন্দোলনের পথে আসল বাধা নয়। এরা নিঃশেষ হয়ে গেলেও আপনার কাজ শেষ হবে না।
.
এখানে আসল বাধা হলো, ওই সকল ধর্মহীন নেতারা যারা অস্ত্র, জুলুম ও নিজেদের ভাড়া করা খুনিদের মাধ্যমে জীবনের সর্বক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করছে। এরাই বন্দুক উঁচিয়ে সাধারণ মানুষকে গোলাম বানিয়ে রেখেছে। কুফুর নেফাকের চিহ্নধারী শাসকশ্রেণি, টাকা পয়সার গোলাম জেনারেলরা এবং মুসলমানদের হত্যাকারী এই ভাড়াটে খুনিরা এমন এক ক্ষত, যাদের অস্তিত্বের কারণেই সমস্ত ফাসাদের মূল -এই কুফুরি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত আছে। এরাই ওই ধোঁকাবাজ শ্রেণি যারা এসমস্ত দ্বীনদারদেরকে আমাদের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দিয়েছে। এই দ্বীনের শত্রুরা চায় আমরা দ্বীনদার শ্রেণির সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত থাকি, তাতে তারা বেঁচে যায়। এরপর তারা দ্বীনদারদের মাঝে অনৈক্য দেখিয়ে দ্বীনকেই দোষারোপ করে। তারা প্রোপাগ|ন্ডা ছড়ায়, ধর্মই যত সমস্যার মূল, এজন্যই দ্বীনদাররা ঝগড়ায় লিপ্ত। অর্থাৎ এক তীরে দুই শিকার হয়ে যায়।
.
এমন অবস্থা হলে তো আমাদের দাওয়াত বদ-দ্বীন নয়, দ্বীনদারদের হাতেই নিঃশেষ হয়ে যাবে। আমরা যতই এই দ্বীনদারদের বিরুদ্ধে ফতোয়া লিখবো, তাদের বিরুদ্ধে ঝগড়|র ময়দান গরম করবো, ততই আমাদের দাওয়াত অস্পষ্ট হতে থাকবে এবং আমরা লক্ষ্য থেকে দূরে সরতে থাকবো। এরপর আমাদের আন্দোলন খুব দ্রুত একাকীত্বের শিকার হয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
তাই আমরা এসব দ্বীনদারদের সাথে ফতোয়ার ভাষায় কথা বলব না, দাওয়াতের ভাষায় কথা বলবো। হুমকি-ধমকি, অপদস্থকরণ, গালি-গালাজ নয়, বরং দলিল-প্রমাণ, দরদ-ব্যথার সাথে দাওয়াত দেয়া শিখে নিব। আর এর শরয়ী আহকামও জেনে নেয়া জরুরি, যাতে নিজেদের থেকে ইতেদাল না ছুটে না যায়।
.
আইএস থেকেও নিকৃষ্ট চিন্তা
.
দ্বীনী রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ দ্বীনদার। তাদের সাথে কয়েক বিষয়ে আমাদের ঐক্য রয়েছে। আর কয়েক বিষয়ে মতবিরোধ আছে। তাদের মধ্যে ভালোও, আছে খারাপও আছে। সেকুলার দলগুলোর তুলনায় তারা আমাদের মিত্র। প্রতিপক্ষ নয়। ধর্মহীনদের তুলনায় তাদের ও আমাদের অনেক বিষয়ে মিল আছে। আর দাঈর তো চাহিদাই থাকে মিল থাকা বিষয়কে তালাশ করা। তারপর সামনে অগ্রসর হয়ে বাতিল বিষয়কে বাতিল প্রমাণ করা। তারপর যোগ্যতা ও আখলাকের বিচারেও এই দ্বীনদাররা সবাই এক কাতারে নয়।
.
আমি আবারও বলছি, প্রচলিত শাসনব্যবস্থার কথা হচ্ছে না। এটা তো কুফুরি। এই ব্যবস্থায় শরয়ী তাবিলের ভিত্তিতে ইসলামের নামে যারা এতে অংশগ্রহণ করে তাদের কথা বলছি। এরা কি কাফের? নাউজুবিল্লাহ! কখনও নয়। তাদের শরয়ী হুকুম ওলামায়ে জিহাদ বর্ণনা করেছেন। এই দ্বীনদার শ্রেণিকে কাফের বলা, সাধারণ মানুষকে ভোটের কারণে কাফের বলা অথবা হিলা-বাহানার দ্বারা মুসলমানের জান-মালকে জায়েয বানানো বড় ধরনের বাড়াবাড়ি। আর এটা ওই তাকফিরি চিন্তা, যা আলজেরিয়া থেকে শাম, ইরাক পর্যন্ত জিহ|দি দাওয়াতকে ধ্বংস করেছে। এই চিন্তার অধিকারী ব্যক্তিদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিল, যারা মুখে সাধারণ মুসলমানদেরকে বা অন্যান্য দ্বীনদারকে কাফের বলত না। তাদের কাছে যদি জানতে চাওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মুসলমানদেরকে মুসলমানই বলত। কিন্তু তাদের কাজ ছিলো পুরোপুরি এই দাবির বিপরীত।
.
তারা এমন দলান্ধ ছিলো, তাদের দলের বাইরের সাধারণ মুসলমান তো পরের কথা দ্বীনদার, মুজাহিদদের সাথে পর্যন্ত কাফের বা কমপক্ষে বিদ্রোহী মানুষের মতো আচরণ করত। তাদের জীবন, সম্পদ, সম্মানকে খুব হালকা করে দেখত। নিজেদের বানানো তাবীল দ্বারা তাদের জান মাল নিজেদের জন্য বৈধ করে নিত। কেন? কারণ কী ছিল?
কারণ শুধুমাত্র নিজের দলে না থাকা। অমুক লোক মুসলমান, দ্বীনদার, মুজাহিদও । শরিয়ত তার জান মাল ইজ্জতকে সংরক্ষিত বলে। কিন্তু এই লোকেরা শুধুমাত্র এই কারণে তাকে সহ্য করে না যে, সে তাদের দলে নেই কেন? কেন সে আমার দলকে শক্তিশালী করে না?
.
এই চিন্তার অধিকারী ব্যক্তিরা সর্বদাই দাওয়াত ও জিহাদের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ আছে যারা নিজেদেরকে আইএস বলে না, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের সাথে মিশে থাকে। শুধুমাত্র মিশে থাকার দ্বারা কি হয়?
এই চিন্তা চেতনা ‘আহলুস সুন্নাহ’র নয়। এই চেতনাই জিহাদের অনেক বদনাম করেছে। বাস্তবতা হলো আইএস হওয়া কোন বিশেষ দলের সদস্য হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত নয়। এটা চিন্তা-চেতনা, আমল, আখলাক, কীর্তির নাম। যদি কোন ব্যক্তি দলগতভাবে আইএস নাও হয়, কিন্তু তার চিন্তা চেতনায় গুলু থাকে, আহলুস সুন্নাহ ও বর্তমান সময়ের প্রসিদ্ধ জিহাদি আলেমদের থেকে তার মানহাজ ভিন্ন হয়, নফসের পূজা, দলান্ধতা এবং নফসের অনুসরণে লিপ্ত হয় এবং হিলা বাহানায় মুসলমানের জ|ন-মাল বৈধ করে নেয়, তাহলে সে যতই আই-এসের বিরোধিতা করুক না কেন, সে প্রথম স্তরের আইএস । বরং বাস্তবতা হলো এসমস্ত লোক জিহাদি আন্দোলনের জন্য আইএস থেকেও ভয়ঙ্কর।
.
কারণ আইএসের বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে। এখন আইএস শব্দটি ফাসাদকারী অর্থে ব্যবহার করা হয়। আর তারা এখন নিঃশেষের পথে। অথচ এই লোক নিজেকে আইএসের বিরোধী বলেও কথা ও কাজ দ্বারা দাওয়াত ও জিহাদের ক্ষতি করছে। সুতরাং আইএস যেভাবে জিহাদের ক্ষতি করেছে, তেমনি গুলুর শিকার চিন্তা-চেতনাও জিহাদের দুশমনদের কম খেদমত করেনি।
সুতরাং জিহাদি আন্দোলনকে বিপদাপদ থেকে রক্ষা করার জন্য গুলুর শিকার এই চিন্তা-চেতনা, আখলাক ও মানহাজকে জানতে হবে। এটি একটি অকল্যাণ, আর কল্যাণের ওপর আমল করার জন্য অকল্যাণের জ্ঞান থাকা ওয়াজিব। সুতরাং এই মানহাজকে চেনা, তার থেকে দূরে থাকা, মুসলিম যুবকদের এর থেকে দূরে রাখা জিহাদের দাঈ ও মুজাহিদদের জন্য ফরয হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর কোন বিষয়ে আমল করার জন্য সে বিষয়ে ইলম অর্জন করা ওয়াজিব, নতুবা আল্লাহ না করুন আমাদের মধ্য থেকে কেউ ওই দলে চলে যেতে পারে; যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
هَلْ نُنَبِّئُكُم بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا ﴿١٠٣﴾ الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا
অর্থ: . . . বলে দেন আমি কি তোমাদেরকে বলে দেব কারা আমলের দিক থেকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত? যাদের দুনিয়ার জীবনের সব পরিশ্রম নষ্ট হয়ে গেছে আর তারা ধারণা করছে যে, তারা ভালো কাজ করছে। [সূরা কাহাফ ৯:১০৩-১০৪]
.
.
টিকা –
.
[১]সূরা কাহাফ ৯:১০৩-১০৪
করেছেন
আবু উবাইদাহ
দাওয়াতের তরিকার মধ্যে বাড়াবাড়ি কেন সৃষ্টি হয়? পর্ব - ৪
.
চতুর্থ কারণ: তাড়াহুড়া এবং দাওয়াতের ইতিহাস বিষয়ে অজ্ঞতা
দাওয়াতের তরিকার মধ্যে কঠোরতার বড় একটি কারণ হলো তাড়াহুড়া প্রবণতা। অনেক সময় ভালো ভালো মানুষও এর শিকার হয়ে যায়। যখন সে দেখে যে, দ্বীনদার শ্রেণি; বিশেষ করে ওলামায়ে কেরাম এবং দ্বীনী রাজনৈতিক দলগুলো তার সাথে নেই, তারা নীরব ভূমিকা পালন করে অথবা তার সাথে কোন বিষয়ে মতবিরোধ করে, তখন তার ধৈর্য ছুটে যায়। এর ফলে দাওয়াতে কঠোরতা সৃষ্টি হয়ে যায়। আমাদের সামনে যদি আমরা দাওয়াতের ঐতিহাসিক বাস্তবতা রাখি, তাহলে এই কঠোরতা করবো না। বাস্তবতাটা হলো, যখনই এমন কোন বিপ্লবের সূচনা হয়েছে যার দ্বারা পূর্বের শাসনব্যবস্থা উল্টে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সে দাওয়াতে মানুষের অংশগ্রহণ সহজ নয়। বর্তমানে আমাদের দাওয়াত কবুল করা শাসন ব্যবস্থার সাথে লড়াই করা সমস্ত বিপদকে ডেকে আনার মতো ।
এজন্য এই ধরণের দাওয়াতের ফলে মানুষ তিন শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে যায়।
.
১. সত্যসন্ধানী, সুউচ্চ মনোবলসম্পন্ন মানুষই এই দাওয়াতে ‘লাব্বাইক’ বলে। এরা নিজেই নিজের ওপর মুসিবতের পাহাড় বহন করার জন্য সামনে অগ্রসর হয়। এই শ্রেণি সর্বদা স্বল্পসংখ্যক হয়।
.
২. দ্বিতীয় শ্রেণি তারা যারা নেতৃত্বের আসনে থাকে অথবা যারা প্রচলিত ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত থাকে। এই শ্রেণি এই আন্দোলনের বিরোধিতা করে এবং এটাকে নির্মূল করার জন্য মাঠে নেমে আসে।
.
৩. তৃতীয় শ্রেণি, যারা স্বাভাবিক জীবনযাপনে নিমজ্জিত। এদের অনেকেই হক-বাতিলের মাঝে পার্থক্য করার ইচ্ছা রাখে এবং হকের সাথে থাকতে আগ্রহী। কিন্তু তাদের ক্ষমতাসীনদের ভয় প্রবল। এজন্য অনেক লাভকে ছেড়ে দেয়া এবং বহু ক্ষতি গ্রহণ করতে তাদের মন তৈরি হয় না। যতক্ষণ পর্যন্ত এই আন্দোলন শক্তিশালী না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তার মধ্যে এই আন্দোলনকে গ্রহণ করার জযবা তৈরি হয় না। সে অবস্থা পরিবর্তনের অপেক্ষায় থাকে। যখন এই আন্দোলন শক্তিশালী হওয়া শুরু করে তখন এই শ্রেণি দলে দলে সাহায্য করা ও সমর্থন দেওয়ার জন্য অগ্রসর হয়।
.
এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াত ও তাঁর দাওয়াতি কাফেলার ইতিহাস। যতক্ষণ পর্যন্ত মক্কার মুশরিকদের শক্তি খর্ব না হয়েছে ততদিন মুসলমানের সংখ্যা কম ছিলো। এরপর যখন মক্কা বিজয় হলো তখন দলে দলে মানুষ মুসলমান হওয়া শুরু হলো।
إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّـهِ وَالْفَتْحُ ﴿١﴾ وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّـهِ أَفْوَاجًا
অর্থ: যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে (১) এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন, (২) [সূরা আন-নাসর ১১০:১-২]
সুতরাং সংখ্যাধিক্য, সেটা সাধারণ মানুষের হোক বা দ্বীনদার শ্রেণির হোক, তাদের নীরব অবস্থান বা কিছু বিরোধিতা দেখে জিহাদের দাঈ ধৈর্যহীন হবে না। এটা কখনই হয়নি যে, জিহাদি আন্দোলন কঠিন স্তর পার করছে আর সমাজের অধিকাংশ মানুষ তাদের সাথে আছে। সুতরাং আমাদের এই সংখ্যাধিক্যের সাথে (خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ) ”ক্ষমাকে গ্রহণ করুন, সৎ কাজের নির্দেশ দান করুন এবং মূর্খদেরকে এড়িয়ে চলুন” এর ওপর আমল করতে হবে।
(খুযিল আফওয়া) অর্থাৎ যতটুকু সাহায্য ও কল্যাণকামিতা তারা আপনার সাথে করতে পারে কৃতজ্ঞতার সাথে তা গ্রহণ করুন। (ওয়া’মুর বিল উরফ) অর্থাৎ দরদের সাথে দাওয়াত, ইসলাহ, উৎসাহদান ও দিকনির্দেশনার কাজ চালু রাখুন। দলিল প্রমাণের মাধ্যমে তাদের বুদ্ধিকে কাবু করুন। তাদের মধ্য থেকে যারা (জবান ও কলম দ্বারা ) মূর্খতা প্রকাশ করে তাদেরকে এড়িয়ে যান। আপনার জ্ঞান, বুদ্ধি, অস্ত্র যেন কুফুরি শাসনব্যবস্থা নির্মূল করার কাছে ব্যয় হয়। অন্য কাজে যেন সময় নষ্ট না হয়।
.
.
টিকা –
.
[১]সূরা আন-নাসর ১১০:১-২
করেছেন
আবু উবাইদাহ
দাওয়াতের তরিকার মধ্যে বাড়াবাড়ি কেন সৃষ্টি হয়? পর্ব - ৩
.
তৃতীয় কারণ: মুদারাত (সৌজন্য) ও মুদাহানাতের (খোশামোদ, চাটুকারিতা) মাঝে পার্থক্য না করা
দাওয়াতের মাঝে গুলুর আরেকটি কারণ হলো, মুদারাত ও মুদাহানাতকে এক মনে করা। অথচ উভয়ের মাঝে পার্থক্য আছে। একটি জায়েয এবং প্রশংসনীয়, অন্যটি নিন্দনীয়।
ইমাম কুরতুবী রহিমাহুল্লাহ মুদারাত ও মুদাহানাতের মাঝে পার্থক্য এভাবে বর্ণনা করেছেন: “মুদারাত হলো দুনিয়া বা দ্বীন অথবা উভয়টির ফায়দার জন্য দুনিয়াবি কোনো কিছু ত্যাগ করা। যা জায়েয, অনেক সময় মুস্তাহাব কিন্তু মুদাহানাত হলো দুনিয়ার জন্য দ্বীনকে ত্যাগ করা।
হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে: মানুষের সাথে সৌজন্য আচরণ সদকা (তাবারানী)
.
শারেহ ইবনে বাত্তাল রহিমাহুল্লাহ বলেন: “সৌজন্য মুমিনের আখলাকের অংশ। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মানুষের সামনে নিজের কাঁধ ঝুঁকিয়ে দেয়া। কথাবার্তায় তাদের সাথে শক্ত ব্যবহার না করা। এই গুণ নিঃসন্দেহে ভালোবাসা মহব্বত সৃষ্টির একটি উত্তম মাধ্যম”।
সুতরাং শ্রোতার বিরোধিতায় ধৈর্য ধারণ করা, দাওয়াতের জন্য নরম-কোমল ও উপকারী পদ্ধতিতে হকের দিকে আহবান করা এবং শ্রোতার ভ্রান্ত মতকে কোনভাবেই সঠিক না বলা -এটা মুদারাত, এটা প্রশংসনীয়। কিন্তু যদি এই নরম ব্যবহারের সাথে বাতিলকে হক বলা হয়, তখন সেটা মুদাহানাত, এটা নিষেধ। এজন্যে দাঈর মুদারাত-মুদাহানাতের সীমারেখা বোঝা উচিৎ। যাতে মুদারাতের নাম দিয়ে মুদাহানাতে লিপ্ত না হয়। অথবা মুদাহানাতের বিরোধিতা করতে গিয়ে মুদারাতও পরিত্যাগ না করে।
.
আফসোস! আজ কিছু দ্বীনদার শ্রেণি দাওয়াতে বিচক্ষণতার নাম দিয়ে গণতন্ত্র,
দেশপ্রেম, সেক্যুলারিজ্যমকে পর্যন্ত সমর্থন করে। অথচ কুফুরি শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বিরোধিতা কাম্য। কিন্তু এই হযরতরা তাদের সাথে সমঝোতা ও সহযোগিতামূলক আচরণ করে। আর যদি কেউ ফরজ ডাকে ‘লাব্বাইক’ বলে বাতিল শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায় এবং এই নিকৃষ্ট পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তারা তাকে ফাসাদ সৃষ্টিকারী বলে অভিহিত করে। এই গণতন্ত্র ও অন্যান্য মানুষ নির্মিত মতবাদে অংশগ্রহণ ও সমর্থন শরীয়তের খেলাফ কাজ।
কিন্তু আশ্চর্য! এসব অনৈসলামিক কাজকেও দীনী মাছলাহাত নাম দিয়ে ইসলামি কাজ বলে প্রমাণিত করা হচ্ছে। এটা স্পষ্ট মুদাহানাত। এটাই ঐ মহাবিপদ যার কারণে আজ আল্লাহর শরিয়ত পরাজিত, আর গাইরুল্লাহর আইন বিজয়ী।
সুতরাং এই মুদাহানাতের পরিচয় মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং তার বিরোধিতা করা অত্যন্ত জরুরি। আর মুজ।হিদদেরও উচিৎ সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখা যাতে তাদের মধ্যে কোনভাবে এই মহামারী প্রবেশ না করে। আরেকদিকে এই মুদাহানাতের বিরোধিতা করতে করতে আমাদের কোন কোন কাফেলা মুদারাতকেও মুদাহানাত মনে করা শুরু করছে।
.
দাওয়াতের ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি হল বাতিলকে সরাসরি বাতিল বলা এবং হককে হক বলা। তারপর হকের দিকে দাওয়াত দেয়া এবং পুরো দাওয়াতি আমল শরিয়ত অনুযায়ী করা। এই দাওয়াত নরম ও কোমল পদ্ধতিতে হেকমত অনুযায়ী হয়। মানসিকতার ভিন্নতার কারণে এই ধরণের দাওয়াত কারও কারও কাছে মুদাহানাত মনে হয়। তার কাছে এই দাওয়াত গ্রহণযোগ্য নয়। তার মানসিক শান্তি তখনই হয়, যখন দাওয়াতের প্রাণ ও ভাষা উভয় দিক থেকে খুব শক্ত হয়। যে দাওয়াতের মধ্যে শ্রোতার প্রতি কোন কল্যাণকামিতা বা দরদ ব্যাথা থাকে না বরং হিংসা, ঘৃণা, শত্রুতা ও খাটো করা হয় সেটা তার কাছে দাওয়াতের উত্তম পদ্ধতি মনে হয়। ভিন্ন এই মানসিকতার কারণে এই সমস্ত কাজকে সে হকের তাকাযা মনে করে। অথচ এটা গুলু বা বাড়াবাড়ি । এর কারণে দাওয়াতের উদ্দেশ্যই নষ্ট হয়ে যায় এবং জিহাদের উল্টা ক্ষতি হয়।
.
.
চলমান...
করেছেন
আবু উবাইদাহ
দাওয়াতের তরিকার মধ্যে বাড়াবাড়ি কেন সৃষ্টি হয়? পর্ব - ২
.
দ্বিতীয় কারণ: বুঝ কম থাকা
দাওয়াতের উসলুবে গুলু আসার দ্বিতীয় কারণ হলো, বুঝ কম থাকা। আল্লাহ তাআলার শরয়ী ও তাকবীনী উসুল সম্পর্কে যার ধারণা আছে সে জানে যে, জিহাদের ময়দানে কামিয়াবির জন্য আল্লাহর পরে নিজেকে মুসলমান জনসাধারণের সাহায্য-সমর্থনের মুখাপেক্ষী মনে করতে হবে। সে জানে, মুমিনের সমর্থন আল্লাহর নুসরতের একটি সুরত।
هُوَ الَّذِي أَيَّدَكَ بِنَصْرِهِ وَبِالْمُؤْمِنِينَ
“তিনিই আপনাকে তার সাহায্য ও মুমিনদের একতা দ্বারা শক্তিশালী করেছেন। [সুরা আনফাল ৮:৬২]
এ কারণেই দাওয়াতের শুরুতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেলার মধ্যে আরব গোত্রগুলোকে দাওয়াত পেশ করতেন। তখন একথাও বলতেন, ‘আমাকে কে আশ্রয় দেবে? আমাকে কে সাহায্য করবে?’
এতএব মুসলমান জনসাধারণকে নিজেদের সমর্থনকারী, সাহায্যকারী বানানো শরিয়ত ও বিবেকের দাবি। শরয়ী সীমারেখার মধ্যে থেকে মুসলমান জনসাধারণকে নিজেদের জিহাদের অংশ বানানোর চেষ্টা করা ওয়াজিব।
.
কিন্তু জিহাদের প্রতি দাওয়াত প্রদানকারীদের কম বুঝের অবস্থাটা দেখুন-
তারা কয়েক ডজন বা কয়েকশ মানুষ নিজেরাই দুনিয়ার সব মুসলমানকে নিজেদের বিরোধী বানিয়ে নেয়। তারপর আবার পুরো দুনিয়ায় বিজয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তারা কুফুরি নেজাম বিলুপ্তি ও শরিয়ত প্রতিষ্ঠার মতো বড় দাবি করে, কিন্তু জনসাধারণ ও দ্বীনদার লোকদেরকে নিজেদের সাথে শরিক করার কোন চেষ্টাই তাদের মাঝে নেই। মুসলমান জনসাধারণকে নিজেদের সমর্থনকারী, সাহায্যকারী বানানো ছাড়া কুফুরি শাসনব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করে ইসলামি শরিয়ত প্রতিষ্ঠা তো দূরের কথা, নিজেদের আন্দোলনকেই বেশিদিন চালু রাখা সম্ভব নয়, এ বুঝটা তাদের মাঝে আসে না।
.
শায়খ আবু মুসআব যারকাবী রহিমাহুল্লাহ আমেরিকাকে ইরাকে থাকা প্রায় অসম্ভব বানিয়ে দিয়েছিলেন। শেষ মেশ আমেরিকা ইরাক থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেসময় শায়খ আইমান যওয়াহিরী হাফিজাহুল্লাহ, আবু মুসআব যারকাবী রহিমাহুল্লাহকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে শায়খ আইমান হাফিজাহুল্লাহ বলেন:
“যখন আমরা দুই টার্গেটের দিকে তাকাবো, অর্থাৎ আমেরিকাকে ইরাক থেকে বের করা ও এখানে ইসলামি শা'স'ন প্রতিষ্ঠা করা, তখন আমরা দেখতে পাব, আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিকের পরে মুজহিদদের জন্য সব থেকে প্রভাব বিস্তারকারী ও শক্তিশালী অস্ত্র হলো ইরাক এবং তার আশেপাশের মুসলমান জনসাধারণের সমর্থন। আমাদের জন্য জরুরি হলো, এই জনসমর্থন রক্ষা করা এবং শরয়ী সীমারেখার মধ্যে থেকে এই সমর্থনকে বাড়ানো।
.
এ প্রেক্ষিতে আমি আপনাকে কয়েকটি কথা আরজ করছি -
প্রথমত, এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এখানে (ইরাকে) ইসলামের বিজয় এবং খিল।ফত আলা মিনহাজিন নবুওয়ত প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মুরতাদ শাসকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা ছাড়া তাদেরকে হটানো সম্ভব নয়। এটাও বাস্তবতা যে, জনসাধারণের সাহায্য ও সমর্থন ছাড়া এই মহান লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। যদি কোথাও জনসাধারণের সাহায্য ও সমর্থন ছাড়া বিজয় হয়েও যায়, তবুও যেকোন সময় এই বিজয় পরাজয়ে পরিণত হতে পারে।
.
দ্বিতীয়ত, যদি জিহাদি আন্দোলনের সাথে জনগণের সমর্থন না থাকে তাহলে এই আন্দোলন মানুষের দৃষ্টি থেকে দূরে সরে একসময় হারিয়ে যায়। এই অবস্থায় জিহাদি কাফেলা ও রাষ্ট্রের ওপর চেপে বসা জালিম সম্প্রদায়ের মধ্যকার এই যুদ্ধ নিঃশেষ হয়ে যায়।
একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, ক্ষমতাশীলরা সবসময় জনগণকে জিহাদি দল ও জিহাদি আন্দোলনের ব্যাপারে একদম অন্ধকারে রাখতে চায়। আমাদের ওপর চেপে বসা সেকুলাররা এটাই চায়। তারা জানে জিহাদি আন্দোলনকে দমন করা সম্ভব নয়। কিন্তু এ আন্দোলনকে ধোঁকা ও শক্তির মাধ্যমে জনসমর্থন থেকে দূরে রাখা সম্ভব। এজন্য এই যুদ্ধ আমাদের জন্য জরুরি হলো, আমরা জনগণকে আমাদের সাথে রাখব। জিহাদি আন্দোলনের নেতৃত্বেও তাদেরকে অংশীদার বানাব। আমাদের এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে যা আমাদেরকে জনসাধারণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।”
.
.
চলমান...
টিকা –
.
[২] সুরা আনফাল ৮:৬২
করেছেন
আবু উবাইদাহ
দাওয়াতের তরিকার মধ্যে বাড়াবাড়ি কেন সৃষ্টি হয়? পর্ব - ১
.
প্রথম কারণ: শ্রোতাদের থেকে অমুখাপেক্ষী ও বেপরোয়া হওয়া
দাওয়াতের পদ্ধতিতে বাড়াবাড়ি ও কঠোরতা নানান কারণে সৃষ্টি হতে পারে। তবে মূল কারণ হলো, দাঈর ফিকির, আমল-আখলাক সুন্নত অনুযায়ী না হওয়া। ভিতরগত আরেকটি কারণ হলো, শ্রোতার প্রতি অমুখাপেক্ষিতা ও তার ব্যাপারে বেপরোয়া হওয়া।
কেউ যদি দুনিয়াবি বিষয়ে আল্লাহর জন্য মানুষ থেকে অমুখাপেক্ষিতা অবলম্বন করে তাহলে সেটা তো একটি ভালো গুণ। কিন্তু এর স্থান দাওয়াতের ময়দান নয়। দাওয়াতের ময়দানে শ্রোতাদের থেকে অমুখাপেক্ষিতা কাম্য নয়। কাম্য হলো উম্মাহর জন্য কল্যাণকামিতা ও দরদ থাকা। দাঈর দুনিয়া আখেরাতের সফলতার জন্য শর্ত হলো, সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে অন্যের জন্যও তাই পছন্দ করবে।
.
একজন দাঈ চান, মানুষ যেন তার আহবানে সাড়া দেয়। এজন্য সে তার দাওয়াতকে খুব ভালো আর উপকারী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে থাকে। তার উদাহরণ হলে ঐ ডাক্তারের মতো, যে আন্তরিকভাবে রোগীর চিকিৎসা করে। রোগীর সেবা-শুশ্রূষা করে, তার জন্য ব্যথিত হয়। রোগীর একেকবার ‘আহ’ উচ্চারণের সাথে সাথে তার অন্তর চূর্ণ- বিচূর্ণ হয়ে যায়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রোগীকে বাঁচানোর চিন্তায় অস্থির থাকে। যে সকল ডাক্তার শুধু রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ঘোষণা করেই চলে যায়, সে ঐ ডাক্তারের মতো নয়।
.
‘গুলু’ আক্রান্ত ব্যক্তি তার দাওয়াত কেউ কবুল করল কি করল না, এই বিষয়ে কোন পরওয়া করে না। সে সর্বাবস্থায় নিজেকে হক মনে করে। নিজেকে হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত ভেবে নিয়ত ও অন্তরের অবস্থার হিসাব নেয় না। দাওয়াতের হক আদায় হলো কি না, তা নিয়ে ভাবে না। দাওয়াতের ক্ষেত্রে নিজের কথা ও কাজের মধ্যে কোন ত্রুটি হয়েছে কিনা, সেটা নিয়ে ভাবে না। ‘কোন কাজে সুন্নতের খেলাফ হয়নি তো?’ ‘দাওয়াতের ক্ষেত্রে মূর্খতাকে মূলভিত্তি হিসেবে ধরে নেইনি তো?’ ‘আমার প্রকাশভঙ্গিতে বাড়াবাড়ি হয়নি তো?’ -এই ধরণের ফিকির গুলুতে আক্রান্ত ব্যক্তির মাঝে অনুপস্থিত। সে নিজের হিসাব নেয় না।
.
এসকল হিসাব-নিকাশে তার কোন খেয়ালই নেই। নিজেকে সে বড় মনে করে। ‘সত্যকে প্রকাশ করতে হবে’ এমন একটা ভাব তার মধ্যে থাকে। অথচ এটা এমন এক অনুভূতি, যা পরবর্তীতে আত্মম্ভরিতা ও অহংকারে পরিণত হয়।
গুলুতে আক্রান্ত ব্যক্তি অত্যন্ত রসকষহীনভাবে নিজের দাওয়াতের ঘোষণা দেয়। কুরআন সুন্নাহতে দাঈর যে গুণাবলী আছে সে তার পরিপূর্ণ উল্টা। নবীগণের এক একজনের মানুষকে বাঁচানোর চিন্তা থাকতো। এই উদ্দেশ্যে তারা দিন-রাত এক করে ফেলতেন। মানুষকে হেদায়াতের পথে আনার জন্য সবচেয়ে বেশি কষ্ট তাঁরাই করেছেন। রাতে উঠে আল্লাহর কাছে মানুষের জন্য হেদায়াত চাইতেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই চিন্তায় এত বেশি কষ্ট করেছেন যে,
আল্লাহ তাআলা তার সাক্ষ্য দিয়েছেন।
فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَفْسَكَ عَلَى آثَارِهِمْ إِنْ لَمْ يُؤْمِنُوا بِهَذَا الْحَدِيثِ أَسَفًا
অর্থঃ তারা এই বাণী বিশ্বাস না করলে সম্ভবত তাদের পিছনে তুমি দুঃখে নিজেকে শেষ করে দিবে। [সুরা কাহাফ ১৮:৬]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরদটা দেখুন। সম্মুখ যু/দ্ধের ময়দান। ইহুদিদের মত শ৳ত্রু'র বিরুদ্ধে আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তলোয়ার দিয়ে পাঠাচ্ছেন। তখনও তাকে নছিহত করছেন, “তোমার হাতে একজন মানুষের হেদায়াত পাওয়া তোমার জন্য লাল উট পাওয়ার চেয়েও উত্তম”।
.
.
চলমান...
.
টিকা –
.
[১] সুরা কাহাফ ১৮:৬
করেছেন
আবু উবাইদাহ